Lulu

Lulu বিশ্বস্ততা ও নির্ভরতায় পাশে আছি আমরা।
your satisfaction is our priority. ❤️💞❤️🤩🥰💫👌😍💗
(3)

আসসালামু আলাইকুম। অনেক দিন পর দারুন একটা জিনিস নিয়ে এলাম কেমন হলো?       #কথাবলাবই  #বেবী
12/05/2026

আসসালামু আলাইকুম। অনেক দিন পর দারুন একটা জিনিস নিয়ে এলাম কেমন হলো?




#কথাবলাবই
#বেবী

মায়ের বাসা হলো বিবাহিত মেয়েদের জন্য দুনিয়ার জান্নাত।অনেকসময় ফোন স্লো হয়ে গেলে, ঠিকঠাক নেটওয়ার্ক কাজ না করলে আমরা ফোন ফ্ল...
12/05/2026

মায়ের বাসা হলো বিবাহিত মেয়েদের জন্য দুনিয়ার জান্নাত।

অনেকসময় ফোন স্লো হয়ে গেলে, ঠিকঠাক নেটওয়ার্ক কাজ না করলে আমরা ফোন ফ্লাইট মোডে রেখে দিই। এরপর ফোনে ফাস্ট কাজ করে, নেট ভালো চলে; যেন বুস্ট হয়ে গেছে। মেয়েদের কাছে বুস্টিং এর জায়গা হলো মায়ের বাসা।

যেখানে সকালে দ্রুত ওঠার তাড়া নেই, রান্নার কাজে হাত না বাড়িয়ে খেতে বসলে কথা শুনার ঝামেলা নেই, বাচ্চাকাচ্চার জ্বালাতন নেই। বাচ্চা অশান্তি করলে তার নানী,খালা,মামা ২৪ ঘন্টা হাজির থাকে আমাকে দেতো ওকে এটা বলে। খাটে শুয়ে শুয়ে রেস্ট নিলেও ঘন্টায় দুই-তিনটা স্ন্যাক চলে আসে সামনে এই বলে "তোর আব্বা আনছে, খেয়ে দেখ কেমন।"

কষ্ট লাগে যখন ভাবি জীবনের বড় একটা সময় এই শান্তির জায়গা, ভিআইপি ট্রিটমেন্ট ছাড়া কাটানো লাগবে। মায়ের মিষ্টি মুখের হাসি না দেখে পার করা লাগবে। কোনো একদিন মায়ের বাড়ি হয়ে যাবে ভাইয়ের বাড়ি। বাচ্চারা নানি বাড়ি যাবার বদলে যাবে মামা বাড়ি।

দোয়া করি মায়েরা বেঁচে থাকুক অনেক দিন। যখন মায়ের চুলে মেহেদী লাগানোর বয়স হবে তখন যেন আমার চুলেও পাক ধরে। যেদিন মা হাঁটাচলার শক্তি হারাবে সেদিন যেন আমার ব্যস্ততা কমে মায়ের পাশে থাকার সময় জমে। আমিও যেন এমন মা হতে পারি যার কাছে এসে সন্তান, পুত্রবধু শান্তি পাবে।

আল্লাহ পাক আমাদের পিতামাতাকে মাফ করুন। তাদের জন্য সুন্দর একখান জান্নাতে প্রাসাদ তৈরি করুন। আমিন।©️

29/04/2026

😐😐😐

সেদিন অদ্ভুতভাবে আমার নিউজফীডে একটা বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞপ্তি এলো। বাড়িটা ফ্রান্সে, ভিন্টেজ স্টাইল কটেজ। প্রায় অর্ধশতক একরে...
29/04/2026

সেদিন অদ্ভুতভাবে আমার নিউজফীডে একটা বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞপ্তি এলো।

বাড়িটা ফ্রান্সে, ভিন্টেজ স্টাইল কটেজ। প্রায় অর্ধশতক একরে অবস্থিত। সামনে পেছনে প্রচুর খালি জায়গা। সুন্দরভাবে গোছানো বাগান করা যাবে। ব্যাকইয়ার্ডে সাদা মেটালিক কারুকাজ করা টেবিল চেয়ার সেট। বিকেলের টি পার্টির জন্য পারফেক্ট।

বাড়িটা দোতলা, সাদা পেইন্টের মাঝেও কি সুন্দর কারুকাজ। ভেতরের ছবিগুলো দেয়নি, তবে লেখা বাড়ির মেঝে পলিশড উডেন ম্যাটেরিয়াল, নীচতলায় আছে ড্রয়িংরুম, পার্লার, লিভিং রুম, কিচেন, সারভেন্টস কোয়ার্টার। উপর তলায় তিনটি বেডরুম এটাচড বাথসহ।

আমি কিছুক্ষণ বিজ্ঞাপনের দিকে তাকিয়ে রইলাম। ছবিগুলো জুম করে করে দেখলাম। ভিন্টেজ যেকোনো কিছু আমার খুব ভালো লাগে। খোলা আকাশের নিচে বসে চুলে বাতাস লাগিয়ে চা খাবার স্বপ্ন কে না দেখে?

চেয়ে থাকতে থাকতে মনে হলো ইশ এরকম একটি বাড়ি যদি আমার হতো!

সাড়ে এগারো বছর বয়স থেকে আমি কেবল জায়গা পরিবর্তন করেছি। আমার কখনো একদম একার নিজস্ব কোনো রুম ছিল না। চৌদ্দ বছর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রুম একাধিক বান্ধবীর সাথে শেয়ার করেছি। বাসার আমার নামে একটি রুম বরাদ্দ ছিল বটে, তবে তাতে এসে থিতু হবার আগেই বিদায়ের ঘন্টা বেজে উঠতো।

এরপর করলাম বিয়ে। বিয়ের পর ঝামেলা বাড়লো বই কমলো না। আগে শুধুমাত্র নিজের জিনিসপত্র নিয়ে এ রুম ও রুম, ঢাকা চট্টগ্রাম ফেনী দৌড়েছি। এখন সংসারের জিনিসও বাধাছাদা করে ছুটতে হয়। এইতো, আর এক মাসের মধ্যেই আবার পাততাড়ি গুটিয়ে দৌড়ুবো।

কোথাও তিনমাস, কোথাও ছয়মাস, কোথাও এক দুই বছর, কোথাও চার বছর - এভাবেই জীবনের তিনটি দশক কেটে গেল। আজ আমার মনে হয় আল্লাহ আমাকে জীবনে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষাটি দিয়েছেন তা হলো - আমরা দুনিয়ায় মুসাফির ব্যতীত কেউ নই।

দুনিয়ার কোনো স্থানকে আমি একদমই আপনার বলে অনুভব করতে পারিনি। অবশ্য যেখানে দুনিয়াটাই ক্ষণস্থায়ী , সেখানে নিজের স্থায়ী বাসস্থান তৈরীর তাগিদ অনুভব করিনা। ওই যে বিশাল আকাশসমেত বাড়িটা? সেরকম একটা বাড়ি আমি নাহয় জান্নাতে চেয়ে নেব আল্লাহর কাছ থেকে।

মাঝেমাঝে মনে হয় আসিয়া (আ) কেন জান্নাতে বাড়ি চাইলেন? তিনি দুনিয়ায় সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়িতে ছিলেন। তার কোনো আভিজাত্যের অভাব ছিল না। তাকে তো রাধতে বাড়তেও হতোনা, হতোনা থালাবাসন কাপড়চোপড় ধোয়ার কাজ করতে। তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র‍্যাজেডি ছিল তার একজন ঈমানদার সংগী ছিল না। একজন মুমিন, উত্তম আখলাক্ব বিশিষ্ট, ভালোবাসাময় স্বামী ছিল না। আমরা তো দুনিয়ায় যা পাই না তাইই চাই জান্নাতে, তাই না? আমরা চাই আমাদের কমতিগুলো জান্নাতে পুরো হোক উত্তমভাবে।

কিন্তু আসিয়া (আ) চাইলেন আল্লাহর কাছে একটি ঘর।

কি অদ্ভুত এক আকুলতা শুধুমাত্র চারদেয়ালের একটি ঘরের জন্য। যেখানে একজন নারী নিজের মত থাকতে পারবে। যখন ইচ্ছে ঘুমোতে পারবে, যা ইচ্ছে খেতে পারবে। যে পোশাক অলংকার মন চায় পরতে পারবে। যদি মন চায় তবে দিনের পর দিন বইয়ের পাতা উল্টে পড়তে পারবে। তাকে ভাবতে হবে না বাসার সবাই আজ কি খাবে, আজ কি রান্না করতে হবে, বাসায় কার কার কি কি প্রয়োজন আছে যা মেটাতে হবে। সে শুধু নিজেকে নিয়ে থাকতে পারবে, নিজের মত সময় অতিবাহিত করতে পারবে।

অনেক নারী প্রশ্ন করেন, পুরুষ জান্নাতে হুর পাবে, নারী কি পাবে? আমার মনে হয় না কোনো নারী জান্নাতে একাধিক পুরুষ চায়। নারীর সুখ পুরুষে নয়। হ্যাঁ, আমাদের স্বামীরা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ - গুরুত্বপূর্ণ, তাদেরকে আমরা গুরুত্ব দেই ভালোবাসি। কিন্তু একাধিক পুরুষ একজন নারীর দুনিয়ার জীবনের আমলের পুরষ্কার নয় - এরকমটা কোনো মুমিনা নারী চায়ও না।

সে তো চায় কেবল একটি ঘর। রবের সান্নিধ্যে, একান্তে। যেখানে কখনো বিদায়ের ঘন্টা বাজবে না। সে ঘরটি হবে চিরকালের, একান্ত নিজস্ব ঘর।
©️

“ইস্তিগফার ও দুরূদের মাধ্যমে বিবাহের ২৩টি কাহিনী।”  শাইখ বকর বাস্তব জীবনের নারীদের সাক্ষ্য তুলে ধরেন, যারা নিয়মিত ইস্তিগ...
11/04/2026

“ইস্তিগফার ও দুরূদের মাধ্যমে বিবাহের ২৩টি কাহিনী।”

শাইখ বকর বাস্তব জীবনের নারীদের সাক্ষ্য তুলে ধরেন, যারা নিয়মিত ইস্তিগফার ও দরূদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে অলৌকিকভাবে বিবাহের নিয়ামত লাভ করেছেন।

প্রধান কাহিনীগুলো সংক্ষেপে দেয়া হলো৷

১. এক নারী ৩০ বছরের বেশি বয়সী, প্রতিদিন ১০০০ থেকে ৫০০০ দরূদ শরীফ পড়তে শুরু করেন। দুই মাসের মধ্যে তিনি একজন সৎ, অবিবাহিত, সম্মানিত পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

তার উপদেশ : “কোনো মেয়ে হতাশ হবে না। রাসূল ﷺ এর উপর দরূদ পাঠ চালিয়ে যাও।”

২. দুই সন্তানের জননী এক তালাকপ্রাপ্তা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুরূদ শরীফ পড়া শুরু করেন। শনিবারই একজন ধার্মিক অবিবাহিত পুরুষ তাকে প্রস্তাব দেন এবং সন্তানসহ গ্রহণ করেন।

৩. ৪০ বছর বয়সী এক নারী প্রতিদিন ২০০০০ ইস্তিগফার পড়তে শুরু করেন। চার মাসের মধ্যে ধনী ব্যক্তির সাথে বাগদান হয় এবং দুই মাস পর বিবাহ।

৪. এক নারী শুক্রবার সারাদিন দরূদ ও দোআ করেন, বিশেষ করে মাগরিবের আগে শেষ সময়ে। পরদিনই প্রস্তাব পান এবং বিবাহ হয়।

৫. ৩৩ বছর বয়সী এক নারী, যিনি বোনদের তুলনায় দেরিতে বিয়ে হচ্ছিলেন, নিয়মিত ইস্তিগফার ও দুরূদ পড়তে থাকেন। এক বছরের মধ্যে ধনী স্বামীর সাথে ইউরোপে চলে যান।

৬. এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী, ছোট বোনের আগে প্রস্তাব আসায় কষ্ট পান। তিনি ইস্তিগফারে মন দেন। ৪৫ দিনের মধ্যে একজন সৎ চরিত্রবান পুরুষ প্রস্তাব দেন।

৭. ৩৫ বছর বয়সী এক নারী এত বেশি ইস্তিগফার পড়তেন যে মানুষ ভাবত তিনি নিজে নিজে কথা বলছেন। ছয় মাসের মধ্যে বিবাহ ও গর্ভধারণ।

৮. এক নারী ধনী স্বামী চেয়ে দো‘আ করতেন, বন্ধুরা উপহাস করত। কিন্তু দুরূদ শরীফের বরকতে বিদেশে ধনী স্বামী পান এবং বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন।

৯. সাত বছর ধরে বাগদত্ত এক দম্পতি আর্থিক সমস্যায় বিয়ে করতে পারছিলেন না। দিন-রাত ইস্তিগফারের পর দুই মাসে ঘর সাজানো হয়, বিয়ে হয়, পরে যমজ সন্তান জন্ম নেয়।

১০. ২৮ বছর বয়সী এক নারী ইঞ্জিনিয়ার স্বামী চাইলেন। দিন-রাত ইস্তিগফার করলেন। সাত মাস পর ধনী ইঞ্জিনিয়ার প্রস্তাব দিলেন।

১১. ৪১ বছর বয়সী এক নারী ১০ দিন ইব্রাহিমি দরূদ পড়লেন। এরপর ৪০ বছর বয়সী ধনী অবিবাহিত পুরুষ প্রস্তাব দিলেন।

১২. ৩৬ বছর বয়সী এক নারী রমজানে নিয়মিত ইস্তিগফার ও দুরূদ পড়লেন। কয়েক মাসের মধ্যে বিয়ে ও গর্ভধারণ।

১৪. এক নারী ২৩ দিনের মধ্যে ইস্তিগফারের বরকতে প্রস্তাব, বাগদান ও বিবাহ সম্পন্ন করেন।

১৫. হতাশ এক নারী প্রতিদিন ২০০০ দরূদ ও সিজদায় দোআ করলেন। বিয়ের বাধা দূর হলো, বাগদত্ত ফিরে এলেন, এবং বিয়ে হলো।

১৫. এক নারী মায়ের কাছাকাছি থাকতে চাইলেন। ইস্তিগফারের পর এমন প্রস্তাব পেলেন যেখানে স্বামী মায়ের রাস্তার পাশেই বাড়ি কিনলেন।

১৬. এক নারী অ-আরব মুসলিম স্বামী চাইলেন। ইস্তিগফার ও দরূদের পর ব্রিটিশ মুসলিম ইঞ্জিনিয়ারের সাথে বিয়ে হলো।

১৭. দরিদ্র এক নারী, বাবার নির্যাতনে কষ্ট পেতেন। দরূদ শরীফের বরকতে দয়ালু ও ধনী স্বামী পেলেন।

১৮. ৩১ বছর বয়সী এক নারী, ডাক্তাররা বলেছিলেন দেরিতে বিয়ে হলে সন্তান হবে না। তিনি ইস্তিগফার ও দরূদে মন দিলেন। ৯ মাসের মধ্যে বিয়ে, চাকরি, গর্ভধারণ সবই হলো।

১৯. ৪৩ বছর বয়সী এক নারী ৪৪ বছরের স্বামী চাইলেন। ইস্তিগফারের পর ঠিক ৪৪ বছর বয়সী অবিবাহিত পুরুষের সাথে বিয়ে হলো এবং সন্তানও হলো।

২০. এক নারী শুধু আল্লাহভীরু স্বামী চাইলেন। ইস্তিগফারের পর ৩৩ বছর বয়সী ধার্মিক পুরুষের সাথে বিয়ে হলো। পরে উমরাহ ও হজের সুযোগও পেলেন।

২১. এক নারী মনে করতেন জাদুর কারণে বিয়ে হচ্ছে না। তিনি প্রতিদিন সূরা বাকারা পড়া শুরু করলেন। শীঘ্রই ধার্মিক পুরুষ প্রস্তাব দিলেন, বিয়ে হলো, কন্যা সন্তান জন্ম নিল।

২২. এক নারী ১৩ মাস ইস্তিগফার করলেন। এরপর পেলেন একটি বাড়ি, একটি গাড়ি, বড় ব্যাংক একাউন্ট, সৎ ও ধনী স্বামী

তিনি বললেন, ইস্তিগফারই জান্নাত! শুধু যারা করে তারাই এর মিষ্টতা বোঝে।”

২৩. এক দরিদ্র মিশরীয় নারী প্রতিদিন ৫০০০০ থেকে ৬০০০০ ইস্তিগফার পড়তেন। আল্লাহ তাকে উপসাগরীয় এক রাজপুত্রের সাথে বিয়ে দিলেন, যিনি ১,০০,০০০ দিরহাম দেনমোহর দিলেন। তার জীবন দারিদ্র্য থেকে সম্পদে রূপান্তরিত হলো।

শাইখ বলেন “এই প্রতিটি কাহিনী প্রমাণ করে যে ইস্তিগফার ও রাসূল ﷺ এর উপর দরূদ পাঠ বিশেষ করে বিবাহের ক্ষেত্রে অলৌকিক ফল বয়ে আনে।

লিখা : সংগৃহীত

‎"এক দোয়ার বরকতে মুসা আলাইহিস সালামের;,কর্মসংস্থান, বিয়ে, আবাসন ও নবুয়ত লাভ হয়েছিল।"‎‎_সেই দোয়াটা  কি জানেন?@
11/04/2026

‎"এক দোয়ার বরকতে মুসা আলাইহিস সালামের;,
কর্মসংস্থান, বিয়ে, আবাসন ও নবুয়ত লাভ হয়েছিল।"

‎_সেই দোয়াটা কি জানেন?@

25/02/2026

যে ভিডিও প্রতি রমাদ্বান এলেই ভাইরাল হয় 🤣🤣🤣

আমার ধারণা, মানব ইতিহাসে কোনো পুরুষ কোনো নারীকে ততটা ভালোবাসেনি, যতটা নবিজি ﷺ আমাদের মা খাদিজা বিনতু খুয়াইলিদ রা.-কে ভা...
25/02/2026

আমার ধারণা, মানব ইতিহাসে কোনো পুরুষ কোনো নারীকে ততটা ভালোবাসেনি, যতটা নবিজি ﷺ আমাদের মা খাদিজা বিনতু খুয়াইলিদ রা.-কে ভালোবেসেছিলেন। তবুও খাদিজা রা. যখন তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন, তখন নবিজি সা. নিজের ক্ষত বুকে চেপে রাখলেন এবং নিজেকে দ্বিতীয়বার ভালোবাসা ও ভালোবাসা পাওয়ার সুযোগ দিলেন।

খাদিজা রা.-এর বিচ্ছেদের প্রভাব তাঁর ওপর এতটাই প্রকট ছিল—চেনাজনেরা তা উপলব্ধি করতে পারত।

ইবনু সা’দ তার ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন—খাদিজা রা.-এর ইনতিকালের পর খাওলা বিনতু হাকিম নবী ﷺ-এর কাছে এসে বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি দেখছি খাদিজার মৃত্যু আপনাকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।’
নবিজি সা. বললেন: ‘হ্যাঁ, সে ছিল আমার সন্তানের মা এবং আমার ঘরের কর্তা।’
তিনি বললেন: ‘তাহলে কি আমি আপনার জন্য বিবাহের প্রস্তাব আনব?’
তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, তোমরা নারীরা এ ব্যাপারে অধিক উপযুক্ত।’

অতঃপর তিনি আয়েশা রা.-এর জন্য বিবাহের প্রস্তাব আনলেন। এরপর নবীজি সা. একে একে উম্মাহাতুল মু’মিনীনদের বিবাহ করলেন। তাঁর দিনগুলো ভালোবাসা ও মমতায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠল। তুমি যদি সিরাতের গ্রন্থসমূহে নবিপত্নিদের সঙ্গে তাঁর মায়াময় আচরণের বিবরণগুলো পড়ো, মনে হবে যেন তাঁর হৃদয় কখনোই বিচ্ছেদের বেদনায় ধ্বস্ত হয় নি। ভাবতে শুরু করবে, তিনি যেন খাদিজাকে ভুলে গেছেন। অথচ, বাস্তবতা হলো—খাদিজার স্মৃতি চিরকাল তাঁর হৃদয়ে অম্লান ছিল। আমৃত্যু কেউ তার স্থান দখল করতে পারেনি। নবিজীবনে তিনি ছিলেন এক অনন্যা নারী—অম্লান, অবিস্মরণীয়।

তিনি আয়েশার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন, একই পাত্রে যেখানে আয়েশা পান করতেন সেখান থেকেই পান করতেন, তাঁর মুখের স্থানে নিজের মুখ রাখতেন; নিজ হাতে লোকমা তুলে তাঁকে খাওয়াতেন, তাঁর ব্যবহৃত মিসওয়াক ব্যবহার করতেন এবং একই পাত্রে তাঁর সঙ্গে গোসল করতেন।

তিনি নিজের হাতে সাফিয়ার অশ্রু মুছিয়ে দিতেন, তার উটের পিঠে আরোহনের জন্য নিজের হাঁটু মুড়ে এগিয়ে দিতেন; ইতিকাফের সময় তিনি তাঁকে দেখতে এলে নিজে উঠে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতেন।

তিনি হাফসার প্রতি কোমল ছিলেন। সাওদা বিনতু জামআর প্রতি সহানুভূতিশীল, যায়নাব বিনতু জাহাশের অনুভূতির প্রতি যত্নবান ছিলেন। যায়নাব বিনতু খুযাইমাকে সম্মান দিতেন। উম্মু সালামার প্রতি স্নেহশীল ছিলেন। উম্মু হাবিবাকে উত্তম সঙ্গ দিতেন। মাইমুনার প্রতি সদাচারী এবং জুয়াইরিয়ার প্রতি দয়াদ্র ছিলেন। [মহান আল্লাহ সকল মুমিনদের মাতাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।]

তবুও খাদিজা রা. সবসময় তাঁর হৃদয়ে বিদ্যমান ছিলেন। মাটি তাঁকে নিজের ক্রোড়ে বরণ করেছিল; তবে তিনি তাঁকে হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছিলেন। এমনকি তিনি তাঁর স্ত্রীদের উপস্থিতিতেও বারবার তাঁর কথা স্মরণ করতেন। আয়েশা রা. বলতেন: ‘নবী ﷺ-এর কোনো স্ত্রীর প্রতি আমি ততটা ঈর্ষান্বিত হইনি, যতটা খাদিজার প্রতি হয়েছি—যদিও আমি তাঁকে দেখিনি! নবিজি ﷺ প্রায়ই তাঁর কথা স্মরণ করতেন। কখনো একটি ছাগল জবাই করে টুকরো টুকরো করতেন, তারপর বলতেন: ‘এর কিছু অংশ খাদিজার বান্ধবীদের দাও।’

তখন আয়েশা রা. বলতেন: ‘মনে হয় দুনিয়ায় খাদিজা ছাড়া আর কোনো নারীই ছিল না! আপনি কত বেশি তাঁর কথা স্মরণ করেন! অথচ আল্লাহ তো আপনাকে তাঁর চেয়েও উত্তম স্ত্রী দান করেছেন!’

তিনি বলতেন: ‘আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম কাউকে দেননি। যখন মানুষ আমাকে অস্বীকার করেছিল, সে আমার প্রতি ঈমান এনেছিল। যখন মানুষ আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, তখন সে আমাকে সত্যায়ন করেছিল। যখন মানুষ আমাকে বঞ্চিত করেছিল, সে তার সম্পদ দিয়ে আমাকে সাহায্য করেছিল। আর আল্লাহ আমাকে তার থেকেই সন্তান দান করেছেন, অন্য নারীদের থেকে দেননি।’

তিনি খাদিজাকে ভালোবাসতেন—এবং যারা খাদিজাকে ভালোবাসত, তাদেরকেও ভালোবাসতেন। প্রায় ষাট বছর বয়সে একদল বৃদ্ধা নারীকে দেখে তিনি নিজের চাদর খুলে তাদের বসালেন, এবং আশপাশের লোকদের বিস্ময় দূর করে বললেন: ‘এরা খাদিজার সখি।’

একদা জুছামা আল-মুযানিয়া তাঁর কাছে এলে, তিনি তার প্রতি বিশেষ সম্মান ও স্নেহ দেখালেন। তার খোঁজখবর নিলেন। তিনি বললেন, ‘ভালো আছি, হে আল্লাহর রাসুল! আমার প্রাণ ও পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক!’
তিনি চলে গেলে আয়েশা রা. বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এই বৃদ্ধার প্রতি এত আগ্রহ দেখালেন কেন?’
তিনি বললেন: ‘সে খাদিজার সময়ে আমাদের কাছে আসত; আর পুরনো সম্পর্ক রক্ষা করা ঈমানের অংশ।’
দেখো তাঁর ভাষা: ‘খাদিজার সময়’—মনে হয় যেন তিনি নিজের জীবনকে তাঁর মাধ্যমেই সময়ের মানদণ্ডে মাপছেন!

অতএব, তুমিও এমন হও। নিজের বেদনাকে লুকিয়ে রাখো। ক্ষতকে বুকে ধারণ করো। তবে নিজের জন্য দ্বিতীয় বিকল্প খুঁজে নাও। কারণ, এটি তোমার প্রাপ্য।

বেদনাকে পুষতে যেও না। দুঃখের কারাগারে বন্দী হয়ো না। যারা চলে গেছে—যদি তারা প্রিয়জন হয়, তবে তাদের হৃদয়ে ধারণ করো; এটাই বিশ্বস্ততা। আর যদি তারা প্রতারক হয়ে চলে যায়, তবে যে তোমার অতীতকে নষ্ট করেছে, তাকে তোমার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে দিও না।

দুঃখের সুতো ছিন্ন করো। আবার হৃদয়কে উড়তে দাও। হয়তো তোমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনগুলো এখনো আসেনি।

আদহাম শারকাভী

15/02/2026

#অপরাজিতা

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lulu posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share