16/08/2026
কঠিন শাস্তি চাই ঐ অমানুষটার😡😡।এই চক্রের সাথে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হোক।
ছয় মাস আগে অপহরণ করা হয় ছয় বছরের শিশু সোয়াইব হোসেনকে। এরপর তার ওপর চালানো হয় অমানষিক নির্যাতন। সারা শরীরে সিগারেট আর কয়েলের ছ্যাঁকা দিয়ে, হাতের নখ উপড়িয়ে, না খাইয়ে রেখে বানানো হয় প্রায় প্রতিবন্ধী। রাতে আটকে রেখে এভাবেই তার ওপর চলেছে নির্যাতন। আর দিনের বেলায় তাকে দিয়ে করানো হতো ভিক্ষা।
তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অবশেষে মৃতপ্রায় শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বিপ্লবকে (৩০)। উদ্ধারের পর প্রথম দেখায় মা সোহানা জাহান চিনতে পারেননি তার আদরের সন্তান সোয়াইব হোসেনকে। যে ছেলে ছিল স্বাস্থ্যবান আর মাথাভর্তি ছিল চুল, মাত্র ছয় মাসে সেই সন্তান এখন কঙ্কালসার অবস্থা। এখন পাবনা জেনারেল হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতড়াচ্ছে শিশু সোয়াইব।
অভিযোগে জানা গেছে, পাবনা সদর উপজেলার চক ছাতিয়ানী এলাকার আমিনুল ইসলাম ও সোহানা জাহানের সন্তান সোয়াইব। বাবা অন্যত্র বিয়ে করায় মায়ের কাছেই রয়েছে সে। গত বছরের ২ অক্টোবর একই উপজেলার শানির দিয়ার এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম বিপ্লব শিশুটিকে বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে অপহরণ করেন।
সন্তানের খোঁজ না পেয়ে ওই বছরের ৭ অক্টোবর পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করেন তার মা সোহানা জাহান। তখন আত্মগোপনে চলে যাওয়া বিপ্লব শিশু সোয়াইবের মাকে ফোন করে অপহরণের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বেশির ভাগ সময় বিপ্লবের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না সোয়াইবের মা।
এদিকে জিডির পর ফোন নম্বর ট্র্যাক করে বিপ্লবের লোকেশন শনাক্তের চেষ্টা করে পুলিশ। ঘটনার ছয় মাস পর ১৮ এপ্রিল খুলনার রূপসা ফেরিঘাট এলাকা থেকে ভিক্ষা করানো অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত বিপ্লবকে আটক করে পুলিশ। এরপরই বেরিয়ে আসে শিশুটির ওপর বর্বর নির্যাতনের তথ্য।
ভুক্তভোগী শিশু সোয়াইব জানায়, রাতে তাকে একটি কক্ষে বন্দী করে রাখতেন বিপ্লব। সহজে কিছু খেতে দিতেন না। তার শরীরে দাঁতের কামড় বসিয়ে চামড়া তুলে ফেলতেন। সারা শরীরে দেওয়া হতো সিগারেট ও কয়েলের আগুনের ছ্যাঁকা। বাম হাতের একটি আঙুলের নখ প্লায়ার্স দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে।
Copy post