29/01/2022
নক্ষত্রের রাত নাটকে আসাদুজ্জামান নূরের একটা সংলাপ আছে। সংলাপটা অনেকটা এরকম, এমন একজন মানুষ খুঁজে বের করতে হবে, যার মধ্যে বুদ্ধির চেয়ে ভালোবাসার পরিমাণ থাকবে বেশি।
কথাটা প্রথমবার শোনার সাথে সাথেই চমকে উঠেছিলাম।
সারা জীবনে আমরা বন্ধু খোঁজার সময় বুদ্ধির খোঁজ করি। কে ভালো পড়তে পারে, কে ভালো খেলতে পারে, কে ভালো আঁকতে পারে, আমাদের বেশিরভাগ বন্ধুত্বই গড়ে উঠে এসবের উপর ভর করে।
অথচ, আমরা একটা প্রশ্ন করতে বারবার ভুলে যাই, সে ভালো বাসতে পারে তো?
পৃথিবীর সব মা বাবাই ছেলে মেয়েদের অংক করতে দেখলে খুশি হন, ইংরেজি পারতে দেখলে খুশি হন, বুদ্ধিমান সন্তানের জন্য খোদার কাছে হাত তোলেন। কিন্তু পৃথিবীর কয়টা মা বাবা খোদার কাছে বলেন, খোদা, ও খোদা, আমার সন্তানকে তুমি ভালোবাসতে পারার ক্ষমতা দিও?
ইন্টেলেকচুয়ালিটি গুরুত্বপূর্ণ, সন্দেহ নাই। কিন্তু যে ইন্টেলেকচুয়ালিটিতে এমপ্যাথি থাকে না, লাভ থাকে না, আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকে না, শুধু থিওরি আর ফরমালিটিজ থাকে, ঐ ইন্টেলেকচুয়ালিটি নিয়ে আমি কী করবো?
আমার বন্ধু, আমার বান্ধবী, আমার প্রেমিকা বা বৌ বিশাল বড় পন্ডিত মানুষ, বিশাল জ্ঞানী মানুষ, কিন্তু আমি তার কাছে যাইয়া প্রাণ খুলে হাসতেই যদি না পারলাম, কাঁদতে ইচ্ছে করলে কাঁদতেই যদি না পারলাম, তবে ঐ পন্ডিত বন্ধু বা প্রেমিক বা প্রেমিকা নিয়ে আমি কী করবো? আর তার পান্ডিত্যই বা আমার কোন কাজে আসবে?
আপনি দুই হাজার বই পড়েছেন, ভালো কথা, কিন্তু আপনি আমার মন খারাপ হলে একটা ভালো কথা বলতে পারেন না, বই পড়ার ঠেলাতে আমার কথা শোনার সময়টাও আপনার হয় না। তাইলে আপনাকে দিয়ে আমার কী কাজ? ওরচে তো পাড়ার রিকশাওয়ালা ভালো, কারণ, সে অন্তত আমার গল্প শুনে মাথা নাড়ায়, আমার সাথে আহা উহু করে।
এই যে আজ আমাদের সবকিছু পেয়েও কিছুই না পাওয়ার অনুভূতি, জাগতিক সব পূর্ণতার পরেও আমাদের হৃদয়ে শূণ্যতার হাহাকার, আমার মনে হয় এর পেছনের কারণ, আমরা আমাদের মনের কথা শুনছি না, হৃদয়ের কথা বুঝছি না বা বুঝেও না বোঝার ভান করছি।
আমরা যখন আমাদের সমস্ত সময়, সমস্ত এনার্জি নিয়ে পাগলের মতো মেধা, বুদ্ধি, ইন্টেলেকচুয়ালিটি, নেইম আর ফেইম খুঁজে ফিরছি, তখন আমাদের অন্তর চিৎকার করে বলছে, আজীবন কিচ্ছু চাইনি আমি ভালোবাসা ছাড়া!!
বুদ্ধি বা ইন্টেলেকচুয়ালিটি ছাড়া মানুষ চলতে পারে, ভালোবাসা ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। এই কথা আমরা যত দ্রুত বুঝবো, ততই মঙ্গল!!
(কালেক্টেড)