05/07/2021
"জীবনের চেয়ে সময়ের মুল্য অনেক বেশি "!!!
না ভুল দেখেননি আমিও বোধকরি ভুল লিখিনি , কেনো? ব্যাখা করছি...
এই যে আমরা ত্রিমাত্রিক জগতে বাস করি কেমন হবে যদি দিমাত্রিক বা চতুমাত্রিক জগতের কেউ আমাদের কাছে চলে আসে বা আমিই হঠাত কোন এক রাত জাগা ভোরে যদি চতুমাত্রিক জগতের বাসিন্দা হয়ে যাই ? কেমন হবে সেই জীবনটা তখন? ত্রিমাত্রিক জগত বলতে আমরা তিনটা মাত্রার কথা জানি দৈর্ঘ প্রস্থ আর উচ্চতা, খুব সহজ ভাসায় বলতে গেলে চতুমাত্রিক জগতে এর সাথে যুক্ত হয় সময় । । আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক দিয়ে আমি যতটুকু বুঝেছি তা তে আমার মনে হয়েছে , যতোই জানি এর কোনো শেষ নেই। আমাদের মস্তিস্কের তিনের অধিক মাত্রা কল্পনা করার সামর্থ্য নেই। হয়তো বা চতুর্থ, পঞ্চম বা ষষ্ট এমনকি আরও অনেক মাত্রা অন্যান্য অনেক অদেখা বিষয়ের মতোই আমাদের চারপাশেই আছে, আমরাই কেবল সেগুলোকে দেখতে বা অনুভব করতে পারি না। চারপাশে আমাদের এত্ত এত্ত রহস্য যে এর খুব খুব কম ই আমারা অনুভব করতে পারি । তো বলছিলাম চতুমাত্রিক জগত নিয়ে ,চতুর্মাত্রিক ক্ষেত্র ব্যবহার করার ধারণা আসে সর্বপ্রথম জোসেফ লুইস ল্যাগ্রেং এর কাছ থেকে ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়কালে এবং এই ধারণার পরিপূর্নতা লাভ করে ১৮৫৪ সালে বার্নার্ড রিম্যান এর মাধ্যমে। কিন্ত এই যে মাত্রার পরিবর্তনের ব্যাপারগুলো সবগুলোই সময়ের সাথে জড়িতো। এবং এর থেকেই বিজ্ঞানিরা প্রথম টাইম মেশিন নিয়ে ভাবতে শুরু করেন । তবে কুরআনেই সর্বপ্রথম এই ধারনা আমরা পাই বলে আমার ধারনা । আল্লাহর রাসুলের মিরাজের ঘটনা নিশ্চয়ই আমরা সবাই জানি । আচ্ছা তার আগে কিছু জিনিস ব্যাখা করা দরকার....
ধরুন,একটা স্পেস শাটলের পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে সময় লাগল ১০ ঘণ্টা। এখন যদি এটার গতি আরো বাড়ানো হয় তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই পুরো পৃথিবীটা ঘুরতে আরও কম সময় লাগবে।গতি যদি আরো বাড়ানো হয় , সময় লাগবে ৫ ঘণ্টা। গতি আরও বাড়লো, সময় লাগল ২ ঘণ্টা , আরো গতি বাড়লো, সময় লাগলো ১ ঘণ্টা, আরো গতি বাড়ালো, সময় লাগলো ৫ মিনিট। এভাবে ধরুন গতি আরো বাড়তেই থাকলো, এবং একটা সময় আসলো যখন গতি শুন্য এর পিছে চলে গেলো! ০.০০০০১ এর চেয়েও কম, তার চেয়েও কম, এমন কি তার চেয়েও কম সময়ের পরে হয়ত,স্পেস শাটলটি শুন্য এর কম সময়ে একবার ঘুরে আসবে। এখন শুন্য এর কম, মানে কী ? মানে, সময়ের আগে। মানে, যখন আমরা রওনা দিলাম, তার আগে। রওনা দেয়ার আগেই,পৌছে গেলাম! অর্থাৎ অতীতে গেলাম।এই এটুকুতে এসে সে সময়ে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, টাইম মেশিন বানানো সম্ভব। তো এত গতি বাড়ানো কি আদৌ সম্ভব? উত্তর হচ্ছে, না। আইন্সটাইন প্রমাণ করে গেছেন, আলোর গতির সমান বা তার চেয়ে বেশি গতি পাওয়া সম্ভব না। আলোর গতির সমান আমাদের বেগ হলে, আমাদের ভর হবে অসীম।
আচ্ছা ধরলাম আমরা কোনোভাবে আলোর চেয়ে বেশি গতি পেয়েই গেলাম তাতেও কিন্তু আমরা চতুমাত্রিক জগতে প্রবেশ করতে পারছি তা না কারণ আমরা সময়কে কমিয়ে আনছি বা সময় বাচাচ্ছি মাত্র , সময়ের অক্ষ ব্যাবস্থার পরিবর্তন করিনি । সময়কে অতিক্রম করতে গেলে সময়ের অক্ষ ব্যাবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।
আর একটু বলি ,আমরা ত্রিমত্রিক জগতে বাস করি তাই না? আমাদের বইয়ের পাতায় আকা ছবিগুলো হলো দিমাত্রিক এটুকু আমরা সবাই জানি। এখন বইয়ের পাতার কোনো প্রাণী যদি জীবন্ত হতো সে যদি আমাদের দেখতো তাহলে কেমন ভাবে দেখতো ...হ্যাঁ ঠিক, সে আমাদের দুটো মাত্রা দিয়ে বা দুটো তল দিয়ে দেখতো কারণ Z এক্সিসের অস্তিত্ব সম্পর্কে তার কোণো ধারনা নেই । ঠিক যেমন আমাদের চতুমাত্রিক সময়ের অক্ষ সম্পর্কে ধারণা নেই । এখন ফিরে যাই আল্লাহর রাসুলের মিরাজের ঘটনায়, মিরাজে সময়কে কমিয়ে আনা এবং অক্ষ ব্যাবস্থার পরিবর্তন দুটোই ঘটেছিলো। ব্যাখা অনুযায়ী তিনি আলোর গতির চেয়ে বেশি গতীতে গিয়েছিলেন যার মাধ্যম ছিলো বোরাক নামক একটি যান । এবং তাকে এমন অনেক ঘটনা দেখানো হয়েছিলো যেগুলো অতিতে হয়েছে এবং আরও অনেক কিছু যা ভবিষ্যতে ঘটবে !আমাদের সময় সাপেক্ষে যা হয়তো কল্পনার বাইরে ! সুবহানাল্লাহ !!!
আর একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে আসহাবুল কাহফের ঘটনা । যাদের মনে হয়েছিলো তারা একদিন বা এর কাছাকাছি সময় ঘুমিয়েছিলো অথচ তারা এর মাঝে তিনশো বছর পার করে দিয়েছিলেন ! এটাও ব্যাখা করে আসলেই আমাদের এই সময়ের অক্ষের বাইরেও আরও অক্ষ আছে যার অস্তিত্ব আমাদের ধারনার বাইরে!
মৃত্যুর ঠিক সন্ধিক্ষনে প্রত্যেক ব্যাক্তি মালাকুল মঊত কে দেখতে পাবে । আমার ধারনা তখন থেকে আমাদের ত্রিমাত্রিক জগৎ জীবন শেষ করে অন্য এক মাত্রার জগতে প্রবেশ করবো ...কি আশ্চর্য রহস্য যখন চাইলেও আর এই সহজ দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতার হিসেবে ফেরত আসতে পারবো না । এই জন্যই বললাম জীবনের চেয়ে সময়ের মুল্য বেশি , জীবন থেমে গেলেও সময় বসে নেই । আমি আমার সন্তান, তার সন্তান , তার সন্তান, তার সন্তান চলছে চলবেই......