18/12/2025
আজরাইল (আ:) কিভাবে মানুষের রুহ কবজ করেন? মৃত্যুর সময় আসলে কি ঘটে?
হযরত আনাস (রা), হযরত তামীম দারী (রা) এর রেওয়ায়েতে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ ফরমান, আল্লাহ তায়ালা মালাকুল মউতকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, তুমি আমার বন্ধুর কাছে যাও এবং তাকে নিয়ে এসো। আমি তাকে সুখ দুঃখ দিয়ে ঐ জায়গাতেই পেয়েছি যেখানে আমার সন্তুষ্টি ছিল। অর্থাৎ সে ঈমানের উপর অটল ছিল। এবার তুমি তাকে আমার নিকটে নিয়ে এসো, যাতে আমি তাকে দুনিয়ার দুঃখ যাতনা থেকে মুক্তি দিতে পারি। নির্দেশ পেয়ে মালাকুল মাউত পাঁচশত ফেরেশতার বিশাল বাহিনী নিয়ে তার কাছে যায়। ফিরিশতাদের নিকট জান্নাতের সুগন্ধি ও কাপড় থাকে, হাতে থাকে ফুলের সাজানো তোড়া এবং শুভ্র বর্নের রেশমি পরিধেয়। বস্ত্রগুলোতে মেশকের সুগন্ধি ছড়ানো থাকে। এভাবে সুসজ্জিত হয়ে মালাকুল মউত ঐ বান্দার সামনে এসে বসে যায়। অপরদিকে সাথের ফিরিশতারা তাকে ঘিরে এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকে যে, তাদের প্রত্যেকের হাত মুমিনের কোন না কোনো অঙ্গে জড়িয়ে থাকে। অতঃপর তাদের সাথে নিয়ে আসা শুভ্র রেশমি বস্তুটি তার থুতনির নিচে বিছিয়ে দেয়া হয়। এরপর তার দৃষ্টির সামনে জান্নাতের একটি দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান, এই সময় জান্নাতের মূল্যবান বস্তুগুলো যেমন হুর, পোশাক এবং রকমারি ফল দিয়ে তাকে প্রলোভন দেখানো হয়। প্রলোভনটি এমন হয় ঠিক যেমন অবুঝ শিশু কান্নাকাটি করলে তার অভিভাবকরা তাকে খেলনার বস্তু দেখায়। জান্নাতে তার সহধর্মিনিরা তখন খুবই পুলকিত থাকে, এ দৃশ্য দেখে মুমিন বান্দার আত্মা তখন লাফিয়ে উঠে। মালাকুল মউত তখন বলে- হে পবিত্র আত্মা ! তুমি বের হয়ে আস কাঁটা বিহীন বদরিকা বৃক্ষে, কাঁদি কাঁদি কলায়। দীর্ঘ ছায়ায়, প্রবাহিত পানিতে ও প্রচুর ফল মূলে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এও ফরমান যে মালাকুল মউত তখন ঐ মুমিন বান্দার সাথে তার মা বাবার চাইতেও কোমল আচরণ করেন। কেননা সে জানে যে এই আত্মা আল্লাহ তায়ালার নিকট খুবই প্রিয় ও সম্মানী। তাই সেও এই বান্দার সাথে কোমল আচরণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়। সে নেক বান্দার আত্মা এত সহজে বের করে নিয়ে সে যে, যেন আটার মধ্য থেকে নিক্ষিপ্ত পশম বের করে নিয়ে আসে। অবশেষে আত্মা যখন বের হয়ে আসে তখন চতুর্দিক থেকে ফেরেশতরা এই বলে চিৎকার করে উঠে যে, তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তুমি তোমার নেক আমলের কল্যাণে জান্নাতে প্রবেশ করে নাও। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, "ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র অবস্থায়, ফিরিশতারা বলে, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক”। (সূরা নাহল-৩২)
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, “যদি সে নৈকট্যশীলদের একজন হয়, তবে তার জন্যে আছে সুখ, উত্তম রিযিক এবং নিয়ামত ভরা উদ্যান”। (সূরা ওয়াকেয়া-৮৮-৮৯) মালাকুম মউত যখন আত্মা কবজ করে নেন, তখন আত্মা দেহকে বলে, হে দেহ! আল্লাহ তোমাকে সুপ্রতিদান দিক। তুমি আমার সঙ্গী হয়ে আল্লাহর আনুগত্যে অগ্রগামী ছিলে। আর আল্লাহর অবাধ্যে ছিলে খুবই পশ্চাৎপদ। তুমি আমার পক্ষ থেকে মুবারকবাদ গ্রহণ কর। কেননা আজ তুমি নিজেও মুক্তি পেয়েছো আর আমাকেও নাজাত দিয়েছ। এভাবে দেহও আত্মাকে মুবারকবাদ দেয়। মুমিন বান্দার মৃত্যুতে যমীনের যে সকল অংশে সে ইবাদত করত সেগুলো কাঁদতে থাকে। আকাশের যে সকল দুয়ার দিয়ে তার নেক আমল উপরে উঠত সে সকল দুয়ার তার জন্যে কাঁদতে থাকে। যে দরজা দিয়ে তার রিযিক নেমে আসত সে দরজাও কাঁদতে থাকে। আকাশ যমীনের এ ক্রন্দন দীর্ঘ চল্লিশ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
মালাকুল মউত যখন তার আত্মা কবজ করে নেয় তখন তার দেহের হেফাযতের জন্যে সেখানে পাঁচশত ফেরেশতা দাঁড়িয়ে থাকে। যদি কেউ তার লাশের পাশ ফিরাতে চায় তখন ফিরিশতারাও এ কাজে মানুষের সহযোগিতা করে। এমনকি কাফন পরিধান ও সুগন্ধি মাখানোর কাজেও ফিরিশতারা অংশ নেয়। লাশের সম্মানার্থে ফিরিশতারা দুটি
সারি করে ঘর থেকে কবর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যায়। জানাযা যখন অতিক্রম করে তখন তারা অভ্যর্থনা জানায়। তার জন্যে ক্ষমার প্রার্থনা করে। মুমিনের মর্যাদার এ অবস্থা দেখে ইবলিশ এত জোরে চিৎকার করে উঠে যে, তার দেহের হাড়ের কোন কোন গ্রন্থির বন্ধন এ সময় ছিঁড়ে যায়। সে আক্ষেপের সাথে তার সঙ্গীদের বলতে থাকে তোমাদের সর্বনাশ হোক। এই বান্দা তোমাদের ফাঁদ থেকে কিভাবে ফসকে গেল। ইবলিশের সঙ্গীরা বলে, এ নিষ্পাপ ছিল তাই আমাদের ফাঁদে আটকায়নি।
মালাকুল মউত যখন তার আত্মাকে নিয়ে আকাশে আরোহন করে তখন হযরত জিবরাইল (আ) সত্তর হাজার ফিরিশিতা নিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানায়। আর সকল ফিরিশতারা তার নিকট আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির সুসংবাদ জানাতে থাকে। মালাকুল মউত যখন আত্মাটিকে নিয়ে আরশের নিকট পৌঁছেন তখন সে আল্লাহ তায়ালার সামনে সিজদায় পতিত হয় যায়।
হে আল্লাহ আমাদের সবাইকে আপনি বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন আমিন।
#হেদায়েত #আমিন