21/11/2022
গুনাহমুক্ত জীবন সূচনার ক্যাম্পেইন :
গতকাল ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর কিছু ভাইয়ের বার্তা থেকে বুঝতে পারলাম, উম্মাহর অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ, খুবই নাজুক। দ্বীনের বিস্তারিত জ্ঞান তো দূরে থাকে, বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশ যুবক ও কিশোরদের ইসলামের সাধারণ জ্ঞানটুকুও নেই। কোনটা কুফর আর কোনটা ইমান, কোনটা হারাম আর কোনটা হালাল—এমন একান্ত প্রয়োজনীয় ইলমও বেশিরভাগ মানুষের নেই। আর তাই তারা কোথাও ইসলামের সামান্য ফ্লেভার পেলে বা ইসলামের নাম দেখলেই সেটাকে ইসলাম প্রমাণের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। নিজের প্রবৃত্তি ও চাহিদাকেই নানা অজুহাতে অকাট্য দ্বীন বানিয়ে ফেলে।
যাই হোক, এসব দেখে আফসোস করা ছাড়া আর কিছু বলার নেই। তবে আমাদের জন্য করণীয় হলো, সময় নষ্ট না করে দাওয়াহর মাধ্যমে উম্মাহকে যতটুকু ফেরানো যায়, যতটুকু সংশোধন করা যায়, সেটাই ভালো। ফুটবল বিশ্বকাপ যে হারাম, এ নিয়ে কারও কোনো প্রকারের সংশয় রাখার অবকাশ নেই। এতে মদ, জুয়া, ব্যভিচার, গান, মিউজিক, হাফপ্যান্ট, ট্যাটু-সহ নানা হারাম বিষয়াদি থাকার পাশাপাশি এতে মুসলিমদের ওয়ান উম্মাহ কনসেপ্ট নষ্ট হওয়া, ওয়ালা-বারার মতো ইমানের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত লঙ্ঘন হওয়া, জাতীয়তাবাদ সমর্থনের আড়ালে ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ বিলীন হওয়াসহ অনেক সমস্যা বিদ্যমান।
এত এত সমস্যা থাকার পরও যদি কারও চোখে ফুটবল বিশ্বকাপকে সাধারণ বিনোদন বলে মনে হয়, অথবা এটাকে মুসলিম দেশের গর্বের কারণ মনে করা হয় কিংবা এটাকে ইসলামের শাশ্বত বিধান প্রচারের ময়দান দাবি করা হয় তাহলে বুঝতে হবে, তার মগজে উইপোকা ধরেছে, যা তার দ্বীনকে ধ্বংস না করে ক্ষান্ত হবে না। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। আমাদের বুঝতে হবে, বর্তমান সময়টা খুবই সঙিন এবং এর ফিতনাগুলো অত্যন্ত রঙিন। হতাশ হওয়া যাবে না, থেমে যাওয়া চলবে না। নিজের দ্বীন ও ইমানকে বাঁচানোর জন্য শত কষ্ট হলেও দাজ্জালি ফিতনার সকল রঙিন উপকরণ থেকে দূরে থাকতে হবে।
সম্ভবত ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেছে বা শীঘ্রই দুয়েকদিনের মধ্যে শুরু হবে। এটা যেহেতু অনেক গুনাহের দরজা খুলে দেবে, যুবক-কিশোরদের কাঁচা হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী কালো দাগ ফেলে দেবে এবং ভবিষ্যতে ইমান-কুফরের দ্বন্দ্বে ইমানের পক্ষে থাকাকে কঠিন করে তুলবে তাই আমাদের ফুটবল বিশ্বকাপের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে এবং জীবনকে ইমান ও আমলের নুরে আলোকিত করতে অন্যান্য সকল গুনাহ থেকেও বাঁচার চিন্তা করতে হবে—এখান থেকে, আজ থেকেই। চলুন, আমরা দেখে নিই, আমরা কী কী করতে পারি :
১. নিজের নফসের ওপর শক্ত বলপ্রয়োগ করতে হবে এবং কঠিন প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রকারের খবর-আপডেট কিছুই রাখব না। এ জাতীয় কোনো সংবাদ আসলে সেটাকে স্কিপ করে যাব এবং তা বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
২. নিজের সঙ্গীসাথি ও বন্ধুবান্ধবদেরকে এ ব্যাপারটি ভালো করে বুঝানোর চেষ্টা করব। তারা যদি বুঝতে পারে তাহলে তো আল-হামদুলিল্লাহ। আর না বুঝলে তাদেরকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলব; বিশেষত ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন একমাস। খেলা বিষয়ে তাদের থেকে কখনও কিছু শুনব না।
৩. ফেসবুক, টুইটার ও সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমগুলোতে যারা ফ্রেন্ডলিস্টে বা ফলোয়িংয়ে আছে, তাদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব। কেউ এসংক্রান্ত খবর প্রচার করলে তাকে সঠিক বিধান জানিয়ে সতর্ক করব। এরপরও সতর্ক না হলে তাকে আনফ্রেন্ড বা আনফলো করব, সে যে-ই হোক না কেন।
৪. অনলাইনে ও অফলাইনে ফুটবল বিশ্বকাপের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে লিখিত সতর্কতামূলক বিভিন্ন আর্টিকেলের ব্যাপক প্রচার-প্রসার করব। যেন নিজেও সঠিক পথের ওপর অবিচল থাকতে পারি এবং এর মাধ্যমে আমার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও অন্য লোকেরাও সঠিক বিষয়টি জানতে পারে।
৫. এটার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করব। যদি এভাবে একটানা একমাস আমরা একটি বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারি, তাহলে এতে অন্তরে শক্তিশালী নুর পয়দা হবে এবং নফসের সাথে যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা হবে, যা আমাদেরকে অন্যান্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাকে সহজ করবে।
৬. যদিও আমাদের বর্তমান ক্যাম্পেইনটি একমাস ফুটবল বিশ্বকাপের সকল কিছু থেকে দূরে থাকার, কিন্তু এখান থেকে আমরা এ নিয়তও করে নেবো যে, এটা আমাদের গুনাহমুক্ত জীবনের সূচনা মাত্র। সামনে থেকে ধীরে ধীরে অন্যান্য সকল গুনাহ থেকেও আমরা চিরতরে খাঁটি তাওবা করে নেবো।
আমাদের মধ্যে কারা কারা এ ক্যাম্পেইনে অংশ নিচ্ছি, তা কমেন্ট-বক্সে জানাতে পারি। হয়তো এতে নিজের প্রতিজ্ঞার ওপর অটল থাকাটা সহজ হবে এবং অন্যদের জন্যও উপকার বয়ে আনবে। লেখাটি যদি আমরা ব্যাপকভাবে কপি-শেয়ার করে নিজ নিজ ওয়ালে ছড়িয়ে ক্যাম্পেইনে শরিক হই, আর এর মাধ্যমে উম্মাহর একজন ভাইও সঠিক বুঝ পেয়ে দ্বীনের পথে ফিরে আসে তাহলে সেটাই তো আমাদের সফলতা, সেটাই তো আমাদের কামনা। হতে পারে, কিয়ামতের দিন ক্ষুদ্র পরিসরের ছোট্ট এ দাওয়াহ-ই আমাদের নাজাতের অসিলা হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের বোঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন।