27/06/2026
আসসালামুয়ালাইকুম,
শুভ সকাল,
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ির " কাটা ওয়াশ " সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।
জামদানি শাড়ির কাটা ওয়াশ কিভাবে করতে হয়?
জামদানি শাড়িকে নতুনের মতো ঝকঝকে ও শক্ত রাখতে তাঁতিদের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি হলো "কাটা ওয়াশ"। এটি মূলত শাড়ির সুতা ঠিক করা,ময়লা পরিষ্কার করা এবং ভাতের মাড় দিয়ে শাড়িকে শক্ত করার একটি বিশেষ প্রক্রিয়া।
কাটা ওয়াশের ধাপগুলো:
১. বাঁধাই: প্রথমে শাড়িটিকে চারটি খুঁটির সাথে টানটান করে বাঁধতে হয়।
২. পরিষ্কার ও শুকানো: টানা অবস্থায় শাড়িটি পানি দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকাতে দেওয়া হয়।
৩. মাড় দেওয়া: শাড়ি ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে দক্ষ হাতের সাহায্যে ভাতের মাড় লাগাতে হয়।
৪. চূড়ান্ত শুকানো: রোদে মাড় শুকিয়ে গেলে শাড়িটি তার আগের স্বাভাবিক কাঠিন্য ও উজ্জ্বলতা ফিরে পায়।
কাটা ওয়াশ বা কাটাই কেনো বলা হয়?
কাটাই বলার কারণ হচ্ছে শাড়ির যে সকল অংশের সুতা একটু কুঁচকে যায় বা টান লেগে যায় সেই অংশগুলোতে খেজুরের কাটা দিয়ে সুতাটাকে ঠিক করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়।
জামদানি শাড়ি " কাটা ওয়াশ" করতে হয় কেনো?
জামদানি শাড়ি তৈরির সময় তাঁতিরা সুতাতে মাড় ব্যবহার করেন। শাড়ি কয়েকবার পড়ার পর সেই মাড়গুলো নষ্ট হয়ে যায় যার কারণে শাড়িটাকে কাটা ওয়াশ করাতে হয়।
কখন বুঝবেন শাড়ি "কাটা ওয়াশ" করতে হবে?
যখন একটি শাড়ি কয়েকবার পড়া হয়ে যাবে, কিছু জায়গাতে হয়তো জড়ি সুতোর কাজ কুঁচকে গিয়েছে এবং শাড়িটি নরম হয়ে গিয়েছে ঠিক তখনই শাড়িটি কাটা ওয়াশ করাতে হবে।
সব ধরনের জামদানিই কি "কাটা ওয়াশ" করাতে হয়?
জামদানি শাড়ি বিভিন্ন কাউন্টের হয়, বিভিন্ন রকমের সুতার উপর তৈরি হয়। মোট কথা জামদানির জগতে যত শাড়ি আছে, সেটা যত কাউন্টেরই হোক না কেনো সব শাড়িকেই কাটা ওয়াশ করাতে হবে , সব ধরনের জামদানিতেই কাটা ওয়াশের প্রসেস একই থাকবে।
কাটা ওয়াশ করানোর ফলে একটি পুরোনো শাড়ি হয়ে উঠে একেবারে নতুনের মতো।
" কাটা ওয়াশ " এর সুবিধা কি?
একটি জামদানি শাড়ি যখন কাটা ওয়াশ করানো হয় তখন তাঁতিদের ভাষায় শাড়িটির কন্ডিশন খুব ভালো হয়ে যায়। যার ফলে আপনি একটি শাড়ি বারবার কাটাই করে অনেকবার পড়তে পারবেন।
জামদানি শাড়ি কখনোই নরমাল পানিতে, সাবান জাতীয় কিছু ব্যবহার করে ধোয়া যাবে না কারণ নরমাল জামা- কাপড়ের মতো ওয়াশ করতে চাইলে শাড়িটি একেবারে জমে যাবে এবং শাড়ির সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে শাড়িটি আর পরিধানযোগ্য থাকবে না।
"কাটা ওয়াশ" করানোর ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম-
১. একটি শাড়ি কাটা ওয়াশ করানোর সময় অবশ্যই কড়া রোদ থাকতে হবে।
২. টেম্পার যাওয়া শাড়ি কাটা ওয়াশ করানো যাবে না।
৩. অধিক ছেড়া শাড়ি কাটা ওয়াশ করানো যাবে না।
ঘরে বসে সাধারণ নিয়মে জামদানি শাড়ি ধোয়া হলে এর সুতা ফেঁসে যেতে পারে।তাই ভালো ফলাফল পেতে অভিজ্ঞ তাঁতি বা জামদানি প্রস্তুতকারকদের কাছে গিয়ে "কাটা ওয়াশ" করানোই সবচেয়ে নিরাপদ ও সেরা উপায়।
কলমে- শাহানাজ