27/04/2026
💦👉🏿ইসলাম কি নারীদের নিস্তব্ধ নীরব হতে বাধ্য করে??
না। ইসলাম কখনো নারীদের নিরব হতে বাধ্য করে না, ইসলাম কখনোই নারীদের চুপ করে সবকিছু সহ্য করতে বলেনা। তবে এটা পুরুষরা করেছে, তাদের অহংকার করেছে এবং তাদের অজ্ঞতা করেছে।
আজকে আপনাদের একটা গল্প বললবো এমন একজন নারীর গল্প যাকে জবাবের উত্তর দেওয়ার জন্য স্বয়ং মহান আল্লাহ ﷻ গোটা একটা সূরা নাযিল করেন।
তার নাম হলো Khawlah bint Tha'labah (RA) অর্থাৎ খা'ওলাহ বিনতে তা'লাবা (রাঃ)।
যিনি একজন দৃঢ়চেতা নারী, যিনি নিরব থাকতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি domestic abuse এর বিরুদ্ধে তিনি কথা বলেছেন।
খা'ওলাহ'র স্বামী ছিলেন আওস ইবনে সামিত (রাঃ)। বয়সে বড়, বদমেজাজী, প্রায়ই তাকে কথায় কথায় আঘাত করতেন।
একদিন রাগের মাথায় তিনি "যিহার" করে বসলেন:
"তুমি আমার কাছে আমার মায়ের পিঠের মতো।"
জাহেলি যুগে এই কথার মানে ছিল এমন এক তালাক যা শুধু পুরুষের পক্ষেই সুবিধাজনক। নারী আবার বিয়ে করতে পারবে না। ছাড়াও পাবে না। সে শুধু... সেই ঘরেই এক বন্দীর মতো বেঁচে থাকবে। কোনো অধিকার নেই, কিন্তু সন্তানের দায়িত্ব তারই।
পুরুষরা রাগের সময় এ কথা বলে ফেলত আর নারীদের কোনো প্রতিকারই ছিল না।
পরের দিন আওস ফিরে এসে এমন আচরণ করলেন যেন কিছুই হয়নি। স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ হতে চাইলেন। খাওলা তাকে সরিয়ে দিলেন এবং চলে গেলেন।
তিনি সরাসরি নবী ﷺ-এর কাছে গেলেন।
নিজের কথা নিজেই বললেন। পরিবারের উপর ছেড়ে দেননি, চুপ থাকেননি। তিনি আল্লাহর রাসূলের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন এটা ঠিক নয়। এই অন্যায় প্রথা, যা নারীদের বন্দী করে রাখে আর পুরুষদের রক্ষা করে।
নবী ﷺ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে একটা সমাধান দিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু না আল্লাহ ﷻ পুরো একটি সূরা নাযিল করলেন। সম্পূর্ণ একটি অধ্যায়। নাম দিলেন "আল-মুজাদিলাহ" অর্থাৎ "যে নারী তর্ক করেছিল বা আরজি পেশ করেছিল।"
"নিশ্চয়ই আল্লাহ শুনেছেন সেই নারীর কথা, যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বিতর্ক করছিল এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ জানাচ্ছিল।" (৫৮:১)
আল্লাহ ঘোষণা করলেন: তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের মা নয়।
মা তো শুধু সেই নারী, যিনি তোমাদের জন্ম দিয়েছেন।
তিনি "যিহার" কে বলেছেন মুনকার (مُنكَرًا) একটি মিথ্যা, একটি জঘন্য কথা। তারপর শাস্তি নির্ধারণ করলেন:
একজন দাস মুক্ত করতে হবে। না পারলে টানা দুই মাস রোজা রাখতে হবে। তাও না পারলে ষাটজন গরীবকে খাওয়াতে হবে।
এগুলোর কোনোটাই optional কিছু নয়। এই কাফফারা আদায় না করা পর্যন্ত স্ত্রীর কাছে যাওয়া নিষিদ্ধ।
তুমি যদি জিজ্ঞেস করো কোন সূরার প্রতিটি আয়াতে আল্লাহর নাম আছে, তুমি হয়তো ছোট কোনো সূরা ভাববে, যেমন ইখলাস। কিন্তু না এই সূরাটিই। প্রতিটি আয়াতে আল্লাহর নাম।
যেন তিনি বলছেন তিনি প্রতিটি শব্দ শুনেছেন।
ইতিহাসে খুব কমই এমন হয়েছে কোনো মানুষের কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি নাযিলের কারণ হয়েছে।
যদি সত্যিই "কথা বলা" লজ্জাহীনতা হতো,
তাহলে আল্লাহ সেই নারীর জবাব দিতেন না, যিনি কথা বলেছিলেন।
হায়া বা লজ্জাশীলতা কখনো অন্যায়ের মুখে চুপ থাকার জন্য নয়। এটা হলো আল্লাহর সামনে নিজের মর্যাদা বুঝে চলা।
✍🏻Afroza's Islamic shotrs