21/08/2026
অনেকেই রুকাইয়া আপুর মৃত্যু কিভাবে হয়েছে এটা জানতে চেয়েছেন।
রুকাইয়া আপু আমাদের সাথে দাওরা পড়েছেন। ওনার বিয়ে হয়েছিল আমাদের হেদায়া বছরে।
বিয়ের পর থেকেই ওনার জামাই সবসময় ওনাকে মেন্টালি টর্চার করতো।
মা-বাবার সাথে কথা বলতে হলেও ফোন লাউড স্পিকারে দিয়ে, ওনার সামনে বসেই কথা বলতে হতো। যদি কথা না শোনা হতো, তখনই শুরু হতো অকথ্য গালিগালাজ। আব্বু-আম্মুকে তুলে অনেক বাজে বাজে ভাষা প্রয়োগ করতো।
আপুর বোন কোনো জিনিস দিলে সেটাও নিতে দিত না। বলতো এটা তার দুলাভাইয়ের টাকার কেনা। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টা বলতো "তোমার দুলাভাইয়ের সাথে তোমার চক্কর আছে"। 🙂
আপুর জ্বীনের সমস্যা ছিল। এজন্য বাবু হতে দেরি হচ্ছিল। এজন্য শাশুড়িও ওনাকে একদম পছন্দ করতো না।
আর সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, জামাই রাগ করলে নিজেই হাত-বুক ব্লেড দিয়ে কাটতো।
রমজানের ঈদের দুই দিন পর ওনার চাচাতো বোনের বিয়ে ছিল। সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েও ওনাকে খাওয়ার সুযোগ দেয়নি। নিজেই খেয়ে ওনাকে নিয়ে চলে এসেছে। ওটাই ছিল ওনার মায়ের বাসা থেকে শেষ যাওয়া।
আশেপাশের মানুষ বলে, যেদিন উনি মারা যান তার আগের দিন ওদের মধ্যে ছোট বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। যেটা পরে বড় রূপ ধারণ করে। তারপর থেকে ওনার আর কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি।
পরের দিন ওনার ফ্যামিলির কাছে খবর আসে। বলা হয় রুকাইয়া আপু আর ওনার হাজবেন্ড নাকি কোনো আত্মীয়কে হসপিটালে দেখতে বাইকে করে যাচ্ছিল। যাওয়ার সময় ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। আপুর মাথায় গুরুতর আঘাত, তাই ইমার্জেন্সিতে ভর্তি।
কিছুক্ষণের মধ্যে সবাই হসপিটালে পৌঁছে দেখে আপু আর নেই।🙂
কিন্তু কি আশ্চর্য! বাইকে দুজন ছিল, কিন্তু একজন মারা গেল আর একজনের গায়ে সামান্য আঁচ পর্যন্ত লাগেনি। এমনকি দেখে মনেই হচ্ছে না কোনো অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে।
তারপরও আমরা বললাম কোথায় অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে দেখাও। সে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পর দেখি ওখানে এমন কিছুই নেই যার মাধ্যমে ওনার মাথায় এভাবে আঘাত লাগবে। আশেপাশের মানুষকেও জিজ্ঞাসা করা হলো, তারাও বললো তারা কোনো অ্যাক্সিডেন্ট হতে দেখেনি।
এরপর ওনার জামাইয়ের ফ্যামিলির সবাই এই ঘটনার পর পালিয়ে গেছে। আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তারপর আপুকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন, এখন যদি কেস বা অভিযোগ করতে হয় তাহলে যথেষ্ট প্রমাণ লাগবে। প্রমাণ তো অনেক ছিল, কিন্তু একজন আলেমা মেয়ের লাশ পোস্টমর্টেম করা লাগতো। 🙂💔
আর অভিযোগ করলেও কিছুদিন পর টাকা-পয়সা দিয়ে ঠিকই জেল থেকে বের হয়ে আসতো।
তাই এই বিচার আল্লাহর উপরেই ছেড়ে দিলাম। ওনাকে চিরদিনের জন্য বিদায় দিয়ে দেওয়া হলো।
আমি আশা করি কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা ওনার এমন বিচার করবেন যে সমস্ত মানুষের গা শিউরে উঠবে।
বাদবাকি আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। সবাই আপুর জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন ওনার সমস্ত ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে ওনাকে জান্নাত নসিব করেন। আমিন।🤲©