25/08/2025
আপামর করিমগঞ্জবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি। আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই ভাই, আপনাদেরই একজন। আমি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন নিষ্ঠাবান কর্মী । বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনে নির্যাতিত একজন মজলুম বলছি। আমরা ঐ খুনী হাসিনার নির্মম গুম,খুন,মামলা-হামলার সমূহ হুমকির বিপরীতে দাঁড়িয়ে আপোষহীন মনোভাব ও প্রবল দেশপ্রেম হৃদয়ে লালন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে বাংলাদেশের পতাকা হাতে জীবনের মোহ-মায়া উপেক্ষা করে রাজপথে সোচ্চার ছিলাম; কেবল একটি জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। স্বপ্ন ছিল ফ্যাসিবাদ পতনের মাধ্যমে জাতীয় জীবন থেকে পারিবারিক জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্য,মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার তথা সুশাসন। কিন্তু, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে যেখানে ফ্যাসিবাদ সমূলে উৎপাটনের কথা ছিল সেখানে বিপরীতক্রমে হচ্ছে তার পুনর্বাসন ও দুঃশাসনের পুনর্বহাল। জাতীয়তাবাদের মুখোশ পড়া ফ্যাসিবাদের দোসরদের যোগসাজশে তৈরী হচ্ছে পুরোনো সেই শকুনের অভয়ারণ্য।
উদাহরণ হিসেবে বিবেচনায় নিতে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমার বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্রের কিয়দাংশই যথেষ্ট হতে পারে। বিবেকবান দেশপ্রেমিকগণ ভেবে দেখবেন ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রজ্জুকৃত একটি মামলার বাদী যেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন শ্রমিক লীগের সভাপতি সে মামলারই সাক্ষী হচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গড়ে ওঠা মাদক,অস্ত্র ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের কার্যক্রম ও আগ্রাসনের সুস্পষ্ট পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এই মিথ্যা মামলায়। উপরন্তু, ন্যায্য সহযোগিতার পরিবর্তে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিকেই দেওয়া হলো দল থেকে অব্যাহতি। এ কেমন সাম্য? এ কেমন সামাজিক সুবিচার? ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লব বেহাত হয়ে যাওয়ার ইতিহাস পুনরাবৃত্ত হচ্ছে এভাবেই। আর যদি ২৪ পরবর্তী সময়েও এহেন ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে আপনারা চুপ করে থাকেন তবে মনে রাখবেন আজ আমি ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ঘরছাড়া, স্ত্রী-সন্তানের সান্নিধ্য বঞ্চিত হয়ে নির্বাসিত জীবন যাপন করছি কাল আপনার ভাই, আপনার সন্তানও এই চিহ্নিত রাক্ষসদের হিংস্র থাবার শিকার হবে তা অবশ্যম্ভাবী।
তাই, করিমগঞ্জের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে উদ্বাত্ত আহ্বান ও আন্তরিক অনুরোধ থাকবে সময় থাকতে এই রাক্ষসদের লাগাম টেনে ধরুন। নিজের সন্তানকে যদি ওদের নৈশভোজের আয়োজনে পরিণত করতে না চান তবে ওদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হউন প্রতিবাদ করুন। আর যারা ওদের আগ্রাসনের শিকার তাদের পাশে দাড়ান। মনে রাখবেন - আমি একা, আপনি একা ; কিন্তু আমরা সকলে মিলে একা নই। জালিমদের ধ্বংস অনিবার্য এবং তা অতি সন্নিকটে।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ 🇧🇩✊