09/01/2024
হয়তো হতে পারতো চমৎকার একটি গল্পের শুরু, হয়তো ছোট্ট মেয়েটির রিনরিনে হাসির ধ্বনিতে ট্রেনের কামরাটি মুখরিত হত, হয়তো বাবাটি কপট রাগ করে বলতেন, তোমার মেয়ে বড্ড দুষ্ট হয়েছে।
মা-ও কম যেত না, তিনি মুখ ভার করে বলতেন, দুষ্টুমির সময় আমার মেয়ে আর আহ্লাদ দেয়ার সময় তোমার!
হয়তো কোন এক পরিচিত স্টেশনে কোন ডিমওয়ালা মামার কাছ থেকে কেনা গরম সিদ্ধ ডিমের নরম কুসুমে মেয়েটির ঠোঁটে সামান্য গরম ছোঁয়া লাগত!
তাতেই মেয়েটি কী গরম বলে কঁকিয়ে উঠত!
বাবার তখন সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ত, সেই ডিমওয়ালা মামার উপর!
মামা, এত গরম! একটু দেখে দেবেন না! আমার মেয়েটার ঠোঁটটা যে পুড়ে গেল!
তবে বাস্তবে এমন কিছু ঘটেনি!
ট্রেনের কামরাটি একটি সুখি পরিবারের হাসি, গল্প কিংবা আনন্দের সাক্ষী হতে পারেনি।
মেয়েটি যখন তার মায়ের সঙ্গে তীব্র ভয়াবহ আগুনের দাবানলে জ্বলন্ত কয়লার মত পুড়ছিল,
বাবাটি যখন তীব্র অসহায়তায় নিজের মৃত্যুকে স্ব-ইচ্ছায় বরণ করে নিচ্ছিল,
ট্রেনের কামরাটি চুপচাপ তা দেখছিল।
আসলে ট্রেনের কামরার কোন দোষ ছিল না, যেভাবে কোন দোষ ছিল না আমাদের! কারন আমরা ইতিমধ্যে শিখে গেছি, কীভাবে চোখ খোলা রেখেও চোখ বন্ধ করে সব দেখতে হয়! কীভাবে শুধু নিজে ভালো থাকলে সব ভালো, এই বোধ নিয়ে খুব ভালোভাবে বাঁচতে হয়!