04/11/2021
লিলাখেলা
২য় পর্ব
রাত ২টা বাজে। এখনো রাতুল বাড়িতে ফিরেনি৷ আমি অনেক বার কল দিয়েছি। রিসিভ করছেন না। আমার ফোন সে কখনো রিসিভ করেননা। প্রথম যেদিন কল দিয়েছিলাম সেদিন শুধু রিসিভ করেছে৷ তার পর থেকে আর আমার কল রিসিভ করেন না। একদিন অনেক সাহস জুগিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আমার কল কেন রিসিভ করেন না? উনি বললেন- আমাকে কখনো কল দিবে না। আমার যখন প্রয়োজন আমি নিজেই তোমাকে কল করে নিব।
আমি চুপ করে মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললাম।
বিয়ের পর থেকে এই পর্যন্ত কত গুলো দিন চলে গেছে কখনো আমাকে উনি কল দেন নি৷ আমার মনে হয় কোন দিন দিবেও না৷
যাই হোক এখন এসব ভাবার সময় নেই। আমি শাশুড়ী মায়ের ঘরে গেলাম। তারা এখনো ঘুমাননি। শশুর শাশুড়ী টিভিতে হিন্দি মুভি দেখছে আর দুজনে গল্প করছে। মন টা খুব খারাপ হল। রাতুলের সাথে আমি কোন দিন এই ভাবে গল্প করতে পারবো না। খুব ইচ্ছা করে রাতুলের সাথে কথা বলতে। কত কথা মনের ভিতর ঘুরপাক খায় রাতুল কে বলব বলে। কিন্তু বলার মত সাহস হয়ে উঠেনা।
আমি ঘরে ঢুকেই শাশুড়ী কে বললাম- মা একটু আপনার ছেলেকে কল দেন?? এখনো উনি বাড়িতে ফিরেনি।
শশুর শাশুড়ী আমার দিকে তাকালো। দুজনে একি সাথে প্রশ্ন করে উঠলো- এখনো ফিরেনি??
আমি বললাম- না।
শাশুড়ী বললেন- কি বলো!!!! রাতুল তো কখনো এত রাত করে না। সব সময় ১০/১১ টার মধ্যে বাড়িতে ফিরে আসে। কোন কাযে আটকে গেলে কল করে বলে দেয়।
শাশুড়ী আমার দিকে তাকিয়ে বললেন- তোমাকে কল দেয়নি৷
আমি মাথা নিচু করে বললাম- না মা আমাকে কল দেয়নি৷
শশুর বললেন- আমি কল দিচ্ছি৷ দেখছি কি হয়েছে৷
শশুর মোবাইল হাতে নিয়ে কল দিল কিন্তু কল যাচ্ছে না। মোবাইল বন্ধ বলছে। কয়েকবার কল দিল কিন্তু প্রতিবার সেইম। মোবাইল বন্ধ।
সারারাত আমরা কেউ টেনশনে ঘুমাতে পারলাম না৷ সকাল ৬ টায় রাতুল বাড়িতে ফিরলেন। রতুল বাড়িতে আসা মাত্রই আমার শাশুড়ী রাতুলকে জিজ্ঞাসা করলেন- কোথায় গিয়েছিলি??
- তুলির বাসায়।
- তুলির বাসায়!!! কেন তুলির বাসায় কেন??? কি হয়েছে??
- কিছু কাজ ছিল তাই যেতে হয়েছে।
- তুলির সাথে তো সব শেষ!!! তাহলে তুলির বাসায় কেন। কি কাজ ছিল ওর সাথে?? ওই মেয়ের সাথে তো কোন কাজ থাকার কথা না।
- মা আমাকে বিরক্ত করনা। আমি সারারাত ঘুমাইনি৷
শাশুড়ী মা আর কথা বাড়ালেন না৷ রাতুল নিজের ঘরে চলে এল৷
জানিনা কেন যেন খুব কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। খুব কাঁদতে ইচ্ছা করছে।
আমি তো আগে থেকেই জানি রাতুল এখনো তুলিকে ভালবাসে। তাহলে আমার কেন এখন এত কষ্ট হচ্ছে। যার সাথে সে দুইটা বছর একসাথে সংসার করেছে। তার সাথে না হয় একটু দেখায় করতে গিয়েছে। এতে আমার এত কষ্ট হচ্ছে কেন!!!জানিনা!!! কথায় আছেনা মানুষ সব কিছুর ভাগ দিতে পারে কিন্তু স্বামীর ভাগ কাউকে দিতে পারেনা। সে যেই হোক না কেন। মনে হয় সেটাই আমার ভিতর ঘটছে। আমিও চাইনা রাতুল কে কারো সাথে শেয়ার করতে। সে রাতুলের ১ম স্ত্রী হোক তবুও না। রাতুল কে শুধু আমি ভালবাসতে চাই। শুধু আমার কাছে রাখতে চাই ওকে।
কিন্তু আমার তো এমন হলে হবে না। আমাকে সব কিছু মেনে নিতে হবে৷ কোন কিছুতে কষ্ট পাওয়া যাবে না। হাসি মুখে থাকতে হবে সব সময়। আমার তো রাগ করে কষ্ট পেয়ে কথাও যাবার যায়গা নেই। আমি যে গরিবের মেয়ে।
দুপুর পর্যন্ত রাতুল ঘুমালো। মোবাইলের কলের শব্দে রাতুলের ঘুম ভেঙে গেল। কলটা আসার সাথে সাথেই রাতুল কোন রকম রেডি হয়ে আবার বের হয়ে গেল। খেয়েও বের হয়নি।
আমার কেন যেন মনে হচ্ছে রাতুল এখনো তুলির সাথে দেখা করতে গিয়েছে। কেন এমন করছে রাতুল!!! তুলির সাথে কেনই বা আলাদা হল আমাকে কেনই বা বিয়ে করলো!!! আর এখনি বা কেন তুলির সাথে দেখা করছে। সব কিছু শেষ হবার পর কেন এখন দেখা করছে। কেন এমন করছে!!!
নিজের অজান্তেই চোখ বেয়ে পানি পরতে শুরু করলো। রাতুল কি কোন দিন আমার হবে না!!??? আমার এত কাছে থেকেও সে আমার নেই। অন্য কারো। খুব ইচ্ছা করছে রাতুল কে একটু জড়িয়ে ধরতে। ওর বুকে মাথা রেখে খুব কাঁদতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু এটা হবার নয়।"চলবে".....
লেখা- Esrat Sumi