06/08/2026
পুজো, ঈদ, নববর্ষ—উৎসব তো আজও আসে। কিন্তু কেন যেন মনে হয়, আগের সেই উৎসবগুলো আর ফিরে আসে না। আসলে বদলে গেছে শুধু সময় নয়, বদলে গেছে অনুভূতির ধরনও।
ছোটবেলার কথা বলছি। তখন এত আড়ম্বর ছিল না, এত কেনাকাটাও না। কিন্তু একটা নতুন জামার আনন্দ ছিল আজকের অনেকগুলো নতুন পোশাকের চেয়েও বড়। সেই একটি পোশাকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকত কত অপেক্ষা, কত স্বপ্ন, কত আবেগ!
আমরা ছিলাম বড় এক যৌথ পরিবারে। পুজোর আগে বাড়িতে একদিন বড় করে বাজার হতো। সবার জন্য প্রায় একই রকম পোশাক কেনা হতো। বাজার থেকে এনে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে কারও হাতে তুলে দেওয়া হতো না। সব পোশাক একসঙ্গে মামনির ঘরে যত্ন করে সাজিয়ে রাখা হতো ষষ্ঠীর আগের দিন পর্যন্ত। সেই ঘরে ঢুকলেই মনে হতো, যেন উৎসবটা একটু একটু করে জমে উঠছে।
তারপর কোটচাঁদপুর থেকে কাকা আসতেন। তাঁর হাতেও থাকত আমাদের সবার জন্য নতুন নতুন পোশাক। সেগুলো দড়ি টাঙিয়ে এক সারিতে ঝুলিয়ে রাখা হতো। কী যে অপূর্ব দৃশ্য! আজও চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই।
সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল, পাড়ার মানুষজনও এসে সেই বাজার দেখতেন। আমরা নিজেরাও বারবার গুনে গুনে দেখতাম, ছুঁয়ে দেখতাম, আবার সুন্দর করে গুছিয়ে রাখতাম। নতুন জামা তখন শুধু কাপড় ছিল না; সেটা ছিল আনন্দের গন্ধ, অপেক্ষার রং, আর একসঙ্গে থাকার উষ্ণতা।
আজ হয়তো আগের চেয়ে অনেক বেশি কেনাকাটা হয়। আলমারি ভরে যায় নতুন পোশাকে। কিন্তু সেই একসঙ্গে অপেক্ষা করা, সেই দড়িতে ঝুলে থাকা নতুন জামার সারি, সেই মামনির ঘরের উচ্ছ্বাস, সেই ছোট ছোট আনন্দগুলো—কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।
সময় আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু ছোটবেলার সেই সরল অনুভূতিগুলো আর ফিরিয়ে দিতে পারেনি। তাই আজও মনে হয়, বদলে গেছে শুধু উৎসব নয়—উৎসবকে অনুভব করার আমাদের হৃদয়টাও।