25/05/2026
আরাফাহর দিনে কি আমল করবেন?
বাংলাদেশে ২৬/২৭ মে, মঙ্গলবার বা বুধবার আরাফাহর দিন।
(সৌদি আরবের হিসাবে আরাফাহ ২৬ মে, আর বাংলাদেশের চাঁদ দেখা অনুযায়ী ২৭ মে। তাই আরাফার দিন নিয়ে স্কলারদের মতভেদ আছে। তাই যারা সক্ষম, তাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হলো ২৬ ও ২৭ মে দুই দিনই নফল রোজা রাখা, আর আল্লাহর কাছে আরাফার দিনের সওয়াবের আশা করা।)
রাসূলুল্লাহ ﷺ আরাফাহর রোজা সম্পর্কে বলেছেন,
“আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এটি বিগত এক বছর এবং আগামীর এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।”
(সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
মানে, এটা সাধারণ কোনো দিন না।
একটা দিন, যেটা আপনি চাইলে ইবাদত, দু’আ, রোজা, যিকির আর তাওবার মাধ্যমে ভরে দিতে পারেন।
তাই প্রস্তুতি রোজার সকাল থেকে না, আগের রাত থেকেই শুরু করুন।
নিচে সহজ করে আরাফাহর দিনের আমল এবং তার আগের রাতের প্রস্তুতি লিখে দিলাম।
আরাফাহর দিনের আমল এবং তার আগের রাতের প্রস্তুতি:
১. আরাফাহর আগের রাত মাগরিবের পর থেকে বেশি বেশি তাকবির, ইস্তিগফার ও দরুদ পাঠ করুন। জামাতের সাথে ইশার নামাজ আদায় করুন। রাতে সূরা বাকারাহর শেষ দুই আয়াত পড়ুন।
২. আগের রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ুন। ভোর রাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, দু’আ করুন, এরপর সাহরি করুন। সারাদিনে কী কী আমল করবেন, সেগুলোর একটি ছোট তালিকা করে নিন। এরপর জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করুন।
৩. আরাফাহর রোজা পালন করুন।
৪. রাসূলুল্লাহ ﷺ যা শিখিয়ে দিয়ে গেছেন, আরাফাহর দিনের শ্রেষ্ঠ দু’আ ও যিকির:
لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْر
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
সারাদিন এই যিকিরটি বেশি বেশি পড়ুন। সম্ভব হলে কমপক্ষে ১০০ বার পড়ুন।
৫. যতটুকু সম্ভব মসজিদে অবস্থান করুন। ইতিকাফের নিয়্যাতে বসতে পারলে আরও ভালো।
৬. ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরীক পড়ুন, এবং সারাদিন বেশি বেশি তাকবির পাঠ করুন:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
৭. সারাদিন বেশি বেশি দু’আ করুন। দু’আর শুরুতে ও শেষে আল্লাহর প্রশংসা এবং নবীজি ﷺ এর উপর দরুদ পড়ুন।
নিজের জন্য, পরিবার, মা-বাবা, উম্মাহ, মৃত মুসলিম, অসুস্থ, ঋণগ্রস্ত, মজলুম এবং পথহারা মানুষদের জন্যও দু’আ করুন।
৮. ন্যূনতম একটি হাদিস পড়ুন।
৯. আরাফাহর দিনেও সূরা বাকারাহর শেষ দুই আয়াত পড়ুন।
১০. সময় ও সুযোগ অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করুন। ইচ্ছা হলে সূরা কাহফ, ইয়াসিন, মুলক, আর-রহমান ইত্যাদিও পড়তে পারেন।
১১. অন্তত ১ টাকা হলেও সাদাকাহ করুন।
১২. সারাদিন বেশি বেশি দরুদ ও ইস্তিগফার পাঠ করুন।
১৩. কমপক্ষে তিন বার সূরা ইখলাস পড়ুন, আয়াতুল কুরসী পড়ুন, এবং যতটুকু পারেন আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করুন।
নিজে আমল করুন এবং দাওয়াহর নিয়্যাতে অন্যদের কাছেও পৌঁছে দিন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের দিকে পথ দেখায়, সে সেই আমলকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পায়।”
তাই আপনার একটি শেয়ার বা পাঠানো মেসেজের কারণে যদি একজন মানুষও আরাফাহর রোজা রাখে, দু’আ করে, যিকির করে, ইস্তিগফার করে, আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনিও সেই আমলের সাওয়াব পাবেন।
হয়তো আপনার মাধ্যমে কেউ আরাফাহর দিনটা নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচবে।
হয়তো আপনার মাধ্যমে কেউ আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে।
তাই নিজে আমল করুন, অন্যকেও মনে করিয়ে দিন।
সেভ করে রাখুন। পরিবার ও প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছে দিন।
সংগৃহীত