08/08/2026
স্পিরুলিনা (Spirulina) অতি ক্ষুদ্র নীলাভ সবুজ শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ। যা অনুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না। শৈবালটিতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন,ভিটামিন, লৌহ ও একাধিক খনিজ পদার্থ রয়েছে। এটি সাধারণত পানিতে জন্মে। ১-৩ গ্রাম স্পিরুলিনায় রয়েছে ১-৩ কেজি বিভিন্ন ধরনের সবজির গুনাবলি।
কয়েকজন ডাক্তার ১২০ জন আর্সেনিকোসিস রোগীর ওপর স্পিরুলিনা পরীক্ষা চালান। তাদের পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৯ গ্রাম করে স্পিরুলিনা খাওয়ালে প্রায় ৪ মাস পর রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্টরা জানান, যেহেতু এখন পর্যন্ত আর্সেনিক রোগ প্রতিরোধে তেমন কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না, সেক্ষেত্রে স্পিরুলিনা সেবন করে আর্সেনিকমুক্ত থাকাটা সত্যিই আমাদের জন্য এক বিরাট সম্ভাবনা।
বর্তমান বাজারে স্পিরুলিনা ট্যাবলেট,ক্যাপসুল,পাউডাররুপে পাওয়া যায়।
এছাড়া চা পাতা বা রুটি, আলুভর্তা, নুডলস, শরবত,হালুয়া ইত্যাদিতে স্পিরুলিনা মিশিয়ে নানা জাতীয় খাবার তৈরি করা সম্ভব।
খাবার তৈরির সময় অবশ্যই পরিমাণ অনুযায়ী স্পিরুলিনা মেশাতে হবে।
কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অন্য কোনো জরুরি অবস্থায় শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যকে আমিষ,ভিটামিন ও লৌহ দিয়ে সমৃদ্ধ করার জন্য স্পিরুলিনা ব্যবহার করা যেতে পারে।
বর্তমানে স্পিরুলিনাযুক্ত পাউরুটি ও পানীয় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বেকারি সামগ্রী যেমন: বিস্কুট, চকলেট ইত্যাদির সংগেও স্পিরুলিনা মেশানো যেতে পারে।
এছাড়া প্রসাধন সামগ্রী হিসেবেও স্পিরুলিনা ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ব্রনের দাগ দূর করে ও ত্বকের সজীবতা বাড়ায়।
কেন খাবেন?
---এতে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন, লৌহ ও নীলাভ সবুজ রং থাকার কারণে স্পিরুলিনায় রয়েছে নানা ধরনের রোগ দমনের ক্ষমতা।
তাই স্পিরুলিনা একটি ভেষজগুন সম্পন্ন শৈবাল। স্বাদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন স্পিরুলিনা নিয়মিত খেলে আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে।
-পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা, রাতকানা, ডায়াবেটিস,উচ্চরক্তচাপ, আলসার, বাত,হেপাটাইটিস ও ক্লান্তি দূর করে।
কি পরিমাণ খাওয়া প্রয়োজন?
ক. পুষ্টিহীনতা: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক ১-৩ গ্রাম
খ. রক্তস্বল্পতা : প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক ৩-৪ গ্রাম।
গ.রাতকানা রোগ: ১-৬ বছরের শিশুদের জন্য দৈনিক আধা গ্রাম। ৭-১১ বছরের শিশুদের জন্য দৈনিক ১ গ্রাম। ১২ বছরের উর্ধ্বে দৈনিক ১ থেকে দেড় গ্রাম।
ঘ. ডায়াবেটিস : প্রতিদিন ২-৩ গ্রাম।
আরজু