24/03/2025
ইয়া আল্লাহ! ইয়া রহমানুর রহিম! আমি আপনাকে ডাকছি আপনার সুন্দরতম নামসমূহের মাধ্যমে। যে নামগুলো আপনি আপনার জন্য রেখেছেন, আপনার কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং আপনার সৃষ্টিকে শিখিয়েছেন অথবা যে নামগুলো আপনি গায়েবের জ্ঞানের মাধ্যমে অপ্রকাশিত রেখেছেন, সেই নামসমুহ ধরে আজ আমি আপনার কাছে ফরিয়াদ করছি।
ইয়া আল্লাহ! সালাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর। (দরুদ)
ইয়া রব্ব! আমাকে এই দু'আতে আন্তরিক এবং সত্য রাখুন। তা যথাযথভাবে আদায় করার এবং অটুট থাকার তাওফিক্ব দিন; আপনি ছাড়া তো কেউ তাওফিক্ব দেয়ার নেই।
১. ইয়া আল্লাহ! আমাদের এমন হৃদয় থেকে হিফাজত করুন, যে হৃদয় বিনয়ী নয়। এমন জিহ্বা থেকে হিফাজত করুন যা আপনার স্মরণে ব্যস্ত থাকে না এবং এমন চোখ থেকে হিফাজত করুন যা আপনার স্মরণে অশ্রুসজল হয় না।
২. ইয়া রব্ব (প্রতিপালক), ইয়া মুকাদ্দিম (অগ্রসরকারী)! আমাকে ও আমার পরিবারকে আপনি সাবিকুনদের (অগ্রবর্তীদের) অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদের হৃদয়কে ঈমানের আলোয় আলোকিত করে দিন এবং আমাদেরকে বিনা বিচারে জান্নাতীদের দলভুক্ত করে দিন।
৩. ইয়া মুহয়িউল মুমিত (জীবন ও মৃত্যুদাতা)! আমাকে ও আমার আপনজনদের উত্তম মৃত্যু দান করুন। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে মুখে শাহাদাহ (সাক্ষ্য) উচ্চারিত করার তাওফিক্ব দিন। যেদিন কেউ কারো উপকারে আসবে না, সেদিন আপনার রাসূলের সুপারিশ যেন আমি পাই, সেই তাওফিক্ব দিন।
ইয়া মাজীদ (গৌরবান্বিত)! জীবনের শেষ মুহূর্ত গুলো যাতে উত্তম ভাবে কাটাতে পারি। পবিত্র মাক্কায় বা মাদিনায় অবস্থানকালে আমার মৃত্যু দিয়েন। আর নাহয় সেই মুহূর্তে যখন আমার মাথা আপনার সামনে মাটিতে ঠেকানো থাকবে আর চোখ জোড়া আপনারই ভালোবাসায় সিক্ত থাকবে, ইয়া রব্ব!
৪. ইয়া সামাদ (অমুখাপেক্ষী)! আমার দ্বীন এবং কাজ কে পূর্ণ করুন। আমাদের সকল ফিতনা থেকে রক্ষা করুন এবং যার অন্তর আপনার সাথে জুড়ে আছে তার মাধ্যমে আমাদের দ্বীন পূর্ণ করুন।
ইয়া ওয়াদুদ (প্রেমময়)! আপনি আপনার ভালোবাসার চাদরে আমাদের সর্বদা ঘিরে রাখুন। আর তাদের ভালোবাসা পাওয়ার তাওফিক্ব দান করুন, যারা আপনাকে ভালোবাসে এবং যাদেরকে আপনি ভালোবাসেন।
৫. ইয়া লতিফ (দয়ালু)! আমার ভালো কাজ গুলো গ্রহন করুন এবং একে বৃদ্ধি করুন আপনার পুরস্কার ও দয়ায়। আমার পাপ গুলো মুছে ফেলুন এবং আমাকে একেবারেই ক্ষমা করে দিন, পুন্যে পরিবরতন করে দিন। আমাকে আপনার দয়া দেখান এবং বিচারদিনে আমাকে রক্ষা করুন অপমানজনক অবস্থা হতে।
৬. ইয়া রশিদ (পথ প্রদর্শনকারী)! আমাকে আমার পিতামাতা, ছেলেমেয়ে, আমার আত্নীয়-স্বজনদের সরল পথ দেখান, দ্বীনের পথে অবিচল থাকার তাওফিক্ব দিন। আর আমাদের ঈমান ও তাকওয়া বৃদ্ধি করে দিন। সকল প্রকার ছোট ও বড় গুনাহ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আমাদের জীবনে সালাত কায়েম করতে সাহায্য করুন।
৭. ইয়া ওয়াহিদ (একক সত্তা), আল হাদী (হিদায়াত দানকারী)! আমার অমুসলিম বন্ধুদের ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে আসুন সুন্দরতম উপায়ে। আমাদের মধ্যে যারা অন্ধকারে আছে, তাদের অন্তরকে আপনার হিদায়াতের আলো দিয়ে জ্বালিয়ে দিন আর তা কখনো নিভিয়ে দিয়েন না, ইয়া নূর!
৮. ইয়া গফফার (ক্ষমাকারী)! আমাকে আপনার সেই সল্প সংখ্যক লোকদের মধ্যে শামিল করুন যাদের জন্য রয়েছে আপনার ক্ষমা ও পুরষ্কার। সেই দিন, যে দিন আপনার আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, সে ছায়ায় স্থান দিয়েন। বিচারের দিন আমার দোষ অন্যের সামনে প্রকাশ হতে দিয়েন না, ইয়া আল্লাহ!
৯. ইয়া আ'ফুউর রহিম (পাপ মোচনকারী, দয়ালু)! আমি যে পাপগুলির কথা ভুলে যাই এবং যে পাপগুলি আমি পাপ হিসেবে বিবেচনাও করিনা, সেই পাপগুলোর প্রত্যেকটি ক্ষমা করে দিন। সে পাপ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক্ব দিন। সে পাপের পাহাড়গুলোকে আপনি পুণ্যের পাহাড়ে রূপ দিন, ইয়া কারীম!
১০. ইয়া ফাত্তাহ (কল্যাণের রুদ্ধদ্বার উন্মোচনকারী)! আমার সামনে আরো সুযোগ উন্মোচিত করুন, যাতে আমি নেক কাজের মাধ্যমে আপনাকে খুশি করতে পারি। আমার পক্ষে যতটুকু দাওয়াহ দেয়া সম্ভব, তা যেন পরিপূর্ণ ও খালিস হৃদয়ে করতে পারি কেবলমাত্র আপনার জন্যই। ইয়া হাফিজুল মুকিত (সংরক্ষণকারী, শক্তিমান)! আমার নিয়ত গুলোকে পরিশুদ্ধ করে দিন। যা করি তা যেন শুধু আপনারই সন্তুষ্টির জন্য করি। আমাকে নিফাক্বি, রিয়াহ (লোক দেখানো), কুফর, মিথ্যা বড়াই থেকে, অহংকার থেকে এবং সব ধরণের হীন মানসিকতা থেকে হিফাজত করুন। আমার ঈমান, তাওয়াক্কুল, ইয়াক্বিন বাড়িয়ে দিন। আমাকে উত্তম ইলম এবং উত্তম আখলাক্ব দান করুন।
১১. ইয়া কবিদ (নিয়ন্ত্রণকারী)! আমাকে হিকমাহ (প্রজ্ঞা), বাস্বিরহ (অন্তর্নিহিত দৃষ্টি) দিন। সঠিক পথে চলার জন্য সাহসী, আত্মবিশ্বাসী বানিয়ে দিন। এমন মুসলিম/মুসলিমাহ হতে সাহায্য করুন যে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে।
১২. ইয়া খলিক, আর রাজ্জাক (সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা)! আমাদের কখনো ত্যাগ করবেন না, এক মুহূর্তের জন্যও না! আমাকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করুন যাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত সহজতার সাথে আপনার প্রতি সিজদাহ দিতে পারি। ইয়া রব্বি! আমি সবল মু'মিন হয়ে বেঁচে থাকতে চাই।
১৩. ইয়া ওয়াহ্হাব (মহান দাতা)! আমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদেরকে চক্ষু শীতলতাকারী জীবন-সঙ্গী দিন। তাদের উত্তমভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিন। সমাজের ফিতনাহ থেকে রক্ষা করুন। উত্তম মাহরামের ব্যবস্থা করে দিন। যার সাথে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তির সাথে বসবাস করতে পারবো।
১৪. ইয়া বার (কল্যাণকারী)! আমাদের মধ্যে যারা অসহায়, বিধবা, ডিভোর্সি তাদের উত্তম অর্ধাঙ্গ পাওয়ার তাওফিক্ব দিন। সমাজের নিপীড়ন থেকে তাদের রক্ষা করুন। অধিক উত্তম কিছু দান করে তাদের সম্মানিত করুন, প্রশান্তি দান করুন। তাদের ব্যথিত অন্তরে এক পশলা প্রশান্তির বৃষ্টি বর্ষিত করুন, তাদের দু'আ কবুল করুন। সকল একাকী মায়েদের কে সাহায্য করুন। আপনি তাদের অভিভাবক হয়ে যান, তাদের স্বচ্ছলতা দিন ও তাদের অধীনস্তদের দেখাশোনা করার সামর্থ্য দিন।
১৫. ইয়া মুগনি (ঐশ্বর্যদানকারী)! আমাদের স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যকার বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে দিন, আপনার জন্য একে অপরের ভালোবাসাকে আরো বৃদ্ধি করে দিন, অনন্তকালের জন্য এই সম্পর্ক অটুট রাখুন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মনোমালিন্য দূর করে দিন, শাইত্বনকে পরাজিত করে দিন, শাইত্বনের করা পরিকল্পনাকে ধুলো ধূসরিত করে দিন।
ইয়া জামিউ (একত্রকারী)! আমার জীবনসঙ্গীকে নিয়ে আপনার দরবারে আপনার নিকট সন্তুষ্ট চিত্তে হাজির হতে চাই। তার সাহচর্যে যেন জান্নাতের পথে আরো বেশী করে অগ্রগামী হতে পারি, আখলাকের ভীত যেন আরো বেশী সুদৃঢ় হয়। তাকে আমার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর করে দিন। তিনি যেন আমাকে সম্মান করে, তাকে দেখলে যেন আমার মন থেকে সম্মান আসে। তাকে আমার পরিবার এবং আত্মীয়-পরিজনের জন্য কল্যানকামী করে দিন। তাকে দেখলেই যেন পরম কৃতজ্ঞতায় আপনার দরবারে শির নত হয়ে আসে। আমাদের মধ্যেকার সমস্ত অকল্যাণ দূর করে দিন। একে অপরের সাহায্যকারী বানিয়ে দিন।
১৬. ইয়া মুসওয়ির (আকৃতি দানকারী)! আমাদের মুসলিমাহ বোনদেরকে সুস্থ গর্ভাবস্থা দান করুন। তাদের বন্ধ্যাত্ব দিয়ে পরীক্ষা করবেন না। তাদের সুস্থ্য, সুন্দর ও ধার্মিক সন্তান দান করুন। ইয়া ওয়ারিস (উত্তরাধিকারী)! আমাদেরকে নেক সন্তান দান করুন এবং তাদেরকে মুসলিম উম্মাহর বীর হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করুন, আমাদের সন্তান যেন আমাদের জন্যে সাদাকায়ে জারিয়াহ হয়। যারা নিজ থেকে আপনাকে ভয় করবে আপনার পথে পরিচালিত করবে নিজেদের। তাক্বওয়ায় জীবন পরিচালিত করতে পারে।
১৭. ইয়া রাক্বিব (তত্ত্বাবধায়ক)! আমাদের বাচ্চাদের জন্যে উত্তম পিতা-মাতা এবং তাদের উদাহরণ হবার তাওফিক্ব দিন। ইয়া হাফিজ! আমাদের সন্তানদের আমাদের ভুল শিক্ষা থেকে হেফাজত করুন। ইয়া ওয়াকিল (সহায় প্রদানকারী)! আমাদের বাচ্চাদেরকে সকল ক্ষতি, অসুস্থতা, কুফরী, শয়তান, বদ নজর, হারাম ও ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করুন। অসৎ সঙ্গ এবং অসৎ পথে পরিচালিত হওয়া থেকে রক্ষা করুন। তাদেরকে করুন আমাদের চোখের প্রশান্তি, মুত্তাকীদের ইমাম।
১৮. ইয়া মুয়াক্ষীর (বিলম্বকারী)! আমাকে এবং আমার পরিবারকে হজ্জ ও উমরাহ পালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যখন আপনি সুযোগ্য সময় মনে করেন আমাদের জন্য। আমি যে আপনার ঘরে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি।
১৯. ইয়া আউওয়ালু ওয়া আখিরু (সর্বপ্রথম, সর্বশেষ)! আমাকে দান করুন যা কিছু আমার জন্য সর্বোত্তম এই দুনিয়াতে, আখিরাতে এবং আমাকে রক্ষা করুন আগুন থেকে। আমি তো আপনার দয়ার কাঙাল। উত্তম ব্যবহারে যেন বলীয়ান হতে পারি, উত্তম জীবন ধারণ করতে পারি সেই সুযোগ দিন। সুন্নাহময় জীবন ব্যবস্থায় নিজেকে অভ্যস্ত করতে পারি। আমার প্রত্যেক কাজে যেন রাসূল (স:) সুন্নাহর সন্নিবেশ ঘটাতে পারি। ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া থেকে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত যেন রাসূলের সুন্নাহতে নিজেকে জারি রাখতে পারি, মন দিয়ে যেন সব সুন্নাহ ভালোবাসতে পারি। এই ভালোবাসার বদৌলতে আমাকে জান্নাতে আমার প্রিয় রাসূলের সান্নিধ্যে রেখেন, ইয়া আল আলীইউ (সমুন্নত)!
২০. ইয়া আজিম (মর্যাদাপূর্ণ)! আমাকে কপটতা থেকে রক্ষা করুন, অন্যের সাথে প্রতারণা করা থেকে রক্ষা করুন। অন্যকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং আশা দেয়া থেকে রক্ষা করুন। অশ্রাব্য ভাষা থেকে রক্ষা করুন এবং যখন কেউ আমার কাছে কিছু গচ্ছিত রাখে তখন তার বিশ্বাস লঙ্ঘন করা থেকে আমাকে রক্ষা করুন।
ইয়া মুয়িজ (সম্মান দাতা)! কোন বান্দা যেন আমাকে অপমান, অবমাননা, নিপীড়ন এবং উপহাস করতে না পারে। আপনি অত্যাচারীকে আমার উপর সবল হতে দিয়েন না আল্লাহ! আমার জন্য পরিকল্পনা এঁটে দিন, আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পনা এঁটে দিয়েন না। আমাকে সাহায্য করুন, আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করিয়েন না।
২১. ইয়া জ'হির, ইয়া বাতিন (প্রকাশ্য ও গোপন), আমার সকল প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহ আপনি ক্ষমা করে দিন ও রক্ষা করুন। সব রকমের বিপদ আপদ থেকে আমাকে রক্ষা করুন।
২২. ইয়া কাহহার (নিয়ন্ত্রণকারী)! আমাকে অতিরিক্ত ঘুম, খাওয়া ও অলসতা কাটিয়ে উঠার শক্তি দান করুন। কাজে প্রফুল্লতা ও সহজতা দান করুন। দুনিয়ার দায়িত্বগুলো সহজে কাটিয়ে আপনার সাথে যেন সময় কাটাতে পারি সেই তাওফিক্ব দিন। আমি যেন তাহাজ্জুদ ও ফজর সালাতে ঘুম থেকে জাগরণ করতে পারি এবং খূশু খূযুর সাথে আপনার সম্মুখে দাঁড়াতে পারি।
২৩. ইয়া মুহাইমিন (আশ্রয়দাতা)! আমাকে সেসব সত্যিকারের আর রহমানের বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষিত। ইয়াওমুল কিয়ামতের দিনে আপনার আরশের ছায়া দিয়েন মালিক।
২৪. ইয়া হাফিজ (হেফাজতকারী)! আমাকে একজন ক্বুরআনের হাফিজ/হাফিজা হতে সাহায্য করুন, আমাকে অনুরূপ বিবাহ করার/ আমাদের মধ্যে যাদের বিবাহ হয়ে গিয়েছে তাদের সঙ্গীদের হাফিজ হওয়ার তাওফিক্ব দিন এবং আমার বংশধরের সকলকে কুরআনের হাফিজ হওয়ার তাওফীক্ব দিন। তারা যেনো কুরআনকে তাদের অন্তরে ও জিহ্বায় ধারণ করে, তারা যেনো "জীবন্ত ক্বুরআন" হয় সালাফদের এর মতো।
২৫. ইয়া মু'মিন (নিরাপত্তা ও ঈমান দানকারী)! আমাদের মা বোনদের সম্ভ্রম আপনি রক্ষা করুন। পরিপূর্ণ পর্দা করার শক্তি ও পরিবেশ দিন। আমাদের সকলের দৃষ্টিকে হিফাজত করতে সাহায্য করুন। মুসলিম ভাই ও বোনদের ভেতরকার বিদ্বেষ ও অসন্তোষ মিটিয়ে দিন। যে দায়িত্ব অর্পণ করে নারী ও পুরুষদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, তা পরিপূর্ণভাবে পালন করার তাওফিক দিন।
২৬. ইয়া নূর (পরম আলো)! আমাকে সেসব শ্রেষ্ঠ মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা নিজেরা ক্বুরআন শিখে ও অন্যদের তা শিক্ষা দেয়। নিজের ক্বলবে অতি পবিত্রতার সাথে তা ধারণ করার তাওফিক্ব দিন। আপনার কালাম, আল ক্বুরআন সুন্দর করে তিলোওয়াত করার ও তাদাব্বুর করার তাওফিক্ব দিন, যার মাধ্যমে অন্তরে প্রশান্তি আসে। অন্তরের আরোগ্য দূর হয়। ক্বুরআন কে আমার অন্তরের নূর বানিয়ে দিন এবং আমার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দানকারী বানিয়ে দিন। তা করে দিন আমার জন্য পথপ্রদর্শক ও শান্তির পয়গাম। আমাদেরকে ক্বুরআনের শাফা'আত লাভের তাওফীক্ব দিন। সূরা বাক্বারা ও আল ইমরান কে হাশরের দিনে আমাদের মাথার উপর মেঘের ন্যায় ছায়া বানিয়ে দিন।
২৭. ইয়া রউফ (দয়াময়), আন নাফি (উপকারী)! সকল প্রকার শারীরিক, মানসিক ও অন্তরের রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। হতাশা ও দুশ্চিন্তায় জর্জরিত হওয়ার আগেই আমাদের বিপদ হতে মুক্তি দিন। অন্তরে প্রশান্তি দিন, ইয়া আস সালাম!
২৮. ইয়া ফাত্তাহ (কল্যাণের রুদ্ধদ্বার উন্মোচনকারী)! আমাকে আপনি প্রজ্ঞা ও সচেতনতা দান করুন। আমাকে কপটতা ও মূর্খতা থেকে দূরে রাখুন। আপনার অবতীর্ণ করা উদারতা (রহমত) থেকে আমাকে দান করুন কিছু অংশ।
২৯. ইয়া মুতাকাব্বির (প্রতাপশালী)! আপনার সব হুকুম পালন করার শক্তি দিন, আপনার স্মরণে অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করার তাওফিক্ব দিন। আপনার মহত্ত্বের দরুণ আমাকে রক্ষা করুন, আর আপনার অনুগ্রহের দরুণ আমাকে সৎ, অনুগত ও আপনার বন্ধু হওয়ার তাওফিক্ব দিন ইয়া রফিক্বুল আ'লা!
৩০. ইয়া সালাম (নিরাপত্তা-দানকারী)! আমি যেন ইয়াতিমদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে পারি, ক্ষুধার্তদের খাবার দিতে পারি আমাকে দাতার হাত হওয়ার তাওফিক্ব দিন। আপনার শান্তির বাণী যেন ছড়িয়ে দিতে পারি, উত্তম মানুষের সাহচর্যে থাকতে পারি এবং সর্বদা আপনার উপর আস্থা রাখতে পারি, সেই তাওফিক্ব আমাকে দিন।
৩১. ইয়া বাসিত (প্রশস্তকারী)! আমার তাক্বদীরে যে কষ্ট আপনি রেখেছেন, তাতে ধৈর্য্য ধরার তাওফিক্ব দিন। সে কষ্টগুলো আমার জন্য সহজ করে দিন। আমাকে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলো ঈমানী শক্তি দিয়ে পাড় করার তাওফিক্ব দিন। একজন পরিপূর্ণ দ্বীনদান হওয়ার সাধ্য দিন এবং তাতে অবিচল থাকার তাওফিক্ব দিন। আমার কষ্টগুলো দূর করে দিন মালিক। ইয়া সম্মানের মালিক আল্লাহ! আমাকে সম্মানিত করুন।
৩২. ইয়া বাসীর (সর্বদ্রষ্টা)! আমাকে অন্ধ অবস্থায় কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করবেন না। আপনাকে দেখার সৌভাগ্য দিন! এই চোখদুটো যে কেবল আপনাকে দেখার ইচ্ছেয় অধীর হয়ে আছে।
৩৩. ইয়া আজিজ (প্রতিপত্তিশালী)! আমার নাফসের কাছে আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও ছেড়ে দিয়েন না। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আমাকে রক্ষা করুন। আমার অন্তরের কালিমা মোচন করুন, একজন সত্যবাদী, নিষ্ঠাবান মানুষ হতে সাহায্য করুন।
৩৪. ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়ুম (চিরঞ্জীব, অনাদি)! আপনার প্রতি আমার মনে বিশ্বাস বাড়িয়ে দিন। আপনার উপরই সমস্ত ভরসা যেন ন্যস্ত করতে পারি। আপনার রাজত্ব ও আধিপত্য নিয়ে এতটুকুও সংশয় মনের ভেতর আসতে দিয়েন না। বিতাড়িত শাইত্বনের ও মানুষের ওয়াসওয়াসা থেকে আমাকে রক্ষা করুন। আমার বিরুদ্ধে তার পরিকল্পনাকে নসাৎ করে দিন।
৩৫. ইয়া ওয়াদুদ (প্রেমময়)! আমার অন্তরে আর আপনার প্রেরিত রসূল (সঃ) এর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে দিন। আমি আমার রাসূল(সঃ) কে যেন আমার পিতামাতা, স্বামী/ স্ত্রী, সন্তানাদি থেকে উপরে স্থান দিতে পারি। আমার রাসূলের সম্মান আপনি কখনো ক্ষুন্ন হতে দিয়েন না।
৩৬. ইয়া সাবুর (পরম ধৈর্যশীল), আল হাসিব (হিসাব-গ্রহণকারী)! আমাকে ধৈর্য্যশীলদের একজন হওয়ার তাওফিক্ব দিন। আপনার প্রতি ও মা-বাবার প্রতি অনুগত হওয়ার তাওফিক্ব দিন। তাদের হক্ব পরিপূর্ণভাবে আদায় করার তাওফিক্ব দিন। আমার পরিবারের সদস্যদের একে অপরের সাথে আচরণকে আরও উন্নত করে দিন। তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রতি বাড়িয়ে দিন।
৩৭. ইয়া রাজ্জাক (রিযিক দাতা)! আমাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রদান করুন। অফুরন্ত রিজিক দান করুন, কিন্তু তাতে কোনো লিপ্সা দিয়েন না। খুশি মনে যেন আপনার পথে দান করতে পারি। আমাদের দুনিয়াবি প্রতিযোগীতা ও ঔদ্ধত্য থেকে দূরে রাখুন। আমার সাদাক্বা-ই-জারিয়াহ গুলো কবুল করুন, বারাকাহ দিন, যেন তা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকে এবং নাজাতে উসিলা হয়, আপনার দরবারে গ্রহণযোগ্য হয়।
৩৮. ইয়া শাকুর (সুবিবেচক)! আমাকে আপনার প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকার তাওফিক্ব দিন। আপনার হুকুম যথাযথভাবে পালনের তাওফিক্ব দিন। আপনার সামনে যেন কৃতজ্ঞ হৃদয় নিয়ে দাঁড়াতে পারি।
৩৯. ইয়া মুক্বীত (লালনপালনকারী)! আমাদের ভাইদের জন্য সংসার ভরণপোষণ করা সহজ করে দিন, উত্তম রিজিক দিন। তাদেরকে করুন আমাদের সুরক্ষাকারী, সাহায্যকারী ও আমাদের পথ প্রদর্শক।
৪০. ইয়া শাফী (আরোগ্যদাতা)! আরোগ্য দান করুন এমন সকলকে, যারা দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভুগছে। যারা ক্যান্সার সহ আরো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত, তাদের যন্ত্রনা আপনি লাঘব করে দিন। শিফা দিন। আমাকে এবং আমার প্রিয়জনদের সকল দুরারোগ্য ব্যধি থেকে রক্ষা করুন। বার্ধক্য এবং অলসতা থেকে আমাদের বাঁচান। অসহায় অসুস্থতা থেকে আমাদের রক্ষা করুন মালিক। সুস্থ ও সবল মুসলিম সমাজ উপহার দিন।
৪১. ইয়া মুহিত (পরিবেষ্টঙ্কারী)! আমাদের দাজ্জালের ফিতনাহ থেকে রক্ষা করুন, পানি ও খাবারের কষ্ট থেকে রক্ষা করুন। ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং শেষ দিবসের সব ভয়ানক পরীক্ষা থেকে আমাদেরকে বাঁচান ইয়া রব! নিজেকে অপরের জন্য ফিতনাহ হওয়ার থেকে রক্ষা করুন। অপরকে আমার জন্য পরীক্ষাস্বরূপ হওয়া থেকে রক্ষা করুন। সময় অপচয় করা থেকে রক্ষা করুন, সম্পদের অপচয় করা থেকে রক্ষা করুন, খারাপ অভ্যাস থেকে রক্ষা করুন। প্রত্যেক খারাপ কে ভালো দ্বারা প্রতিহত করুন, আল মালিক!
৪২. ইয়া মুক্ব্সিত (হক-আদায়কারী), ইয়া মুনতাকিম (প্রতিশোধ-গ্রহণকারী)! আমাকে ও এই উম্মাহকে আপনি অত্যাচারীদের হাত থেকে বাঁচান। বিপদ থেকে রক্ষা করুন, পরীক্ষায় সহজে উতরে যাওয়ার তাওফিক্ব দিন। যে সকল মুসলিমরা আজ কেবলমাত্র মুসলিম পরিচয়ের কারণে নিপীড়িত ও অত্যাচারিত হচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য আপনি যথেষ্ট হয়ে যান। নাবী ইউসুফের পাঠশালায় আমার যারা রয়েছেন, তাদের মুক্তি ত্বরান্বিত করুন। তাদের রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন, তাদের পরিবারে রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন, তাদের ধৈর্য্য ধরার তাওফিক্ব দিন।
৪৩. ইয়া মালিকুল মূলক (সমগ্র জগতের বাদশাহ্)! এই উম্মাহকে একত্রিত করুন। মুসলিম উম্মাহর উপর রহম করুন! ইসলামকে পুনরায় বিজয় দান করুন। আমি আপনার কাছে মুসলিম যুবকসম্প্রদায় এবং উম্মাহর হিদায়াত এর জন্য প্রার্থনা এবং মিনতি করছি। বিভিন্ন দলের বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদের সিরাত্বল মুস্তাক্বিম (সরল, ভারসাম্যপূর্ণ পথ) এর উপর রাখুন। যে পথ চলে গেছে আপনার তরে সে পথে আমাদের ঠাঁই দিন।
৪৪. ইয়া যুল জালালী ওয়াল ইকরাম (মহিমান্বিত ও দয়াবান সত্তা)! উম্মাহর নারী ও পুরুষদের কে উজ্জীবিত করুন। তাদের সত্যিকার দ্বীনদার ও সম্মানিত করে তুলুন। আমাদেরকে এমন মুনাফিকদের কাছ থেকে দূরে রাখুন যারা আমাদের মানসিক প্রশান্তি ও ঈমান ধ্বংস করতে পারে। আমাদেরকে কুফরি, হতাশা, কুকর্ম, বিদআ'ত এবং শির্ক থেকে রক্ষা করুন।
৪৫. ইয়া জব্বার (পরাক্রান্ত)! এমন ব্যক্তি থেকে আমাদের দূরে রাখুন যে, আমাদের ক্ষতি করতে চায়। আমার শত্রুদেরকে আমার বন্ধু তে পরিণত করে দিন। আর আমার বন্ধুদের করে দিন আরো অন্তরঙ্গ। আমাকে এমন সব মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত রাখুন যারা সর্বদা আমাকে আপনার ও আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে। যাদের দেখলে আপনার কথা স্মরণে আসবে।
৪৬. ইয়া আল-মানিই' (অকল্যাণরোধক)! আমাকে এবং আমার প্রিয় মানুষদের শাইত্বনের ওয়াসওয়াসা, মানুষ ও দুষ্ট জ্বিন, বদনজর, সকল অশুভ শক্তি ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন। তাদের মন্দ প্ররোচনা এবং চক্রান্ত থেকে আমাদের নিরাপদ রাখুন। রক্ষা করুন আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সকল প্রকার খারাপ থেকে যা আমাদের ক্ষতি করে।
৪৭. ইয়া ওয়ালি (অভিভাবক)! আমার পিতা-মাতার উপর সদয় হউন এবং তাদেকে ক্ষমা করুন, যেমনটি তারা আমার দেখভাল করছেন আমি ছোট থাকতে। ইয়া আল্লাহ! আমার পিতা মাতাকে আমার জন্য গর্বিতবোধ করুন, দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই। তাদের জান্নাতের উঁচু মাকামে স্থান দিয়েন মালিক। আমাদের মধ্যে থেকে যারা গত হয়ে গিয়েছেন, তাদের কবরকে প্রসারিত করে দিন, জান্নাতের বারিধারা প্রবাহিত করে দিন। জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। তাদের সন্তানের উসিলা হয়ে তাদের নাজাত দিন।
৪৮. ইয়া বা'য়িস (পুনরুত্থানকারী)! মৃত্যুর পর আমার রুহ আর আমলনামা যেন ইল্লিয়্যিনে জায়গা পায়। ইয়া মালিক! যখন কোথাও কোন ছায়া থাকবে না, তখন আমাকে আর আমার ভালবাসার মানুষদের আপনার আরশের ছায়ায় একটু জায়গা দিয়েন।
৪৯. ইয়া ওয়াজিদ (অফুরন্ত ভান্ডারের অধিকারী)! আমাকে ও আমার পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী সহ সকল আপনজনদেরকে হিদায়াত ও চূড়ান্ত সাফল্য দান করুন। কবরের শাস্তি ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন এবং দাখিল করুন জান্নাতুল ফেরদৌসে। আমাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে তাদের সাথে মিলিত করে দিন যাদের আমি শুধু আপনার জন্যই ভালো বেসেছি।
ইয়া আত্-তাওয়াব (ক্ষমাকারী)! দয়া করে আমাকে উসিলা বানিয়ে আমার পরিবার, বন্ধুদের ক্ষমা করুন ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে জান্নাতে দাখিল করুন।
৫০. ইয়া হামিদ (প্রশংসনীয়), ইয়া কুদ্দুস (পবিত্র)! আমাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে আপনার আরশের নিচে আপনার কাছে একটি বাড়ি বানিয়ে দিন, ইয়া আল্লাহ! আমরা আপনার কাছ থেকেই এসেছি, আবার আপনার কাছেই ফিরে যাব। আমাদের এমন পথে পরিচালিত করুন যা আপনার সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায়, এমন পথে পরিচালিত করবেন না যা, আপনার অসন্তোষের কারণ হয়। আমাদের সকল দুয়া, ইবাদত ও আমল কবুল করে নিন, এবং আমাদের সকল ধরনের বিপদ-আপদ ও যে কোনো দুঃখ দুর্দশা থেকে হেফাযত করুন!
আমীন ইয়া রব্বুল আ'লামীন।
সুবহানা রব্বিকা রব্বিল 'ইজ্জাতী আম্মা ইয়াসিফুন। ওয়া সালামুন আলাল মুরসালিন, ওয়াল হামদুলিল্লাহি রব্বিল আ'লামীন। (আপনার প্রতিপালক যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী, তিনি পবিত্র ঐ সকল কথা থেকে- যা কাফিররা বলে থাকে; এবং নবীদের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক এবং সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার জন্য।)
এই অধমের আর্জিগুলো কবুল করে নিন, আমার সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু! আমার অভিভাবক! আর আপনি ব্যতীত আমার তো কোনো অভিভাবক নেই।
[আরবি ব্যকরণ অনুযায়ী 'ইয়া' এরপর 'আল' যোগ করার প্রয়োজন নেই। তবে 'ইয়া' না ব্যবহার করলে আল্লাহর নামগুলোর পূর্বে আল লাগাতে হবে।]
- - - - - - - - ★ - - - - - - - -
লাইলাতুল ক্বদরে এই দুআগুলো আপনার সঙ্গী হতে পারে। তবে এর পূর্বে কুরআন ও হাদিস হতে প্রাপ্ত অসাধারণ সুন্দর দুআ গুলো পড়তে ভুলবেন না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শেখানো দুআর মাধুর্য ও শক্তি অধিক বেশি।
সেই সাথে নিজের জীবনের ছোট বড় আর্জি গুলোও আল্লাহর সামনে তুলে ধরবেন- তা হোক পৃথিবীতে একটি জুতার ফিতার জন্য কিংবা জান্নাতে আল্লাহর নিকটে একটি বাড়ির জন্য।
আর কোনো দুআ ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় একটি দুআর লিস্ট প্রস্তুত রাখা উত্তম। সেখানে এক কোণে পারলে নাশিতার নামও লিখে রেখেন।