29/06/2026
অবহেলা, দায়িত্বহীনতা আর আমাদের ভবিষ্যৎ: একটি নির্মম বাস্তবতা😔
গতকালকের ওই মর্মান্তিক ঘটনাটি দেখার পর থেকে আমি এতটাই স্তব্ধ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত যে, তাৎক্ষণিকভাবে কিছু লেখার মতো মানসিকতা আমার ছিল না। শুধু আমার ২ বছরের ছোট্ট মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বারবার ভেবেছি— যদি আজ আমার সন্তান ওই জায়গায় থাকত, আমি একজন মা হিসেবে কীভাবে সেটা সহ্য করতাম? ওই ভুক্তভোগী শিশুটির মা-বাবা বুক ফাটা এই কান্না আর কষ্ট কীভাবে সামলাচ্ছেন?
এই একটি ঘটনা আমার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। বিয়ের পর আমি যে নিজের ক্যারিয়ার বা চাকরি ছেড়ে দিয়েছি, তার জন্য আজ থেকে আমার মনে আর কোনোদিন বিন্দুমাত্র আফসোস থাকবে না। অল্প খেয়ে, সাধারণ জীবনযাপন করব— তাও ভালো, কিন্তু নিজের সন্তানকে নিজের চোখে, নিজের ভালোবাসায় বড় করব। বড় হয়ে এই কঠিন ও প্রতিকূল পৃথিবীর মুখোমুখি হওয়ার জন্য তার সামনে সারাটা জীবন পড়ে আছে। তখন হয়তো চাইলেও আমি তার সব সমস্যা নিজে সমাধান করতে পারব না। কিন্তু এইটুকু বয়সে, যখন সে সম্পূর্ণ অসহায়, তখন তাকে এমন নরকে ঠেলে দেওয়া যায় না।
প্রথমেই আসি ডে-কেয়ার সেন্টারের প্রসঙ্গে। আপনারা যখন একটি ডে-কেয়ার সেন্টার খোলেন, তখন মনে রাখবেন— সেখানে কিছু অবুঝ প্রাণীকে রাখা হয়, যারা নিজেদের কষ্ট বা সমস্যার কথা মুখে বলতে পারে না। প্রতি মুহূর্তে সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে বসে থাকার মতো পর্যাপ্ত জনবল যদি আপনার না থাকে, তবে ডে-কেয়ার ব্যবসা বন্ধ করে দিন! একটা সুপারশপে সামান্য চুরি ঠেকানোর জন্য যদি অল-টাইম ক্যামেরার সামনে লোক বসিয়ে রাখা যায়, তবে মানুষের জীবন্ত সন্তানের নিরাপত্তার জন্য আপনারা দুজন লোক মনিটরিংয়ে রাখতে পারেন না? কিসের দায়িত্ব নিয়েছেন আপনারা? এত দীর্ঘ সময় ধরে একটা বাচ্চাকে নির্যাতন করা হলো, আর কেউ সেটা দেখল না? ক্যামেরা কি আপনারা শুধু সিনেমা রেকর্ড করার জন্য লাগিয়েছেন? ডে-কেয়ার মানে শুধু টাকা ইনকাম করা নয়, এর সাথে জড়িয়ে থাকে একেকটি প্রাণের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। এই প্রতিষ্ঠানটি সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ওই আক্রমণাত্মক শিশুটির প্রসঙ্গে। একটা শিশু কখনোই নিজে থেকে এতটা ভায়োলেন্ট বা হিংস্র হতে পারে না, যদি না তার পারিবারিক পরিবেশ প্রচণ্ড অমানুষিক বা বিষাক্ত হয়। অথবা শিশুটি হয়তো কোনো গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছে। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে কেন তাকে অন্য সাধারণ বাচ্চাদের সাথে এভাবে ছেড়ে দেওয়া হলো? আমার নিজের সন্তান যদি অন্য কারও জন্য বিপজ্জনক হয়, তবে তাকে সবার থেকে দূরে রেখে চিকিৎসা করানোই তো উচিত। ওই বাচ্চাটির আচরণ দেখলেই বোঝা যায়, সে হয়তো মানসিকভাবে অসুস্থ, নয়তো অত্যন্ত উগ্র এক পরিবেশে বড় হচ্ছে। বিপরীতে, বাকি দুটি বাচ্চা কতটা শান্ত ও ভদ্র ছিল!
সবশেষে, অত্যন্ত তিক্ত কিন্তু কিছু সত্য কথা বলতে চাই—
কোনো নারী যদি কেবলই নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান এবং সন্তানের পেছনে দেওয়ার মতো সময় না থাকে, তবে দয়া করে মা হবেন না। আর কোনো পুরুষ যদি নিজের স্ত্রীকে আর্থিক জোগান দিতে বা যথাযথ সম্মান দিতে কার্পণ্য করেন, তবে দয়া করে বিয়ে করবেন না কিংবা সন্তান নেবেন না। একটা মেয়েকে বাধ্য করবেন না তার কোলের শিশুকে এভাবে ফেলে রেখে চাকরি করতে যেতে।
অনেকে বলেন, "টাকার অভাবে বাধ্য হয়ে ছোট বাচ্চা রেখে চাকরি করতে হয়।" তাদের প্রতি অনুরোধ, এই আর্থিক হিসাব-নিকাশগুলো সন্তান নেওয়ার আগেই করুন। প্রয়োজনে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে কঠোর পরিশ্রম করুন, টিনের ঘরে থাকুন, টাকা জমান— তারপর সন্তান পৃথিবীতে আনুন। তাও কম খেয়ে থাকবেন, কিন্তু সন্তানকে এনে এমন পৈশাচিক পরিবেশের মুখে ফেলে দেবেন না, প্লিজ!
এই ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। দয়া করে সব পক্ষ সচেতন হোন। যে শিশুটি আজ এই নি*র্যা*তনের শিকার হলো, সে যে কী পরিমাণ মানসিক ট্র*মার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ভাবলেই শি*উরে উঠতে হয়। ও কি আর কোনোদিন স্বাভাবিক হতে পারবে? আমাদের অবহেলা যেন কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ এভাবে বি*পন্ন না করে।