18/06/2025
জীবনে কিছু ভুলের কোনো মাশুল হয় নাহ। আজ আমি তা টের পাচ্ছি। ১ম স্ত্রীর সাথে আমার ৮ বছরের সংসার ছিলো৷ মেয়েটি আমারে অনেক ভালোবাসতো। স্কুলে টিচার ছিল। ৮ বছরে সুন্দর করে সংসার গুছায় নিছিল৷ ওই ৮ বছরই আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের সময় ছিল।বাট আমি তা বুঝতে পারি নাই। আমি বাচ্চার নেশায় অন্ধ হই গেছিলাম। স্ত্রীর সমস্যার জন্য বাচ্চা হচ্ছিল নাহ। এই নিয়া অনেক অপমান করতাম তারে।আমার মা বাবাও ভাইও করতো। বাচ্চা দত্তক/ টেস্ট টিউব বেবির কথা বলতো বউ কিন্তু সামাজিক জ্ঞানী লোকেদের পরামর্শ শুনে রাজি হই নাই আমি। ৮ বছর চিকিৎসা করেও ফল না আসায়, পরিবারের কুমন্ত্রণায় বাচ্চার লোভে ২য় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেই। ১ম স্ত্রীকে এই ব্যাপারে জানালে সে বলে, জীবন যখন আমার,সিদ্ধান্তও আমার। আমার ইচ্ছা হইলে বিয়ে করবকিন্তু শর্ত হলো তারে ডিভোর্স দিতে হবে। অবশেষে বাচ্চার লোভে তারে ডিভোর্স দেই। যাওয়ার আগে সে বলে গেছিল, জীবনে শুধু বাচ্চাই যে সুখ না, সেইটা একদিন বুঝবে। সস্তার জ্ঞান দিচ্ছে বলে হাসাহাসি করি আমরা। তার সেই কথাই যে অমৃত সত্য তা কে জানতো। কাবিনের ৩ লাখ টাকা বাকি ছিলো। কিস্তিতে দিতে চাইলাম কিন্তু সে টাকা নিতে অসীকৃতি জানায়। আমারে বলে, আল্লাহ চাইলে একদিন তোমার চোখের পানি দিয়ে কাবিন শোধ কইরো।
টাকা আমি নিবো না।কাবিন দিতে হবে না দেখে আমরা আরও খুশি হইলাম।তার কথা কেও গুনলো নাহ।তার কথা
অত:পর ২য় বিয়ে করি । ১ বছরের মধ্যেই বাচ্চা নেই। কিন্তু ২ বছর না জেতেই বউয়ের পরকিয়া ধরা পড়ে। এই নিয়ে শাসন করায় বউ নারী নির্যাতন মামলা মিথ্যা মামলা দেয়। ছোট বাচ্চা রেখে পরকিয়া প্রেমিকের সাথে উধাও হয়ে ৪ দিন পর বাড়ি আসে। তারে ডিভোর্স দেই। বিভিন্ন মামলার ভয় দেখাইয়ে কাবিনের টাকার ডবল টাকা উশুল করে। পরে শুনিছি সে ওই ছেলেকে বিয়ে করছে। এতো নিচু নারী সে যে মা হয়েও বাচ্চা দাবি করে নাই। ১বছরের ছোটো ছেলে আমার কাছেই মানুষ হতে থাকে।
বছর খানেক পরে আমি আবার বিয়ে করি। ৩য় বিয়ে বলে,ভালো কোনো মেয়ে পাইতেছিলাম নাহ।কুমারী দূর, ডিভোর্সী,বিধবারাও সহজে রাজি হয় নাহ।বহু খুজে ৩৫+ বয়সী এক বিধবা বিয়ে করি। আমার বয়স তখন ৪০। এমন বয়স্ক মহিলা পছন্দ ছিল নাহ।তার সাথে সহবাসেও মজা পাইতাম নাহ। বাচ্চা আর সংসারের জন্যই তারে বিয়ে করি বাধ্য হইয়ে। কামের ফাদে পা দিয়ে,নিজের চাহিদা মেটাইতে এইবার আমিই পরকিয়ায় জড়াই যাই সদ্য বিবাহিত সামী বিদেশে যাওয়া কম বয়সী এক নারীর সাথে। বাড়িতে বউয়ের সাথেও খারাপ ব্যবহার শুরু করি। তারে আমি বাচ্চা সামলানোর বুয়া ভাবতাম বউ ভাবরে ঘেন্না লাগতো।বছর ২ পার হতেই পরকিয়া জানাজানি হয়ে যায়।এই নিয়ে বউ কথা শুনাইতে থাকে প্রতিদিন। রাগের মাথায় একদিন তারে খুব মারধর করি। তারপর তার পরিবার তারে নিয়া যেয়ে নারী নির্যাতন মামলা দেয়। কিছুদিন জেল খাটি, শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স দেয় বউ তার পরিবারের কুমন্ত্রণায়।
বর্তমানে আমি একা, ছেলের বয়স ১৬। আমার শেষ সম্ভল বলতে আমার ছেলে ছিলো। কিন্তু আমার কর্মফল এইখানেও আমারে ছাড়ে নাই। খারাপ সঙ্গে মিশে আমার ছেলে বিভিন্ন নেশায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জোড়াজুড়ি করে আমার থেকে টাকা নিতে থাকে। জীবনে সব হারিয়ে, ছেলেও হারানোর ভয়ে তার সব দাবি আমি মেনে নিতাম। জমি বেচেও তারে টাকা দিছি। নেশা ভান জুয়ায় সব শেষ করেছে। কিশোর গ্যাঙ্গে যোগ দিয়ে ইভটিজিং, ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটিয়েছে। সকল কিছু আমি জানতে পারি গত সপ্তাহে পুলি*শ তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর। জমি বেচে টাকা দিয়ে তাকে চাইলে ছাড়িয়ে আনতে পারি।কিন্তু আমার কেনো জানি আর ইচ্ছা করছে নাহ। এই বাচ্চার জন্যই আমার জীবনের সেরা সুখের ৮ টা বছর হারালাম। ভাবতেও নিজের উপর ঘে*ন্না হচ্ছে। আজ আমি আর বাচ্চা চাই না, আমি আমার ১ম স্ত্রীকেই ফেরত চাই।আমার চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছা করে, আমি আবার সেই ৮ বছরে ফেরত যেতে চাই।আমার বউয়ের পায়ে মাথা ঠুকে মরে যেতে ইচ্ছা করে।এবার মনে হয় সত্যই আমার ১ম বউয়ের কাবিন শোধ হলো। এসব ঘটনার পর বাবা মায়ের সাথেও যোগাযোগ অনেক কমাই দিছি। নাতি নাতি করে মাথা খেত আমার। বউয়ের নামে খুব নিন্দা করতো।ধঞ্জা,বাঞ্জি, এসব মেয়ে সংসারের জন্য অশুভ ইত্যাদি বলে আমার মাথা খাইছে। আমার এই অবস্থার জন্য মাবাবাও দায়ী। তারা যদি আমাকে একবার বলতো, বাচ্চা না হোক, এই মেয়ে ভালো, একে নিয়েই সংসার করে যা সারাজীবন। লাগলে একটা বাচ্চা দত্তক নে। কিন্তু তারা তা করে নাই।আজ তাদের প্রতিও খুব রাগ হয়। ওই ৩য় স্ত্রী যেনো বাড়ির ভাগ না পায় তাই আমি তখন বাড়িটা আমার ছেলের নামে লিখেছিলাম। এখন কাল ছেলে এইটা জানতে পারলে আমারে বের করে দিয়ে বাড়ি বেচে নেশা জুয়ায় টাকা ঢালবে যে এইটা আমি শিওর। ভবিষ্যতে রাস্তায় থাকতে হবে এমনই মনে হচ্ছে আমার। না হয় ১ম বউয়ের গোলাম হয়ে তার সেবায় কাটাবো শেষ জীবন।
১ম বউয়ের বর্তমান অবস্থা বলাই হলো না। গতমাসে একবার খোজ নিয়ে শুনি সে আর বিয়ে করে নাই। কিছু কলিগ মিলে নাকি অনাথ আশ্রম খুলেছে। অহসায় দরিদ্র রাস্তার শিশুদের পড়ায়, খাবার দেয়,অনেকে রাতে থাকেও। আমার ছেলেকে এরেস্ট করার পরের দিন গেছিলাম সেই আশ্রমে। আমার বউ আমাকে দেখে একটুও অবাক হয় নাই। শুধু আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলো,আমার নাকি বাচ্চা নাই? এই দেখো,আমার ৩২ টা বাচ্চা আছে। আমিও মা হতে পারি। তা তুমি কয়জনের বাবা হলে?কোনো উত্তর দিতে পারি নাই।শুধু বলেছিলাম,তোমার কাবিন টা আজ শোধ হয়ে গেছে।
৪র্থ বিয়ে করার আর সাহসও নাই ইচ্ছাও নাই আমার। কিন্তু যদি আমার ১ম বউ আবার আমাকে বিয়ে করতে চাইতো তাহলে আমি অবশ্যই করতাম।কিন্তু সে রাজি হবে না আমি জানি।নির্লজ্জর মতো এই প্রস্তাবও আমি দিতে পারবো নাহ। আজ একা বসে ভাবি, জীবনে যদি শুধু একটা সুযোগ আসতো,কেও যদি একটা টাইম মেশিন এনে আমারে সেই ৮ বছর ফিরাই নিয়া যাইতো। চিৎকার দিয়ে সারা দুনিয়ারে বলতাম, আমার বাচ্চা চাই না, শুধু আমার বউকেই চাই যে একটা সুখের জীবন দিয়েছে আমাকে। কিন্তু হায় আফসোস, আজ আর কিচ্ছু করার নেই আমার।সবই শেষ আমার। সামনে আরও কি হবে জানি না।কেও কি একটু পরামর্শ দিতে পারেন, কি করা উচিত এখন আমার? একটা কোনো উপায় সব ঠিক করার?
জীবনের গল্প লিখতে লিখতে এতো বড় হয়ে গেছে খেয়াল করি নাই৷ কেও আবার বানানো গল্প ভাইবেন নাহ।শুনেছিলেম আমাদের জীবন গল্প উপন্যাস কেও হার মানায়। নিজের জীবন দিয়ে তার প্রমান পাইলাম। পারলে আমারে একটা উপায় বলে যাইয়েন সকলে।
©