01/02/2026
রমাদান প্রস্তুতি📿
রমাদানের আমল রুটিন—
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
রমাদান রিলেটেড যে কয়টা বই পড়েছি, প্রতিটা বইয়ের টপিকগুলো প্রায় একই। এই যেমন—
রমাদান মাসের ফজিলত,
সিয়ামের ফজিলত,
সিয়ামের গুরুত্ব ও বিধান,
সিয়াম ভঙ্গের কারণ,
শেষ দশকের ইবাদত,
কিয়ামুল লাইলের গুরুত্ব,
কুরআনের মহিমা,
বেশি বেশি দু‘আ করা ইত্যাদি টপিক নিয়ে বারবার বলা হয়েছে।
অনেকেই হয়তো রমাদানের রুটিন অলরেডি সাজিয়ে ফেলেছেন। বোনেরা আমলের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে, এই সুধারণাই রাখি। তবুও আমার মতো যারা গাফেল আছেন,নতাদের জন্য রমাদানের প্রস্তুতি নিয়ে সহজ একটা রুটিন সাজিয়েছি।
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্
▪️আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন—
ইয়া আল্লাহ! আমাকে রমাদান অবধি দীর্ঘ নেক হায়াত দাও। আফিয়াতের সাথে বাঁচিয়ে রাখো। এই রমাদান যেন আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রমাদান হয়। শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, পেরেশান থেকে পানাহ দাও। আলসেমি হতে পানাহ দাও। আমাকে তোমার অল্প সংখ্যক কৃতজ্ঞ,নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও। আমার জীবনকে বানিয়ে দাও রমাদানের মতো৷ মউতকে বানিয়ে দাও ঈদের মতো।'
▪️আগে নফলের পিছনে না ছুটে ফরজ ইবাদাতের প্রতি যত্নশীল হোন। প্রতিটা ওয়াক্তের প্রতি রাকাআতে সর্বোচ্চ খুশু-খুযু ধরে রাখার চেষ্টা করুন। নামাজে মনটা এদিক-ওদিক চলে যেতে চাইবে। এটাই স্বাভাবিক। যতবারই মনোযোগ নষ্ট হবে, আবারও মনোযোগ ফিরিয়ে নিন। নামাজের ভিতরে যে সূরা-দুআগুলো পড়েন,সেগুলোর অর্থ শেখার চেষ্টা করুন। সিজদাহ্-তে দীর্ঘ সময় দিন। নিজেকে বুঝ দিন,আপনি আরশের অধিপতির সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছেন।
▪️প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট কুরআনের সাথে সময় কাটান। আমি ধরে নিচ্ছি, আপনি আমার মতো গাফেল। তাই ৫ মিনিট বললাম। এই ৫ মিনিট মুসহাফ নিয়ে বসুন। ১ সপ্তাহ পর আরো ৫ মিনিট বাড়িয়ে ১০ মিনিট করে তিলওয়াত করুন। এভাবে আস্তে আস্তে কুরআনের সাথে সময় বাড়ান।
▪️যদি বেসিক তাজবিদ শুদ্ধ না থাকে, তাহলে সব বাদ দিয়ে আগে তাজবিদ শুদ্ধ করুন।
▪️প্রতিদিন ১০০ করে ইস্তেগফার শুরু করুন। ১০০ বার ইস্তেগফার করতে ৫ মিনিটও লাগে না। আজ ১০০ বার পড়লে আগামীকাল ১৫০ বার পড়ুন। এভাবেই ধীরে ধীরে ইস্তেগফারের পরিমাণ বাড়ান। আর যদি আপনি হাজার হাজার ইস্তেগফার করতে পারেন,তাহলে আলহামদুলিল্লাহ্। আল্লাহ আপনাকে আরো বেশি বেশি ইস্তেগফার করার তওফিক দিন।
▪️দিনের যেকোনো একটা সময় মোহাব্বতের সাথে কিছুক্ষণ দুরুদে ইবরাহীম পড়ুন। এই আমলে আপনার অস্থিরতা, ডিপ্রেশন, মন খারাপ দূর হবে ইনশাআল্লাহ্।
▪️আযানের জবাব দিন। আযান ও ইকামাতের সময়টা দুআ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ সময়৷ এই সময়টাকে কাজে লাগান।
▪️আগের কাযা রোজা থাকলে তা আদায় করে নিন। তাছাড়া সোমবার ও বৃহস্পতিবার, প্রতি মাসে আইয়্যেমে বীজের রোজা রাখার চেষ্টা করুন। বিবাহিত বোনদের জন্য জাওজের অনুমতি ব্যতীত নফল রোজা রাখা জায়েজ নেই।
▪️সপ্তাহে অন্তত একটা করে কুরআনিক বা হাদিসে বর্ণিত দু‘আ শেখার চেষ্টা করুন। হাদিসে বর্ণিত দুআগুলো শেখার জন্য 'রাহে বেলায়াত' বইটা বেস্ট লেগেছে আমার কাছে।
▪️ গীবত থেকে কয়েক কি.মি. দূরে থাকুন। এতো কষ্ট করে আমল করবেন আর ফল পাবে অন্য জন৷ ভালো লাগবে সেটা? মুসলমানের এতো সময় কই যে তারা অন্যের পিছনে পড়ে থাকবে! গীবতের আসর দেখলে সাবধান করে দিবেন। না শুনলে উঠে আসবেন। গীবত এবং অন্যের আমল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা বাদ দিলেই সময়ে বারাকাহ্ আসবে ইনশাআল্লাহ্।
▪️গান-বাজনা, বেহুদা রিলস দেখে সময় নষ্ট করবেন না৷ এগুলো রুহানিয়াত নষ্ট করে। আমলে ঘাটতি আনে। রিলস দেখতে ইচ্ছে হলে ঘুমান। রিলস দেখার চেয়ে ঘুমানো ভালো।
▪️বোনদের অনেকে জানিয়েছেন, কয়েকদিন আমল করে আমলে আগ্রহ হারিয়ে যায়৷ ইস্তেগফার করতে ইচ্ছে করে না। তাদের বলি, প্রতিদিন একটা করে বয়ান শুনবেন ইউটিউবে। কাজকর্ম করতে করতেই শুনবেন৷ ধরুন, আপনার ইস্তেগফার করতে ইচ্ছে করে না। তাহলে ইউটিউবে ইস্তেগফারের ফজিলত নিয়ে আলোচনা শুনবেন। আমাদের নফস এমনই৷ এটাকে না ঠেললে নেতিয়ে পড়ে।
▪️প্রতিদিন ১ পয়সা হলেও সদকাহ্ করবেন৷ সদকাহ্-র গুরুত্ব নিয়ে এর আগে অনেক পোস্ট করেছি।
▪️তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করবেন। শেষরাতের দু‘আর চেয়ে ম্যাজিক্যাল আর কিছু হয় না। প্রতিদিনই তাহাজ্জুদ পড়তে বলছি না। এক সপ্তাহে একদিন উঠুন। ঘুম ঘুম পেলে জায়নামাজেই বসে থাকুন এই সময়। তবুও উঠুন৷ তাহাজ্জুদ আপনাকে এমন সব নিয়ামাহ্ এনে দিবে,যা আপনি কল্পনাও করেননি৷
▪️দু‘আলিস্ট বানান। আগামী দিন/বছরে আপনার কি কি লাগবে, তা লিস্ট করুন। নোটবুকে লিখে রাখুন৷ এটা রমাদানে আপনাকে দারুনভাবে কাজে দিবে৷
📌 বিশেষ টিপস—
▬▬▬▬▬▬▬▬☞
এখন থেকেই অল্প অল্প করে টাকা জমান। কেন জমাবেন?
রমাদানের আগে রমাদান প্ল্যানার বের হয়। আপনি যদি অন্যদের রমাদান প্ল্যানার হাদিয়া দিতে পারেন এবং আপনার দেওয়া প্ল্যানার থেকে সে আমল করে, তবে আপনিও সমপরিমাণ সওয়াবের ভাগিদার হবেন ইনশাআল্লাহ্।
▪️ সম্ভব হলে কুরআনের অনুবাদ হাদিয়া দিন। রমাদানে এটা বেশ কাজে আসে।
▪️ আত্মীয়-স্বজন,পরিচিতদের বা যাদের হিজাব কেনার সামর্থ্য নেই, এমন কাউকে রমাদানের আগে সালাত হিজাব, জায়নামাজ ইত্যাদি হাদিয়া দিতে পারেন। আপনার দেওয়া হিজাব,জায়নামাজ নিয়ে সালাত আদায় করলে আপনিও সওয়াব পাবেন৷
▪️প্রতি ঘন্টায় দু‘আ করার অভ্যেস গড়ে তুলুন। ঘন্টায় ঘন্টায় দু‘আ করার মাধ্যমে আপনি আল্লাহর নিকটবর্তী হতে পারবেন। ছোট-বড় সবকিছুই আল্লাহর কাছে চাওয়ার অভ্যেস তৈরি হবে। যে নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে দুআ করার অভ্যেস করতে পারবে,সে 'দুআর মিষ্টতা' উপলব্ধি করতে পারবেই ইনশাআল্লাহ।
এতক্ষণ ধরে যে পয়েন্টগুলো বলেছি,সবগুলো একসাথে শুরু করার দরকার নেই। একটু একটু করে অগ্রসর হোন। আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। এগিয়ে যাওয়ার এই পথে অসুস্থতা,ব্যস্ততা বা নানা সমস্যা আপনাকে গ্রাস করার চেষ্টা করবে৷ হতাশ হবেন না। আবারও উঠে দাঁড়ান। আপনার রব্ব আপনারই অপেক্ষায়!
— তাহিয়া ইসলাম।
এই পেইজটি আপনার মহা-উপকারের জন্য। ঘুরে আসবেন এবং Follow দিয়ে রাখবেন ইংশাআল্লাহ্।
☞ ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে-বুঝতে এবং মহা-জরুরী মাসয়ালাগুলো সহজে পেতে Guidelines to Jannah কে ফলো দিয়ে রাখুন।👍🌻💛
Naipunya