05/05/2026
একটা জিনিস আমি খুব খেয়াল করেছি, মানুষ যেমনটা চায়, আল্লাহ ঠিক তেমনই মিলিয়ে দেন।
কয়টা উদাহরণ দেই। পরিচিত একজনকে দেখেছি, বাচ্চার বয়স কমিয়ে বলতো যেন পরিবহনের টিকিট কাটতে না হয়, বা হাফটিকিট কাটলেই হয়। কিছুদিন পর দেখা গেল, বাচ্চার গ্রোথ আটকে আছে। টিকিটের টাকা এখনো বেঁচে যাচ্ছে, কিন্তু এখন বাচ্চার ওষুধ আর সাপ্লিমেন্ট কিনতে টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।
আরেকজনকে দেখেছি, ছেলের বয়স সার্টিফিকেটে অনেক কমিয়ে রেখেছে, যেন সরকারি চাকরিতে এপ্লাই করার জন্য বেশিদিন সুযোগ পায়। তার সরকারি চাকরি ঠিকই হয়েছে, তবে বহুবার পরীক্ষা দিয়ে, আর অরিজিনাল বয়স ৩০ বছর পার করে।
আরেকজনকে চিনি, বিয়ের আগে শ্বশুরবাড়ি খুব প্রভাবশালী হবে এমন চাইতো। এরকম আত্মীয়-স্বজন থাকলে নাকি বিপদে আপদে বহু কাজে লাগে। অতঃপর তার বিয়ে হয়েছে মনমতো, সাথে একের পর এক বিপদও লেগে আছে।
এরকম আরো বহু উদাহরণ দিতে পারবো। শুধু নেগেটিভ না, পজিটিভ অনেক ঘটনাও কিন্তু আছে।
যেমন, এক ভাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুদি ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। মাঝে কয় বছর পরীক্ষার ভেতর দিয়ে গেলেও আজ তার আরো ভালো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে, তার সন্তানেরা সবাই হাফেজ ও আলেম হওয়ার পথে।
আরেকজন নিজ ছেলেকে স্টুডেন্ট অবস্থায় বিয়ে দিয়েছিল। ছেলের পড়াশোনা ব্যাহত হবে, ছেলের বউকে পালতে হবে- এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা করেননি। আজ তার ছেলে পুরো পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে, আর তার ঘর জুড়ে অনেক নাতি-নাতনির মেলা।
আরেকজনের গল্প শুনেছি, গর্ভে থাকা কালীন তার বাচ্চার জটিল রোগ ধরা পড়ে। বিদেশের ডাক্তাররা এবর্শনের করা বললেও তিনি আল্লাহর উপর ভরসা করেন। পরবর্তীতে তার বাচ্চা সম্পূর্ণ সুস্থ জন্ম নেয়, সুবহানাল্লাহ! এরপর তিনি নিজেকে ও সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় সপে দেন।
আসলে, মানুষ যখন জীবন নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করে, আল্লাহ তাকে হুবহু এক না হলেও উত্তম কোন ব্যবস্থাই করে দেন। আর সে যদি আল্লাহর উপর ভরসা করে কিছু ছাড় দেয়, তখন তিনি আরও বারাকাহ দান করেন।
রিজিক ব্যাপারটা এমনই রহস্যময়! এর পিছনে ছুটলে ধরা যায় না; কিন্তু চোখ বন্ধ করে আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলেই আপনাআপনি কাছে এসে ধর্না দিবে- কখনো কখনো কল্পনার থেকেও বহুগুণ বেশি হয়ে!
সংগৃহীত