04/12/2022
জামদানি নিয়ে কাজ শুরু করতে যখন চাইলাম, দেখার চেষ্টা করলাম যে বাজারে কী ধরণের জামদানি এখন আছে। আমরা নানান দোকানে দেখলাম, অনলাইনের বহু পেইজ দেখলাম, দেখে অবাক হলাম যে ঐ একই একই ১০/১৫/২০ টা ডিজাইন সব শাড়িতে। কোনোটার জমিনে এক ডিজাইন তো সেই ডিজাইনই আবার আরেক শাড়ির আঁচলে। আবার কোনোটার আঁচল দেখি আরেক শাড়ির পাড়ে৷ তো এর মধ্যে বাছব কী, ফেলব কী৷
না, এটা কোনো খারাপ বিষয় না৷ যেহেতু হাতে বানানো জিনিস, একটা শাড়ির মাপ অনুযায়ী, দৈর্ঘ্য প্রস্থ অনুযায়ী ডিজাইনগুলির জ্যামিতিক আর গাণিতিক হিসাবনিকাশের ব্যাপার আছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ওস্তাদ কারিগর ছাড়া নতুন একটা ডিজাইন সবাই তুলতেই পারে না, বয়স কম যাদের, তাদের পক্ষে তো সম্ভবই না৷ অলরেডি বোনা একটা সহজ পুরানো ডিজাইনের শাড়িই শুধু ছোটবড় সবাই তুলতে পারে। আবার কঠিন ডিজাইন, সেটা পুরানো হলেও সবাই তুলতে পারে না৷ আর যদি একেবারে অদেখা নতুন ডিজাইন হয়, তাহলে তো গবেষণা করে বের করতে হয় তাঁতি, কে যে এটা আসলে করতে পারবে। আর তাঁতিরা শুধু কাজটাতে এক্সপার্ট, তারা কিন্তু ডিজাইনার না।
তো, এই শ'য়ে শ'য়ে শাড়ির বহর দেখে আমার যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত, একই একই ডিজাইন দেখে আমি যখন বোরড্, তখন ভাবলাম তাহলে উপায় কী। আমি নিজেই তো গণহারে সবখানে পাওয়া যায় এমন জিনিস পরতে চাই না। তাহলে আমিইবা কোথায় পাব যদি কিনতে চাই। আর আমার মতো যারা আনকমন ডিজাইন পরতে চায় তারাও কোথায় পাবে। সেরকম সোর্স তো কম, তারপর আবার সেসব জায়গায় দাম হলো ৫০ হাজার-১/দেড় লাখ। তাহলে?
তাহলে, দরকার পড়লে আমি নিজেদের ডিজাইনে জামদানি করাব, এটাই একমাত্র সমাধান। আমার নিজের এমনিতে সবকিছুতেই হালকা ডিজাইন পছন্দ। আবার যেটা ঘন হবে সেটা পুরোই ভরপুর ডিজাইন হবে, ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই টাইপ। আর রং আমার কাছে খুব ম্যাটার করে। সুতরাং দাঁড়াল এই, বাছাই করা কালারে, নিজেদের ডিজাইনে শাড়ি বানাতে হবে। পাশাপাশি, কোনো আনকমন ডিজাইন যদি খুব ভালো লেগে যায়, সেগুলোও আমাদের পেইজের শাড়িতে আনব। আপনার কোনো পছন্দের ডিজাইন থাকলে ইনবক্সে জানাতে পারেন। সেটা নিয়েও কাজ করব আশা করি।