05/05/2025
বিয়ের শাড়িতে বসে আছে নিধি,
তুকে খুব সুন্দর লাগছে আপু দুলাইভাই তুকে দেখেই অজ্ঞান হয়ে যাবে কথা টা বলে ঠোট টিপে হাসলেন ইরা,
দেখ দেখ কি লজ্জা পাচ্ছে এখনই এত লজ্জা পেলে বিয়ের পর বর কে দেখে লজ্জায় মাটি ফাক করে ঢুকে যাবে,,
কথা টা বলেই হো হো করে হেসে উঠলো রুপা বাকিরা সব হাসছে,
এই হলো তুদের ওকে সাজানো সেইকখন থেকে সাজাচ্ছিস,
এক দমে কথা গুলো বলে থামলেন আমেনা বেগম,।
-এই তো আম্মা হয়ে গেছে শুধু খোপা টা করা বাকি মুচকি হাসি দিয়ে বললো ইরা।
সেই ভালো জামাই আসার সময় হয়ে গেছে,
কথা টা বলে রুম থেকে বের হলেন আমেনা বেগম।
★★_______পেইজে Akhi islam-আখি ইসলাম_______★★
অনবরত রিং দিয়ে যাচ্ছেন আয়শা বেগম ছেলের ফোনে মঞ্জমা বেগমের টেনশনে মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে
কি করবে বুঝতে পারছে না।
মা এখন কি করবো বলেন তো ইশান কে তো খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
কি জবাব দিবো মেয়ের বাড়ির লোকদের চোখের কার্নিসে পানি জমে গেছে কাজল দিয়েছিলো চোখের পানিতে লেপ্টে গেছে,
একমাত্র ছেলের বিয়ে বলে কথা তাও পছন্দের মেয়ের সাথে সখ করে সেজেছে আয়শা বেগম কে জানতো
ছেলে এমন কান্ড ঘটাবে।
আমি ও তো বুঝতে পারছি না আয়শা কি করবো এখন,
তুর আব্বাজান যদি জানে হার্টঅ্যাটাক করবে আর ইশান কে মেরেই ফেলবে সামনে পেলে ঠুকরে কেদে উঠলেন মঞ্জমা বেগম।
কি করবো এখন আম্মা আপনি বলেন,
খান বাড়ির মানসম্মান সব ধুলোয়মিশে ফেলবে আমার সন্তান আমি আগে জানলে মেরে টুকরো টুকরো করে নদী তে ভাসাতাম। বলেই হাউমাউ করে কেদে দিলেন আয়শা বেগম
আচ্ছা আয়শা একটা কাজ করা যায় না কথা বলে চুপ হয়ে গেলেন মঞ্জমা বেগম।
- কি কাজ আম্মা
আমাদের আরাভ এর সাথে নিধির বিয়েটা দিলে কেমন হয় কথা বলেই আয়শার দিকে তাকালেন মঞ্জমা বেগম।
আতকে উঠলেন আয়শা।
কি বলেন আম্মা আরাভ কি রাজি হবে আর ও তো বলেই দিয়েছে তার যেইদিন মেয়ে পছন্দ হবে সে জানাবে এর আগে যেন কেউ তার বিয়ের বেপারে কিছু না বলে এক নিশ্বাসে বললেন আয়শা বেগম।
সেটাই তো ভাবছি।
তুর আব্বাজান জানার আগেই আরাভ এর সাথে কথা বলে দেখি।
★______পেইজে Akhi Islam-আখি ইসলাম __________★
পুরো খান বাড়ি ফুল দিয়ে সাজানো কাচা ফুলের সুভাস চারদিকে মৌ মৌ করছে আলোয় আলোয় সজ্জিত তার একমাত্র ফুফাতো ভাই এর বিয়ে সে তার একমাত্র বড় মামাতো ভাই।
এই নিয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা নেই সে নিরালে ল্যাপটপে কাজ করছে আরিয়ান খান আরাভ।
দরজায় হটাৎ নক হলো
-দরজা খোলা আছে বলেই কাজে কাজে মনযোগ দিলো আরাভ
ধিরে পায়ে ভয়ে কাচুমাচু হয়ে প্রবেশ করবো মঞ্জমা বেগম আর আয়শা বেগম,
কিছু বলবা দাদি
ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কথা টা বললো আরাভ।
তুর সাথে আমার কিছু সিরিয়াস কথা আছে দাদুভাই
আরাভ এর দিকে তাকি কথা টা বললো মঞ্জমা
-কি কথা
ইশান পালিয়েছে ওকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না সম্ভবত সে বিয়ে করবে না তাই এমন কান্ড ঘটিয়েছে এক নিশ্বাসে কথা টা বলে থামলেন মঞ্জমা।
কি বলছো কি তুমি দাদির দিকে তাকিয়ে বললেন আরাভ
-হ্যা সত্যি বলছি।
:তুমি শিওর কিভাবে যে ঈশান পালিয়েছে
:ঈশানের একটা বন্ধু আমার ফোনে ফোন দিয়েছিল।
ফোন দিয়ে বলল যে আপনার নাতি বিয়ে করবে না।
আপনার নাম্বার দিলো আমাকে।
দিয়ে বলে দিতে বলছে।
বলেই কল কেটে দিছে।
অনেক বার ইশান কে ফোন দিয়েছিলাম ধরেনি আবার যেই নাম্বার দিয়ে কল দিয়ে বলছে ওই নাম্বার টা ও বন্ধ।
এক দমে কথা গুলো বলে জোরে শ্বাস নিলো মঞ্জমা।
আর আমি আমার আরেকটা সিদ্ধান্ত জানাতে এসেছি তোকে (নিচের দিকে তাকিয়ে)
-কি সিদ্ধান্ত
চোখ বন্ধ করে জোরে একটা শ্বাস নিলেন মঞ্জমা একটা হাল্কা ঢোক গিলে শুরু করলেন
আমি ভেবেছি তুর সাথে নিধির বিয়ে দিবো নিচের দিকে তাকিয়ে বললেন।
এইবার আরাভ এর দিকে তাকিয়ে বললেন মানে ইশান এর সাথে যেই মেয়ের বিয়ের কথা ছিলো মানে ওকেই তুই বিয়ে করবি আর..
কথা টা বলার আগেই আরাভ এর গলা ভেসে আসলো।
- What does all this mean কি বলছো কি দাদি তুমার মাথা ঠিক আছে। রাগে চোয়াল শক্ত করে)
আর আমি তো বলেই দিয়েছি আমার বিয়ে নিয়ে মাথা ঘামাতে না।
এতখন নিরব দর্শক হিসেবে শুনছিলেন আয়শা বেগম
-দেখ বাবা এটা আমাদের মানসম্মান এর বেপার তুই দয়া করি রাজি হয়ে যা আব্বাজান এখনো কিছু জানে না।
উফ কি বলছো ফুপি কেন প্যারা দিচ্ছো খামোখা
দেশে কি আর ছেলে নেই আমাকেই কেন বিয়ে করতে হবে
চেনা নাই জানা নাই হুট করে বললেন বিয়ে হয়ে যায় রাগে রি রি করতে করতে বললো আরাভ।
-দেখ দাদুভাই বিয়ের আগেই কেউ কাউ কে চিনে না
সবই উপরওয়ালা ঠিক করে দেয় কখন কার সাথে কার বিয়ে হবে তুই আর অমত করিস না ভাই তুকে আমার কসম
বললেই হো হো করে কেদে উঠলেন মঞ্জমা বেগম।
ওকে কসম দেওয়ার দরকার নেই ও ই বিয়ে করবে পিছন থেকে ঝাঝালো কন্ঠে ভেসে আসলো কথা গুলো।
সবাই দরজা দিকে তাকিয়ে আছে।
রুমে প্রবেশ করলেন দেলোয়ার খান যিনি এই খান বাড়ির মেইন কর্তা।
আয়শা বেগম তার আব্বাজান দিকে তাকাতে পারছে না লজ্জায় ভয়ে।
মঞ্জমা বেগম ও বেশ ভয়ে ঢুকগিলছেন
দাদু তুমি কি বলছো এইসব,
আরাভ তার দাদুর দিকে তাকিয়ে কথা টা বললেন,
-হ্যা ঠিকই বলছি তুমিই বিয়ে করবে নিধি কে এটাই আমার শেষ এবং ফাইনাল কথা, ( ভিতরে ভিতরে একটু ভয় ও কাজ করছিলো কথা গুলো বলতে দেলোয়ার খান এর কারন সে জানে তার নাতির কতটা রাগ)
:impossible এটা কি ছেলে খেলা নাকি যারতার সাথে বিয়ে করিয়ে দিবে।
দাত কিরবির করতে করতে বললো আরাভ।
- যারতার সাথে মানে কি ওর সাথে তো আমাদের বাড়ির ছেলেরই বিয়ের হওয়ার কথা ও যার তার হয় কিভাবে,
খানিক টা রেগে কথা গুলো বলনেন দেলোয়ার খান।
শুকনো ঢোক গিলে আবার বলবেন দেলোয়ার খান,
দেখো আরাভ এখানে আমাদের খানবাড়ির মানসম্মান লেগে আছে আর বাড়িভর্তি মানুষ সবাই কে কি এখন আমার ঢাকঢোক পিটিয়ে বলবো ইশান পালিয়েছে।
আর আমাদের কথাই বা বাদ দিলাম ওই মেয়ে টার কথা চিন্তা করেছো সারাজীবন এর জন্য কলংক লেগে যাবে এমন হতে পারে তাকে কেউ বিয়ে ও করতে চাইবে না।
একটু থেমে।
,
আর শুনো নিধি খারাপ মেয়েও নয় বেশ মায়াবি মেয়েটা আহ কি সুন্দর লক্ষি একটা মেয়ে।
- আমি সুন্দর অসুন্দর এর কথা বলছি না দাদু আমি বলছি বিয়ে করবো না এতটুকুই শেষ কথা আমার।
বলেই রুম থেকে বের হলো আরাভ।
আহহহ বলে বুকে হাত রেখে চিৎকার দিয়ে শুয়ে পরলো দেলোয়ার।
খান আব্বাজান বলে দৌড়ে ধরলো আয়শা।
মঞ্জমা দেলোয়ার খান এর বুকে হাত রেখে বললো কি হলো আপনার।
আরাভ নিজের রুম পেরিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার চ্যাচামেচি শুনে দোড়ে আসলো।
সুচনা পর্ব
#মনের_অরন্যে_তুমি
চলবে
(বিদ্র: কেউ কপি করবেন না অন্য কোথাও যদি ও ছারেন আমার নাম চেঞ্জ করবেন না এটা আমার প্রথম লেখা ভুল লিখলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ভালো লাগলে জানাবেন বাকি পর্ব লিখবো)