25/10/2022
একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে শুরু করে বেড়ে ওঠা পর্যন্ত সে কি ধরনের খাবার খাবে তা নিয়ে বেশিরভাগ মা ই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। শিশুর বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন বয়সে খাবারের তালিকায় বিভিন্ন রকমের খাবার মেনু রাখতে হয়।
ভিন্ন ভিন্ন বয়সের শিশুর খাদ্য তালিকায় কি থাকতে পারে জেনে নেইঃ
শিশুর জন্মের পর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত একমাত্র মায়ের বুকের দুধই শিশুর প্রধান খাদ্য। জন্মের পরপরই মায়ের স্তন থেকে হলুদ রঙের যে শালদুধ নিঃসরণ হয়, তা নবজাতককে সব ধরনের ইনফেকশন এবং রোগ থেকে মুক্ত রাখে। তবে কোন মা যদি শিশুকে বুকের দুধ দিতে না পারেন, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময় শিশুকে ‘ভিটামিন- ডি’ এর জন্য রোদে দিতে হবে। সকালের রোদ বাচ্চার ‘ভিটামিন- ডি’ এর চাহিদা পূরণ করে।
৬ মাস থেকে ১২ মাস সময়টা বাচ্চাদের বাড়ন্ত বয়সের সময়। এ সময় মায়ের দুধের পাশাপাশি তিনবেলা বাড়তি খাবার দিতে হবে। তবে এ বয়সেও শিশুর মূল খাবার মায়ের দুধ। অর্থাৎ বাড়তি খাবারের পরিমাণ কম থাকবে।
*** তিন বেলা খাবারের মধ্যে দুই বেলা খিচুড়ি বা নরম ভাতের মত ভারি খাবার দিতে হবে। বাকি একবেলা নরম খাবার, যেমনঃ ফলের রস বা নরম ফল (কলা) দেওয়া যেতে পারে।
*** এ সময় থেকে শিশুকে পানি পান করাতে হবে।
*** আধা সেদ্ধ ডিম, সব্জির স্যুপ, ছোট মুরগির স্যুপ শিশুর জন্য উপকারী।
*** আয়রন জাতীয় খাবার হিসেবে মুরগির একটা কলিজা বা মাছ নরম করে ছোট্ট সোনামণিকে দেওয়া যেতে পারে, যা সোনামণির বৃদ্ধি ও মতিষ্ক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
*** বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান দিয়ে ঘরেই তৈরি করে দিতে পারেন সুস্বাদু খাবার।
১২ মাস থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের দুধের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে বাড়তি খাবার দিতে হবে পাঁচবার। শিশুকে জোর করে কোন খাবার না খাইয়ে পুষ্টিমান বজায় রেখে অন্য একটি খাবার তৈরি করে দিতে হবে।
*** ২ বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুকে গরুর দুধ বা কৌটার দুধ না খাওয়ানোই ভালো। তবে যদি কোন কারণে মায়ের বুকের দুধ শিশুকে না দেওয়া যায় সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কৌটার দুধ দেওয়া যেতে পারে।
*** শিশুকে বিস্কুট বা শক্ত ভাত দেওয়া উচিত নয়।
*** আস্তে আস্তে শিশুর খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রথমদিকে স্যুপের বাটির এক – তৃতীয়াংশ পরিমাণ খাবার দেওয়া যেতে পারে; তারপর ধীরে ধীরে আধা বাটি, পৌনে এক বাটি এবং এভাবে এক বাটি খাবার দিতে হবে।
*** খিচুড়ি তৈরি করতে সমপরিমাণ চাল ও ডাল মিশিয়ে নিতে হবে এবং সাথে মাছ, মাংস, সবজি, ডিম মিশানো যেতে পারে। তবে একেকদিন একেকটা মিশালে ভালো।
*** যেকোন একটি খাবার শুরু করার পর টানা কিছুদিন দিতে হবে। এতে বোঝা যাবে শিশু কোন্ খাবারটি পছন্দ করছে না বা কোনো খাবারে এ্যালার্জি আছে কিনা।
*** নয় মাস বয়সের আগে শিশুকে টক জাতীয় ফল দেওয়া উচিত নয়। মিষ্টিজাতীয় ফলগুলো শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো।
*** চিনির পরিবর্তে শিশুকে গুড় বা মধু দিতে পারেন।
*** এক বছর বয়সের মধ্যেই শিশু পরিবারের অন্য সদস্যদের মত খাবার খেতে পারে, তবে তা নির্ভর করে শিশুর দাঁত ওঠার ওপর।
অতিরিক্ত চিন্তা না করে শিশুর জন্মের পর থেকে শুরু করে তার বেড়ে ওঠা পর্যন্ত যত্ন সহকারে নিয়ম মেনে তাকে খাবার দিন। জোরপূর্বক খাবার না খাইয়ে খাবারে পরিবর্তন আনুন। কোন রকম সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সুস্থ্যভাবে বেড়ে ওঠুক আমাদের প্রতিটি সোনামণি। আমাদের মায়েদের অমূল্য হাসি যেন লুকিয়ে আছে একজন শিশুর সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার মাঝে।