22/05/2025
তখন রাত ১২টা বাজতে বাকি দেড় ঘণ্টা বাকি। এ সময় এক অদ্ভুত আবদার নিয়ে হাজির রিফাত রায়হান নামে এক ভাই।
এদিকে আমাদের মেসেজের চাপ, অন্যদিকে টিমের সবাই ব্যস্ত নতুন আশা ড্রেসগুলো তাকে তাকে সাজাতে। তখন রিফাত ভাইয়া ড্রেসের ছবি দিয়ে বললেন 'আপু আমি এ থ্রিপিস নিতে চাই, কিন্তু...।
থ্রি-পিস নিবে এটা তো বেশ ভালো কথা। খটকা লাগলো 'কিন্তু...'তে। বললাম, ' ভাইয়া কিন্তু কি'
বললেন, আপু ড্রেসটা এখনই ডেলিভারি করতে হবে। চার্জ নিয়া ভাববেন না৷
আমি তো পুরো থ হয়ে গেলাম৷ এতো ব্যস্ততার মাঝে একম এতো রাতে ডেলিভারি সম্ভব না৷ তারপর টিমের সবাই সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে, এখনও অবসর পায়নি৷ ফলে কোনো ভাবেই সম্ভব হবে না৷ আমি মেসেজ সিন করে পরে কি লিখবো বুঝতে পারছিলাম না৷
চিন্তা করতে করতে বললাম, ভাইয়া এতো রাতে! এরপর আর কিছু 'হ্যাঁ'/না বলিনি।
কিছুক্ষণ পর আবার ভাইয়ার মেসেজ, 'প্লিজ আপু, আমিও চাকরি করি, জানি কাজের চাপ আপনাদের। চাকরির জন্য দেশের শেষ প্রান্তে, সীমান্তে থাকি, প্রিয় মানুষটার জন্মদিন আজ, আপু আপনি হেল্প করলে আমি দূর থেকেও তাকে একটা সারপ্রাইজ উপহার পাঠাতে পারি।'
আমি কি বলবো এ কথার পর। বললাম, আচ্ছা, টিমের সাথে কথা বলে দেখি কিছু করা যায় নাকি!
পরে দীর্ঘ আবেগের সামনে আর কথা বাড়ালাম না, টিমের একজনরে বললাম, তুই তো বিয়া করসিস, তুই বুঝবি এ লোকের দুঃখ। যা না সোনা ভাই, একটা ব্যবস্থা কর।
রিফাত ভাইয়ের শর্ত, ১২টায় যাতে আমরা হাজির হই ড্রেস নিয়া। আমরা দৌড়ঝাঁপ করে প্যাকিং করে পার্সেল রেডি করলাম। এবং ভাইয়ের দেয়া লোকশন (আজিমপুর) অনু্যায়ী ড্রেস পৌঁছে দিতে পেরেছি।
এমন অপ্রস্তুত আবদার মাথায় বাড়তি চাপ তৈরি করলেও ভীষণ আনন্দ হয়, আমাদের তো ছোট্ট একটা পেইজকে মানুষ ভালোবাসছে, বিশ্বাস করছে। এ আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না৷ আপুরা, আপুদের যত্নে রাখা ভাইয়ারা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
আর সময় মতন সারপ্রাইজ পার্সেল পৌঁছে দিতে পেরেছি যাদের জন্য, আমাদের দ্রাবিড় টিমে পাগলা ছেলেগুলোর জন্য, আর আমাদের ডেলিভারি পার্টনার পাঠাও। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
ঈদের কেনাকাটা করতে পেইজ ভিজিট করুন, আর পছন্দ হলেই সোজা ইনবক্সে ঝাঁপিয়ে পড়ুন আপুরা....