30/06/2015
এই ছেলে ??
,
জ্বে স্যার ।
,
যাবে নাকি ?
,
কৈ যাইবেন ?
,
শাল পুর ।
,
জ্বে স্যার যামু ।
,
কত টাকা দিতে হবে ?
,
জ্বে স্যার পঁচিশ টাকা দিয়েন ।
,
আচ্ছা চল ।
,
ছেলেটার নাম অন্তু ।স্টেশনের মানুষ
গুলো ডাকে টোকাই অন্তু ।বয়স বেশি
না ।সাত কি আট বছর হবে হয়তো ।
,
এই বৃষ্টির মাঝেও এসেছে অন্যের
বোঝা টানতে ।বেঁচে থাকতে হলে
সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকতে হয় ।এরা
এটা ভালো করেই জানে ।
,
বৃষ্টির দিনে গায়ে কম্বল জড়িয়ে শুয়ে
থাকলে কিম্বা বৃষ্টি সম্পর্কিত গান
শুনে দিনটা পার করে দিতে জানে না এরা
।
,
এরা জানে কিভাবে দুটো টাকা উপার্জন
করতে হয় !কিভাবে দু কেজি চাউল
কিনতে হয় !তার জন্যই অন্তু ও এসেছে
আজ দু কেজি চাউলের দাম উপার্জন
করতে ।
,
অন্তু বড় ব্যাগ টা মাথায় আর ছোট
খাটো ব্যাগ টা ডানে হাতে ধরে পথ
চলতে শুরু করেছে ভদ্র লোকটার পিছু
পিছু ।
,
ভদ্র লোকটার মাথার উপরে ছাতা আছে
।অবিরাম ধারায় বৃষ্টি নামছে ।পিছন
থেকে লোকটা ডাক দিয়ে বলেঃ
,
এই ছেলে ব্যাগ যেন না পড় ?
,
অন্তু ঘার দুলিয়ে সায় দেয়ঃ
,
জ্বে স্যার পড়বো না ।
,
কথাটা বলেই হনহন করে আবার
লোকটার পিছু হাঁটতে শুরু করে অন্তু ।
বৃষ্টির মধ্যেই চলছে ।
,
রাস্তার পাশের দোকান গুলো তখনো
খোলেনি ।এই বৃষ্টির ভেতর কাষ্টমার
খুব কম থাকে তাই হয়তো খুলেনি ।আর
নয়তো একটু বৃষ্টি ধীর হলে খুলবে ।
,
রাস্তার মাঝে বৃষ্টির জল জমে আছে
অনেক খানি ।বৃদ্ধ মানুষ টি তার ঢেলা
গাড়ীটা আটকে আছে নিতে পারছে না ।
অন্তু সেটা দেখতে পায় ।
,
মাথার ভারি ব্যাগ টা রাস্তার এক পাশে
নামিয়ে ভদ্র লোকটিকে ডাক দেয়ঃ
,
স্যার এই হানে একটু দাঁড়ান আমি ঢেলা
গাড়ীটা ধাক্কা দিয়ে আসি ।
,
ভদ্র লোকটি ঘাড় ঘুরিয়ে রাগী কন্ঠে
বলে ওঠেঃ
,
আমার অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে ।ঢেলা
গাড়ী ধাক্কা দেবার আরো মানুষ আছে
।তুমি আসো ।
,
তবুও অন্তু ঢেলা গাড়ীটা ধাক্কা দিয়ে
ভাঙ্গা রাস্তা টা পার করে দেয় ।বৃদ্ধ
লোকটি হাসি মুখে অন্তু কে বাহবা দিয়ে
বলেঃ
,
বাঁইচা থাকো বাজান ।ম্যলা বড় হও ।
,
অন্তু ভারি বোঝাটা মাথায় তুলে নিতে
নিতে বলেঃ
,
আর কত বড় হবো গো চাচা !বড় হইতে
হইতে অন্যের ভারি বোঝা এখন আমার
মাথায় ঠেকে ।এর থেকে আর কত বড়
হবো !!
,
গরীবের দুঃখ একমাত্র গরীব ই বুঝতে
পারে ।ধনীরা জানে মজা করতে ।দাঁত
কেলিয়ে হাসি দিতে ।
,
এবার দ্রুত পায়ে হাঁটতে শুরু করে অন্তু
।কছুক্ষনে মাঝে শাল পুর পৌছে যায় ।
কিন্তু ভদ্র লোকটির বাসা এখনো
পাওয়া যায়নি ।
,
পিছন থেকে অন্তু ডাক দেয়ঃ
,
স্যার শাল পুর তো চলে আইলাম ।
আপনার বাসা কোনহানে ?
,
ভদ্র লোকটা খুব ছোট করে কথাটার
জবাব দেয়ঃ
,
এইতো আর একটু রাস্তা আছে !
,
অথচো ভদ্র লোকটি ভাড়া মিটানোর
সময় শাল পুরের কথাই বলেছিল ।তাদের
কথা এক রকম কিন্তু কাজ অন্য রকম
।
,
শাল পুর থেকে আর কিছু টা দুরে গেট
লাগানো একটা বাড়ির সামনে এসে থামে
ভদ্র লোকটি পিছনে অন্তু ।মাথার
ভারি বোঝা টা আস্তে করে নামিয়ে
রাখে ।
,
মাথায় পেচিয়ে রাখ গামছা টা দিয়ে জল
চিপে মাথা মুছতে থাকে অন্তু ।সামনে
দাঁড়িয়ে থাকা ভদ্র লোকটি তার বুক
পকেট থেকে জলে ভেজা বিশ টাকার
একটা নোট ধরিয়ে দেয় অন্তুর হাতে ।
,
গামছা দিয়ে অন্তু মুখ মুছতে মুছতে
বলেঃ
,
স্যার ,পঁচিশ টাকা মিটানো ছিল ।
,
ভদ্র লোকটি খুব সুন্দর করে বলতে
থাকেঃ
,
আরে ধুর ,এতো টুকো রাস্তা আসতে
পঁচিশ টাকা দেয় নাকি !অনেক বেশি হয়ে
যায় ।তুমি ধরো তো ।
,
অসহায় কন্ঠে অন্তু বলতে থাকেঃ
,
স্যার ,আপনে তো পঁচিশ টাকা মিটিযেই
আয়ছেন !
,
বিশ টাকার ভেজা নোট টা অন্তুর দিকে
ছুড়ে দিয়ে ভদ্র লোকটি বলে উঠেঃ
,
নিলে নাও না নিলে যাও ।আমি বৃষ্টির
ভেতর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না ।
,
কথাটা বলেই লোহার তৈরি গেট টা খট
করে লাগিয়ে দেয় ভদ্র লোকটি ।
,
অন্তু বিশ টাকার নোট টা কুড়িয়ে নিয়ে
বলতে থাকেঃ
,
অহহহ স্যার ,আমার না দিয়া সেই পাঁচ
টাকা দিয়া একখান ইট কিনে লইবেন ।
যাতে আমি কইবের পারিঃ
,
আপনের ঐ বাড়িতে আমার ঘামে ভেজা
একখান ইট আছে ।
,
অন্তু চলে যাচ্ছে ।একবারো পিছনের
দিকে তাকিয়ে দেখছে না ।বৃষ্টির জল
আর চোখের জল মিশে একাকার
frown emoticon
,
,
,
গল্পঃ টোকাই
লিখা [] কবি ( ছন্দহীন কবি )