11/07/2015
“ভালো কিছু করতে চাইলে, ঢাকায় আসতে হবে”
ইটস এ মাস্ট !?.. একটা গল্প বলি;
৩ টা ছেলে, এখনও ছাত্র
তারা, ঢাকা থেকে প্রায় ১৫৮ কিমি দূরে তাদের গ্রামে একটা কোচিং সেন্টার খুলেছে
তারা নিজ খরচে সেখানে গ্রামের ছাত্রদের কোচিং দেয়
সাধারনজ্ঞান, হাইজিন ইস্যুস, বেসিক কম্পিটার শিক্ষা, পৃথিবীতে আজ কোথায় কি হচ্ছে সেই গল্প
ছাত্ররা মুগ্ধ হয়ে শুনে
রাত জেগে সেখানের শিক্ষকরা নেট ঘেঁটে ঘেঁটে মজার মজার শিক্ষণীয় গল্প বের করে পরের দিন ক্লাসে শুনায়
তাদের প্রধান শিক্ষক সেদিন আমাকে ফোন দিলো
সে নিজেও পিচ্চি ছেলে... সবে মাত্র বিবিএ পড়ে
আমাকে স্যার স্যার করছে ... তার ছাত্রদের মতো আমিও মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনছি
আমি বললাম, “বলো ভাইয়া আমি তোমাদের কিভাবে হেল্প করতে পারি?”
‘ভাইয়া আমাদের এই গ্রামে তো নেইই, পুরো ইউনিয়নে কোনও লাইব্রেরী নেই... একটা লাইব্রেরী করতে চাই
আমরা ছাত্ররা গাছ কেটে তাক বানিয়ে ফেলেছি... কিন্তু বই কেনার টাকা নেই... আমি একটু ঢাকা এসে আপনার কাছ থেকে কিছু বই নিয়ে আসি? আমাদের টাকা লাগবে না... শুধু কিছু বই দেই’
ফোনেই ধমক দিয়ে বললাম; “ভালো কিছু করতে চাইলে, ঢাকায় আসতে হবে কেন? দরকারে ঢাকা তোমার কাছে আসবে ... তোমাদের ঠিকানা দাও
তাক ধুয়ে মুছে রেডি করো... প্রস্তুত হও... ঢাকা আসছে তোমাদের কাছে”..
সেদিন রকমারি ডট কম থেকে ফোন দিয়ে বলছে, ভাইয়া আমরা একটা নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছি... আপনাকে পাশে চাই
উদ্যোগটা হলো, “এবার ঈদে সালামী হিসেবে বই দেয়ার প্রথা শুরু করতে চাচ্ছি”.. আশেপাশে চমৎকার চমৎকার আইডিয়া নিয়ে কাজ হচ্ছে
কিন্তু, শুধু ঢাকায় আঁটকে থাকলে হবে?
ফিরে আসি সেই কোচিং সেন্টার এর কাহিনীতে
আমি যদি এখন বসি, আমার বাসা থেকে কম পক্ষে ডজনখানিক বই বের করে আনতে পারব তাদের লাইব্রেরির জন্য
আমার পুরনো হয়ে যাওয়া পাঠ্য বই... জেনারেল নলেজের বই... কার্টুনের বই ... রাইমসের বই ... আমার পড়তে পড়তে মুখস্ত হয়ে যাওয়া গল্পের বইগুলো.. ডজনখানিক তো কমই বললাম
আপনার বাসায় থেকেও আমি শিওর, ডজনখানিকের কম বই বের করে নিয়ে আসতে পারবেন না
দেন না কুরিয়ার করে পাঠিয়ে
আপনার একটু চেষ্টায়, সেই গ্রামে গড়ে উঠুক একটা লাইব্রেরী ... হয়ে উঠুক সেটা সেই ইউনিয়নের একমাত্র লাইব্রেরী
ভরতে থাকুক তাদের তাক...
এক তাক শেষ হলে তারা আবার উপুত হয়ে আম কাঠ দিয়ে নতুন তাক বানাতে বসুক
বাসায় বই না থাকলে, যে কোনও ষ্টেশনারী থেকে একটা পছন্দমতো বই কিনে কুরিয়ার করে দেন
সালামী হিসেবেই শুরু হোক
বুড়ো বয়সে বাচ্চাদের বলতে তো পারব, “এদেশে সালামি হিসেবে বইয়ের প্রচলন শুরু হওয়ার প্রথম সময়কার কন্ট্রিবিউটর আমি... বুঝসস?”
বই পাঠানোর ঠিকানা;
পথ-প্রর্দশক কোচিং সেন্টার
কুতুবের হাট (৩৮৬২)
৯নং নবীপুর ইউনিয়ন
সেনবাগ, নোয়াখালী
আর এসএ-পরিবহনে পাঠাতে চাইলে, “চৌমুহনী, নোয়াখালী” শাখায় পাঠিয়ে, শুভকে 01705167687 এই নম্বরে জানিয়ে দিলেই হবে... তারা দলবেঁধে এসে নিয়ে যাবে.. সাথে ছোট্ট একটা চিরকুটে লিখে দেন; “ঢাকায় আসা লাগবে না রে, ঢাকাকেই আমরা ছড়িয়ে দিবো”