Story of Maria Akter Sadia - মারিয়া আক্তার সাদিয়া

  • Home
  • Bangladesh
  • Barishal
  • Story of Maria Akter Sadia - মারিয়া আক্তার সাদিয়া

Story of Maria Akter Sadia - মারিয়া আক্তার সাদিয়া Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Story of Maria Akter Sadia - মারিয়া আক্তার সাদিয়া, Barishal.

সাহিত্যের ব্যাকরণ হয়তো আমার চেনা নেই, আমি তো কেবলই এক অজ্ঞাত অক্ষর-শ্রমিক।
অবাধ্য কিছু কল্পনাকে শব্দের সুতোয় বুনে যাই,
আমি আজন্ম এক কল্পনা-বিলাসী, মনের ক্যানভাসে এঁকে চলি হাজারো অলীক ছবি।

-মারিয়া আক্তার সাদিয়া ( নীল মালতীলতা)
আইডি লিংক:

 #সে_আমার_মল্লিকা #পর্ব_৯ #মারিয়া_আক্তার_সাদিয়াসূর্যের প্রখরতা বাড়ার সাথে সাথে শহরের কোলাহলও বাড়তে শুরু করেছে। অনিন্দিতা...
19/08/2026

#সে_আমার_মল্লিকা
#পর্ব_৯
#মারিয়া_আক্তার_সাদিয়া

সূর্যের প্রখরতা বাড়ার সাথে সাথে শহরের কোলাহলও বাড়তে শুরু করেছে। অনিন্দিতা ক্লান্ত পায়ে হেঁটে চলেছে এক গলি থেকে অন্য গলিতে। কাঁধের ব্যাগটার ওজনটা যেন আস্তে আস্তে কয়েক গুণ বেশি ভারী লাগতে শুরু করল। ব্যাগের ভারী ওজনটার চেয়েও যেন তার বুকের ভেতরের অনিশ্চয়তার ওজনটা অনেক বেশি ভারী লাগছে।
প্রতিটা টু-লেট ঝুলতে থাকা বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। একা একটা মেয়ে, অত্যন্ত সাধারন বেশভূষা, কাঁধে শুধু একটা ব্যাগ, কোন আয় রোজগার নেই চাকরি নেই পড়াশোনা নেই কিচ্ছু নেই সেই মেয়েকে বাড়ি ভাড়া দেওয়া টা অনেকের কাছেই যেন বিপদজনক মনে হচ্ছিল। বাড়িওয়ালারা সরাসরি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
কোন কোন বাসার ভাড়াই এমন আকাশছোঁয়া যে অনিন্দিতা চাইলেই সে ভাড়াতে থাকতে পারবে না।

দুপুরের দিকে রোদের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে অনিন্দিতা এক বিশাল বটগাছের ছায়ায় এসে বসলো। মাথার ওপর কোনো ছাদ নেই, পকেটের জমানো টাকাগুলোও একটু একটু করে শেষের পথে। টাকা তো শেষ হয়ে যাবে ও তো আর এমনি এমনি বাড়বে না । হঠাৎ করেই চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এলো তার। ঘরের বাইরে একা একটা মেয়ের টিকে থাকাটা মোটেও সহজ কথা নয়। যা অনিন্দিতা এই দুই দিনেই আরো ভালো করেই উপলব্ধি করতে পারছে। এই উপলব্ধিতে কোন কাজ তো হবে না অনিন্দিতার। কারণ তার ঘরের ভেতরেও সম্মান নেই। সেখানেও মানুষের বাঁকা নজর, আড়ালে ফিসফিসানো কথা। যা বেঁচে থাকাকে যেন মৃত্যুসম করে তোলে। এর চেয়ে যদি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে নিজের কাছে নিজের জন্য একটুখানি সম্মান তৈরি করা যায় এতে দোষ কি? দেয়ালে তো পিঠ ঠেকেই গেছে। এবার না হয় সামনের লড়াই করে এগিয়ে যাই। ফলে দুটো সমাধান পাওয়া যাবে এক হয়তো আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে উঠবো, দুই মৃত্যু আমাকে বরণ করে নিবে।
চোখের কোণ গড়িয়ে একফোঁটা জল গালে এসে পড়তেই জলদি তা মুছে ফেলল সে। দুর্বল হলে চলবে না, তাকে লড়তে হবে। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন মনে মনে এই বাক্যটি জপে কষ্ট চেপে আবার উঠে দাঁড়ালো সে।

,
,

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী-মোহরা সীমান্তের একটি উঁচু টিলার ঠিক ওপর ঘেঁষে তৈরি এক আভিজাত্যপূর্ণ ও পরিপাটি দোতলা বাড়ি। এই বাড়িটিই ফারজাদের বর্তমান আশ্রয়স্থল। বাড়িতে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অপরূপ প্রকৃতির সৌন্দর্য। বাড়িটার কিছুটা দূরে একধার থেকে বয়ে চলছে কর্ণফুলী নদীর ঢেউ। আরেকধারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়।
ফারযাদের বারান্দা থেকে সামনে দৃশ্যমান সারি সারি পাহাড়গুলোকে মনে হয় প্রকাণ্ড কোনো শান্ত প্রহরীর দল, যারা যুগ যুগ ধরে একই জায়গায় গম্ভীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ের শরীর জুড়ে ঘন সবুজের বিস্তার। কোথাও গাঢ় সবুজ শ্যাওলার আস্তরণ, কোথাও বা উঁচু অচেনা সব বৃক্ষের মাথার রাজকীয় দোলা। পটিয়া-বোয়ালখালীর দিক থেকে নেমে আসা ছোট-বড় টিলাগুলো একটির পেছনে আরেকটি এমনভাবে সাজানো, যেন সবুজ তরঙ্গের ঢেউ এসে থমকে গেছে দিগন্তের কোলে। পাহাড়ের খাজে খাজে যেন ছড়িয়ে থাকে ধোয়াটে কুয়াশার হালকা চাদর। পড়ন্ত বিকেলে যখন পাহাড়ি ঢালের মাঝ দিয়ে সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে, তখন মেঘ আর রোদের খেলা জমে ওঠে। পাহাড়ের চুড়ায় তখন কাঁচা সোনার আলো লেগে জ্বলজ্বল করে, আর নিচু উপত্যকাগুলো ডুবে যেতে থাকে আবছা বেগুনি আর কালচে ছায়ায়। পাহাড়ি ঢালে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দু-একটা ছোট ছোট ঘরের চালের ওপর সেই আলো পড়ে মনে হয় যেন পাহাড়ের বুকে মুক্তো ছিটানো রয়েছে।
সবচেয়ে চমৎকার দৃশ্য তৈরি করে বারান্দার ডান দিকটা। সেখান দিয়ে বয়ে যাওয়া কর্ণফুলী নদী যেন পাহাড়ের পায়ের কাছে এসে লুটিয়ে পড়ে। বারান্দায় দাঁড়ালে পাহাড়ের বুক চিরে আসা হিমশীতল বাতাস সরাসরি ছুঁয়ে যায় মুখ-চোখ। পাহাড়ি মেহগনি আর পাইন গাছের পাতা ছুয়ে আসা সেই বাতাসে ভেসে আসে এক অদ্ভুত সোঁদা গন্ধ। যে গন্ধে কোনো শহরের ভেজাল নেই, আছে কেবল এক নির্জন, শান্ত আর প্রশান্তিদায়ক মায়াবী ছোঁয়া।

সকালে সূর্য যখন নদীর বুকে কাঁচা সোনা রোদ ছড়িয়ে দেয়, তখন ফারযাদের বারান্দা থেকে সেই দৃশ্য দেখতে চমৎকার লাগে। আবার সন্ধ্যায় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে যখন অন্ধকার নেমে আসে, তখন নদীর ধারের ছোট ছোট ঘরের বাতিগুলো যেন জোনাকির মতো জ্বলে ওঠে।

এই অপরূপ সুন্দর প্রকৃতিকে উপভোগ করার জন্যই হয়তো সুলতানা এমন একটা জায়গা বেছে নিয়েছেন বাসস্থানের জন্য।

বাড়িটা ফারজাদের নিজের না হলেও এখানেই যেন ফরযাদের প্রাণ। অবশ্য এবাড়ির মানুষ সব সময়ই বলে তুই এবাড়ির একজন।এবাড়ির ছেলে তুই। সারা জীবন এখানেই কাটিয়ে দিবি কোন সমস্যা নেই। খবরদার নিজেকে কক্ষনো বাইরের কেউ ভাববি না। তাহলে কিন্তু ভাববো তোকে এত আদর ভালোবাসা দিয়েও আপন করতে পারিনি। আমাদের ভালোবাসা ব্যর্থ।
ফারযাদ জানে তারা যতই আবেগ নিয়ে কথাগুলো বলুক না কেন দিন শেষে সে এবাড়ির ছেলে নয়। কথাটা অবশ্য ফারজাদ নিজেও ভুলতে বসেছে। অত্যন্ত গোপনে হৃদয়ের এক গভীরে কথাখানা তালাবদ্ধ করে রেখেছে সে। সেই তালা কখনো ভাঙ্গার প্রয়োজন পড়বে কিনা সে জানে না, জানতে চায়ও না।

ফারযাদ শেষ বিকেলের নদী আর পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বারান্দার দোলনায় হেলান দিয়ে বসেছে। হাতে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম কফি। কিন্তু আজ পাহাড় নদীর এই রহস্যময় প্রকৃতির সাথেও ফারযাদের কল্পনায় ভাসছে সেই ভোরের কুয়াশায় হারিয়ে যাওয়া রহস্যময়ী অনিন্দিতার কাছে। যার চোখে কখনো দুঃখ কখনো জেদ কখনো অহংকারী এক আত্মমর্যাদাপূর্ণ দৃষ্টি তো কখনো বিরক্তি । ঠিক যেন এই সামনে অবস্থিত পাহাড় নদীর রহস্যের মতো।

ওই দূর পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে দৃষ্টি ফেলতে ফেলতে একসময় গভীর ভাবনায় ডুবে গেল ফারযাদ।
আচ্ছা! মেয়েটা এখন কি করছে? সে কি তার মত এমন কোন অপূর্ব প্রকৃতিতে ডুবে আছে? তার মতো ভাবছে কি সকালে দেখা হওয়া সেই ছেলেটিকে? নিজের ভাবনার ওপর নিজেই হাসলো ফারযদ। সে ভাবছে বলে কি তাকেও ভবতে হবে! হয়তো মনেই নেই।
ফারযাদ গভীর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বারান্দার গ্রিলে হাত রেখে ফিসফিস করে উঠল,
এই পাহাড়ের শান্ত সৌন্দর্য যতটাই মায়াবী, তার চেয়ে অনেক বেশি গভীর আর ঝোড়ো আপনার চোখ দুটো!

আচমকা পাশে কারো অস্তিত্ব টের পেয়ে চোখ মেলে তাকালো ফারযাদ। নেহালকে দেখে মুচকি এক হাসি উপহার দিয়ে আবারো মনোনিবেশ করল প্রকৃতিতে।
নেহাল ভ্রু কুঁচকে সবটাই পর্যবেক্ষণ করলো। সে এখানে এসে দাঁড়িয়েছিল প্রায় মিনিট দশেক আগে । এর আগে ফারজাদের কফি এভাবে ঠান্ডা হতে সে দেখেনি।

চোখ ভরা কৌতুহল নিয়ে বলল,
তোর কি হয়েছে বলতো? সকালে এলি একদম হাসি খুশি মুডে। ফ্রেশ ট্রেশ হয়ে সারাদিন হাসি হাসি মুখ নিয়ে ঘুরে বেড়ালি, এখন চোখ বন্ধ করে পাহাড় দেখছিস, কফি ঠান্ডা করে ফেলছিস। ঝেড়ে কাশতো ভাই!

তো তুই কি চাচ্ছিস, আমি সারাদিন মুড খারাপ করে থাকি।

না, আমি বা আমরা কেউই সেটা চাই না, তবে প্রত্যেকবার সেটাই হয়। ঢাকা থেকে ফিরলে সচরাচর তোকে এভাবে দেখা যায় না।

সব সময় তো আর আমার অধরা মল্লিকার সঙ্গে দেখা হয়নি।

নেহাল যেন একটা ঝটকা খেলো। এই, হ্যাঁ তুই তো সকালে বলছিলি অধরা মল্লিকা না কি জানো। ফারযাদ, তোর কান্ডকারখানা কিন্তু আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তুই ঢাকা থেকে এত তড়িঘড়ি করে এলি, আবার বাসে জার্নি করলি, আর এখন বলছিস কোনো এক মল্লিকার কথা! মেয়েটা কে শুনি? এক মিনিট এক মিনিট, লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট!

ফারযাদ হালকা হেসে কফিতে একটা চুমুক দিয়ে চোখ মুখ কুঁচকে নিল। কোল্ড কফি খেতে তো দারুন লাগে অথচ এই গরম কফি ঠান্ডা হয়ে কেন ভালো লাগবে না আশ্চর্য। ঠান্ডা আর কোল্ড একি তো কথা!

নেহাল দুহাত বুকে বেঁধে বেতের চেয়ারে হেলান দিয়ে শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো ভাইয়ের দিকে। বলল,
এমনটা কি আসলেই হয় ভাই? না মানে প্রথম দেখায় প্রেম ভালোবাসা হয়ে যাওয়াটা কেমন একটা আজগুবি কথা না?

আমি কখন বললাম যে আমার প্রেম ভালোবাসা হয়ে গিয়েছে?

তাহলে,

আমার হৃদয় থমকে দিয়েছে, আমার কল্পনার রাজ্য দখল করেছে, আর আমার মনটাও সাথে নিয়ে গেছে।

হোয়াট! এ ভাই, তুই পাগল টাগল হয়ে গেলি নাকি? এতকিছু, আবার বলছিস প্রেম ভালোবাসা হয়নি, মানে কি ভাই? আমার অংকতো মিলছে না।

আচ্ছা ভাইয়া! প্রেম ভালোবাসা কি বলতো ? আমার চেয়ে তো তুই এই দুনিয়াটা বছর তিনেক বেশি দেখেছিস, জানিস কিছু এ ব্যাপারে? এ ব্যাপারে তো আমি কিছু জানিনা, কখনো জানতে চাইওনি। কতজন প্রেম ভালোবাসা নিয়ে এলো গেল কিন্তু অনুভূতিরা তো কখনো কিছুই জানান দেয়নি।

নেহাল হা করে তাকিয়ে আছে ভাইয়ের দিকে।
সিনেমা নাটকে দেখেছি গল্পে শুনেছি, রাস্তাঘাটে ধাক্কা টাক্কা খেয়ে প্রেম হয়ে যায়, আচমকা কারো কণ্ঠস্বর শুনে মন গলে যায়, চোখ দেখে সর্বনাশ হয়। তোর কোনটা হয়েছে বল তো? ধাক্কা খেয়েছিস? নাকি ঝগড়া হয়েছে?

কোনটাই না,

তাহলে?

তোকে বলবো কেন?

ঠিক আছে, আমার যদি কোনদিন এরকম প্রেম টেম হয়ে যায় আমি কিন্তু তোকেও বলবো না।

তখন যদি মনে হয় তোর ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং তাহলে না হয় আমি তখন বলে তোরটা শুনে নেব, ব্যাপার না।

নেহাল এবার একটু গম্ভীর হয়ে বলল, তুই কিন্তু আবার কোনো বিপদে পড়িস না ফারযাদ। এমনিতেই তোর লাইফটা কম জটিল নয়। আম্মু, নানু তোকে নিয়ে কতটা চিন্তিত জানিস তো? আমার ভাই তুই, ভাই বোনহীন একলা জীবনে আমি তোর মত একটা ভাই পেয়েছি। তুই আমার শক্তি, তোর কষ্ট আমাদের কারো সহ্য হবে না। প্রেম ভালোবাসায় কিন্তু বেদনার কথাই বেশি উল্লেখ থাকে। এই প্রেম ভালোবাসার জন্য যদি ভুল মানুষকে বেছে নিস তাহলে কিন্তু জীবনটাই বরবাদ হয়ে যাবে ভাই।
কাজী নজরুল ইসলামের একটা লেখা পড়েছিলাম,
"যারে হাত দিয়ে কাষ্ঠ জ্বালিয়েছো,
তাহারে কি আর প্রেম বলা যায়?
ভুল মানুষের প্রেমে পরা মানে
বিষের পেয়ালা নিজের হাতে তুলে নেওয়া।"

ফারযাদ একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো। বলল,
তুই তো দেখছি একদম আমার ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছিস। আরে ভাই সেরকম কিছু হয়নি। জাস্ট দেখা হয়েছে কথা হয়েছে। আর এই যে আমার কল্পনায় ভেসে বেড়াচ্ছে এটুকুই। আর কথা যা বলার আমিই বলেছি। ওই মেয়ে তো আমাকে দেখে পারলে ভয়ে কোন আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। যদিও সে এখনো আড়ালে আছে। তবে একই শহরে তো। হয়তো কখনো দেখা হতেও পারে। আচ্ছা এখন ওসব কথা ছাড় ভাইয়া। চল একটু নদীর পাড় থেকে ঘুরে আসি।

তোর মনটা নিয়ে গেছে মানে তোর কাছে তো আর কিছু নেই ভাই! আর তুই বলছিস তেমন কিছু না?

ওহ ভাইয়া, আগেই এত বেশি বেশি বলিস না তো। চল যাই,

চল,

,
,

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতের অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে পুরো শহর। অনিন্দিতার পা দুটো আর চলতে চাইছে না। খিদে আর ক্লান্তিতে মাথাটা ঝিমঝিম করছে। মনে হচ্ছে যেন এখনই মাথাটা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যাবে সে। হাঁটতে হাঁটতে সে এসে পৌঁছালো এক নীরব আবাসিক এলাকায়। সেখানে একটা ছোট একতলা বাড়ির সামনে ঝুলছিল টু-লেট. একটি রুম ভাড়া দেওয়া হবে (শুধুমাত্র একজন মেয়ে )

বোর্ডের লেখাটা দেখে অনিন্দিতার নিভে যাওয়া চোখে যেন আশার আলো জ্বলে উঠলো। বুক ভরা ভয় আর আশা নিয়ে সে মূল গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়লো।

দরজায় টোকা দিতেই বেরিয়ে এলেন মাঝবয়সী এক প্রবীণ নারী। মুখটা দয়ালু হলেও চাহনিতে কিছুটা গাম্ভীর্য। অনিন্দিতাকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখে তিনি শুধালেন,
কাকে চাও মেয়ে?

অনিন্দিতা শুকনো গলায় অত্যন্ত বিনীতভাবে বলল, আঙ্কেল, ম- মানে আন্টি, বাইরে টু-লেট বোর্ডটা দেখলাম। রুমটা কি এখনো খালি আছে?

মহিলা কিছুক্ষণ চুপ করে অনিন্দিতার শুকনো করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করে বললেন, হুম, খালি তো আছে। কিন্তু তুমি একা? পড়াশোনা করো নাকি চাকরি? বাড়ি কোথায় তোমার?

একটার পর একটা প্রশ্নে অনিন্দিতা ভেতরে ভেতরে কেঁপে উঠলো। আজ সারাটা দিন এমনই হয়েছে। আগে পিছে কেউ নেই বলে কেউ ওকে বাসা ভাড়া দিতে ভরসা পায় না। এখনো যদি সত্যি কথা বলে তাহলে হয়তো এখান থেকেও বিতাড়িত হবে। আবার মিথ্যা বলতেও তার বিবেক সায় দিচ্ছে না। নতুন জীবনের শুরুটা সে কিছুতেই মিথ্যার আশ্রয় নেবে না, তাতে যত কষ্টই হোক। অনিন্দিতা নিজেকে সামলে নিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল,

আমি ঢাকায় পড়াশোনা করতাম আন্টি। খুব অসহায় হয়ে আমাকে এই চট্টগ্রামে আসতে হয়েছে। আমি খুব বিপদে পড়েছি আন্টি, আপনি যদি কোনরকম ছোট একটা রুম আমাকে ভাড়া দেন, আমি সারাজীবন আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো।

মহিলা কিছুক্ষণ অনিন্দিতার চোখের দিকে চেয়ে রইলেন। মেয়েটার মুখটাই যেন ভীষণ ক্লান্তি দুঃখ মায়া সব একসঙ্গে জড়িয়ে আছে। তবুও আজকাল এই শহরে প্রতারকের অভাব নেই। তাই নিজেকে শক্ত রেখেই গম্ভীর কণ্ঠে ফের বললেন,
সে না হয় বুঝলাম, কিন্তু তোমার বাবা-মা? বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছ নিশ্চয়ই?

আমার বাবা মা নেই আন্টি। ভাই বোন কাছের বলতে কেউ নেই। যারা আছেন তাদের কাছে আমার নিজেকে নিজে বোঝা মনে হয়। তাই আমি নিজেই নিজের জন্য। আন্টি! রুমটা আমাকে ভাড়া দিবেন? কথা দিচ্ছি আমি আমার ভাড়া যথা সময়ে পরিশোধ করব। যদি না পারি তখন না হয় বের করে দিয়েন।

তবু মহিলার সন্দেহ গেল না। চারদিক ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলেন। কেউ লুকিয়ে ঠুকিয়ে আছে কিনা। আসলেই কি এই মেয়ে একা? নাকি কোন চক্রের? তিনি একা এক মহিলা কলেজ পড়া এক মেয়ে আর স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়ুয়া এক ছেলে নিয়ে থাকেন। স্বামী গত হয়েছেন বছর তিনেক হল। কঠিন বিপদের সময়ে আত্মীয়দের সকলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখে একা একাই থাকেন তিনি। কথায় আছে, 'আপনের চেয়ে পর ভালো পরের চেয়ে জঙ্গল ভালো'। তবু একা একটা বাড়িতেই ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকেন।মাঝে মাঝে ভীষণ নিঃসঙ্গ লাগে। তাই তিনি ভেবেছিলেন ছাদের উপরের চিলেকোঠার রুমটা কোন এক মেয়েকে ভাড়া দিবেন । তাই এই টু-লেটটা ঝুলিয়েছেন। বেশ কয়েকজন দেখেও গিয়েছে তবে এমন বাসা আজকালকার মেয়েদের খুব একটা পছন্দ নয়। তাদের সঙ্গে পরিবার ছিল পরিচয় ছিল। কিন্তু এই মেয়েটা সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবারহীন একটা মেয়ে। যা বলছে তা সত্য না মিথ্যা বোঝা দায়।

তোমার পরিচয় পত্রটা একটু দেখাও তো মেয়ে।

এবার যেন আনন্দিতা অথৈ সাগরে পড়ল। পরিচয় পত্র তো তার এখনো বানানো হয়নি। এযাবৎকাল জন্ম নিবন্ধন এর কাগজটা দিয়েই সমস্ত প্রক্রিয়া পার করে এসেছে। জীবনের বিভিন্ন চড়াই উত্তর পার হতে হতে পরিচয় পত্র তৈরি করা হয়নি। পরিচয়ই তো নেই। তবুও রহিমা চৌধুরী বার কয়েক বলেছিলেন। করবে করবে করেও করা হয়নি। মেডিকেলে আবেদন করার আগে আগে করার কথা ভেবেছিল।

অনিন্দিতা ব্যাগ হাতড়ে সেই জন্ম নিবন্ধন এর কাগজটাই এগিয়ে দিল। বলল,
আন্টির পরিচয় পত্র তো তৈরি করা হয়নি, এই কাগজটা আছে। এটা দেখুন দয়া করে।

মহিলা কাগজটা দেখে আবার ফিরিয়ে দিয়ে বলল, আমি এখনই কিছু ভাবতে পারছি না। তুমি চাইলে অন্য কোথাও দেখতে পারো।

অনিন্দিতা ভীষণ হতাশ হলো, ভেতর থেকে ভেঙে যেন গুড়িয়ে গেল। ঘরের সামনে সিমেন্টে বাধাই করা বৈঠকে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লো। বলল,
এক গ্লাস পানি দিন আন্টি, বড্ড তৃষ্ণা পেয়েছে।

পানির চাওয়াতে যেন মহিলা আরও ভড়কে গেল। এই মেয়ে তো পিছু ছাড়ছে না, তার সন্দেহ কি তবে ঠিক ? তবুও পানি যেহেতু চেয়েছে মেয়েটাকে দেখতেও ক্লান্ত লাগছে তাই তিনি ভেতর থেকে পানি এনে দিলেন।

পানি খেয়ে অনিন্দিতা নিঃশব্দে গ্লাসটা এগিয়ে দিল।
মহিলা আর দেরি না করে ভেতর থেকে দরজার খিল এটে দিলেন।

অনিন্দিতা সেখানে কিছুক্ষণ বসে থেকে ধির পায়ে গেটের বাইরে বেরিয়ে গেল। রাত একটা মেয়ের জন্য কতটা ভয়ংকর তা সে জানে, তবুও কোথায় যাবে সে? হাঁটতে হাঁটতে আবারো কিছুটা দূর গেল। জিড়িয়ে জিড়িয়ে ঘণ্টা দুই হাঁটল মেয়েটা। রাত গভীর হয়ে আসছে। হাত-পা অসার হয়ে আসছে। ইচ্ছে করছে এই পিচঢালা রাস্তায় শুয়ে পড়তে। আশপাশের দোকানদার একে একে দোকান বন্ধ করে যেতে লাগলো। একটা সময় অনিন্দিতা বন্ধ একটা দোকানের সামনে মাথা ঘুরে বসে পড়লো। এই খোলা আকাশের নিচেও শরীরে যেন অক্সিজেনের বড্ড অভাব পড়েছে। আপনা আপনি শরীরটা সেখানেই এলিয়ে পড়ল। চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলো অপরিচিত বন্ধো দোকানের সামনের মেঝেটাতে। অনিন্দিতা চোখ বন্ধ করে কল্পনা করল এমন করে ও আগে পাগলদের শুয়ে থাকতে দেখতো ।
চলবে,

অনেক বড় একটা পর্ব। আপনারা কিন্তু গল্প সম্বন্ধে কিছু একটা বলে যাবে হ্যাঁ।
গল্প দিতে দেরি করি এসব বলে লজ্জা দিবেন না। নিয়মিত দিতে পারলে আমারই লাভ হয়। পেইজের অবস্থা খুবই বাজে হয়ে যাচ্ছে নিয়মিত না দিতে পারার কারণে। তো আর কি গল্প নিয়ে কিছু একটা বলে যাবেন কিন্তু।
ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ।

 #সে_আমার_মল্লিকা #মারিয়া_আক্তার_সাদিয়াএকটা সময় অনিন্দিতা বন্ধ একটা দোকানের সামনে মাথা ঘুরে  বসে পড়লো। শরীরে  যেন অক্স...
19/08/2026

#সে_আমার_মল্লিকা
#মারিয়া_আক্তার_সাদিয়া

একটা সময় অনিন্দিতা বন্ধ একটা দোকানের সামনে মাথা ঘুরে বসে পড়লো।
শরীরে যেন অক্সিজেনের বড্ড অভাব পড়েছে। আপনা আপনি শরীরটা সেখানেই এলিয়ে পড়ল। চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলো অপরিচিত বন্ধ দোকানের সামনের মেঝেটাতে। অনিন্দিতা চোখ বন্ধ করে কল্পনা করল এমন করে ও আগে পাগলদের শুয়ে থাকতে দেখতো ।

 #সে_আমার_মল্লিকা #পর্ব_৮ #মারিয়া_আক্তার_সাদিয়াকুয়াশার হালকা চাদর ভেদ করে সূর্যের প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে ধরণীর ...
13/08/2026

#সে_আমার_মল্লিকা
#পর্ব_৮
#মারিয়া_আক্তার_সাদিয়া

কুয়াশার হালকা চাদর ভেদ করে সূর্যের প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে ধরণীর বুকে। সূর্য মামা তখন শহরের ওপর তার কাঁচা সোনা রোদ ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছে।

অনিন্দিতা যত দ্রুত সম্ভব পা চালিয়ে ফারযাদের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে এলো। অচেনা এক গোলির ভিড়ে লুকিয়ে ফেলল নিজেকে। তার বুকের ভেতরের ধুকপুকানিটা তখনও কমেনি। অচেনা শহর, অজানা গন্তব্য আর তার ওপর ফারযাদের ওই অপূর্ব চোখ জোড়ার নিষ্পাপ চাহনি। মেয়েদের মন নাকি বড্ড স্পর্শকাতর, একটু মিষ্টি কথাতেই গলে যায়! কিন্তু অনিন্দিতাকে যে পাথর হতে হবে। বাস্তবতা তাকে নরম থাকার কোনো সুযোগ দেয়নি। অতীত তাকে শিখিয়েছে পুরুষের মিষ্টি কথার পেছনে বিষাক্ত স্বার্থ লুকিয়ে থাকে। তাই ফারযাদকে ওইভাবে কড়া কথাগুলো বলে আসার জন্য তার মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা হলো না।

,
,

অনিন্দিতা চলে যাওয়ার পর ফারযাদ বেশ কিছুক্ষণ বসে রইল একই জায়গায়। অনিন্দিতার শেষ কথাগুলো যেন এখনও বাতাসে প্রতিধ্বনি হয়ে বাজছে তার কানে ‘রবের কাছে আরজি আমাদের যেন আর কখনোই দেখা না হয়।’

ফারযাদ তার গোলাপি ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি টেনে বলল,
জেনে রেখো রাগিনী মল্লিকা, আমাদের আবারও দেখা হবে। ফারযাদ ঠোঁটের কোণের হাসিটা ধরে রেখেই পকেট থেকে ফোনটা বের করল।

কিছু সময় আগে পর্যন্ত যে ক্লান্তি তার চোখে ছেয়ে ছিল, অনিন্দিতার ওই তেজস্বী চোখ দুটো দেখার পর তা যেন এক নিমিষে উধাও হয়ে গেছে। আশ্চর্য! এমনটাও আবার হয় নাকি?
হয়তো! এই যে ফারযাদের হয়েছে ।
ফোনের পাওয়ার বাটন অন করতেই মেসেজ আর কলের নোটিফিকেশনে ভরে গেল সেটি। গতরাতে বাসে ওঠার পরপরই বন্ধ করে দিয়েছিল ফোনটা। ফোনটা বন্ধ করার আগে অবশ্য ফোন করে জানিয়েচ্ছিল যে সে বাসে করে ফিরছে। তবুও যেন এদের চিন্তার শেষ নেই।
ফোনটা অন করে মিনিট খানেক বসার মধ্যেই আবারও ফোনটা বেজে উঠলো।
রিসিভ করে কানের তুলতেই ভেসে এলো ওপাশের উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর,

হ্যালো ফারযাদ! তুই কোথায়? এয়ারপোর্ট ছেড়ে তুই না বলে হঠাৎ বাসে করে এতদূর জার্নি করতে গেলি কেন, তার ওপর আবার কি একটু বলে ফোনটা বন্ধ করে রেখেছিস। বাসার সবাই টেনশন করেতো নাকি?

ফারযাদ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,

শান্ত হ ভাইয়া। আমি ঠিক আছি। এইতো কিছুক্ষণ হলো চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেছি। এখনো বাসস্টপে আছি। চলে আসবো কিছুক্ষণের মধ্যেই।

তোর শরীর ঠিক আছে তো? এদিকে মা আর নানু চিন্তায় চিন্তায় অস্থির হয়ে যাচ্ছে আর তুই ফোনটা অফ করে রেখে দিয়েছিস। কোন জায়গায় আছিস বল আমি এক্ষুনি গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।

ভাইয়া প্লিজ শান্ত হ। আমি একদম ঠিক আছি। ফুপিকে বলে দে একদম চিন্তা না করতে। গাড়ি টারি কিছু পাঠাতে হবে না, কাছেই আছি আসছি আমি। তাছাড়া জানিস তো ভাইয়া, বাসে লম্বা পথ জার্নি করার অভিজ্ঞতাটা বেশ দারুণ ছিল।

তুই কি পাগল হয়ে গেলি ফারযাদ? ঢাকা থেকে রাগ করে বাসে উঠে তুই সোজা চিটাগাং আর এখন বলছিস অভিজ্ঞতা দারুণ? কাহিনী কী বলতো? যে ছেলে বাসে ঘন্টাখানেক চললেই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়ে তার এত লম্বা জার্নি অভিজ্ঞতা দারুন!

ফারযাদের চোখের সামনে ভেসে উঠলো অনিন্দিতার মুখটা। ভীতু আবার রাগী। আচ্ছা! মেয়েটার হাসিমাখা মুখটা কেমন? কথাটা ভেবেই মুচকি হাসলো ফারযাদ। মনে মনে আওড়ালো, তোমার হাসিমাখা মুখটা দেখার জন্য হলেও আমাদের আবার দেখা হোক।

এই কিরে ভাই, কোথায় হারিয়ে গেলি বলতো?

এক অধোরা মল্লিকাতে,,

হোয়াট! এ ভাই, ফারযাদ, কি হয়েছে তোর? কি আবোল তাবোল বকছিস?

নেহালের ডাকে ফারজাদের যেন হুঁশ ফিরে এলো। ভাইয়ের সঙ্গে ভুলভাল বকার জন্য নিজের মাথায় একটা আলতো বাড়ি দিল।

আরে কিছু না ভাইয়া। আসলে সকালের এই কুয়াশাচ্ছন্ন শীত শীত আবহাওয়াটা দারুন লাগছে । আচ্ছা ভাইয়া রাখছি হ্যাঁ, বাড়িতে দেখা হবে। কথাটা শেষ করে ফারযাদ আর নেহালকে কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে ফোনটা কেটে দিল।

নেহাল ফারযাদের ফুফাতো ভাই। বয়সে ফারযাদের থেকে বছর তিনেকের বড়। তবে তাদের একসঙ্গে দেখে মনে হয় না তারা কেউ কারো থেকে বড় ছোট। একে অপরের সঙ্গে জান কলিজা রকমের বন্ধুত্ব।
ফারযাদের নিজের বাড়ি ঢাকাতেই। ও সেটাকে ওর বাড়ি বলে মনে করে না অবশ্য। ওর বাবার বাড়ি মনে করে। মা যতদিন বেঁচে ছিল ততদিন নিজের বাড়িই ছিল । মায়ের মৃত্যুর পরও ফারযাদ সেখানে বিষন্নতা নিয়ে বাবা আর দাদীর সঙ্গে দিন কাটাতো। তখনো সেটা ফারযাদের বাড়ি ছিল। যেদিন বাবা সুসজ্জিত পোশাকে লাস্যময়ী এক নারীকে নিয়ে বাড়ির দোরগোড়ায় এলেন, সেদিন ষোল বছরের ফারযাদের কিশোর মনে ভারী আঘাত পেয়েছিল। মায়ের মৃত্যুর তখন সবে মাস চারেক। এর মধ্যেই আরেক নারীকে নিজের মায়ের আসনে বসানোটা অতটা সহজ মোটেও নয়। তাছাড়া ফারযাদ কখনো পারবেনা তার মায়ের আসনে অন্য কাউকে বসাতে। তবুও সবকিছু মেনে নিয়ে ছিল সেখানেই। ফারযাদের মায়াবতী মায়ের চেয়ে সুন্দর সেই নারী অল্প দিনেই বাবা ফারুক শিকদারের মন এমন ভাবে জয় করল, যেন দুনিয়া তার একটাই। সুন্দরী লিমা। তার সেই দুনিয়ার কাছে মা কিংবা সন্তান তুচ্ছ হয়ে গেল। অন্ধ হয়ে গেল তার বাকি দুনিয়া।
ফারযাদ আর তার দাদী ফুলবানুর এই দুর্দশার দিনে তাদের ঢাল হয়ে দাঁড়ালো ফারযাদের ফুফু সুলতানা। তার অবস্থান ছিল চট্টগ্রাম। তারপর থেকে ফারযাদ আর ফুলবানুর অবস্থান সুলতানা বেগমের কাছে। এটাই এখন যেন ফারযাদের বাড়ি। ফারযাদের কখনো মনেই হয় না সে এ বাড়ির ছেলে নয়, এক আত্মীয় মাত্র।

,
,

চারপাশের আলো যত স্পষ্ট হচ্ছে, অনিন্দিতার ভেতরের অন্ধকার যেন ততই গাঢ় রূপ নিচ্ছে। ফারযাদের দৃষ্টিসীমার বাইরে যেতে যেতে অনিন্দিতা এতটা দূরে চলে এলো যে এখন আর সেই রাস্তার কোনো অস্তিত্বই দেখা যাচ্ছে না। স্বস্তির এক নিঃশ্বাস ফেলল মেয়েটা। অনিন্দিতা তবুও পায়ের চলন থামালো না। প্রায় ঘন্টাখানিক হাটলো । এবার যেন ক্লান্তিতে পুরো শরীরটা নুয়ে আসছে। রাস্তার পাশে ছোট একটা চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসে পড়ল। ক্ষুধায় পেটের ভেতরটা হাহাকার করছে। পরশু রাতে কয়েকটা দানা পড়েছিল মাত্র। কোনরকম নিজেকে স্বাভাবিক রেখে খেয়ে ছিল কয়েকটা দানা । গতকাল সারাদিন তো ওই রুটি কলা পানি এসব খেয়ে কাটিয়ে দিয়েছে। তাতেই তো টাকার সংখ্যা কমে গিয়েছে। আজ যে করেই হোক একটা মাথা গোজার ঠাঁই তাকে পেতে হবে, নইলে কিভাবে কাটবে তার দিনরাত?

তোমাকে এক কাপ চা দেবো মা?

কাছ থেকে এমন কথায় চমকে তাকালো অনিন্দিতা। বৃদ্ধা এক নারী তার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। দোকানের মালিক যে এই বৃদ্ধা তা বুঝতে খুব একটা কষ্ট হলো না অনিন্দিতার। দোকানের খাবারের দিকে চোখ যেতে ক্ষুধাটা যেন আরো বেড়ে যাচ্ছে। ভাবল এখন যদি দুমুঠো ভাত হতো তাহলে বোধহয় ক্লান্তি দূর হতো। তবে তাতে নিশ্চয়ই টাকা আরো অনেকটাই কমে যাবে। নিজের লোভকে সামলে নিল অনিন্দিতা। বলল,

হ্যাঁ চাচী দিন,

সঙ্গে কি দেব মা? রুটি নাকি বিস্কুট?

একটা রুটি দিন।

অনিন্দিতা চা রুটি খেয়ে নিজের বাকি ক্ষুধাটা দমিয়ে রাখলো। দামটা মিটিয়ে বৃদ্ধাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
চাচি, একটা কথা বলার ছিল,

বল মা,

আসলে আমি এই শহরে নতুন এসেছি, এখানে আশেপাশে কোথাও মেয়েদের থাকার মত জায়গা আছে? মানে মেয়েদের কোন মেস বা অল্প ভাড়ায় কোন বাসা?

বৃদ্ধ মহিলা কিছুক্ষণ কৌতুহল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে, তবে বেশি আর না ঘেটে বলল,
আমার খোঁজে আলাদা করে এমন কোন জায়গা নেই মা, তবে তুমি খুঁজলে হয়তো পেয়ে যাবা ।

আচ্ছা চাচি ধন্যবাদ।

সেখান থেকে বিদায় জানিয়ে অনিন্দিতা চললো অজানা উদ্দেশ্যে।
কোথায় যাবে সে জানা নেই তার। এখানে না আছে কোন পরিচিত জন, না আছে মাথা গোঁজার নিজস্ব কোনো ঠিকানা, না আছে কোনো গন্তব্য। ফারযাদ যখন জিজ্ঞেস করেছিল সে কোথায় যাবে, অনিন্দিতার কাছে তখন সত্যিই কোনো উত্তর ছিল না। এক বুক অনিশ্চয়তা নিয়ে অচেনা শহরের বাতাসে নিঃশ্বাস নিল সে। কিন্তু এক অদৃশ্য আত্মমর্যাদা তাকে ভেঙে পড়তে দেয় না। মনে মনে সে নিজেকে শক্ত করে বলল, ‘আল্লাহ ভরসা, যার কেউ নেই, তার আল্লাহ আছেন।’
আচমকা আবারও ফারযাদের মুখটা ভেসে উঠল তার কল্পনায়।
আচ্ছা! লোকটাকে যদি অনিন্দিতা ওর সমস্যার কথা খুলে বলতো তাহলে কি ঐ লোকটা তাকে সাহায্য করতো? নাকি আর পাঁচটা পুরুষের মতো সুযোগ নিত?

পরক্ষণে নিজেকে শাসিয়ে বলল,
না না আমি এসব কি ভাবছি, আল্লাহ আমাকে সাহায্য করুন, ধৈর্য দিন।

চলবে,

 #সে_আমার_মল্লিকা #পর্ব_৭ #মারিয়া_আক্তার_সাদিয়াভোরের চট্টগ্রাম যেন এক অন্য রূপ ধারণ করে আছে। শহরের বুকে তখনো ব্যস্ততার প...
12/08/2026

#সে_আমার_মল্লিকা
#পর্ব_৭
#মারিয়া_আক্তার_সাদিয়া

ভোরের চট্টগ্রাম যেন এক অন্য রূপ ধারণ করে আছে। শহরের বুকে তখনো ব্যস্ততার পূর্ণ আমেজ জাগেনি, কেবল ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। হালকা কুয়াশার পাতলা চাদর আর মিষ্টি হিমেল হাওয়ায় পুরো শহরজুড়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। তবে অনিন্দিতার বুকের ভেতর সেই প্রশান্তির কোনো ছোঁয়া নেই। সেখানে জ্বলছে এক অনিশ্চয়তার অনল। বুকে যতই সাহস রেখে এগোক না কেন, অচেনা মোড়ে, অচেনা মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে বড্ড নিঃসঙ্গ আর অসহায় মনে হচ্ছিল তার।

বাস থেকে তড়িঘড়ি করে নেমে অনিন্দিতা ফুটপাতের একপাশে এসে দাঁড়াল। কাঁধের ব্যাগটা আরও শক্ত করে চেপে ধরল, যেন এই ব্যাগটাই তার শেষ সম্বল, তার একমাত্র আশ্রয়।

তখনই আবারো সেই অপরিচিত পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
মিস অনিন্দিতা! আরে শুনুন! এভাবে হঠাৎ দৌড় মারলেন কেন? আমি কি বাঘ না ভালুক যে গিলে খাব?

অনিন্দিতা থমকে দাঁড়াল, তবে পেছনে ফিরল না। ব্যাগটা আঁকড়ে ধরে খাটো গলায় উত্তর দিল,
না, মানে বাস ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল তাই নেমে এলাম।

ছেলেটা হেঁটে অনিন্দিতার সামনে এসে দাঁড়াল। বলল,
ও আচ্ছা, কিন্তু আমি তো লক্ষ্য করছি সেই রাত থেকেই আপনি কেমন জড়সড়ো হয়ে আছেন ভয়ে। কথা বলছেন না আমি নিজের নামটাও আপনাকে বললাম, আপনারটাও আমিই জিজ্ঞেস করে জানলাম। না মানে আমরা যতই অপরিচিত হই না কেন একসঙ্গে লম্বা জার্নি করেছি তাই না!

ভোরের ঝাপসা আলোয় তাকে এখন আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। পরিপাটি চুল, গায়ে কালো জ্যাকেট, আর চোখে কিছুটা কৌতুহল ও কিছুটা ক্লান্তি। অনিন্দিতার মনে পড়ছে রাতের কথা। রাতে ছেলেটাকে আড় চোখে কয়েকবার দেখেছিল সে। মনে হচ্ছিল মুখটা ভীষণ বিষন্ন।

ছেলেটা পকেট থেকে হাত দুটো বের করে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ফের আবারো বলল,
এখনো পুরো সকাল হয়নি। আপনি কোথাও যাবেন বলুন তো? মানে কোন জায়গায়? আমাদের গন্তব্য যদি একই রাস্তায় বা কাছাকাছি কোথাও হয়, তাহলে আমরা বাকি পথটুকুও একসঙ্গে এগোতে পারি, কি বলুন? পরক্ষণে হেসে আবার বলল,
আসলে কি বলুন তো, রাতে আমরা পাশাপাশি বসে একই পথে যাত্রা করেছি অথচ আমাদের মধ্যে তেমন কোন কথাবার্তাই হয়নি। অবশ্য আপনিই বলেন নি, আমার মনটাও খুব একটা ভালো ছিল না। তাছাড়া রাতের বেলা হয়তো আপনি একজন অচেনা ছেলের সঙ্গে কথা বলতেও কমফোর্ট ফিল করছিলেন না। তাই চলুন এই সকালের আবহাওয়ায় আমরা একসঙ্গে বাকি যাত্রা টুকু সেরে ফেলি। আ, যদি আমাদের যাত্রা একই পথে হয় আর কি,

লম্বা এক ভাষণ দিয়ে অবশেষে ছেলেটা থামলো একটুখানি। অনিন্দিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল ছেলেটার দিকে। ছোট্ট এই জীবনে গুটিকয়েক পুরুষের ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র সে দেখে ফেলেছে।

ছেলেটার ভাষণ শেষ হওয়ায় অনিন্দিতা যেন কথা বলার জন্য একটু ফাঁক ফোকড় পেল। ঠান্ডায় শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট টা একটুখানি ভিজিয়ে বললো,
আমাদের পথে একেবারেই আলাদা ভাইয়া। আপনি আপনার পথে যেতে পারেন। আমরা একসঙ্গে এতটা পথ এসেছি বলেই যে এখন বাকি পথটাও একসঙ্গে যেতে হবে বা পরিচিত হতে হবে এমন কোন কথা নেই আসলে।

ছেলেটার ক্লান্ত চোখ জোড়ায় এবার যেন খানিকটা নাটকীয়তা এসে ভর করল। যেন সে হতাশার শ্বাস ফেলে বুকে হাত রেখে বলল, দিলেন তো মনটা ভেঙ্গে। এমন বাজেভাবে কেউ ভাইয়া ডাকে?

অনিন্দিতার অন্তর বিরক্তিতে ভরে উঠলো। উফ, এই পুরুষ জাতটা এমন কেন? কেন?

অনিন্দিতার কপাল কুচকানো দেখেই ছেলেটা হেসে ফেলে বলল,
নিশ্চয়ই আপনি পুরুষ জাতকে গালি দিচ্ছেন? অবশ্য দিবেন নাই বা কেন, আপনার মত এমন একটা মায়াবতী মেয়েদেরকে তো পুরুষজাতি একটু বিরক্ত করবেই।

কথাটা শুনে অনিন্দিতার ভেতরটা ভারি আঘাতপ্রাপ্ত হলো। সে সুন্দর নয় সে তো জানে। এইসব কিছুই তো তাকে রব দিয়েছেন, তা নিয়ে তো অনিন্দিতা বেশ খুশি। তাহলে মানুষের এত সমস্যা কেন? এভাবে ঘুরিয়ে পেচিয়ে অপমান করার কি ছিল? চোখটা কেমন যেন জ্বলে উঠল। কয়েকবার পলক ঝাপটে চোখটা আবার ঠিক করে নিল। বলল,

আমি যেমন, আমাকে নিয়ে আমি তেমনি খুশি। আমি নিজেকে এই ভাবেই আয়নায় দেখতে পছন্দ করি। এসব কিছুই আল্লাহ আমাকে উপহার দিয়েছেন। এই দুনিয়ার মানুষের সেটা ভালো নাই বা লাগতে পারে, তাতে আমার কিছুই আসে যায় না। আমার বাবা মাও আমাকে এভাবেই ভালবাসতেন। আপনার এই মিথ্যে এবং অপমানজনক প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ।

অনিন্দিতার কথা শুনে ছেলেটার হাসিখুশি মুখটা নিমিষেই অন্ধকার হয়ে গেল। তড়িঘড়ি করে অনিন্দিতাকে বোঝানোর জন্য বলতে শুরু করলো,
আরে আরে, আপনি তো ভুল বুঝছেন আমাকে, আমি সত্যি বলছি, একদম সত্যি। আপনি কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি সত্যিই সরি। আপনি আমার কথাটার ভুল অর্থ নিয়েছেন। আপনি সত্যি,,

ছেলেটাকে কথা সম্পূর্ণ করতে দিল না অনিন্দিতা। বলল,
আপনাকে ধন্যবাদ, এবার আমাদের নিজেদের পথে এগুনো উচিত।

ছেলেটা যেন একেবারে আহাম্মক হয়ে গেল। মনে মনে ভাবল, মেয়েরা আসলে এক লাইন বেশি বোঝে। কথাটা হান্ড্রেড পার্সেন্ট সত্যি। পরক্ষণেই হঠাৎ একটা কথা মনে পড়ল, কি বলল মেয়েটা একটু আগে? বাবা-মা ভালোবাসতেন মানে? এখন আর ভালোবাসেন না! নাকি? আর কিছু ভাবতে পারল না ছেলেটা। বলল,

আচ্ছা! আপনি কোথায় যাবেন সে জায়গাটার নাম তো বলুন? নাকি আপনাকে কেউ নিতে আসবে?

অনিন্দিতা গায়ে পড়া ছেলেটার একটা কথারও উত্তর দিল না। গায়ে পড়া? হ্যাঁ গায়ে পড়াই তো। নইলে কি কেউ যেচে এমন একটা অচেনা মেয়ের সঙ্গে কথা বলে? আশেপাশে তাকিয়ে কিছুটা দূরে সিমেন্টের বাধাই করা বসার জায়গায় গিয়ে বসে পড়ল। ভাবলো, কোথায় যাবে সে? কোথাও তো যাওয়ার জায়গা নেই। তাকে জায়গা তৈরি করতে হবে। তবেই না সেই জায়গার একটা নাম হবে! আর কেউ নিতে আসবে? আল্লাহ ছাড়া কোন কূলে যার কেউ নেই তাকে আবার নিতে আসবে? শুভাকাঙ্ক্ষী যারা ছিল তাদেরকেতো অনিন্দিতা স্ব ইচ্ছায় ছেড়ে এসেছে।

ছেলেটাও পিছু পিছু গিয়ে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বসলো। বলল,
আরে আজব তো! আপনি তো কথার উত্তর দিচ্ছেন না।

অনিন্দিতার এবার ভারী রাগ হলো। এই স্বার্থপর দুনিয়ায় কয়েক ঘণ্টার আলাপে কেউ কেন তাকে এত জেরা করবে? তাও আবার একজন ছেলে হয়ে?অনিন্দিতার জীবনে একমাত্র সুপুরুষ তার বাবা, এছাড়া আর কেউ না। বাবা ছাড়া কোন পুরুষের মিষ্টি ভাষা অনিন্দিতার জন্য বিষ। বাবা তো নেই, তার মানে অনিন্দিতার জীবনে কোন সুপুরুষ নেই। কন্ঠে খানিকটা রাগ নিয়েই বলল,

আজব তো আপনি। একেতো আমরা একদম অপরিচিত। তারউপরে দেখছেন আমি আপনার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী নই তবুও আপনি আপনার কথা চালিয়েই যাচ্ছেন।


কথাগুলো বলেই থেমে থাকল না অনিন্দিতা, রেগে দাঁড়িয়ে গেল। এবার আর কোন সংকোচ না করে সরাসরি তাকালো ছেলেটার চোখের দিকে।
ছেলেটা আগে থেকেই ওর দিকে তাকিয়ে ছিল। যেন ওর প্রত্যেকটা গতিবিধ তাকে দেখতেই হবে। ফলে তাদের দারুন এক চোখাচোখি হল। অনিন্দিতা সরালো না নিজের চোখ। ফর্সা চামড়ার অপূর্ব দেখতে এক যুবক। অনিন্দিতা নাম জিজ্ঞেস করেনি। তবে ছেলেটা নিজে থেকেই বলেছিল কি যেন? হ্যাঁ, ফারযাদ।

নজরটা একটুখানি আটকালো কি? হয়তো একটুখানি না অনেকখানি আটকেছে। তবে অনিন্দিতা নিজেকে সামলালো। কন্ঠের রাগি ভাবটা রেখেই বলল,
আমাদের দুজনের পথ আলাদা, আলাদা। এই বলে অনিন্দিতা ঘুরে হাটা ধরল। কয়েক কদম এগিয়ে থেমে গেল পা জোড়া, মাথাটা ঘুরিয়ে বলল,
রবের কাছে আরজি আমাদের যেন আর কখনোই দেখা না হয়। আমার সৌন্দর্যের মিথ্যে প্রশংসাও যেন আপনাকে করতে না হয়। ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
কথাগুলো বলে অনিন্দিতা আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না। সময়ের কাটার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার তলে মিলিয়ে গেল অনিন্দিতার দেহখানা।
সেদিকেই এক নজরে তাকিয়ে রইল ফারযাদ। অনিন্দিতা যখন দৃষ্টির আড়াল হল, তখনও সেদিকেই তাকিয়ে রইল। ঠোঁটের কোণে ফুটিয়ে তুলল নজর কাড়া এক মুচকি হাসি। সেই হাসি দেখলে অনিন্দিতা আবারও আটকা তো কি? হয়তো! অপূর্ব দেখতে যুবকটি বিড়বিড়িয়ে বললো,

আপনার এই সুন্দর্য আমার চোখে অতুলনীয় মায়াবতী। রবের কাছে আমারও আরজি, আমাদের আরও দেখা হোক। বার বার, হাজার বার, লক্ষ বার।
চলবে,

আসসালামু আলাইকুম প্রিয়রা। কেমন আছেন সবাই? জানি সবাই বিরক্ত, তবুও জানতে চাইবো কেমন লাগলো পর্বটা? আজ থেকে মনিস্থির করেছি নিয়মিত কন্টিনিউ করব। দোয়া করবেন যেন আমি তা পারি। যদিও সামনে প্রচুর ব্যস্ততা রয়েছে, তবে হাজার ব্যস্ততার মাঝেও যেন কয়েকটা শব্দ লিখতে পারি।

 #সে_আমার_মল্লিকা #পর্ব_৬ #মারিয়া_আক্তার_সাদিয়াবৃদ্ধ রিকশাওয়ালা একগাল হেসে মাথা নাড়লেন, উঠো মা, বইসো। কহন থিকা খাড়াইয়া ...
03/08/2026

#সে_আমার_মল্লিকা
#পর্ব_৬
#মারিয়া_আক্তার_সাদিয়া
বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা একগাল হেসে মাথা নাড়লেন, উঠো মা, বইসো। কহন থিকা খাড়াইয়া আছি, কেউ তো ওটে না। তুমি আইলা, আল্লার অশেষ রহমত।

বৃদ্ধ লোকটা অনিন্দিতার দিকে একপলক তাকাল। লোকটার মুখমণ্ডল জুড়ে বয়সের ছাপ, কপালে আর চোখের কোণে গভীর ভাঁজ। তবে সেই চোখ দুটোতে কোনো কুটিলতা নেই, আছে জীবনযুদ্ধের ক্লান্তির এক পরম শান্ত ছাপ। হয়তো এই স্বার্থপর শহরে অনিন্দিতার মুখে "দাদু" ডাকটা শুনে বৃদ্ধের ঠোঁটের কোণে ম্লান হাসির রেখা ফুটে উঠল। ধীরেসুস্থে রিকশার প্যাডেল চেপে লোকটা বলল,

কোন বাসস্ট্যান্ডে যাইবা? সামনে সায়েদাবাদ না অন্য কোণহানে?

অনিন্দিতা মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সায়েদাবাদ নাকি অন্য কোথাও? কোথায় যাবে সে? যার কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই, তার জন্য যেকোনো দিকই তো সমান। তবু একটু ইতস্তত করে বলল,

যেখান থেকে দূরের গাড়ি ছাড়ে দাদু, একদম দূরের কোনো শহর । যেই শহরে এই শহরের কোন ছায়াও নেই।

বৃদ্ধ হয়তো বেশ চমকে উঠল মেয়েটার কথা শুনে। পেছন ফিরে অনিন্দিতার বিষণ্ণ, ক্লান্ত মুখের দিকে একবার তাকালেন। বহু বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি হয়তো অনুধাবন করলেন, এই শান্ত চেহারার মেয়েটার ভেতরে কোনো ঝড় বয়ে চলেছে। তবুও একা একটা মেয়ে মানুষ তাই সে জানতে চাইল,
সব স্টান থিকাই দূরের বাস ছাড়ে। দূরের শহরের তো অভাব নাই, কোন শহরে যাইবা তুমি? একলা মেয়া মানুষ, কোনো স্বজনের কাছে যাইবা?

অনিন্দিতা কি উত্তর দিবে খুঁজে পেল না। কয়েক সেকেন্ড ভেবে বলল,
আপনি আমাকে এখান থেকে সবচেয়ে কাছের বাস্টপে নিয়ে চলুন। বৃদ্ধ আর কিছু জানতে চাইলো না। অনেকটা সময় পর কয়েকটা পয়সার উৎস সে পেয়েছে। পাছেনা আবার মেয়েটা বিরক্ত হয়ে নেমে যায় ।
তাইতো বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা প্যাডেলের ওপর ভর দিয়ে কিছুটা কসরত করেই অনিন্দিতাকে নিয়ে চলতে শুরু করলেন।
রিকশার প্যাডেলের সঙ্গে একটা চেনা জং ধরা ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ ঢাকা শহরের ব্যস্ত কোলাহল পার করে এগিয়ে চলল। শহরের ব্যস্ত রাজপথ পেছনে ফেলে রিকশা এগোতে লাগল।

অনিন্দিতা রিকশায় বসে একটু হালকা অনুভব করল। শহরের বুক চিরে ছুটে চলা রিকশাটা যেন তাকে অতীতের সেই কুয়াশাচ্ছন্ন চৌকাঠ থেকে টেনে অনেক দূরে নিয়ে যাচ্ছিল। কোন পিছুটান নেই, চোখে নেই কোন ভয়ের আভাস, রিকশার হাওয়ায় অনিন্দিতার মুখের ওপর এলোমেলো চুলগুলো এসে পড়ছিল। অনিন্দিতা চোখ জোড়া বন্ধ করে অনুভব করলো, আহ কি শান্তি!

রিকশা এসে থামল সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কাছাকাছি। চারপাশের প্রচণ্ড হাকডাক, বাসের হর্ন আর মানুষের হুড়োহুড়ি অনিন্দিতাকে এক মুহূর্তের জন্য থমকে দিল। বাস্টপে পৌঁছে বৃদ্ধকে ভাড়ার চেয়ে কিছুটা বেশি টাকা বাড়িয়ে দিল অনিন্দিতা। বৃদ্ধ আপত্তি করতে চাইলে মিষ্টি করে হেসে বলল,
রেখে দিন দাদু, আপনার দোয়াটা আমার খুব দরকার। বৃদ্ধের মুখের হাসি আর তার হাত তুলে দোয়ার দৃশ্যটা যেন অনিন্দিতার ভেতরের কিছুটা ক্লান্তি দূর করে দিল। মনে যেন খানিক সাহস ভর করলো।

ব্যাগটা কাঁধে শক্ত করে চেপে ধরে বাসের টিকিটের কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেল অনিন্দিতা। কোথায় যাবে সে? ঢাকার আশেপাশে নয়, আরও অনেক দূরে,,, যেখানে কোন চেনা পরিচিত মানুষ কিংবা অতীত স্মৃতি কোনোটার ছায়াই ওর ওপর গিয়ে না পড়ে।

কাউন্টারের লোকটার হাঁকডাক শুনে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,

দূরপাল্লার কোনো বাস ছাড়বে এখন?

কাউন্টারের লোকটা জিজ্ঞেস করল, কোথায় যাবেন?

অনিন্দিতা কয়েক মুহূর্ত ভাবলো, কোথায় যাওয়া যায়? কতটা দূরে যাওয়া যায়? শেষমেষ সে উত্তর দিয়েই ফেলল,
চট্টগ্রাম।

প্রথম ট্রিপ ঠিক সাতটায়। মাত্র দুটো সিট বাকি আছে।

অনিন্দিতা এক মুহূর্তও ভাবল না। বলল,
একটা টিকিট দিন।

একসাথে দুইটা সিট আছে, কোন পাশেরটা দেবো আপনাকে?

জানালার পাশেরটা খালি থাকলে ওটাই দিন।

চট্টগ্রাম শহর অনিন্দিতার কাছে সম্পূর্ণ অজানা, অচেনা। কিন্তু এই মুহূর্তে অজানা স্থানই হবে ওর আশ্রয়! ব্যাগ থেকে টাকা বের করে টিকিট কাটল।

এখনো দুই ঘন্টা বাকি। অনুভব করল পেটে ভীষণ ক্ষুধা, সেই গতরাতে কোনরকম কয়েকটা ভাত গিলেছিল । মনের মধ্যে তো ছিল ও কিভাবে কি করবে কোথায় যাবে এসব চিন্তাভাবনা। তারপর সারাদিন তেমন আর কোন খাওয়া দাওয়া হয়নি, ওই হালকা পাতলা রুটি কলা খেয়ে থেকেছে। এখন প্রায় সন্ধ্যা নেমে এলো। আশেপাশে তাকিয়ে ভাতের হোটেল নজরে পড়লেও সেদিকে যাওয়ার একটুও ইচ্ছে জাগলো না অনিন্দিতার মনে। আবারও খুবই অল্প টাকায় হালকা খাবার কিনে, পানি কিনে নিল।
বাসে উঠে পেছনের দিকের জানালার ধারের নির্দিষ্ট আসনে গিয়ে বসে পড়ল সে। এখনো অধিকাংশ জায়গা খালি। অবশ্য এখনো দুই ঘন্টা রয়েছে ।
দুইটা ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। তবুও এই বাসের সিট ছাড়া নিরাপদে বসার আর কোন স্থান খুঁজে পেল না অনিন্দিতা। মাগরিবের আজান হয়েছে অনেকক্ষণ হলো, তাই সিটে বসে ইশারায় অনিন্দিতা নামাজটা আদায় করে নিল। দোয়া দরুদ পড়তে থাকলো যতটুকু তার জানা। আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে, সামনের দিনগুলো নিয়ে ভাবতে ভাবতে দুই ঘন্টা যে কখন পার হয়ে গেল অনিন্দিতা যেন টেরই পেল না।
ততক্ষণে ড্রাইভার বাসের ইঞ্জিন চালু করে ফেলেছে। বাসটা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে আর কন্টাকটার বাইরে থাকা যাত্রীদের ডাকছে। অনিন্দিতা সবকিছু খুব মনোযোগ সহকারে দেখছে। এ ছাড়া আর উপায় বা কি এখন! একটা সময় সিটে হালান দিয়ে চোখ বন্ধ করে ভাবলো, একা একা এভাবে চলার কথা ছিল আমার?

অনিন্দিতার ভাবনার মাঝেই আচমকা তার পাশে একজন ধপ করে বসে পড়ল। চমকে সেদিকে তাকিয়ে একজন পুরুষ দেখে বেশ ঘাবড়ে গেল মেয়েটা। লাফিয়ে উঠে আরও জানালার দিকে চেপে বসলো যেন।

পাশে বসা মেয়েটার অস্বাভাবিক আচরণ পুরুষটি বেশ খেয়াল করলো, তবে কোন কথা না বলে নিজে আবার চেপে বসলো খানিকটা দূরত্ব বাড়িয়ে।

তবু অনিন্দিতার ভেতরের ভয়টা যেন কিছুতেই কমছে না, অতীত মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সারাটা দিন সে একা একা হাঁটলেও এতটা পাশাপাশি কোন পুরুষের অস্তিত্ব ছিল না। যা ছিল তা অনিন্দিতার ভাবনার ভিতরই ছিল। এই মুহূর্তটা মেয়েটার একদম অপ্রত্যাশিত। শরীরটা কেমন যেন কাঁপুনি দিয়ে উঠলো। ভয়ার্ত চোখে পাশের লোকটাকে পর্যবেক্ষণ করে অনিন্দিতা এতোটুকু বুঝল, পাশে বসা পুরুষটার বয়স খুব একটা বেশি হবে না। পোশাক আশাক ভাব ভঙ্গিমাতো তাই বলে।

পাশে বসা যাত্রীর এমন অস্বাভাবিক আচরণ ছেলেটার বিষন্ন মনটা আরো বিষন্ন আর বিরক্তিকর করে তুলল। সেদিকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে ভীষণ বিরক্তি নিয়ে জানতে চাইল,

এনি প্রবলেম মিস?

লোকটার কণ্ঠস্বর শুনে অনন্দিতা যেন আরো খানিকটা কুঁকড়ে গেল, যেন পারলে বাসের জানালা টপকে রাস্তায় গিয়ে গড়াগড়ি খায় ।

আরে আশ্চর্য তো! আমি তো ঠিকভাবেই বসেছি আপনি এমন আশ্চর্যজনক ব্যবহার করছেন কেন? রিলাক্স। একা আপনি? সঙ্গে কেউ নেই?

অনিন্দিতা মাথা নাড়িয়ে বোঝালো সে একা, সঙ্গে কেউ নেই।

ওকে ফাইন, কিন্তু আপনি এমন করছেন কেন? আমি কি আপনাকে বিরক্ত করেছি?

এবার অনিন্দিতা মাথা নাড়িয়ে না বোঝালো।

বাসের ভেতরের লাইটের আলোয় অনিন্দিতার মায়াবী ভয়র্ত মুখটা দেখে কপাল কুঁচকে নিল ছেলেটা। বলল,
মনে হচ্ছে আপনি আমাকে দেখে ভয় পাচ্ছেন। রিলাক্সে বসুন। এতটা ভয় যখন পাবেন তখন একা পথ চলতে বেরিয়েছেন কেন? কথাটা বলে ছেলেটা বাসে হেলান দিয়ে কপালের উপর এক হাত রেখে চোখ বন্ধ করে নিল।

তবু যেন অনিন্দিতার ভয় কাটে না। বাসের ভিতরে অনেক পুরুষ মানুষ তবু পাশে একজন মেয়ে হলে হয়তো এতটা ভয় লাগত না। নিজেকে বোঝাতে লাগল অনেকটা পথ একা চলতে হবে। এতটুকুতেই ভয় পেলে চলবে না।
নিজেকে স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালালো অনিন্দিতা । শেষমেষ জানালা দিয়ে বাইরের অন্ধকার প্রকৃতিতে মনোনিবেশ করল।

বাসের ঝাঁকুনিতে অনিন্দিতার চোখে তন্দ্রা নেমে এল, কিন্তু ঘুমাল না। সারারাত নির্ঘুম কেটে গেল অতীতের নানা স্মৃতির ভাঙা-গড়ার দোলাচলে।

পাশের ব্যক্তির সঙ্গে তেমন একটা কথাবার্তা বলেনি অনিন্দিতা। ওই মাঝেমধ্যে ছেলেটা অনিন্দিতার হাঁসফাঁস করা দেখে জিজ্ঞেস করেছিল কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা।

অনিন্দিতা অবশ্য হ্যাঁ-নাতেই উত্তর দিয়ে দিয়েছে। মাঝে অবশ্য একবার নামটাও জিজ্ঞেস করেছিল। ছেলেটা তার নামের ভারী প্রশংসা করলো। অনিন্দিতা অবশ্য তাকে কিছুই জিজ্ঞেস করেনি। নামটাও না।

ভোরের প্রথমাংশে শহরের বুক চিরে বাস এসে থামল চট্টগ্রামের ব্যস্ততম জিইসি মোড়ে। হালকা কুয়াশার চাদর আর ভোরের ঠান্ডা বাতাসের পরশে অনিন্দিতার শরীর কেঁপে উঠল। ব্যাগের ভিতর থেকে শোয়েটার আর শালটা বের করে গায়ে জড়িয়ে নিল ও।
যাত্রীরা একে একে নামতে শুরু করলো। অনিন্দিতা তখনও বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে অচেনা শহরের পানে।

বাস তখন পুরোপুরি খালি। পাশের ছেলেটা অনেকক্ষণ থেকেই লক্ষ্য করছিল অনিন্দিতাকে। মেয়েটার নামার জন্য কোন তাড়াহুড়া নেই। এই দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা জার্নি পথে মেয়েটার দিকে তার নজর বারবার চলে গিয়েছে হয়তো মেয়েটার অস্বাভাবিকতার কারণে। মেয়েটা অবশ্য তাকে পাত্তাই দেয়নি। নিজেকে যেন একদম গুটিয়ে নিয়েছে। তবুও ছেলেটা কেন যেন নিজে থেকেই কথা বলে ফেলে মেয়েটার সঙ্গে। এবারও তাই করল। ডেকে জিজ্ঞেস করল,

এক্সকিউজ মি, আপনি কি এখানেই থেকে যাবেন?

অনিন্দিতা চারিদিকে তাকিয়ে বাস ফাঁকা দেখেই তড়িৎ গতিতে লাফিয়ে ওঠে। ব্যাগটা কাঁধে চাপিয়ে দ্রুতগতিতে নেমে পড়ে বাস থেকে। ছেলেটাও পিছু পিছু নেমে যায়।
চলবে,,

বেশ কয়েকদিন গ্যাপ যাওয়ার কারণে পেইজের রিচ একদম ডাউন হয়ে গিয়েছে। তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ পর্বটা যার সামনে পড়বে ছোট করে একটা কমেন্ট করে যাবেন, আর রিয়েক্ট করে দিবেন।

Address

Barishal
8400

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Story of Maria Akter Sadia - মারিয়া আক্তার সাদিয়া posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Story of Maria Akter Sadia - মারিয়া আক্তার সাদিয়া:

Shortcuts

Share