21/06/2026
বাংলাদেশের অসংখ্য চেনা সংসারের গল্পটা শুরু হয় ভীষণ অভাব দিয়ে। নুন আনতে পান্তা ফুরনোর সেই দিনগুলোতে যখন চারপাশ থেকে শুধুই হতাশা ঘিরে ধরে, তখন যে মানুষটি ঢাল হয়ে দাঁড়ায়—সে হলো ঘরের বউ। নিজের হাজারো ইচ্ছা, শখ আর আহ্লাদকে এক নিমিষে কোরবানি দিয়ে সে স্বামীর পাশে এসে দাঁড়ায়। সাহস দেয়,সুদিন আশার স্বপ্ন দেখায়,নিজের সবটা উজার করে দিয়ে স্বামীর পাশে দাড়ায়।
কিন্তু নির্মম সত্য হলো, সময়ের চাকা ঘোরে। একদিন সত্যিই সেই সংসারে সুদিন আসে। অভাবের কালো মেঘ কেটে গিয়ে দেখা মেলে সচ্ছলতার, আলোর। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হলো যে সচ্ছলতার জন্য স্ত্রী নিজের যৌবন আর সুখ বিসর্জন দিল, সেই সচ্ছলতা আসার পরই স্বামী যেন এক অদ্ভুত অন্ধত্বে আক্রান্ত হয়।
সুদিন আসার পর হঠাৎ করেই সেই চেনা মানুষটি অচেনা হয়ে ওঠে। যেই স্ত্রী অভাবের দিনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল, আচমকা সে-ই হয়ে যায় সবচেয়ে বড় 'অযোগ্য' বা 'অপ্রয়োজনীয়'।
তখন আর ঘরের বউকে ভালো লাগে না, তার খাটুনি, তার ত্যাগ সবকিছুকে খুব সাধারণ মনে হতে থাকে।
ভালো লাগতে শুরু করে বাইরের দুনিয়াকে দূর-দূরান্তের আত্মীয়, চাচাতো ভাইয়ের খালাতো বোনের মতো অনাত্মীয় পরিজন যাদের অভাবের দিনে কখনো খোঁজও পাওয়া যায়নি, সুদিনের আলোতে তারাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে আপন। তাদের আবদার, তাদের সঙ্গ তখন স্বামীর কাছে বেশি মূল্যবান মনে হয়।
যে মানুষটি চরম সংকটেও হাতটা ছেড়ে যায়নি, আজ সব পাওয়ার দিনে তাকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা আর একাকীত্ব উপহার দেওয়া হয়।
হ্যাঁ, পৃথিবীর সব পুরুষ এক নয়। অনেকেই আছেন যারা সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও স্ত্রীর অবদানকে মাথায় তুলে রাখেন। কিন্তু যারা সুদিন পেয়ে পেছনের দিনগুলোর ত্যাগকে ভুলে যান, তারা আসলে সাময়িক জৌলুসে অন্ধ হয়ে যান। তারা ভুলে যান বাইরের ঝলমলে আলো সাময়িক আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু ঝড়ের রাতে ঘরের প্রদীপটাই বুক দিয়ে অন্ধকার আগলে রেখেছিল।