Alfath Apparel

Alfath Apparel We are producing denim woven items.

24/03/2025

ইয়া আল্লাহ! ইয়া রহমানুর রহিম! আমি আপনাকে ডাকছি আপনার সুন্দরতম নামসমূহের মাধ্যমে। যে নামগুলো আপনি আপনার জন্য রেখেছেন, আপনার কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং আপনার সৃষ্টিকে শিখিয়েছেন অথবা যে নামগুলো আপনি গায়েবের জ্ঞানের মাধ্যমে অপ্রকাশিত রেখেছেন, সেই নামসমুহ ধরে আজ আমি আপনার কাছে ফরিয়াদ করছি।

ইয়া আল্লাহ! সালাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর। (দরুদ)

ইয়া রব্ব! আমাকে এই দু'আতে আন্তরিক এবং সত্য রাখুন। তা যথাযথভাবে আদায় করার এবং অটুট থাকার তাওফিক্ব দিন; আপনি ছাড়া তো কেউ তাওফিক্ব দেয়ার নেই।

১. ইয়া আল্লাহ! আমাদের এমন হৃদয় থেকে হিফাজত করুন, যে হৃদয় বিনয়ী নয়। এমন জিহ্বা থেকে হিফাজত করুন যা আপনার স্মরণে ব্যস্ত থাকে না এবং এমন চোখ থেকে হিফাজত করুন যা আপনার স্মরণে অশ্রুসজল হয় না।

২. ইয়া রব্ব (প্রতিপালক), ইয়া মুকাদ্দিম (অগ্রসরকারী)! আমাকে ও আমার পরিবারকে আপনি সাবিকুনদের (অগ্রবর্তীদের) অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদের হৃদয়কে ঈমানের আলোয় আলোকিত করে দিন এবং আমাদেরকে বিনা বিচারে জান্নাতীদের দলভুক্ত করে দিন।

৩. ইয়া মুহয়িউল মুমিত (জীবন ও মৃত্যুদাতা)! আমাকে ও আমার আপনজনদের উত্তম মৃত্যু দান করুন। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে মুখে শাহাদাহ (সাক্ষ্য) উচ্চারিত করার তাওফিক্ব দিন। যেদিন কেউ কারো উপকারে আসবে না, সেদিন আপনার রাসূলের সুপারিশ যেন আমি পাই, সেই তাওফিক্ব দিন।

ইয়া মাজীদ (গৌরবান্বিত)! জীবনের শেষ মুহূর্ত গুলো যাতে উত্তম ভাবে কাটাতে পারি। পবিত্র মাক্কায় বা মাদিনায় অবস্থানকালে আমার মৃত্যু দিয়েন। আর নাহয় সেই মুহূর্তে যখন আমার মাথা আপনার সামনে মাটিতে ঠেকানো থাকবে আর চোখ জোড়া আপনারই ভালোবাসায় সিক্ত থাকবে, ইয়া রব্ব!

৪. ইয়া সামাদ (অমুখাপেক্ষী)! আমার দ্বীন এবং কাজ কে পূর্ণ করুন। আমাদের সকল ফিতনা থেকে রক্ষা করুন এবং যার অন্তর আপনার সাথে জুড়ে আছে তার মাধ্যমে আমাদের দ্বীন পূর্ণ করুন।

ইয়া ওয়াদুদ (প্রেমময়)! আপনি আপনার ভালোবাসার চাদরে আমাদের সর্বদা ঘিরে রাখুন। আর তাদের ভালোবাসা পাওয়ার তাওফিক্ব দান করুন, যারা আপনাকে ভালোবাসে এবং যাদেরকে আপনি ভালোবাসেন।

৫. ইয়া লতিফ (দয়ালু)! আমার ভালো কাজ গুলো গ্রহন করুন এবং একে বৃদ্ধি করুন আপনার পুরস্কার ও দয়ায়। আমার পাপ গুলো মুছে ফেলুন এবং আমাকে একেবারেই ক্ষমা করে দিন, পুন্যে পরিবরতন করে দিন। আমাকে আপনার দয়া দেখান এবং বিচারদিনে আমাকে রক্ষা করুন অপমানজনক অবস্থা হতে।

৬. ইয়া রশিদ (পথ প্রদর্শনকারী)! আমাকে আমার পিতামাতা, ছেলেমেয়ে, আমার আত্নীয়-স্বজনদের সরল পথ দেখান, দ্বীনের পথে অবিচল থাকার তাওফিক্ব দিন। আর আমাদের ঈমান ও তাকওয়া বৃদ্ধি করে দিন। সকল প্রকার ছোট ও বড় গুনাহ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আমাদের জীবনে সালাত কায়েম করতে সাহায্য করুন।

৭. ইয়া ওয়াহিদ (একক সত্তা), আল হাদী (হিদায়াত দানকারী)! আমার অমুসলিম বন্ধুদের ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে আসুন সুন্দরতম উপায়ে। আমাদের মধ্যে যারা অন্ধকারে আছে, তাদের অন্তরকে আপনার হিদায়াতের আলো দিয়ে জ্বালিয়ে দিন আর তা কখনো নিভিয়ে দিয়েন না, ইয়া নূর!

৮. ইয়া গফফার (ক্ষমাকারী)! আমাকে আপনার সেই সল্প সংখ্যক লোকদের মধ্যে শামিল করুন যাদের জন্য রয়েছে আপনার ক্ষমা ও পুরষ্কার। সেই দিন, যে দিন আপনার আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, সে ছায়ায় স্থান দিয়েন। বিচারের দিন আমার দোষ অন্যের সামনে প্রকাশ হতে দিয়েন না, ইয়া আল্লাহ!

৯. ইয়া আ'ফুউর রহিম (পাপ মোচনকারী, দয়ালু)! আমি যে পাপগুলির কথা ভুলে যাই এবং যে পাপগুলি আমি পাপ হিসেবে বিবেচনাও করিনা, সেই পাপগুলোর প্রত্যেকটি ক্ষমা করে দিন। সে পাপ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক্ব দিন। সে পাপের পাহাড়গুলোকে আপনি পুণ্যের পাহাড়ে রূপ দিন, ইয়া কারীম!

১০. ইয়া ফাত্তাহ (কল্যাণের রুদ্ধদ্বার উন্মোচনকারী)! আমার সামনে আরো সুযোগ উন্মোচিত করুন, যাতে আমি নেক কাজের মাধ্যমে আপনাকে খুশি করতে পারি। আমার পক্ষে যতটুকু দাওয়াহ দেয়া সম্ভব, তা যেন পরিপূর্ণ ও খালিস হৃদয়ে করতে পারি কেবলমাত্র আপনার জন্যই। ইয়া হাফিজুল মুকিত (সংরক্ষণকারী, শক্তিমান)! আমার নিয়ত গুলোকে পরিশুদ্ধ করে দিন। যা করি তা যেন শুধু আপনারই সন্তুষ্টির জন্য করি। আমাকে নিফাক্বি, রিয়াহ (লোক দেখানো), কুফর, মিথ্যা বড়াই থেকে, অহংকার থেকে এবং সব ধরণের হীন মানসিকতা থেকে হিফাজত করুন। আমার ঈমান, তাওয়াক্কুল, ইয়াক্বিন বাড়িয়ে দিন। আমাকে উত্তম ইলম এবং উত্তম আখলাক্ব দান করুন।

১১. ইয়া কবিদ (নিয়ন্ত্রণকারী)! আমাকে হিকমাহ (প্রজ্ঞা), বাস্বিরহ (অন্তর্নিহিত দৃষ্টি) দিন। সঠিক পথে চলার জন্য সাহসী, আত্মবিশ্বাসী বানিয়ে দিন। এমন মুসলিম/মুসলিমাহ হতে সাহায্য করুন যে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে।

১২. ইয়া খলিক, আর রাজ্জাক (সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা)! আমাদের কখনো ত্যাগ করবেন না, এক মুহূর্তের জন্যও না! আমাকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করুন যাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত সহজতার সাথে আপনার প্রতি সিজদাহ দিতে পারি। ইয়া রব্বি! আমি সবল মু'মিন হয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

১৩. ইয়া ওয়াহ্হাব (মহান দাতা)! আমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদেরকে চক্ষু শীতলতাকারী জীবন-সঙ্গী দিন। তাদের উত্তমভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিন। সমাজের ফিতনাহ থেকে রক্ষা করুন। উত্তম মাহরামের ব্যবস্থা করে দিন। যার সাথে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তির সাথে বসবাস করতে পারবো।

১৪. ইয়া বার (কল্যাণকারী)! আমাদের মধ্যে যারা অসহায়, বিধবা, ডিভোর্সি তাদের উত্তম অর্ধাঙ্গ পাওয়ার তাওফিক্ব দিন। সমাজের নিপীড়ন থেকে তাদের রক্ষা করুন। অধিক উত্তম কিছু দান করে তাদের সম্মানিত করুন, প্রশান্তি দান করুন। তাদের ব্যথিত অন্তরে এক পশলা প্রশান্তির বৃষ্টি বর্ষিত করুন, তাদের দু'আ কবুল করুন। সকল একাকী মায়েদের কে সাহায্য করুন। আপনি তাদের অভিভাবক হয়ে যান, তাদের স্বচ্ছলতা দিন ও তাদের অধীনস্তদের দেখাশোনা করার সামর্থ্য দিন।

১৫. ইয়া মুগনি (ঐশ্বর্যদানকারী)! আমাদের স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যকার বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে দিন, আপনার জন্য একে অপরের ভালোবাসাকে আরো বৃদ্ধি করে দিন, অনন্তকালের জন্য এই সম্পর্ক অটুট রাখুন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মনোমালিন্য দূর করে দিন, শাইত্বনকে পরাজিত করে দিন, শাইত্বনের করা পরিকল্পনাকে ধুলো ধূসরিত করে দিন।

ইয়া জামিউ (একত্রকারী)! আমার জীবনসঙ্গীকে নিয়ে আপনার দরবারে আপনার নিকট সন্তুষ্ট চিত্তে হাজির হতে চাই। তার সাহচর্যে যেন জান্নাতের পথে আরো বেশী করে অগ্রগামী হতে পারি, আখলাকের ভীত যেন আরো বেশী সুদৃঢ় হয়। তাকে আমার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর করে দিন। তিনি যেন আমাকে সম্মান করে, তাকে দেখলে যেন আমার মন থেকে সম্মান আসে। তাকে আমার পরিবার এবং আত্মীয়-পরিজনের জন্য কল্যানকামী করে দিন। তাকে দেখলেই যেন পরম কৃতজ্ঞতায় আপনার দরবারে শির নত হয়ে আসে। আমাদের মধ্যেকার সমস্ত অকল্যাণ দূর করে দিন। একে অপরের সাহায্যকারী বানিয়ে দিন।

১৬. ইয়া মুসওয়ির (আকৃতি দানকারী)! আমাদের মুসলিমাহ বোনদেরকে সুস্থ গর্ভাবস্থা দান করুন। তাদের বন্ধ্যাত্ব দিয়ে পরীক্ষা করবেন না। তাদের সুস্থ্য, সুন্দর ও ধার্মিক সন্তান দান করুন। ইয়া ওয়ারিস (উত্তরাধিকারী)! আমাদেরকে নেক সন্তান দান করুন এবং তাদেরকে মুসলিম উম্মাহর বীর হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করুন, আমাদের সন্তান যেন আমাদের জন্যে সাদাকায়ে জারিয়াহ হয়। যারা নিজ থেকে আপনাকে ভয় করবে আপনার পথে পরিচালিত করবে নিজেদের। তাক্বওয়ায় জীবন পরিচালিত করতে পারে।

১৭. ইয়া রাক্বিব (তত্ত্বাবধায়ক)! আমাদের বাচ্চাদের জন্যে উত্তম পিতা-মাতা এবং তাদের উদাহরণ হবার তাওফিক্ব দিন। ইয়া হাফিজ! আমাদের সন্তানদের আমাদের ভুল শিক্ষা থেকে হেফাজত করুন। ইয়া ওয়াকিল (সহায় প্রদানকারী)! আমাদের বাচ্চাদেরকে সকল ক্ষতি, অসুস্থতা, কুফরী, শয়তান, বদ নজর, হারাম ও ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করুন। অসৎ সঙ্গ এবং অসৎ পথে পরিচালিত হওয়া থেকে রক্ষা করুন। তাদেরকে করুন আমাদের চোখের প্রশান্তি, মুত্তাকীদের ইমাম।

১৮. ইয়া মুয়াক্ষীর (বিলম্বকারী)! আমাকে এবং আমার পরিবারকে হজ্জ ও উমরাহ পালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যখন আপনি সুযোগ্য সময় মনে করেন আমাদের জন্য। আমি যে আপনার ঘরে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি।

১৯. ইয়া আউওয়ালু ওয়া আখিরু (সর্বপ্রথম, সর্বশেষ)! আমাকে দান করুন যা কিছু আমার জন্য সর্বোত্তম এই দুনিয়াতে, আখিরাতে এবং আমাকে রক্ষা করুন আগুন থেকে। আমি তো আপনার দয়ার কাঙাল। উত্তম ব্যবহারে যেন বলীয়ান হতে পারি, উত্তম জীবন ধারণ করতে পারি সেই সুযোগ দিন। সুন্নাহময় জীবন ব্যবস্থায় নিজেকে অভ্যস্ত করতে পারি। আমার প্রত্যেক কাজে যেন রাসূল (স:) সুন্নাহর সন্নিবেশ ঘটাতে পারি। ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া থেকে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত যেন রাসূলের সুন্নাহতে নিজেকে জারি রাখতে পারি, মন দিয়ে যেন সব সুন্নাহ ভালোবাসতে পারি। এই ভালোবাসার বদৌলতে আমাকে জান্নাতে আমার প্রিয় রাসূলের সান্নিধ্যে রেখেন, ইয়া আল আলীইউ (সমুন্নত)!

২০. ইয়া আজিম (মর্যাদাপূর্ণ)! আমাকে কপটতা থেকে রক্ষা করুন, অন্যের সাথে প্রতারণা করা থেকে রক্ষা করুন। অন্যকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং আশা দেয়া থেকে রক্ষা করুন। অশ্রাব্য ভাষা থেকে রক্ষা করুন এবং যখন কেউ আমার কাছে কিছু গচ্ছিত রাখে তখন তার বিশ্বাস লঙ্ঘন করা থেকে আমাকে রক্ষা করুন।

ইয়া মুয়িজ (সম্মান দাতা)! কোন বান্দা যেন আমাকে অপমান, অবমাননা, নিপীড়ন এবং উপহাস করতে না পারে। আপনি অত্যাচারীকে আমার উপর সবল হতে দিয়েন না আল্লাহ! আমার জন্য পরিকল্পনা এঁটে দিন, আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পনা এঁটে দিয়েন না। আমাকে সাহায্য করুন, আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করিয়েন না।

২১. ইয়া জ'হির, ইয়া বাতিন (প্রকাশ্য ও গোপন), আমার সকল প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহ আপনি ক্ষমা করে দিন ও রক্ষা করুন। সব রকমের বিপদ আপদ থেকে আমাকে রক্ষা করুন।

২২. ইয়া কাহহার (নিয়ন্ত্রণকারী)! আমাকে অতিরিক্ত ঘুম, খাওয়া ও অলসতা কাটিয়ে উঠার শক্তি দান করুন। কাজে প্রফুল্লতা ও সহজতা দান করুন। দুনিয়ার দায়িত্বগুলো সহজে কাটিয়ে আপনার সাথে যেন সময় কাটাতে পারি সেই তাওফিক্ব দিন। আমি যেন তাহাজ্জুদ ও ফজর সালাতে ঘুম থেকে জাগরণ করতে পারি এবং খূশু খূযুর সাথে আপনার সম্মুখে দাঁড়াতে পারি।

২৩. ইয়া মুহাইমিন (আশ্রয়দাতা)! আমাকে সেসব সত্যিকারের আর রহমানের বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষিত। ইয়াওমুল কিয়ামতের দিনে আপনার আরশের ছায়া দিয়েন মালিক।

২৪. ইয়া হাফিজ (হেফাজতকারী)! আমাকে একজন ক্বুরআনের হাফিজ/হাফিজা হতে সাহায্য করুন, আমাকে অনুরূপ বিবাহ করার/ আমাদের মধ্যে যাদের বিবাহ হয়ে গিয়েছে তাদের সঙ্গীদের হাফিজ হওয়ার তাওফিক্ব দিন এবং আমার বংশধরের সকলকে কুরআনের হাফিজ হওয়ার তাওফীক্ব দিন। তারা যেনো কুরআনকে তাদের অন্তরে ও জিহ্বায় ধারণ করে, তারা যেনো "জীবন্ত ক্বুরআন" হয় সালাফদের এর মতো।

২৫. ইয়া মু'মিন (নিরাপত্তা ও ঈমান দানকারী)! আমাদের মা বোনদের সম্ভ্রম আপনি রক্ষা করুন। পরিপূর্ণ পর্দা করার শক্তি ও পরিবেশ দিন। আমাদের সকলের দৃষ্টিকে হিফাজত করতে সাহায্য করুন। মুসলিম ভাই ও বোনদের ভেতরকার বিদ্বেষ ও অসন্তোষ মিটিয়ে দিন। যে দায়িত্ব অর্পণ করে নারী ও পুরুষদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, তা পরিপূর্ণভাবে পালন করার তাওফিক দিন।

২৬. ইয়া নূর (পরম আলো)! আমাকে সেসব শ্রেষ্ঠ মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা নিজেরা ক্বুরআন শিখে ও অন্যদের তা শিক্ষা দেয়। নিজের ক্বলবে অতি পবিত্রতার সাথে তা ধারণ করার তাওফিক্ব দিন। আপনার কালাম, আল ক্বুরআন সুন্দর করে তিলোওয়াত করার ও তাদাব্বুর করার তাওফিক্ব দিন, যার মাধ্যমে অন্তরে প্রশান্তি আসে। অন্তরের আরোগ্য দূর হয়। ক্বুরআন কে আমার অন্তরের নূর বানিয়ে দিন এবং আমার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দানকারী বানিয়ে দিন। তা করে দিন আমার জন্য পথপ্রদর্শক ও শান্তির পয়গাম। আমাদেরকে ক্বুরআনের শাফা'আত লাভের তাওফীক্ব দিন। সূরা বাক্বারা ও আল ইমরান কে হাশরের দিনে আমাদের মাথার উপর মেঘের ন্যায় ছায়া বানিয়ে দিন।

২৭. ইয়া রউফ (দয়াময়), আন নাফি (উপকারী)! সকল প্রকার শারীরিক, মানসিক ও অন্তরের রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। হতাশা ও দুশ্চিন্তায় জর্জরিত হওয়ার আগেই আমাদের বিপদ হতে মুক্তি দিন। অন্তরে প্রশান্তি দিন, ইয়া আস সালাম!

২৮. ইয়া ফাত্তাহ (কল্যাণের রুদ্ধদ্বার উন্মোচনকারী)! আমাকে আপনি প্রজ্ঞা ও সচেতনতা দান করুন। আমাকে কপটতা ও মূর্খতা থেকে দূরে রাখুন। আপনার অবতীর্ণ করা উদারতা (রহমত) থেকে আমাকে দান করুন কিছু অংশ।

২৯. ইয়া মুতাকাব্বির (প্রতাপশালী)! আপনার সব হুকুম পালন করার শক্তি দিন, আপনার স্মরণে অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করার তাওফিক্ব দিন। আপনার মহত্ত্বের দরুণ আমাকে রক্ষা করুন, আর আপনার অনুগ্রহের দরুণ আমাকে সৎ, অনুগত ও আপনার বন্ধু হওয়ার তাওফিক্ব দিন ইয়া রফিক্বুল আ'লা!

৩০. ইয়া সালাম (নিরাপত্তা-দানকারী)! আমি যেন ইয়াতিমদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে পারি, ক্ষুধার্তদের খাবার দিতে পারি আমাকে দাতার হাত হওয়ার তাওফিক্ব দিন। আপনার শান্তির বাণী যেন ছড়িয়ে দিতে পারি, উত্তম মানুষের সাহচর্যে থাকতে পারি এবং সর্বদা আপনার উপর আস্থা রাখতে পারি, সেই তাওফিক্ব আমাকে দিন।

৩১. ইয়া বাসিত (প্রশস্তকারী)! আমার তাক্বদীরে যে কষ্ট আপনি রেখেছেন, তাতে ধৈর্য্য ধরার তাওফিক্ব দিন। সে কষ্টগুলো আমার জন্য সহজ করে দিন। আমাকে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলো ঈমানী শক্তি দিয়ে পাড় করার তাওফিক্ব দিন। একজন পরিপূর্ণ দ্বীনদান হওয়ার সাধ্য দিন এবং তাতে অবিচল থাকার তাওফিক্ব দিন। আমার কষ্টগুলো দূর করে দিন মালিক। ইয়া সম্মানের মালিক আল্লাহ! আমাকে সম্মানিত করুন।

৩২. ইয়া বাসীর (সর্বদ্রষ্টা)! আমাকে অন্ধ অবস্থায় কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করবেন না। আপনাকে দেখার সৌভাগ্য দিন! এই চোখদুটো যে কেবল আপনাকে দেখার ইচ্ছেয় অধীর হয়ে আছে।

৩৩. ইয়া আজিজ (প্রতিপত্তিশালী)! আমার নাফসের কাছে আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও ছেড়ে দিয়েন না। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আমাকে রক্ষা করুন। আমার অন্তরের কালিমা মোচন করুন, একজন সত্যবাদী, নিষ্ঠাবান মানুষ হতে সাহায্য করুন।

৩৪. ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়ুম (চিরঞ্জীব, অনাদি)! আপনার প্রতি আমার মনে বিশ্বাস বাড়িয়ে দিন। আপনার উপরই সমস্ত ভরসা যেন ন্যস্ত করতে পারি। আপনার রাজত্ব ও আধিপত্য নিয়ে এতটুকুও সংশয় মনের ভেতর আসতে দিয়েন না। বিতাড়িত শাইত্বনের ও মানুষের ওয়াসওয়াসা থেকে আমাকে রক্ষা করুন। আমার বিরুদ্ধে তার পরিকল্পনাকে নসাৎ করে দিন।

৩৫. ইয়া ওয়াদুদ (প্রেমময়)! আমার অন্তরে আর আপনার প্রেরিত রসূল (সঃ) এর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে দিন। আমি আমার রাসূল(সঃ) কে যেন আমার পিতামাতা, স্বামী/ স্ত্রী, সন্তানাদি থেকে উপরে স্থান দিতে পারি। আমার রাসূলের সম্মান আপনি কখনো ক্ষুন্ন হতে দিয়েন না।

৩৬. ইয়া সাবুর (পরম ধৈর্যশীল), আল হাসিব (হিসাব-গ্রহণকারী)! আমাকে ধৈর্য্যশীলদের একজন হওয়ার তাওফিক্ব দিন। আপনার প্রতি ও মা-বাবার প্রতি অনুগত হওয়ার তাওফিক্ব দিন। তাদের হক্ব পরিপূর্ণভাবে আদায় করার তাওফিক্ব দিন। আমার পরিবারের সদস্যদের একে অপরের সাথে আচরণকে আরও উন্নত করে দিন। তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রতি বাড়িয়ে দিন।

৩৭. ইয়া রাজ্জাক (রিযিক দাতা)! আমাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রদান করুন। অফুরন্ত রিজিক দান করুন, কিন্তু তাতে কোনো লিপ্সা দিয়েন না। খুশি মনে যেন আপনার পথে দান করতে পারি। আমাদের দুনিয়াবি প্রতিযোগীতা ও ঔদ্ধত্য থেকে দূরে রাখুন। আমার সাদাক্বা-ই-জারিয়াহ গুলো কবুল করুন, বারাকাহ দিন, যেন তা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকে এবং নাজাতে উসিলা হয়, আপনার দরবারে গ্রহণযোগ্য হয়।

৩৮. ইয়া শাকুর (সুবিবেচক)! আমাকে আপনার প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকার তাওফিক্ব দিন। আপনার হুকুম যথাযথভাবে পালনের তাওফিক্ব দিন। আপনার সামনে যেন কৃতজ্ঞ হৃদয় নিয়ে দাঁড়াতে পারি।

৩৯. ইয়া মুক্বীত (লালনপালনকারী)! আমাদের ভাইদের জন্য সংসার ভরণপোষণ করা সহজ করে দিন, উত্তম রিজিক দিন। তাদেরকে করুন আমাদের সুরক্ষাকারী, সাহায্যকারী ও আমাদের পথ প্রদর্শক।

৪০. ইয়া শাফী (আরোগ্যদাতা)! আরোগ্য দান করুন এমন সকলকে, যারা দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভুগছে। যারা ক্যান্সার সহ আরো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত, তাদের যন্ত্রনা আপনি লাঘব করে দিন। শিফা দিন। আমাকে এবং আমার প্রিয়জনদের সকল দুরারোগ্য ব্যধি থেকে রক্ষা করুন। বার্ধক্য এবং অলসতা থেকে আমাদের বাঁচান। অসহায় অসুস্থতা থেকে আমাদের রক্ষা করুন মালিক। সুস্থ ও সবল মুসলিম সমাজ উপহার দিন।

৪১. ইয়া মুহিত (পরিবেষ্টঙ্কারী)! আমাদের দাজ্জালের ফিতনাহ থেকে রক্ষা করুন, পানি ও খাবারের কষ্ট থেকে রক্ষা করুন। ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং শেষ দিবসের সব ভয়ানক পরীক্ষা থেকে আমাদেরকে বাঁচান ইয়া রব! নিজেকে অপরের জন্য ফিতনাহ হওয়ার থেকে রক্ষা করুন। অপরকে আমার জন্য পরীক্ষাস্বরূপ হওয়া থেকে রক্ষা করুন। সময় অপচয় করা থেকে রক্ষা করুন, সম্পদের অপচয় করা থেকে রক্ষা করুন, খারাপ অভ্যাস থেকে রক্ষা করুন। প্রত্যেক খারাপ কে ভালো দ্বারা প্রতিহত করুন, আল মালিক!

৪২. ইয়া মুক্ব্সিত (হক-আদায়কারী), ইয়া মুনতাকিম (প্রতিশোধ-গ্রহণকারী)! আমাকে ও এই উম্মাহকে আপনি অত্যাচারীদের হাত থেকে বাঁচান। বিপদ থেকে রক্ষা করুন, পরীক্ষায় সহজে উতরে যাওয়ার তাওফিক্ব দিন। যে সকল মুসলিমরা আজ কেবলমাত্র মুসলিম পরিচয়ের কারণে নিপীড়িত ও অত্যাচারিত হচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য আপনি যথেষ্ট হয়ে যান। নাবী ইউসুফের পাঠশালায় আমার যারা রয়েছেন, তাদের মুক্তি ত্বরান্বিত করুন। তাদের রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন, তাদের পরিবারে রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন, তাদের ধৈর্য্য ধরার তাওফিক্ব দিন।

৪৩. ইয়া মালিকুল মূলক (সমগ্র জগতের বাদশাহ্)! এই উম্মাহকে একত্রিত করুন। মুসলিম উম্মাহর উপর রহম করুন! ইসলামকে পুনরায় বিজয় দান করুন। আমি আপনার কাছে মুসলিম যুবকসম্প্রদায় এবং উম্মাহর হিদায়াত এর জন্য প্রার্থনা এবং মিনতি করছি। বিভিন্ন দলের বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদের সিরাত্বল মুস্তাক্বিম (সরল, ভারসাম্যপূর্ণ পথ) এর উপর রাখুন। যে পথ চলে গেছে আপনার তরে সে পথে আমাদের ঠাঁই দিন।

৪৪. ইয়া যুল জালালী ওয়াল ইকরাম (মহিমান্বিত ও দয়াবান সত্তা)! উম্মাহর নারী ও পুরুষদের কে উজ্জীবিত করুন। তাদের সত্যিকার দ্বীনদার ও সম্মানিত করে তুলুন। আমাদেরকে এমন মুনাফিকদের কাছ থেকে দূরে রাখুন যারা আমাদের মানসিক প্রশান্তি ও ঈমান ধ্বংস করতে পারে। আমাদেরকে কুফরি, হতাশা, কুকর্ম, বিদআ'ত এবং শির্ক থেকে রক্ষা করুন।

৪৫. ইয়া জব্বার (পরাক্রান্ত)! এমন ব্যক্তি থেকে আমাদের দূরে রাখুন যে, আমাদের ক্ষতি করতে চায়। আমার শত্রুদেরকে আমার বন্ধু তে পরিণত করে দিন। আর আমার বন্ধুদের করে দিন আরো অন্তরঙ্গ। আমাকে এমন সব মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত রাখুন যারা সর্বদা আমাকে আপনার ও আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে। যাদের দেখলে আপনার কথা স্মরণে আসবে।

৪৬. ইয়া আল-মানিই' (অকল্যাণরোধক)! আমাকে এবং আমার প্রিয় মানুষদের শাইত্বনের ওয়াসওয়াসা, মানুষ ও দুষ্ট জ্বিন, বদনজর, সকল অশুভ শক্তি ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন। তাদের মন্দ প্ররোচনা এবং চক্রান্ত থেকে আমাদের নিরাপদ রাখুন। রক্ষা করুন আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সকল প্রকার খারাপ থেকে যা আমাদের ক্ষতি করে।

৪৭. ইয়া ওয়ালি (অভিভাবক)! আমার পিতা-মাতার উপর সদয় হউন এবং তাদেকে ক্ষমা করুন, যেমনটি তারা আমার দেখভাল করছেন আমি ছোট থাকতে। ইয়া আল্লাহ! আমার পিতা মাতাকে আমার জন্য গর্বিতবোধ করুন, দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই। তাদের জান্নাতের উঁচু মাকামে স্থান দিয়েন মালিক। আমাদের মধ্যে থেকে যারা গত হয়ে গিয়েছেন, তাদের কবরকে প্রসারিত করে দিন, জান্নাতের বারিধারা প্রবাহিত করে দিন। জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। তাদের সন্তানের উসিলা হয়ে তাদের নাজাত দিন।

৪৮. ইয়া বা'য়িস (পুনরুত্থানকারী)! মৃত্যুর পর আমার রুহ আর আমলনামা যেন ইল্লিয়্যিনে জায়গা পায়। ইয়া মালিক! যখন কোথাও কোন ছায়া থাকবে না, তখন আমাকে আর আমার ভালবাসার মানুষদের আপনার আরশের ছায়ায় একটু জায়গা দিয়েন।

৪৯. ইয়া ওয়াজিদ (অফুরন্ত ভান্ডারের অধিকারী)! আমাকে ও আমার পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী সহ সকল আপনজনদেরকে হিদায়াত ও চূড়ান্ত সাফল্য দান করুন। কবরের শাস্তি ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন এবং দাখিল করুন জান্নাতুল ফেরদৌসে। আমাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে তাদের সাথে মিলিত করে দিন যাদের আমি শুধু আপনার জন্যই ভালো বেসেছি।

ইয়া আত্-তাওয়াব (ক্ষমাকারী)! দয়া করে আমাকে উসিলা বানিয়ে আমার পরিবার, বন্ধুদের ক্ষমা করুন ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে জান্নাতে দাখিল করুন।

৫০. ইয়া হামিদ (প্রশংসনীয়), ইয়া কুদ্দুস (পবিত্র)! আমাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে আপনার আরশের নিচে আপনার কাছে একটি বাড়ি বানিয়ে দিন, ইয়া আল্লাহ! আমরা আপনার কাছ থেকেই এসেছি, আবার আপনার কাছেই ফিরে যাব। আমাদের এমন পথে পরিচালিত করুন যা আপনার সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায়, এমন পথে পরিচালিত করবেন না যা, আপনার অসন্তোষের কারণ হয়। আমাদের সকল দুয়া, ইবাদত ও আমল কবুল করে নিন, এবং আমাদের সকল ধরনের বিপদ-আপদ ও যে কোনো দুঃখ দুর্দশা থেকে হেফাযত করুন!

আমীন ইয়া রব্বুল আ'লামীন।

সুবহানা রব্বিকা রব্বিল 'ইজ্জাতী আম্মা ইয়াসিফুন। ওয়া সালামুন আলাল মুরসালিন, ওয়াল হামদুলিল্লাহি রব্বিল আ'লামীন। (আপনার প্রতিপালক যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী, তিনি পবিত্র ঐ সকল কথা থেকে- যা কাফিররা বলে থাকে; এবং নবীদের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক এবং সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার জন্য।)

এই অধমের আর্জিগুলো কবুল করে নিন, আমার সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু! আমার অভিভাবক! আর আপনি ব্যতীত আমার তো কোনো অভিভাবক নেই।

[আরবি ব্যকরণ অনুযায়ী 'ইয়া' এরপর 'আল' যোগ করার প্রয়োজন নেই। তবে 'ইয়া' না ব্যবহার করলে আল্লাহর নামগুলোর পূর্বে আল লাগাতে হবে।]

- - - - - - - - ★ - - - - - - - -

লাইলাতুল ক্বদরে এই দুআগুলো আপনার সঙ্গী হতে পারে। তবে এর পূর্বে কুরআন ও হাদিস হতে প্রাপ্ত অসাধারণ সুন্দর দুআ গুলো পড়তে ভুলবেন না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শেখানো দুআর মাধুর্য ও শক্তি অধিক বেশি।

সেই সাথে নিজের জীবনের ছোট বড় আর্জি গুলোও আল্লাহর সামনে তুলে ধরবেন- তা হোক পৃথিবীতে একটি জুতার ফিতার জন্য কিংবা জান্নাতে আল্লাহর নিকটে একটি বাড়ির জন্য।

আর কোনো দুআ ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় একটি দুআর লিস্ট প্রস্তুত রাখা উত্তম। সেখানে এক কোণে পারলে নাশিতার নামও লিখে রেখেন।

21/03/2025
20/03/2025

শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে- দ্য আল্টিমেট মিশন! এই মিশন হল রামাদানের শেষ দশ রাতে লাইলাতুল ক্বদরকে খুঁজে পাওয়ার মিশন।

সালাত, যিকর, সাদাকাহ, দুআ, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি যেটাই করা হবে না কেন এই রাতে, সাওয়াব বেড়ে যাবে হাজার গুণ! এত সুবর্ণ সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়?

এই দশদিন ইবাদাত করবেন আপনার নিজের সামর্থ অনুযায়ী। তা সফলভাবে যেন করতে পারেন সেজন্য আজ থাকছে কিছু টিপস থাকছে-

🌙 দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্নতা :

কোয়ালিটিফুল ইবাদাতের জন্য প্রথমেই দুনিয়াবি চিন্তা ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত।

• বেস্ট হল মসজিদে ইতিকাফ করা। তবে ইচ্ছা থাকলেও সেই সুযোগ এ বছর হয়তো হবে না অনেকেরই। সেক্ষেত্রে বাসার ভেতরেও আলাদা রুমে, একাকী ইবাদত করতে পারেন। এটা ইতিকাফ না, তবে মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
• তাও না সম্ভব হলে দুনিয়াবি আলাপ থেকে এই কটা রাত যথাসম্ভব দূরে থাকুন, অন্তত সোশ্যাল মিডিয়া থেকে।
• মহিলাদের পক্ষে বিচ্ছিন্ন হওয়াটা কষ্টকর, সংসারের কাজ থাকেই। সেসব কাজ যথাসম্ভব দিনের বেলা গুছিয়ে নিবেন।
• ছোট বাচ্চার মায়েরা ওদের একটা ইতিকাফ টেন্ট বানিয়ে দিয়ে ওদের সেখানে বিজি রাখতে পারেন, যাতে হৈ হুল্লোড় কম করে। আর রাতের বেলা জলদি সন্তানদের ঘুম পাড়ানোর পর একটু নিরিবিলি ইবাদাত করতে পারেন।

🌙 সালাত :

ফরজ ও সুন্নাহ সালাতের পাশাপাশি নফল সালাতের প্রতিও গুরুত্ব দিবেন।

• শেষ রাতে কিয়ামুল লাইল পড়বেন, দুই রাকাত হলেও। পরিপূর্ন বিশ্বাস ও সাওয়াবের আশা নিয়ে সালাত পড়লে তা পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফের উসিলা হতে পারে। (সুনান নাসাঈ)
• সালাত জামাতে পড়ার মাধ্যমে সাওয়াব ২৭ গুণ করে ফেলতে পারেন। বাসাতেও তারাবীহ জামাত করে পড়া যায়।
• রাতে ওযুর পর দু রাকাত নফল সালাত পড়তে পারেন, এই সালাতের ফজিলত অনেক।
• রুকু ও সিজদাহ দীর্ঘ করার চেষ্টা করবেন রাসূল (সাঃ) এর মত। নতুন কিছু তাসবীহ মুখস্ত করে নিন।
• চেষ্টা করবেন সালাতে যেন সর্বোচ্চ ফোকাস (খুশু) ধরে রাখতে।

🌙 কুরআন :

কুরআন নাযিলের মাসে কুরআনের সাথে অধিক সময় কাটাবেন অবশ্যই।

• কুরআন তিলাওয়াত করুন বেশি বেশি। প্রতিটি হরফের জন্য ১০ নেকি! তিলাওয়াত করতে না পারলে অন্তত অডিও শুনুন।
• তিলাওয়াতের পাশাপাশি অর্থও পড়ুন। সালাতে পড়ার সূরাগুলোর প্রতিটি শব্দের অর্থ জানুন, বিশেষ করে সূরা ক্বদরের। সম্ভব হলে সেগুলোর তাফসীরও পড়বেন এবং গভীরভাবে চিন্তা করবেন।
• নতুন কোন সূরা বা কুরআনের ছোট্ট কোন দুআ মুখস্ত করতে পারেন।

🌙 যিকর :

যখনই সময় পাবেন যিকর করবেন। চলতে-ফিরতে, শুয়ে-বসে কিংবা রান্না করতে করতেও যিকর করা যায়। কিছু সহজ যিকরের উদাহরণ দেয়া হল, যেগুলো পড়লে প্রচুর লাভবান হবেন-

• আজানের পর শাহাদাহ বাক্য- পড়লে জান্নাতের সব দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
• দুরূদ- একবার পড়লে দশবার রহমত নাজিল হবে।
• লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহদাহু লা শারিলাহু, লাহুল মূলক ওয়া লাহুল হামদ, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বদীর- একশবার পড়লে দশজন ক্রীতদাস মুক্তির সাওয়াব হবে।
• সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম- একশো বার পড়লে সমুদ্রের ফেনার মত গুনাহও মাফ হবে।
• সালাত শেষে সুবহানাল্লাহ (৩৩), আলহামদুলিল্লাহ (৩৩), আল্লাহু আকবর (৩৩)- সাগরের ফেনার সমান গুনাহ মাফ হবে।
• লা হাওলা, ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ- জান্নাতের একটি অলংকার এটি।
• আস্তাগফিরুল্লাহ- রাসূল (সাঃ) দৈনিক অন্তত ৭০-১০০ বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন।
• সকাল সন্ধ্যার যিকিরসমূহ (দেখুন হিসনুল মুসলিম)- এগুলো প্রতিদিন পড়লে সমূহ বিপদ ও শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করে।

🌙 সাদাকা :

প্রতি রাতেই অল্প অল্প করে সাদাকাহ করার চেষ্টা করবেন।

• কত টাকা সাদাকা করবেন আগেই নির্দিষ্ট করে ফেলুন। যেহেতু বেজোড় রাতে এবং শেষের দিকে লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাই দশদিনের জন্য এভাবে টাকা ভাগ করতে পারেন- ১৫০, ১০০, ১৫০, ১০০, ২৫০, ১০০, ২৫০, ১০০, ২৫০, ১০০। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। আপনার সুবিধা অনুযায়ী ভাগ করুন।
• বিকাশে বা নগদে পাঠালে ফোন নাম্বার আগেই লিখে কোথাও লিখে রাখুন। যেন ওই সময়ে ফোন হাতে সময় অপচয় না হয়।
• বিকাশ, নগদ কিছুই না থাকলে একটি খামে প্রতি রাতে টাকা আলাদা করে রাখবেন, পরদিন সকালে বা পরে একবারে দিয়ে দিবেন।

🌙 দুআ :

দুআ হল লাইলাতুল ক্বদরের মূল আকর্ষণ। এটিও কিন্তু এক প্রকার ইবাদাত, তাই এতে পর্যাপ্ত সময় দিন।

• দুআ লিস্ট তৈরি না করে থাকলে জলদি করুন। নিজের ও আপনজনদের কি চাওয়া সব লিখে ফেলুন। নিজ দেশের কথা; মুসলিম উম্মাহর, বিশেষত মজলুমদের কথা ভুলবেন না। জালিমদের বদদুআ করতেও ভুলবেন না।
• একটি দুআর শর্টলিস্ট রাখবেন। দুআ কবুলের সময় গুলোতে পড়ার জন্য। (যেমন- ইফতারের আগে, শেষ রাতে, বৃষ্টির সময়, ভালো কাজের পর, আজানের পর ইত্যাদি)
• কুরআনের ও হাদিসের দুআ গুলো সব পড়বেন, প্রয়োজনে দেখে দেখে। এগুলোর মধ্যেই মোটামুটি আমাদের যা প্রয়োজন তা মোটাদাগে আছে।
• আল্লাহর সুন্দরতম নামগুলোর সাহায্যে, একাগ্রতার সাথে, কিবলামুখী হয়ে এবং দুহাত তুলে চাইবেন। নিশ্চয়ই কবুল হবে। আর কবুল না হওয়ার হলে বুঝবেন এর থেকেও উত্তম কিছু আল্লাহ আপনার জন্য লিখে রেখেছেন।
• লাইলাতুল ক্বদরের একটি বিশেষ দুআ আছে যেটা বেশি বেশি পড়বেন-

اللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ

(আল্লাহুম্মা ইন্নাকা 'আফুউন, তু'হিব্বুল 'আফওয়া, ফা'ফু 'আন্নী)
হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাকারী, তুমি মাফ করতেই পছন্দ কর, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও।

🌙 ইলম অর্জন

লাগাতার ইবাদাত কষ্টকর হতে পারে, মাঝে মধ্যে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেও সাওয়াব পেতে পারেন।

• ভালো কোন বই পড়ুন। কাগজের বই, পিডিএফ না। ফোন থেকে দূরে থাকাই উত্তম।
• সেটাও কষ্ট হলে ভালো কোন লেকচার শুনুন। লেকচারটি আগেই সেইভ করে রাখতে পারেন, যেন তখন ইন্টারনেট চালু করার প্রয়োজন না হয়।

🌙 অন্যান্য

সাওয়াব অর্জনের উপায় কি শুধু উপরের গুলোই? না। বরং আরো অনেক উপায়েই হতে পারে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা হয়।

• সন্তানের যত্ন নেয়া, মা বাবার খেয়াল রাখা, পরিবারের জন্য রান্না করা, ছোট খাটো গৃহস্থালি কাজ করা ইত্যাদি যাই করবেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করবেন।
• দিনের বেলা আত্মীয়ের খোঁজ নিন। কারো উপর রাগ পোষণ করে থাকবেন না। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করলে আপনার দুআ কবুল নাও হতে পারে।
• অন্তত শেষ দশদিন নিজের জিহবা ও পেটকে লাগাম দিন। কম খেলেই বেশি ইবাদাত করতে পারবেন, বিশ্বাস করুন!
• তারাবীর আগে একটু এক্সারসাইজ বা স্ট্রেচিং করে নিন। দেখবেন অনেক এনার্জি পাবেন।
• নিজেকে পরিপাটি ও সজ্জিত করা, উত্তম পোশাক পড়ার মাধ্যমেও সাওয়াব পেতে পারেন। রাতের সালাতের আগে মিসওয়াক করে, আতর মেখে নিজেকে প্রস্তুত করে নিবেন, কারণ আপনি দুনিয়ার মালিকের সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছেন!
• ঘরটিকেও সুন্দর করে পরিষ্কার করে গুছিয়ে নিবেন। ফেরেশতারা যে মেহমান হতে পারে আপনার ঘরে!
• যেহেতু রাতে ঘুম কম হবে, দুপুরে একটু কায়লুলা বা পাওয়ার ন্যাপ নিলে ভালো হবে। তবে আবার বেশি ঘুমাবেন না।
• ছোট খাটো কোন নতুন সুন্নাহ পালনের টার্গেট নিতে পারেন। বাড়ির অন্যদেরকেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে পারেন যেন আপনার সাওয়াব আরো বৃদ্ধি পায়।
• অসুস্থতার কারণে কিছুই করতে না পারলে শুয়ে শুয়ে আল্লাহর দেয়া নিয়ামত নিয়ে ভাবুন, ইস্তিগফার এবং যিকর করুন। তবু আশা হারাবেন না। আপনার সাথে আপনারই তুলনা হবে, আর কারো সাথে না।

রাসূল (সাঃ) কোমর বেঁধে (দৃঢ়ভাবে) ইবাদাত করতেন রামাদানের শেষের দশদিন। পরিবারের অন্যদেরকেও জাগিয়ে দিতেন। আমরাও তাঁর মত চেষ্টা করবো নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে ইবাদাত করার, আপনজনদের সঙ্গে নিয়ে। হতে পারে এটাই আমাদের জীবনের শেষ লাইলাতুল ক্বদর।

আল্লাহ আমাদের সকলকে লাইলাতুল ক্বদর মিলিয়ে দিন ও সে রাতের প্রচেষ্টা কবুল করে নিন। আমিন।

22/03/2024
21/03/2024

টেবিলে রাখা জগ থেকে গ্লাসে ঢেলে পানি খাওয়ার সময় বড় বোন ইরার মুখোমুখি হলো ছোট্ট সাবিহা। ইরা মুচকি হেসে বললো, 'কিরে তুই না রোজা ছিলি, তাহলে পানি খেয়ে নিলি কেনো?'
সাবিহা ভয় ভয় চোখে বললো, 'আপু আজ তো খুব গরম, তাই খুব কষ্ট হচ্ছিলো পিপাসায়। তাই আম্মুই বললো পানি খেয়ে নিতে।'

ইরা বললো, 'বেশি কষ্ট হলে তো ঠিক আছে। কিন্তু গরমেও রোজা থাকার অভ্যাস করতে হবে তো। আচ্ছা, চল তোকে একটা বুদ্ধি শিখাই, তাহলে তোর রোজা থাকার অভ্যাসটা আস্তে আস্তে হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।'

'কি বুদ্ধি আপু?'
'শোন, আজ থেকে তুই যদি একটা রোজা পুরো রাখতে পারিস, তাহলে তোকে ৫০ টাকা করে দিব।' 'একটা রোজা রাখলে ৫০ টাকা!'
'আরে, এটা তো কিছুই না। আসল পুরুষ্কার তো আল্লাহ দিবেন কিয়ামতের দিন। তবে, সব কাজের বিনিময়ে যে আমার থেকে শুধু পুরুষ্কারই পাবি তা কিন্তু হবে না। মাঝে মধ্যে শাস্তির কথাও মাথায় রাখবি।'
'ক-কি শাস্তি আবার?'

ইরা হেসে বললো, 'ধর, প্রতিবার খাওয়ার আগে, ভালো মতো হাত ধুয়ে খাবি, এটা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত। আর খাওয়ার আগে অবশ্যই 'বিসমিল্লাহ' বলে খাওয়া শুরু করবি। এতে খাবারে বরকত আসবে।

আর এই অভ্যাসগুলো করতে গিয়ে যদি ফাঁকি দিস তাহলে তোর ছোটখাটো শাস্তি হবে। মনে কর, প্রতিবার হাত ভুলে গেলে তুই খাওয়ার পরে নিজের প্লেট ধুবি, বুয়াকে দিবি না। বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে সেদিন দুইটা অংক বেশি করতে হবে! বুঝলি?'

আজ সাবিহা, ইফতারি খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিয়েছে। খাওয়া শেষে ইরাকে বলছে, 'আপু আমি কিন্তু আজ হাত ধুয়ে খেতে বসেছিলাম।' ইরা বললো, 'আর বিসমিল্লাহ?'
'ইশ! ভুলে গিয়েছিলাম!'
'তাহলে এবার শাস্তিস্বরূপ দুইটা অংক বেশি করতে হবে যে!'

পরের দিন সাবিহা হাত ধুয়ে খেতে বসে আগেই বিসমিল্লাহ পড়ে নিলো। এভাবে ধীরে ধীরে পরিবারের অন্যদের তদারকিতে তার অনেক গুলো ভালো অভ্যাস গড়ে উঠলো, আলহামদুলিল্লাহ।

____________________­____________________­

উপরের ঘটনায় ইরা তার ছোট বোনকে যেই পদ্ধতিতে অভ্যাস গঠন ও তা নিয়মিত করা শেখালো সেই পদ্ধতির নাম 'দ্যা হ্যাবিট কন্ট্রাক্ট'।

'হ্যাবিট কন্ট্রাক্ট' হলো নির্দিষ্টভাবে একটি মৌখিক বা লিখিত চুক্তি যা আপনার কোনো অভ্যাস পূরণ সাপেক্ষে করা হয়। সেটি সঠিকরূপে সম্পাদন না করলে তার জন্য আপনাকে হয় নির্দিষ্ট কোনো শাস্তি দেয়া হবে নাহয় করতে পারলে পুরুষ্কার দেয়া হবে। উদাহরণ হিসেবে এখানে সাবিহা ও ইরার গল্পটি ব্যবহৃত হয়েছে। তবে কন্ট্রাক্ট যে দুজন ব্যক্তির মধ্যে হতে হবে তাই না, নিজের সাথে নিজেরও হতে পারে।

আমরা যখন কোনো অভ্যাস গড়তে/ট্যাগ করতে চাই, তখন সেটা আমাদের নিয়মিত করতে হয়। অথচ কয়েকদিন সব ঠিকঠাক মতো চললেও তারপর আবার সব শিথিল হয়ে যায়।

ছোটবেলায় যখন বাবা-মা কোনো কাজ করতে দিতো, সেটা করতে ভুলে গেলে বা না করলে তারা হালকা বকাঝকা বা শাস্তি দিতো, যেমন- খেলার চাইতে বেশিক্ষণ পড়তে হতো বা টিভি দেখতে দেয়া হতো না। আবার কোন কঠিন কাজ করতে পারলে পুরুষ্কার হিসেবে চকোলেট, আইসক্রিম বা নিদেনপক্ষে একটা আদর কিন্তু জুটত। এতে আমাদের কোন কাজ সঠিকরূপে করার একটা তাড়া থাকতো।

সেই একইভাবে গবেষকেরা একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে আপনি নিজের/কারো সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকবেন যে, এই অভ্যাসটি চালিয়ে যাওয়ার মাঝে কোনো ফাঁকি দিলে আপনাকে এই শাস্তি/পুরুষ্কার দেয়া হবে।

ধরুন, আপনি ঠিক করলেন আপনি রোজ সকালে নিয়ম করে দুই কিলোমিটার রাস্তা হাঁটবেন। আপনি কয়েকদিন সেই মোতাবেক চললেন। কিন্তু, তারপর আপনাকে আলস্য আঁকড়ে ধরলো। এখন যদি আপনি একজন পরিচিত ব্যক্তিকে আপনার মেন্টর বা গাইড হিসেবে নির্ধারণ করেন, যে হাঁটতে না গেলে আপনাকে সকালের খাবার খেতে দিবে না, তখন নিজের অজান্তেই আপনার হাঁটতে যাওয়ার মনোভাব তৈরি হয়ে যাবে।

এই হ্যাবিট কন্ট্রাক্ট পদ্ধতিটির মূল ৩টি জিনিসকে কেন্দ্র করে-

[১] নির্দিষ্ট কোনো কাজ নির্ধারণ করা, যা আপনি অভ্যাসে পরিণত করতে ইচ্ছুক। কিংবা এমন কোন বদঅভ্যাস, যা ছাড়া জরুরি।
[২] কি শাস্তি বা পুরুষ্কার দিবেন তা ঠিক করা। এক্ষেত্রে শাস্তি অবশ্যই বেশি ক্ষতিকর হওয়া যাবে না আর পুরুষ্কারও থাকতে হবে সীমার ভেতর। আরো উত্তম হয় যদি তা অন্য কোন ভালো অভ্যাস গড়তে সহায়ক হয়, যেমন গল্পে দেখানো হয়েছে।
[৩] অভ্যাসটি চালিয়ে যাওয়ার পুরো সময় আপনাকে যিনি সাহায্য করবে, এমন কাউকে বেছে নেয়া। তিনি হতে পারেন আপনার মা, বাবা, ভাই, বোন, বন্ধু, সহকর্মী, স্বামী, স্ত্রী, এমনকি আপনি নিজেও। তবে অন্য কেউ, বিশেষ করে দায়িত্বশীল কেউ হলেই উত্তম।

এছাড়াও অভ্যাস গঠনকে বিজ্ঞানীরা ৩টি ভাগে ভাগ করেছেন-

১. প্রোডাক্টিভ অভ্যাস গঠন-
আমাদের রোজকার জীবনে অনেক কাজই আমাদেরকে প্রোডাক্টিভ থাকতে বাধা দেয়। যেমন, দিনের বেশিরভাগ সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করা। অনেকেরই সোশ্যাল মিডিয়ায় তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ নেই, তবুও এটা আমাদের এমন এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই আমাদেরকে এদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে যেনো আমাদের গৃহীত অভ্যাসটি প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

২. ফিজিক্যাল বা শারীরিক অভ্যাস গঠন-
আমাদের শরীর সুস্থ থাকার জন্য যেই অভ্যাসগুলো থাকা জরুরি সেগুলোই এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। যেমন, নিয়মিত ব্যায়াম করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রক্রিয়াজাত খাবার অধিক পরিমাণে না খাওয়া ইত্যাদি।

৩. মেন্টাল বা মনস্তাত্ত্বিক অভ্যাস গঠন -
আমাদের নাফসকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যা করা দরকার সেই অভ্যাস গঠনই মেন্টাল বা মনস্তাত্ত্বিক অভ্যাস গঠন করা। যেমন, মানুষের সাথে বিরোধ না রেখে ক্ষমা করে দিলে সাওয়াব অর্জনের পাশাপাশি আমাদের মনে প্রশান্তি আসে, আমরা ভালো থাকি। এরকম আরো অনেক মেন্টাল অভ্যাস রয়েছে।

এখন মনে হতে পারে, একজন মুসলিম মাত্রই তো আল্লাহকে ভয় করে সব কাজ করবে, তার তো কন্ট্র্যাক্ট করার প্রয়োজন হওয়ার কথা না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও আমরা বেশির ভাগ মুসলিমই আজ অনেক সুন্নাহ ও অন্যান্য অভ্যাসের কথা জেনেও তা গড়তে পারিনা, মন্দ অভ্যাস ছাড়তে পারিনা। তাদের জন্য অন্যদের সহযোগিতা ও পর্যবেক্ষণ কার্যকরী হতে পারে, ইন শা আল্লাহ।

বিগত শাবান মাসে আমাদের পেইজে দীর্ঘমেয়াদি অনেকগুলো সুন্নাহভিত্তিক ও হেলদি অভ্যাস গড়ার টার্গেট দেয়া হয়েছিলো। ইতিমধ্যে সেগুলো অভ্যাস না হয়ে থাকলে এখন থেকে অল্প অল্প করে নতুন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন সেগুলো থেকে।

রামাদান মহাব রবের ইবাদত করার সাথে সাথে নিজেকে বদলানোরও মাস। হ্যাবিট মেকিংয়ের জন্য অন্যতম সেরা সময় এটা। একই সাথে যদি উপরের হ্যাবিট কন্ট্রাক্ট মেথডটি কাজে লাগান তাহলে খুব সহজেই নতুন কোনো সুঅভ্যাস গড়ে তুলতে পারবেন, ইন শা আল্লাহ।



Address

Dhaka
1230

Telephone

+8801636954466

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Alfath Apparel posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Alfath Apparel:

Share