21/10/2025
সিল্ক বা রেশম কাপড় বোনার আদ্যোপান্ত
সূতা তৈরি: সিল্ক বা রেশম তৈরি হয় রেশম পোকা থেকে যার ইংরেজি নাম 'সিল্কওর্ম' ও বৈজ্ঞানিক ভাষায় 'Bombyx Mori' আর রাজশাহীর স্থানীয় ভাষায় বলা হয় 'পলুপোকা'। এই পোকা গুলো তুঁত গাছের পাতা খেয়ে বড় হয় যার ইংরেজি নাম 'মালবেরি'। তাই এই সিল্কের আরেক নাম 'মালবেরি সিল্ক'। পোকাগুলো বিরতি দিয়ে দিয়ে পাতা খেয়ে ধাপে ধাপে বড় হয়। প্রথম বার দশ/পনের দিন বয়সে খোলস পাল্টায় ও এই ধারাবাহিকতায় চারবার খোলস পাল্টানোর পর পরিপক্ক হয় ও মথ জন্ম নেয়। তারপর মথগুলোকে বিশেষ আকৃতির বাঁশের জালিতে রাখলে ৭/৮ ঘন্টা পর মথগুলো লালার সাহায্যে গুটি তৈরি করতে শুরু করে। এই গুটিগুলো সে মিনিটে প্রায় ৬৫ বার মুখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তার চারপাশে আবরণ হিসেবে তৈরি করে।গুটি তৈরি হতে প্রায় দুইদিন সময় লাগে ।এই গুটিগুলোকেই বলা হয় রেশমগুটি বা ইংরেজিতে 'সিল্ক কোকুন'।আর পোকা জন্ম থেকে এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২২ থেকে ২৫ দিন সময় লাগে। এ অবস্থায় গুটিগুলো সুতা উৎপাদনের জন্য তৈরি হয়ে যায়।দেশি জাতের গুটি হয় হলুদ আর বিদেশি জাতের গুটির রং হয় সাদা। এই গুটিগুলিকে শুকানোর পর গরম পানিতে তিন/চার মিনিট ডুবিয়ে রাখলে ভেতরের মথটা মারা যায়। এ অবস্থায় কাঠি বা ব্রাশ দিয়ে নাড়লে তন্তুমুখ বের হয়ে আসে। মজার ব্যাপার হলো এক একটি গুটি থেকে প্রায় 500 থেকে 800 মিটার পর্যন্ত সুতা তৈরি হয় যা সম্পূর্ণ নিরবিচ্ছিন্ন আসে। এই সুতা খুব সূক্ষ্ম তাই গোটা দশেক তন্তুমুখ একত্রিত করে চিনামাটির বোতামের ছিদ্র দিয়ে শুরু হয় সুতা জড়ানোর কাজ। রেলিং মেশিনের মাধ্যমে গুটি থেকে কাঁচা সুতা চরকিতে জড়া হয়। এ প্রক্রিয়াতে কিছু ত্রুটিযুক্ত,অনুপযুক্ত ও উচ্ছিষ্ট গুটি পাওয়া যায়, যা থেকে তৈরি হয় মোটাসুতা। কাঁচা সুতাকে শুকিয়ে পাকা করা হলে তা বুননের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যায়।
কাপড় বুনন: এই সুতা বুননের উপযোগী হয়ে গেলে সর্বপ্রথম তা ববিন ওয়াইন্ডিং মেশিনের সাহায্যে ববিনের গায়ে জড়ানো হয়। সুতা তৈরির পর কাপড় বুননের জন্য এটাই প্রথম ধাপ। এক্ষেত্রে কাপড় মোটা করার জন্য অনেক সময় টুইস্টিংও করা হয়। এরপর সুতা পরিপূর্ণ ববিন গুলোকে 'ক্রিল' নামক একটি ববিন হোল্ডার মেশিনে সাজানো হয়। ববিনের সব সুতার মুখগুলিকে এক জায়গায় নিয়ে ড্রাম হুইলে জড়ানো হয় যার আরেক নাম 'হরাইজন্টাল ড্রাম ওয়ারপিন' অর্থাৎ এটা কাপড়ের লম্বালম্বি সুতা।একে 'তানা' বলা হয়। তানা তৈরীর পর একে 'ডেন্টিং ও ড্রাফটিং' বা বাংলায় 'সানা ও ব' করা হয়। এখন তানা মেশিনে ওঠার জন্য প্রস্তুত।আরেকদিকে তৈরিকৃত ববিন থেকে প্যারালাল ওয়াইন্ডিং মেশিনের সাহায্যে নলীতে সুতা জড়ানো হয়। নলী হল একটি লম্বাকার কাঠিবিশেষ যা মাকুর মাধ্যমে মেশিনে আড়াআড়ি সুতা সরবরাহ করে। এপর্যায়ে পাওয়ারলুম অর্থাৎ কাপড় তৈরির মেশিনে তানা ও নলীসহ মাকু স্থাপন করে দেওয়া হয়। তানা থেকে লম্বালম্বি ও মাকু থেকে আড়াআড়ি সুতার মাধ্যমে সিল্ক কাপড় বা 'সিল্ক ফেব্রিক' তৈরি হয়। ভিডিওতে এই শেষ ধাপটুকু দেখা যাচ্ছে।
এ পদ্ধতিতে সিল্ক ছাড়া অন্যান্য সুতার বুননও করা যায়।