19/01/2023
বাস্তব চরিত্র নিয়ে একটি গল্প
গল্পের নাম এতিম ছেলের জীবন কাহিনী
গল্পটা চারটি সিজন বিভক্ত করা হয়েছে
প্রত্যেক সিজনে গল্পের নাম চেঞ্জ হবে
গল্পের মূল কাহিনী একজন দূর গ্রামের ছেলে শহরের বড় নামকরা কোম্পানির এমডি হওয়ার গল্প এটা একটি বাস্তব চরিত্র তাই জায়গার নাম মূল ব্যক্তির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে
#এতিম ছেলের জীবন কাহিনী
পর্ব ,,,,,,,১
গল্পের মূল চরিত্র অনি কে ঘিরে। যার পুরো নাম গাজী মোহাম্মদ আবু রোহান ওরফে জিএম আবু রায়হান ওরফে শর্ট নেম অনি
অনি অফিসে ঢুকতেই দেখলো সামনে তার সাবিলা আপু। কাজ করছে।
অনি: আসসালামু আলাইকুম রুনু আপু!
রুনু: ওয়ালাইকুম আসসালাম! কি ব্যাপার ছোট তুই আজ আবার ২৫ মিনিট লেট ।কেন করিস এমন! কি সমস্যা তোর তুই তো আগে এমন ছিলিনা
আনি: আপু। আমি কি ইচ্ছা করে করি সকালে উঠতে খুব দেরি হয় যার কারণে আমি লেট হয়ে যাই। বাদ দাও ওসব কথা। এটা বলো বস কি এসেছে?
রুনু:হ্যা। এসেছে।স্যার তোকে ক্যাবিনে যেতে বললেন
ও আচ্ছা বলেই ও আচ্ছা বলেই বছের ক্যাবিনের সামনে চলে এলো
আসুন আমরা রুনু ম্যাডামের বায়োডাটা নিয়ে
রুনু সম্পূর্ণ নাম সাবিলা খান রুনু দেখতে সাদাসিধা রং ফর্সা অ্যাট্রাক্টি চেহারা শিক্ষিত ওয়েল এডুকেটেড কিন্তু ছোট্ট একটা কারণবশত তার জীবনটা থেমে আছে। সঙ্গে থাকুন জানতে পারবেন। অনি তার নিজের ভাই নয় বয়স এক বছর ছোট তাই ভাই সম্বোধন করে
অনি :স্যার ভিতরে আসবো?
বছ: হ্যা আসুন
বস্ মাথা নিচু করে একটা ফাইলের দিকে মন্ দিয়ে দেখতে দেখতে কথাটা বলল। তার পর মাথা উঁচু করে বললো। কে ।অনি ।বসো। আবার মাথা নিচু করে ফাইলটা বন্ধ করে একটু সামনে ঠেলে দিয়ে বলল
বছ: তুমি আজ আবার লেট ! কিভাবে? আমি না তোমাকে কালকে একটা নতুন এলারাম গিফট দিলাম। আজ কোনো explain দিওনা। শুধু এইটা বলো যখন আমি থাকবো না তখন নিশ্চয় কোম্পানি অন্য কোন বস দেখবে ।তখন তুমি কি করবে? এটাও বল তোমার দেখা দেখি যদি আর পাঁচটা কর্মচারী তোমারই মত ব্যবহার করে তাহলে কোম্পানির রেপুটেশন টা কোথায় যাবে ?তার দায়ী কি তুমি হবে না আমি আমি? ।তোমাকে কোনদিন কিছু বলতে পারি না। সেটা তুমি ভালোভাবেই জানো আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি । সেই জন্য তুমি,,,
অনি পিছনে সাইডে তাকিয়ে স্যারকে থামিয়ে দিয়ে বললো
অনি :না মামা।এমন ভাবে বলবেন না।
বছ: তাহলে কি স্যালারি বাড়াতে হবে?
অনি: না মামা
বছ: তাহলে কি সেটা আমার বলো। আমার তো মনে হয় তোমার স্যালারি কম হচ্ছে তাই তুমি এরকম করছ
অনি: না মামা ভুল বলছো তাই যদি হতো চার মাস আগে আসা দিয়া ম্যাডাম ছাড়া নিশ্চয়ই আমার স্যালারি বেশি হত
বছ: তাহলে কি হয়েছে বলো আমার ।শরীরে কোন রোগ হয়েছে। নাকি কোথাও প্রেম করছো? রাত জেগে ফোন করতে হয় বলো
অনি: না মামা রোগ নয়। প্রেম নয়। এমনকি নারী ঘাটিতে কোন কাজ নাই আমার এমন কিছু সমস্যা যা আপনাকে আমি এখন বোঝাতে পারবো না আমাকে কিছুদিন সময় দিন আমি বলব।
বছ: ঠিক আছে কাজ করো মন দিয়ে
এই বলে অনি বেরিয়ে পড়ল সেখান থেকে সোজা নিজের সেক্টরের পেছনে দরোজা খুলে সবার পিছনে নিজের টেবিলে বসে কাজ করতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ কাজ করার পর তারই একটা টেবিল আগে দিয়া ম্যাম কাজ করছে । কাজের শব্দে দিয়া পিছনে ঘুরলো
দিয়া : আসসালামু আলাইকুম অনি সাহেব
অনি: ওয়ালাইকুম আসসালাম দিয়া ম্যাম
দিয়া: কি ব্যাপার আজ আবার ১ ঘন্টা লেটে।আজ আপনার কাজ কমপিলিট হবে বলে মনে হয় না
অনি: কি করে বুঝলেন?
দিয়া: না মনে। এটা আগের মতো সহজ না। একটুখানি ভারি, সাথে ২ ফাইল এক্ষট্রা তাই বললাম আর কি
অনি: অসুবিধা নেই।না হলে ১ঘন্ট দেরি করে যাবো
এই বলে অনি কাজ করতে শুরু করল কাজের মধ্যে এতটাই বিভোর হয়ে গেল কখন লাঞ্চ টাইম হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। দিয়া ম্যাম লাঞ্চের জন্য ডাকতেই তার হুস ফিরল
দিয়া : অনি সাহেব লাঞ্চ করবেন না
অনি: হ্যাঁ করব।চলুন
দিয়া:আপনি এত কাজ করে ফেলেছেন আপনি তো আমার একঘন্টা পরে এসেছেন অথচ আমার থেকে প্রায় ডবল এত কাজ কি করে করেন
অনি;আরে ছাড়ুন তো কাজ চলুন দুটো খেয়ে আসি
দিয়া :আমি সিরিয়াস বলছি আপনার আগে এই সেক্টরে অনেক লোক এসেছে অথচ আপনার থেকে বেশি কাজ কেউ করতে পেরেছে বলে মনে হয়না। কি করে করেন?
অনি : বাদ দ্যান কাজের কথা। লাঞ্চ করতে চলুন
দিয়া: চলুন। আপনি লাঞ্চ বক্স নেবেন না?
অনি: আমি ক্যান্টিনে বসলেই লাঞ্চ চলে আসবে
রুনু:আরে অনি এদিকে আয়! কি ব্যাপার এত দেরি করলে
অনি:আরে আপু একটু কাজে ছিলাম এবং সাথে টেনশনে ও ছিলাম
রুনু: আরে দিয়া ম্যাম বসুন
সবাই লাঞ্চ করছে এমন সময় পিছন থেকে ম্যানেজার বলল এখানে কি একটা সিট হবে নাকি
রুনু :হাসান সাহেব আসুন আসুন বসুন অবশ্যই সিট হবে
হাসান: অনি সাহেব খেতে খেতে একটা জোকস শোনান. আপনার জোকস শুনবো বলেই তো খেতে এলাম এবং এখানেই এলাম
অনি: আজ আমার মনটা ভালো নেই।আর তাছাড়া আজ তো কারো জন্মদিন না
হাসান: ডিয়ার ফ্রেন্ড আমাদের যে সবসময় আনন্দ দেয় হাসি খুশি তে রাখে। সেই অনি সাহেব বলছেন তার নাকি মন খারাপ কেউ কি এটা বিশ্বাস করবেন। তাছাড়া আজকের এই দিনে আমি এই অফিসে জয়েন করেছিলাম তখন কাউকে চিনতাম না এখন তো সবাই, তাই জয়েন করার উপলক্ষে আজ আমাদের সামনে অনি সাহেব অনি সাহেব জোকস শোনাবেন
রুনু: ম্যানেজার সাহেব কি করলেন এটা।ওর সত্যি আজ মন খারাপ। বড় সাহেব ওকে আজ খুব বকেছে
হাসান:ও সরি
অনি:ঠিক আছে সবার তো খাওয়া দাওয়া শেষ! আমি শোনাছি
হাসলে কিন্তু হবে না যে প্রত্যেক জোকস এর উপর হাসবে তাকে কিন্তু আমার ক্যান্টিনের বিল দেওয়া লাগবে। কি রাজি তো? তাহলে ঠিক আছে। কেউ কোন কথা বলবে না পিন ড্রপ সাইলেন্ট । অনি কান্টিনের মাঝ বারা বার ধীরগতিতে এলো। ভেবে মুখটা কালো করে। মাথাটা নিচু করলো । এবার হাসি লুক দিয়ে সবাইকে দেখলো! তো কথা না বাড়ি শুরু করা যাক আজকের প্রথম জোকস
স্কুলে ইতিহাসের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে
বিধান একটা ভালো ছাত্র সে বাবোর সম্বন্ধে টীকা লিখছিল। তারি পেছনে একটা খারাপ ছাত্র মদন ছিল যে কিনা সামনে বসা বিধানের কপি করছিল।তো বিধান লিখেছে। বিপদের সময় বাবোর ভাঙ্গিয়া পড়িতেন না। মদন কপি করেছে বিপদের সময় বাবোর জাঙ্গিয়া পরিতেন না
ওকে সাইলেন্ট এন্ড নেক্সট
একটি মেয়ে একটি ছেলেকে বলছে খবরদার আমার পিছে তুই ঘুরবি না কারণ তোর মতো অনেক ছেলে আমার পেছনে ঘুরে ছেলেটি মুচকি হেসে মেয়েটিকে জবাব দিল এটা নিয়ে তুই মোটেও বড়াই করিস না কারণ কম দামি জিনিসের খরিদ্দার বেশি হয়
এক ভিখারি একটা বাবুকে গিয়ে বলল বাবু আমাকে কুড়ি টাকা ভিক্ষা দেন না কফি খাবো। বাবু ভিক্ষাকে দিকে তাকিয়ে বলল আরে কফির তো ১০ টাকা তাহলে তুই কুড়ি টাকা চাইছিস কেন। ভিক্ষুক তখন সহস্য বলল বাবু, আমার গার্লফ্রেন্ড আছে। বাবু তখন রগে গেল আর বল্লো এই তুই ভিখারী হয়ে গার্লফ্রেন্ড বানিয়েছিস। তখন মুখ কালো করে ভিক্ষুক বলল না বাবু আমি ভিখারী হয়ে গার্লফ্রেন্ড বানায়নি, গার্লফ্রেন্ড আমাকে ভিখারি করেছে
আস্তে আস্তে হাসতে মানা করেছি বলে কি হাততালি দিবে নাকি? এরপরে তো স্যার চলে আসবে। তো নেক্সট
এক বৌমা শাশুড়ির কাছে নালিশ করছে। শাশুড়ি মা জানেন তো আপনার ছেলের না অনেক দোষ। শাশুড়ি মা একটু মুচকি হেসে বলল জানি মা জানি আর আমার ছেলের অনেক দোষ বলেই তো ভালো একটা বউ পেলাম।
নেক্সট এন্ড লাস্ট
বাবা ছেলেকে পড়াচ্ছেন পড়াতে পড়াতে এমন একটা লাইন এসে গেছে সেখানে বাবা একটু লাইনটাকে ঘুরিয়ে পড়াচ্ছেন কিভাবে ঘুরিয়ে পড়াচ্ছেন তাহলে শুনুন বাবা বলছে সংসার সুখী হয়ে পুরুষের গুণে। এই কথা রান্নাঘর থেকে মা শুনে খুন্তি নিয়ে তেড়ে এসেছে। তেরে এসে বলল এই তুমি ছেলে টাকে কি ভুলভাল পড়াচ্ছো। বাবা বলছে কই কি ভুল পড়ালাম । মা বলছে এই তুমি না এখনই বললে সংসার সুখের হয় প পুরুষের গুনে । লোকটি একটু হেসে বলল আরে তুমি তো অর্ধেক শুনেই ক্ষেপে গেলে পুরো লাইনটা তো শোনো তারপর না হয় আমার দোষারোপ করো। অ্য পুরো লাইনটা শুনবো মানে? কি বলতে চাচ্ছ তাই বল? তখন তার স্বামী বলছে সংসার সুখের হয় পুরুষের গুনে যদি পুরুষ চুপচাপ বউয়ের কথা শোনে
সাইলেন্ট ফ্রেন্ড আমার জোকস এখানেই শেষ আমাদের লাঞ্চ টাইম এখানে শেষ। চলো এবার সবাই কাজ করা যাক। এই বলে সবাইকে নিয়ে অফিসে ভিতরে চলে এলো সবাই তো খুব খুশি। সবাই অনি বলতে পঞ্চমুখ যেন মুখে একটা নতুন করে হাসি ফুটে ওঠে এইভাবে চলে গেল আজকের দিন হয়ে গেল সন্ধ্যা। অনির কাজও কমপ্লিট তাও আবার সবার সাথে। অনি বাইরে এসে স্কুটিতে বসতে যাবে এমন সময় দিয়া ম্যাডাম চলে এলো
দিয়া: আমাকে সেক্স বাই থ্রি রোড পর্যন্ত ড্রপ করে দিন তো
অনি: ঠিক আছে বসুন
(নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছে গাড়ি থামিয়ে দিল কারণ এখানে চৌরাস্তার মুখ এখান থেকে অনেক রাইট সাইডে টার্নিং নেবে। আর দিয়া সোজা রোড ক্রস করে চলে যাবে। সম্ভবত এখান থেকেই রিকশা নিয়ে চলে যাবে)
দিয়া: চলুন আমার সঙ্গে এক কাপ কফি খেয়ে তারপর যাবেন
অনি:আজ থাক অন্যদিন যাবো
দিয়া: চলুন ভালো লাগবে সারাদিনে কষ্ট শরীরে একটু ভালো লাগবে
অনি: আচ্ছা চলুন
দিয়া: ওইটার ।টু কাপ ক্যাপাচিনো
ওকে ম্যাম
অনি: আজ এত খুশি।কি ব্যাপার পেয়ে গেলেন নাকি মনের মানুষ
দিয়া: কি বলেন এসব কথা। খুঁজলে তো পাবো এখনো খুজিনি কারন ঐ যে আপনার কথা
লেখা আছে জাহা নসিবে।
অবশ্যই তো তা ঘটিবে।
আচ্ছা আপনি তো আমার বিষয় সবই জানেন আমার বাবা একজন রিক্সা চালক আমার বোনটা অনেক দূরে লেখাপড়া করছে।এবার বলুন তো আমার মত মেয়ের কেমন স্বামী হওয়া উচিত সে কি পারবে আমাদের সঙ্গে থাকবে।
সঙ্গে থাকুন জানতে পারবেন ভাল লাগলে কমেন্ট করুন প্রত্যেকটা পর্ব শেষে থাকবে একটা করে ছোট্ট প্রশ্ন কমেন্ট করলে বুঝবো গল্পের সঙ্গে আছেন