16/05/2023
#শিক্ষানীয় বিষয়
বকরিদের পানি পান করানো নিয়ে মেয়ে দুটোর অসহায়ত্ব দেখে মুসা আলাইহি সালাম নিজ উদ্যোগে তাদের বকরি গুলোকে কূপ থেকে পানি পান করান। পানি পান করানো হলে সেগুলোকে মেয়েদের কাছে এনে ফেরত দেন এবং এরপর মেয়েরা বকরিগুলোকে নিয়ে ঘরে ফিরে যায় । খানিক বাদে মেয়েদের একজন পুনরায় মূসা আলাইহিস সালামের কাছে ফেরত আসে। মেয়ে দুটোর একজনের ফিরে আসার বর্ণনাটাও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরআনে তুলে ধরেছেন:
"অতঃপর নারীদ্বয়ের একজন সলজ্জ-পদে তাঁর (মুসা আলাইহিস সালামের) কাছে এসে বললো, আমার আব্বা আপনাকে থাকছেন। আপনি আমাদের বকরিগুলোকে পানি খাইয়েছেন,তাই আব্বা আপনাকে এর বিনিময় দিতে চান।"( আয়াত ২৮:২৫)
খুব বিস্ময়কর ভাবে এই আয়াতটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মেয়েটির ফিরে আসাটাকে বর্ণনা করেছেন 'সলজ্জ-পদে' শব্দ দ্বারা । কোরআন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নাযিল করা সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী গ্রন্থ। এখানে এমন একটা শব্দ, এমন একটা অক্ষর ও নেই যেটা অদরকারি, অপ্রয়োজনীয় কিংবা অতিরিক্ত ।কুরআন যখন কোন শব্দকে আলাদাভাবে ভাস্বর করে, সেটা তখন কোনভাবেই কাকতালীয় নয় ।তার পেছনে একটা গূঢ় রহস্য, একটা ভাবনার খোরাকি নিশ্চিত নিহিত হয়েছে।
ভাবুন তো __পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে ওই দিন পর্যন্ত কত অসংখ্য -অগণিত ঘটনা ঘটেছে ইতিহাসে ,তাই না ? উত্থান হয়েছে কত সভ্যতার,ধ্বংস হয়েছিল হাজার অসংখ্য সম্প্রদায় ।ঢেউয়ের উত্থান আর পতনের মতো কতো অগণিত ঘটনার সাক্ষী কালের সময়। কিন্তু কুরআন তার সবটাকে আমাদের সামনে বর্ণনা করেনি। এমন অনেক মহিয়ান সভ্যতা ছিলো,যারা আজ কালের ধুলোয় মিশে গেছে। এমন কত তেজস্বী
বীরপুরুষ বর্তমান ছিল যারা ঘোড়া নিয়ে তখন ছুটতো, তখন আকাশ বাতাস ধুলুতে মাখামাখি হয়ে যেত। কিন্তু আজ কোথাও তাদের কোন নাম নেই। কেউ তাদের স্মরণ করে না। কেউ জানে না তারা আদৌ কখনো পৃথিবীতে ছিল কি না ।তাদের ক্ষমতা, দম্ভ আর অহংকারের কথা পৃথিবী মনে রাখেনি।
অথচ দেখুন --একটা মেয়ে একজন পুরুষের সামনে যে সলজ্জ পদভারে এগিয়ে এসেছিলো, সেই কথা কোরআন আমাদের জানিয়ে দিয়েছে ।মহিয়ান সব সভ্যতাকে পৃথিবী ভুলে গেলেও, অনেক তেজস্বী বিরের বিরত্বগাঁথা ইতিহাস থেকে বিলীন হলেও, একটা মেয়ের এতটুকু লজ্জার কথা, লজ্জা ভরে এগিয়ে আসার কথা কোরআন যুগ যুগ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করে ফেলেছে। প্রতিদিন, পৃথিবীর কোথাও না কোথাও ,কেউ না কেউ মেয়েটার কথা পাঠ করছে ।একটুখানি লজ্জা আর সম্ভমকে কোরআন কি অপার মর্যাদায় অবিস্মরণীয় করে রেখে দিল ভাবুন।
আমাদের বোনেরা ,যারা আল্লাহর বিধান পর্দা কে ভালোবেসে গ্রহণ করেছেন, যারা পর পুরুষের দৃষ্টি হতে, তাদের সংস্পর্শ,সংস্রব হতে নিজেদের বিরত রেখেছেন ,অতিশয় দরকার আর প্রয়োজন ব্যতীত যারা পর পুরুষের সাথে কথা বলেন না। বলতে হলেও, যারা শরীআহর সীমারেখার মধ্যে থেকে, নিজেদের আব্রুকে হেফাজত করে কথা বলেন, তাদের জন্য সুসংবাদ ।আপনাদের এই বেশ-ভূষা,এই চাঞ্চলন এই লজ্জাটুকু আল্লাহ পছন্দ করেছেন। আপনারা সেই নারীদের উত্তরসূরী যারা পর পুরুষ আছে বলে ,সেদিন কূপে যাওয়া থেকে বিরত ছিলো। আপনারা সেই নারীর পদচিহ্ন অনুসরণকারী ,যিনি মুসা আলাইহিস সালামের সাথে প্রয়োজনে কথাটা বলতে এসেও নিজের লজ্জাটুকু ধরে রাখতে ভুলে যাননি ।সমাজ যতই আপনাদের অন্ধকারের বাসিন্দা বলুক, আমরা তো জানি-- প্রকৃত আলোর সন্ধানটা আপনারা পেয়ে গেছেন।
আপনাদের অভিনন্দন!