22/07/2025
**গল্প: শেষ ফ্লাইট**
ক্যাপ্টেন তৌফিক ছিলেন একজন নিঃসঙ্গ আকাশচারী।
বিমান চালানোই ছিল তার জীবন—নিচের পৃথিবীতে খুব বেশি কিছু ছিল না তার জন্য। স্ত্রী মারা গিয়েছিল অনেক আগেই, একমাত্র ছেলেটাও দূরে থাকে, কথা হয় না বছরের পর বছর।
তবে আকাশে উঠলেই যেন সে বাঁচতে পারত।
একেকটা যাত্রা, একেকটা ফ্লাইট—তার কাছে ছিল পৃথিবীর একমাত্র অর্থ।
সে জানত, প্রতিটা মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে চায়, কিন্তু কিছু কিছু মানুষ গন্তব্য না—বরং যাত্রাই হয়ে যায় তার জীবনের শেষ আশ্রয়।
সেদিন ছিল ক্যাপ্টেন তৌফিকের শেষ ফ্লাইট—অবসরের আগের দিন।
সব কিছু ঠিকঠাক ছিল। আকাশও ছিল পরিষ্কার।
হঠাৎ মাঝ আকাশে ইঞ্জিনে একটা গোলযোগ দেখা দিল।
বিমানটা কেঁপে উঠল। যাত্রীরা চিৎকার করছে, আতঙ্কে সবাই কান্নাকাটি করছে।
কিন্তু তৌফিক?
সে শান্ত ছিল।
তার মুখে ছিল একধরনের তৃপ্তির হাসি।
সে জানত, যদি আজ সে তার জীবনের শেষ মুহূর্তে থেকেও অন্য ১৫০ জনের জীবন বাঁচাতে পারে—তবেই তার এই নিঃসঙ্গ জীবন কিছু অর্থ পাবে।
শেষ মুহূর্তে, সমস্ত শক্তি দিয়ে, সমস্ত অভিজ্ঞতা দিয়ে সে বিমানটিকে এমনভাবে ল্যান্ড করালো—যা হয়তো বইয়ে লেখা যাবে না, শুধু বলা যাবে—
**"একজন পিতা, একজন স্বামী, একজন ক্যাপ্টেন আজ নিজেকে বিলিয়ে দিলেন, যেন অন্য কেউ তার ঘর হারিয়ে না ফেলে।"**
সেইদিন সবাই বেঁচে গেল,
শুধু ক্যাপ্টেন তৌফিক বেঁচে থাকলেন না।
পরে তার ছেলেটা এসেছিল, বাবার ইউনিফর্মটা জড়িয়ে কেঁদে বলেছিল—
**"তুমি চলে গেলে, কিন্তু আজ আমি প্রথমবার জানলাম—তুমি আমার জন্য কত বড় এক নায়ক ছিলে..."**