11/07/2026
পাহাড়ের সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে যখন হাজার হাজার সাধারণ পাহাড়ি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে, খাবার, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে তীব্র কষ্ট পাচ্ছে, তখন আমাদের তথাকথিত আঞ্চলিক নেতাদের মাঠ পর্যায়ে না দেখে আমি সত্যিই চরম ক্ষুব্ধ ও হতাশ। ভোটের সময় কিংবা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে যাদের বড় বড় কথার অভাব হয় না, আজ সাধারণ মেহনতি মানুষের এই চরম বিপদে তারা কোথায় লুকিয়ে আছেন?
স্বায়ত্তশাসন ও অধিকার আদায়ের দোহাই দিয়ে জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফ নেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে দিনের পর দিন আমাদের সাধারণ জুম্ম তরুণদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। অথচ আজ যখন পাহাড়ি জনগণের টিকে থাকার লড়াই, তখন সাহায্য না করে নিরাপদ দূরত্বে থাকা এই নেতাদের উদাসীনতা ও পলায়নপর মনোভাব প্রমাণ করে যে—জনগণের চেয়ে তাদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ, চাঁদা আদায় আর ক্ষমতার দম্ভই বড়।
আমাদের আরও একটা কঠিন সত্য মেনে নেওয়ার সময় এসেছে। এই দুর্যোগে সরকার কিংবা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন যে বড় আকারে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালাবে, তার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই আঞ্চলিক দলগুলোর তৈরি করা অস্থিতিশীল পরিবেশ। তাদের সশস্ত্র তৎপরতা, অপহরণ ও চাঁদাবাজির ভয়ের কারণে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্গম এলাকায় যেতে সাহস পাচ্ছে না। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকে যে বড় ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাঠানো হচ্ছে, তাও এই গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই ও নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে সঠিকভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারছে না। তারা একদিকে সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসছে না, অন্যদিকে সরকার বা প্রশাসনের ত্রাণ তৎপরতাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। নিজেদের স্বার্থের জন্য তারা পুরো পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে।
দল-মত ভুলে এই মুহূর্তে যদি আপনারা বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারেন, তবে এই পাহাড়ের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি দাবি করার কোনো নৈতিক অধিকার আপনাদের নেই। পাহাড়ের সাধারণ মেহনতি মানুষের এখন চোখ খোলার সময় এসেছে। যারা আমাদের সংকটে পাশে থাকে না, বরং আমাদের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে, সেই জেএসএস, ইউপিডিএফ বা কেএনএফ-এর মতো সশস্ত্র ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলোকে আমাদের সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে।
আমাদের বুঝতে হবে, অস্ত্রের রাজনীতি কখনো সাধারণ মানুষের মুক্তি বা কল্যাণ আনতে পারে না। পাহাড়ের শান্তি ও আমাদের নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই তথাকথিত নেতাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং মূলধারার উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আসুন সবাই মিলে এই দুর্যোগ মূহুর্তে অসহায় মানুষের পাশে আমরা একে অপরকে সাহায্য করি।