14/07/2026
মানুষ বলে, চোখ নাকি মনের কথা বলে। আমি বলি, অনেক সময় চুলও গল্প বলে। অবশ্য সেটা সবসময় দুঃখ বা আনন্দের গল্প নয়—কখনো যত্নের, কখনো ক্লান্তির, কখনো আবার নতুন করে বাঁচতে শেখার গল্প।
এটা অবশ্য কোনো গবেষণার ফল না, একান্তই আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। ভুলও হতে পারে। তবু বারবার এমনটাই মনে হয়েছে।
যখন কোনো মেয়েকে দেখি খুব পরিপাটি করে চুল আঁচড়ানো, মাঝখান দিয়ে একদম সোজা সিঁথি কেটে বেণি বা খোঁপা করা, তখন মনে হয় সে অন্তত নিজের ভেতরটা গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। মনটা হয়তো খুব উচ্ছ্বসিত না, কিন্তু ভেঙেও পড়েনি। নিজের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ আছে, তাই কথাও ধৈর্য নিয়ে শোনে, বুঝে।
আবার যেদিন দেখি সুগন্ধি শ্যাম্পু করা, নরম করে আঁচড়ানো চুল খোলা রেখে হাওয়ায় উড়ছে, তখন মনে হয় আজ তার মেজাজটা বেশ ভালো। কারণ অনেক মেয়েই অকারণে চুল খোলা রাখে না। মন ভালো থাকলে, নিজের প্রতি একটু বাড়তি যত্ন নিতে ইচ্ছে করলেই যেন চুলটাও স্বাধীনতা পায়। আর মন যখন ক্লান্ত থাকে, তখন সেই চুলই ক্লিপের নিচে বন্দি হয়ে যায়, কিংবা তাড়াহুড়ো করে একটা মেসি বানেই দিন কেটে যায়।
আবার কখনো যদি দেখি চুলটা একদম অগোছালো, অনেকদিন যত্ন নেওয়া হয়নি, তখন বিচার করার বদলে একটু খোঁজ নিতে ইচ্ছে করে। কারণ অনেক সময় মানুষ যখন ভেতরে ভেতরে খুব লড়াই করে, তখন নিজের যত্ন নেওয়ার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলে। অবশ্যই শুধু চুল দেখে কারও মানসিক অবস্থা বোঝা যায় না, কিন্তু একটু আন্তরিকভাবে "কেমন আছো?" জিজ্ঞেস করতে তো ক্ষতি নেই।
আর একটা বিষয় প্রায়ই চোখে পড়ে—অনেক মেয়েই জীবনের বড় কোনো পরিবর্তনের সময় হঠাৎ করেই অনেকটা চুল কেটে ফেলে। এটা সবার ক্ষেত্রে সত্যি নয়, তবে কারও কারও জন্য চুল কাটা যেন নতুন করে শুরু করার একটা প্রতীক। পুরোনো কিছু ছেড়ে দিয়ে নিজের মতো করে আবার দাঁড়িয়ে যাওয়ার নীরব ঘোষণা।
আচ্ছা, আপনার চুল বেশিরভাগ সময় কেমন থাকে? আর সত্যি করে বলুন তো, আপনি কেমন আছেন?