10/07/2025
ব্রিটিশ শিল্পী এলাইজা বেনেট ২০১১ সালে তিনি
“A Woman's Work is Never Done” (নারীর কাজ কখনো শেষ হয় না) শিরোনামে এক বিস্ময়কর পারফরম্যান্স আর্ট করেন। নিজের হাতের তালুতে তিনি সুই-সুতা দিয়ে ফোঁড় তোলেন, সেলাই করে ফুটিয়ে তোলেন কায়িক শ্রমের ছাপ। হঠাৎ দেখলে মনে হবে, এই হাত যেন কোনো শ্রমজীবী মানুষের, যার চামড়া কাজ করতে করতে শক্ত ও কড়া পড়ে গেছে।
এলাইজা বেনেট এখানে মানব ত্বককে (specifically the epidermis, যা ত্বকের উপরিভাগের স্তর) শিল্পের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সাধারণত, এমব্রয়ডারি বা সেলাইকে আমরা মেয়েলি, কোমল ও ঘরোয়া শিল্প হিসেবেই জানি। কিন্তু বেনেট এই ধারণাকে পুরোপুরি উল্টে দিয়েছেন। তিনি এই কোমল শিল্পকে এক তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ও কষ্টসহিষ্ণু কাজে পরিণত করেছেন।
তার এই শিল্পকর্মটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আমাদের সামনে নিয়ে আসেঃ
১. সমাজে নারীদের কাজ, বিশেষ করে ঘরের কাজ বা সেবাযত্নের মতো কাজগুলোকে প্রায়ই “হালকা বা অগুরুত্বপূর্ণ” বলে ধরে নেওয়া হয়। এই কাজগুলো যে কতটা শ্রমসাধ্য এবং এর পেছনের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি যে কতটা গভীর, তা আমরা দেখি না। বেনেট নিজের শরীরে যন্ত্রণা দিয়ে সেই অদৃশ্য শ্রমকে আমাদের চোখের সামনে রক্ত-মাংসে দৃশ্যমান করে তুলেছেন। 🩸
২. এই কাজটি করার জন্য যে পরিমাণ শারীরিক ও মানসিক শক্তির প্রয়োজন, তা নারীর সহনশীলতারই প্রতীক। এটি একাধারে কোমল, আবার একই সাথে অস্বস্তিকর—যা নারীর কাজের দ্বৈত চরিত্রকে তুলে ধরে।
৩. কে বলেছে শিল্প শুধু ক্যানভাস বা কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে? নিজের শরীরকে ব্যবহার করে বেনেট শিল্পের সীমানাকে প্রসারিত করেছেন। এটি বায়ো-আর্ট এবং পারফরম্যান্স আর্টের এক শক্তিশালী উদাহরণ। এটি সমস্ত শ্রমজীবী মানুষের প্রতি এক গভীর সম্মান, যাদের শ্রম প্রায়ই মূল্যায়নহীন থেকে যায়। এ যেন এক নীরব অথচ তীব্র চিৎকার!
অনুবাদ: AH Abubakkar Siddique
সোর্স (Sources):
১. Eliza Bennett's Official Website: new gallery
২.. Creative Boom Article: artist stitches her own skin with thread to create embroidered human hands