29/08/2025
প্রথমে মনে হচ্ছিলো, রাতের অন্ধকারে কবরস্থানে কেউ তন্ত্রমন্ত্র করতে মুরগী অথবা খাসি বলি দিচ্ছে।
পশুর মাথাটাকে যারা ধরে রেখেছে তাদের হাত র ক্তে মাখামাখি।
কিন্তু যখন নোটিশ করলাম ওখানে দুটো মহিলাও আছে। এর মধ্যে এক মহিলা ঘু ষি মারছে। অপর নারী মাথাটাকে ঠেসে ধরেছে। একজন পুরুষ ঠেসে ধরে আছে পা দুটো।
অপর এক পুরুষ নিজ আঙ্গুল ছু রির মতো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঢুকিয়ে দিচ্ছে মাথাটার দু চোখের কোটরে। বের করে আনছে চোখ।
তখন বুঝলাম এটা কোন পশু নয়। একজন মানুষ। যাকে বি কৃ ত উল্লাসে নারী পুরুষ সবাই মিলে লোকটাকে অন্ধ করে দিচ্ছে।
ঘটনা বরিশালের মূলাদির। দেশটিভির সংবাদে যা জানা যায়ঃ
ভিক্টিম স্বর্ণ ব্যবসা করত, দালালী করতো। বাবার কাছে ৩৫ লক্ষ টাকা ও ৪০ ভরি স্বর্নালংকার বহু বছর ধরে গচ্ছিত রেখেছিলো। ভেবেছিলো, শেষ বয়সে গ্রামে ফিরবে এবং এই অর্থ কাজে লাগাবে।
শুক্রবার বৃদ্ধ বাবা ভিক্টিমকে ঢেকে আনেন। সম্পত্তি বুঝিয়ে দিবেন। কারণ অন্য দুই ছেলে ঘর ছাড়া করেছেন তাকে। দুদিন সে বাইরে ঘুমিয়েছে। পরে ভিক্টিম তার ঘরেই বৃদ্ধ বাবা আশ্রয় নেয়।
বাবার ফোন পেয়ে সে ঢাকা থেকে গ্রামে আসে। বাবার কাছে সেই অর্থ চায়।
কিন্তু সেই অর্থ বাপের কাছ থেকে নিয়ে ভাইয়েরা হাপিস করে দিয়েছে। সেই টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাওয়ার কারণেই তার ছোট ভাইয়েরা মিলে তাকে মারধোর করে এবং চোখ তুলে ফেলে বৃদ্ধ বাবার সামনেই। নির্যাতনে সঙ্গ দেয় ভাতিজি, ভাবী।
আবার চিকণ বুদ্ধি দেখেন। হামলাকারী দুই ভাই নিজেরাই হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়ে ভিক্টিম সেজে বসে আছে।
এই ভাইরা সবাই পঞ্চাশ থেকে ষাটোর্ধ। বাবা মায়ের বয়স ৮০-৯০ এর ঘরে। অথচ সম্পত্তির জেরে খুনোখুনি। যদিও রিপোর্ট বুঝে যা বুঝা গেলো। ভিক্টিম নিজেও অতটা সুবিধার নয়।
কিন্তু তারপরেও আপন ভাইয়ের উপর কেউ এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা কীভাবে করতে পারে।
আমার নানার বাসা বরিশাল মুলাদির আশেপাশে। আমার নানা ঢাকায় ৭০ দশকে মারা গেলে। খালা ও মাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন তাদের চাচা, চাচাতো ভাইয়েরা। তখন মা খালারা অনেক ছোট।
ওদের সাথে পারবে না দেখে উনারা আর কখনও টুঁ শব্দ করেনি। ঢাকা শহরে অনেক কষ্টে বড় হয়েছেন।
মজার ব্যাপার, এই সম্পত্তিখোররা মামারা ঢাকায় চিকিৎসার জন্য এখনও আসেন। আমাদের বাসায় থাকতো। খাইতো।
অথচ দেখেন, আমি আজ পর্যন্ত আমার নানার ভিটা কখনও দেখিনি। যাইনি। আগে আফসোস হতো। এখন আর হয় না।
যাইহোক, আমাদের বুঝতে হবে -
১) আমার যা কিছু, সেটাই কেবল আমার। সেটাকে আমি আমার নিজের কাছেই নিরাপদে রাখবো। বাপ, মা, ভাই, বোন, স্বামী বা স্ত্রীর কাছে নয়। দেশে ব্যাংক আছে, সেখানেই সঠিকভাবে গচ্ছিত রাখা উচিত।
কারণ, একবার যদি অন্যের হাতে টাকা বা সম্পদ তুলে দেওয়া হয়, তখন সেটা ফেরত আনা অনেক সময় যুদ্ধের মতো কঠিন হয়ে যায়। সে যেই হোক না কেন, রক্তের আপনজন হলেও।
২)
বাবা-মায়ের সম্পত্তি যতক্ষণ না আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয়, তা আমাদের সম্পত্তি নয়। ওটার উপর ভর করে ভোগ-বিলাস কিংবা অপচয়ের স্বপ্ন না দেখে, নিজের পরিশ্রমে নিজের কিছু গড়ে তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩)
যেসকল বাবা-মা জীবিত থাকাকালীন সময়ে ন্যায্যভাবে সন্তানদের মধ্যে সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন করে যান না, তারাও বড় অন্যায় করেন। এর ফলেই মৃত্যুর পর লাশ আটকে রাখা, ভাই-বোনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব কিংবা ভয়াবহ অমানবিক ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।
তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো জীবিত থাকতেই সম্পত্তির বণ্টন স্পষ্ট করে যাওয়া। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম শান্তি আর সুবিচারের সঙ্গে বাঁচতে পারে।
কপি-অন্তর মাশঊদ