18/10/2026
এই কেকটা তৈরি করেছিলাম বেশ কিছুদিন আগে। কিন্তু কেকটা যার জন্য বানানো, সেই আপুটার সঙ্গে আমার পরিচয় বহুদিনের। আমার জীবনের খারাপ সময়গুলোতে সে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে, সাহস জুগিয়েছে। যাক, সেসব কথা আজ থাক।
হঠাৎ একদিন আপু আমাকে নক দিয়ে বলল, “দিরা, একটা কেকের অর্ডার করব। তবে এর আগে যতবার অনেক পেজ থেকে কেক নিয়েছি, আমার পছন্দ হয়নি। এবার তুমি দয়া করে কেকটা ঠিকঠাক বানিয়ো।”
কথাগুলো শোনার পর আমি আপুকে আশ্বস্ত করেছিলাম, এবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন কেকটা তার পছন্দ হয়।
কিন্তু সমস্যা হয়ে গেল কেকের ডিপ কালার নিয়ে। যদিও আগে থেকেই আপুকে বিষয়টা জানানো হয়েছিল, তবুও যে আশঙ্কাটা করছিলাম, শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো। কেকের ক্রিমটা নোনতা লাগছিল আপুর কাছে, আর আমার ধারণা, ডিপ কালারের কারণে ক্রিমের স্বাদে এমন অনুভূতি হতে পারে।
বিষয়টা শোনার পর আমার ভীষণ মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, তাহলে কি আমার এত দিনের রেসিপিটাই ভুল? অথচ এর আগে কখনো চকলেট কেক নিয়ে এমন নেতিবাচক মন্তব্য শুনিনি। তারপরও আপুর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে আমি তাকে আরেকটা কেক পাঠিয়েছিলাম।
কিন্তু এরপর আর কোনো রেসপন্স পাইনি। হয়তো সেই কেকটাও আপুর পছন্দ হয়নি। সত্যি বলতে, কয়েকটা দিন মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলাম যে, সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
পরে নিজেকেই নিজে বোঝালাম,"আপু টা আমার রিজিকে ই নাই। সবকিছু সবার মনমতো হবে না, এটাই স্বাভাবিক।" হয়তো এই আপুর জন্য আমার বানানো কেকটা তার পছন্দের মতো হয়নি। আর একটা কথা, বরিশালে সবাই যদি আমার কেক পছন্দ করত, তাহলে বরিশালে অন্য কোনো কেকের পেজেরই হয়তো প্রয়োজন থাকত না!