26/03/2024
দোকানদার ও কাস্টোমারের মাধ্যে মিসটেকিং
---------------------------------------------
এদেশে দোকানদারদের নিয়ে একটা কথা চাউর আছে, যা ফেনীর আঞ্চলিক ভাষায় এরকম- “হেতে আপন মাইনসেরে খালাই হালায়” (সে আপনজন থেকে দাম বেশি রাখে)।
একজন ব্যবসায়ী বা দোকানদার এ কথার প্রতিবাদ করবেই এটা স্বাভাবিক।
তবে আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে কথাটির সাথে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করি না।
এর কারণ হচ্ছে আমাদের মধ্যে এমন দোকানার অবশ্যই আছেন যারা আপনজন থেকে বেশি দাম নেয়ার এই অপসুযোগটি লুফে নেন।
ধরুন, আপনার একজন আত্নীয়, বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিত জন অথবা আপনার নিয়মিত কোন কাস্টোমার আপনার প্রতি ভালোবাসা ও অগাধ বিশ্বাস নিয়ে আপনার দোকানে আসলেন। যাতে করে আপনি তাকে ন্যায্য দামে ভালো পণ্যটি দিবেন।
কিন্ত দেখা যায় তার বিশ্বাসের সাথে আপনি সাপলুড়ু খেলে দিলেন। এতে করে তিনি যদি সচেতন ক্রেতা হোন তো আপনার একবারই মুলা তোলা হয়ে যাবে। কিছু দিনের ভিতরে হয়তো আপনার পটল তোলাও সেরে যাবে।
যাইহোক, এবার আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি হিসেবে ব্যবসায়িদের পক্ষে একটু সাফাই গাই, অর্থ্যাৎ কিছু ইস্যু বের করার চেষ্টা করি- (অভিজ্ঞতা গুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত। অন্য দোকাদারদের সাথে নাও মিলতে পারে)
১। আমি যখন একজন পরিচিত জনকে তার বাজেট অনুযায়ি ভালোমানের একটা কাপড় বা পাঞ্জাবি সাজেস্ট করি। দেখা যায়, তা উনার পছন্দ নয় (অবশ্যই পছন্দের বিষয়টি আপেক্ষিক) বরং এর চেয়ে লো কায়ালিটির (দাম কিন্তু বেশি) একটা উনার পছন্দ। তখন একপ্রকারের বাধ্য হয়েই উনাকে বেশি দামে একটু নিম্মমানের কাপড়টি দিয়ে হয়।
এর কারণ হচ্ছে, তিনি যতটা আন্তরিকতার সাথে আমার দোকানে এসেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আমার উপর অতটা আস্থা ধরে রাখতে পারেননি।
এখানে একটা ঘটনা বলি, আমার দোকানের একটা পাঞ্জাবি অনেক উন্নতমানের অথচ আজ প্রায় ৩ বছর পাঞ্জাবিটা বিক্রি হচ্ছে না। গত তিন দিন যাবত আমি যখন পাঞ্জাবিটা পরছি, তখন সবাই বেশ পছন্দ করছেন এবং বাহ বাহ দিচ্ছেন।
এখানে আমার প্রশ্ন পাঞ্জাবিটা এতো সুন্দর হলে এতদিন আপনারা এটি নেননি কেন?
উত্তর ওখানেই, আপনি কাপড় চিনেন না এবং দোকানদারের উপর আস্থা রাখতে পারেনি।
২। অনেক পরিচিতজন আছেন দোকানে এসে সামান্য আলাপচারিতার ফাঁকে দোকানের উপর দ্রুত চোখ বুলিয়ে শরমে কিছু না বলেই চলে যান। কিন্ত তারা জানেন না যে, আসল মজা ভিতরে।
৩। অনেকেই আছেন খুব ভালো কাস্টোমার। উনাদের সাফ কথা, আমি কোন প্রকার দরকষাকষি করবো না; আপনি যাই বলবেন তাই দিবো।
এই জায়গায় এসে আমরা (আমি) Marking down the Middle সমস্যায় পড়ে যাই। অর্থ্যাৎ ঠিক বুঝে উঠতে পারি না যে, উনি আসলেই কি আমি যে দাম বলি তাই দিবেন, না এর পরও কিছু কম দিবেন।
এব্যাপারে আজকের একটা ঘটনা বলি, আজকে আমার দোকান (লিবাছ পাঞ্জাবি) থেকে খুব প্রিয় একজন মানুষ আমার কাছ থেকে একটি পাঞ্জাবি নিলেন এবং তিনি বললেন যে, তিনি কোন দরকষাকষি করবেন না। এরপরও আমি একজন ব্যবসায়ি হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম যে, তিনি হয়তোবা ১০০/২০০ টাকা কম দিবেন। তাই আমি নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০০/২০০ টাকা বাড়তি বললাম। আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি তাই নিতে বললেন। আমিও তাই নিয়ে নিলাম। কারণ এখানে কম নিলে একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
যাইহোক, শেষ পর্যন্ত আমি ওনাকে ঠকাইনি। ৩০০ টাকা (প্রায়) মূল্যের একটা আতর (গিফট বলে) দিয়ে ব্যালেন্স করে দিলাম।
এখানে মূল কথা হচ্ছে, মূলত Miss understanding কারণেই ক্রেতা এবং দোকানদার উভয়েই ঠকে।
এর থেকে উত্তোরেণে পথ পরবর্তীতে কোন পোষ্টে দেয়ার চেষ্টা করবো। সে পর্যন্ত শুভকামনা।
with trust...