17/11/2023
আদর্শ সমাজের লেন-দেনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পারস্পরিক হাদিয়া-তোহফা আদান-প্রদান।
নবীজি (সা.) এর প্রতি খুব উৎসাহিত করেছেন। হেকমত হল, এর দ্বারা অন্তরে মহব্বত ভালোবাসা তৈরি হয়। সম্পর্ক দৃঢ় হয়। যেটি দুনিয়ার জীবনে অনেক বড় নিয়ামত। অ
নেক বিপৎ-মুসিবত থেকে হেফাজতের মাধ্যম। শান্তি-নিরাপত্তা লাভের খুব সহায়ক।
হাদিয়া হল যা অন্য কাউকে খুশি করা এবং তার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ভালো প্রকাশ করার জন্য দেয়া হয়। আর এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য থাকে। এই হাদিয়াটা ছোট কাউকে দেয়া হলে নিজের আদর-স্নেহ প্রকাশ করা হয়।
বন্ধু-বান্ধবকে দেয়া হলে সেটা হয় মহব্বত-ভালোবাসা বৃদ্ধির মাধ্যম। অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেয়া হলে খেদমত করার মাধ্যমে তার মনতুষ্টি অর্জন হয়। আর কোনো বুজুর্গ আল্লাহওয়ালা সম্মানিত ব্যক্তিকে দেয়া হলে সেটা হবে তার সম্মানের জন্য।
কোনো প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সওয়াবের নিয়তে দেয়া হলে সেটা হাদিয়া হবে না। সদকা হবে। হাদিয়া তখনই হবে যখন এর দ্বারা মহব্বত-ভালোবাসার প্রকাশ উদ্দেশ্য থাকবে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন কাঙ্ক্ষিত হবে।
একনিষ্ঠতার সঙ্গে হাদিয়া দেয়া হলে এর সওয়াব দান-সদকা থেকে কম নয়। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি। হাদিয়া এবং দানের পার্থক্যের ফলাফল হল, রাসূল (সা.) হাদিয়া গ্রহণ করতেন। নিজেও ব্যবহার করতেন। সদকা গ্রহণ করতেন তবে নিজে ব্যবহার করতেন না। অন্যদেরকে দিয়ে দিতেন।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল, সমাজজীবনে পারস্পরিক একনিষ্ঠতাপূর্ণ লেন-দেনের প্রচলন খুবই কমে গেছে। কিছু কিছু বিশেষ মহলে বুজুর্গ, আলেম, পীরদেরকে হাদিয়া দেয়ার প্রচলন কিছুটা আছে। কিন্তু আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীদেরকে হাদিয়া পাঠানোর প্রচলন প্রায় শূন্যের কোঠায়।
অথচ পারস্পরিক মহব্বত-ভালোবাসা বৃদ্ধি, সমাজজীবনে শান্তি-নিরাপত্তা লাভ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য রাসূল (সা.)-এর নির্দেশিত দুর্লভ কৌশল এটি।
হাদিয়া দেয়ার ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা তাদের সম্পদ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করে, অতঃপর খোটা বা তুলনা দিয়ে এবং কষ্ট দিয়ে তার অনুগমন করে না। তাদের জন্য রবের কাছে রয়েছে তাদের বিনিময়, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ২৬২)
#হাদিয়া #বিদেশ #সিলেট #প্রবাসী #প্রবাস #কাতার #দুবাই #সৌদিআরব