01/10/2025
আমার পিছনে রিকশায় বসে কান্না করা মহিলাটা হলেন ২৪এর জুলাই আন্দোলনে আশুলিয়া থানার সামনে নিহত ভ্যানে লা*শ পু/ড়ি/য়ে দেয়া শহীদ আবুল হোসেনের স্ত্রী হতভাগা লাকী আক্তার।
সেই নিহত আবুল হোসেন এবং দুইটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একই এলাকার মানুষ। এই মূহুর্তে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পাওয়ার সম্পর্কে কারোই অজানা নাই, তিনি ইচ্ছা করলেই যেকোন সচিব, এসপি, ডিসি, আমলাকে একটা ফোন দিয়ে তাদের চেয়ার গরম করে দিতে পারেন।বলা যায় উনার একক ইচ্ছায় সাকিব আল হাসানকেও বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে, তিনি আসলেই অনেক কিছু করার ক্ষমতা রাখেন কিন্তু তিনি তার প্রতিবেশী আবুল হোসেনের পরিবারের ব্যাপারে খুবই উদাসীন।
দুইটা এতিম বাচ্চার দিকে তাকিয়ে হলেও তো আপনি শহীদ আবুল হোসেনের নামটা গেজেটেডভুক্ত করে দেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে একটা কল দিতে পারতেন। গত ১৪ মাস যাবৎ লাকী আক্তার কোলে একটা অবুঝ বাচ্চাকে নিয়ে রাস্তার ভিখারির মত এই দ্বার থেকে সেই দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহর সাথেও দেখা করেছেন উনার দুর্দশার কথা বলেছেন উনারা তার কথা শুনে খুব আফসোস করলেন এবং যোগাযোগের জন্য একটা করে নাম্বার দিয়েছেন কিন্তু পরবর্তীতে সেই নাম্বারে কল ডুকলেও কেউ রিসিভ করে না।
একদিন লাকী আক্তার আসিফ মাহমুদের সাথে দেখা করতে না পেরে উনার চলন্ত গাড়ির সামনে শুয়ে পরেছিলেন, তবুও আসিফ মাহমুদ সেদিন লাকী আক্তারকে পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছিলেন এবং দেখা করার সময়টুকু পাননি।
কিছুদিন আগে অবশ্য আসিফ মাহমুদ লাকী আক্তার সহ কুমিল্লার আরো সকল নিহত পরিবারের সাথে দেখা করেছিলেন সেদিন প্রথম আসিফ মাহমুদকে কাছে পেয়ে লাকী আক্তার তার সব না বলা কথাগুলো বলেছিলেন, উপদেষ্টা সাহেব উনাকে আশ্বস্ত করে একজনের কন্টাক্ট নাম্বার দিয়েছিলেন ফোন করে রেগুলার যোগাযোগ করার জন্য কিন্তু কোন দিন সেই ফোনে কল দিয়ে যোগাযোগ করা আর সম্ভব হয়নি।
যাই হোক, আমি লাকী আপাকে কথা দিয়েছিলাম উনার বাচ্চাগুলোর জন্য হলেও আমি শেষ পর্যন্ত উনার সাথে থাকব। আমি লাকী আপাকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ডিসি অফিস, সিভিল সার্জন কার্যালয় , আদালত বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। মাঝে মাঝে একা একাও অনেক জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোথাও গিয়ে নিহত আবুল হোসেন ভাইয়ের নামটা গেজেটভুক্ত করতে পারি নাই।
গতকাল ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে সর্বশেষ বলল মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় থেকে যদি চিঠি পাঠায় তাহলে নাকি আবুল হোসেন ভাইয়ের নামটা গেজেট ভুক্ত হবে, যদিও আমি নিজে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে কয়েকবার গিয়েছি, যুগ্ম-সচিব ফারুক স্যারের কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়ে এসেছি। তাও ৩-৪ মাস হয়ে গেলো কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
দিন শেষে লাকী আপা যখন আমাকে আপডেট জানতে ফোন দেন তখন নিজেকে খুবই অসহায় লাগে, খুবই কষ্ট লাগে এই যে এতিম দুইটা বাচ্চার বুঝি একটা মাথা গুজার ঠাই করে দিতে পারলাম না।
এই না পারার দায় উপদেষ্টা সাহেবের, এই না পারার দায় আমাদের সিস্টেমের, এই না পারার দায় আমাদের সবার। 😔😔
(বিদ্রাঃ উপদেষ্টা সাহেব নিজ উদ্যোগে আবুল হোসেন ভাইয়ের পরিবারকে ২লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন)