13/07/2026
আমার একটা পুতুল ছিল, যেমন সকলেরই থাকে। তার চোখের পাতা নড়ত, সোনালি চুল। একটা চোখ, মাথার চুল জট পেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও সে-ই ছিল আমার প্রিয়। পরে অনেক পুতুল এসেছে, গেছে; কিন্তু সেই পুতুলের জায়গা কেউ নিতে পারেনি। অনেক বছর পরে দেখি, আমার পুতুলের স্মৃতি বলতেও তার কথাই মনে পড়ে। সোনালি চুল, চোখের ঘন পাতা, আমার খুশির চাবি।
এ রকম পুতুলের গল্প সকলের আছে। এ রকম পুতুলের গল্প রোজ তৈরি হয়ে চলেছে। এই শহরেরই একটা ছোট্ট মেয়ে একদিন অনেক বড় হবে। তার পুতুল থাকবে অথবা সময়ের নিয়মে হারিয়ে যাবে। কিন্তু তার স্মৃতির দেরাজে আমার হাতের তৈরি পুতুলটা রয়ে যাবে। এই সুযোগটা দেওয়ার জন্য ছোট্ট গিনি/পুপেকে অনেক আদর। কৃতজ্ঞতাও। সে তার মাকে প্রতিনিয়ত জোর করেছে পুতুলের বরাত দেওয়ার জন্য। আমার পাঠানো ডিজাইন থেকে নিজের মনের মতো পুতুল বেছে নিয়েছে, তদারকি করেছে এবং মাসের পর মাস অপেক্ষা করেছে তাকে নিজের করে নেবে বলে।
এই পুতুলটা আমার হাতের তৈরি বটে, কিন্তু বিলক্ষণ জানি, গিনি যে ভাবে যত্ন করবে ওর, তা আমিও পারব না। এটাই বোধহয় আমার সময়ের এবং পরিশ্রমের সার্থকতা।
একরাশ রেশমী চুলের এই পুতুল তৈরি করতে সময় লাগে। এর জামা, জুতো, মাথার ব্যান্ড, অ্যাপ্রন... সবই খোলা যায়। কেচে আবার পরিয়ে দেওয়া যায়। চাইলে এ রকম পুতুল আপনিও কিনতে পারেন। কাউকে উপহার দিতে পারেন অথবা নিছকই সাজিয়ে রাখতে পারেন।