07/09/2021
হাদিস ও চিকিৎসা বিজ্ঞানঃ বৃষ্টিতে ভেজা।
প্রচলিত কুসংস্কারঃ বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর হয়।
ভুলে যাওয়া একটি সুন্নাহঃ বৃষ্টির পানি শরীরে মাখা।
সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি বৃষ্টি নাকি শরীরের পক্ষে একেবারেই ভাল নয়। সত্যিই কি তাই? বৃষ্টিতে ভিজলে বাস্তবিকই কি হাজারো রোগ শরীরকে আক্রমণ করে? পিতামাতা ও বড়দের সবচেয়ে কমন উক্তি হল বৃষ্টিতে ভিজলে নাকি জ্বর হয়। কিন্তু সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ডাক্তার আমাদের প্রিয় নবী; বিশ্ব নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী শুনলে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না! বর্তমান বিজ্ঞান এবং গবেষণাও আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে।
১. বৃষ্টি আশীর্বাদ না অভিশাপ?
وَهُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ الْغَيْثَ مِنْ بَعْدِ مَا قَنَطُوا وَيَنْشُرُ رَحْمَتَهُ ۚ وَهُوَ الْوَلِيُّ الْحَمِيدُ
মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পরে তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং স্বীয় রহমত ছড়িয়ে দেন। তিনিই কার্যনির্বাহী, প্রশংসিত।
আয়াতটি দেখুনঃ
কুরআন মাজীদ, সূরা আশ-শুরা (পরামর্শ), সূরা নম্বর ৪২, আয়াত নম্বর ২৮, মক্কায় অবতীর্ণ, বাংলা অনুবাদঃ মুহিউদ্দিন খান।
উপরের আয়াতটি থেকে এটা স্পষ্ট যে, বৃষ্টি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার অন্যতম একটি রহমত। মানুষ যখন বিভিন্ন কারণে হতাশা পড়ে বিষন্নতায় ভুগেন; যেমনঃ যে সব দেশে যুদ্ধ, রাজনৈতিক হানাহানি, মারামারি ইত্যাদি অশান্তি লেগেই আছে সে সব জায়গায় মহান আল্লাহ এক নাগাড়ে একদিন, দুইদিন ক্ষেত্র বিশেষ সপ্তাহব্যাপী গুড়িগুড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রাখেন। এতে করে যুদ্ধরত পক্ষগুলো যতক্ষণ না বৃষ্টি বন্ধ হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রায় যুদ্ধ বন্ধ রাখতে হয়। এতে করে সাধারণ মানুষ তাদের নিরাপদ আশ্রয় খুজে নিতে পারে। অন্যদিকে, যুদ্ধে আহত ব্যক্তিগণ তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহন করতে পারপারে। এটা একটা মাত্র উদাহরণ; বৃষ্টির আরো অনেক সুবিধা নিয়ে লিখা যাবে।
অন্যদিকে; অনাবৃষ্টি মানে খরার কারণে অনেক ফসলাদি ফলানো একেবারে কঠিন হয়ে দাঁড়ায় অাবার, অতিবৃষ্টির কারণে বন্যার পানিতে ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েলেও বন্যায় অপকারিতার ছেয়ে উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। যেমন বর্তমানে বাংলাদেশের মত দেশে ছয়মাস কম বৃষ্টিপাত হয় বলে শহর অঞ্চলে ময়লা-আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয় পুরো শহর; সাথেতো দুর্গন্ধের উৎপাততো সাধারণ বিষয়। কিন্তু যখনই বৃষ্টির পানিতে শহরের এলাকাগুলো ডুবে যায়; পুরো শহরের সকল আবর্জনা ও দুর্গন্ধ ধুয়ে-মুছে পানির সাথে চলে যায়।
গ্রাম প্রধান বাংলাদেশের কৃষকেরা জৈব সারের পরিবর্তে রাসায়নিক সার দিয়ে জমি চাষ করতে গিয়ে উচ্চ ফলনের আশায় প্রতিনিয়ত বিষ ঢালছে আমাদের উর্বর জমিতে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যদি বৃষ্টির পানিকে বন্যায় রুপান্তর করে জমিগুলো না ভাসিয়ে দিতেন, তাহলে কৃষকেরা অধিক ফসলতো দূরের কথা, জমি চাষ করা পুরোপুরি ছেড়ে দিতেন আমাদের কৃষকেরা। কারণ বন্যার পানি কমার সাথে সাথে জমির মধ্যে রাসায়নিক সারের মাধ্যমে যে বিষ জমির মাটিতে ছিল সব বন্যার পানির সাথে ধুয়ে-মুছে যায়। ফলে দেখবেন বন্যার পরবর্তীতে চাষ থেকে কৃষকেরা বন্যায় যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তার চার-পাঁচগুণ ফসল বেশি পেয়ে থাকেন। তাই সামান্য বৃষ্টিপাত হোক আর অধিক বৃষ্টিপাত হোক কোনভাবেই তা মানুষের জন্য অভিশাপ নয় বরং উপকারী।
বৃষ্টির উপকারিতা বর্ণনা করে কুরআন মাজীদে অনেক আয়াত রয়েছে। আরো দুইটি আয়াত তুলে ধরলামঃ
“তাঁর আরেকটি নিদর্শন হলো, তুমি জমিনকে দেখতে পাও শুষ্ক-অনুর্বর, অতঃপর যখন আমি তার উপর পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয় যিনি জমিনকে জীবিত করেন তিনি মৃতদেরও জীবিতকারী। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান”। (কুরআন মাজীদ, সূরা ফুসসিলাত, সূরা নম্বর ৪১, আয়াত নম্বর ৩৯)
‘‘আল্লাহ, যিনি বাতাস প্রেরণ করেন ফলে তা মেঘমালাকে ধাওয়া করে; অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে খণ্ড-বিখণ্ড করে দেন, ফলে তুমি দেখতে পাও, তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বারিধারা। অতঃপর যখন তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের উপর ইচ্ছা বারি বর্ষণ করেন, তখন তারা হয় আনন্দিত”। (সূরা আর-রূম, সূরা নম্বর ৩০, আয়াত নম্বর ৪৮)
২. এবার আসা যাক মূল প্রসঙ্গে; বৃষ্টিতে ভিজলে কি আসলেই জ্বর হয়? নিচের হাদিসটি দেখুনঃ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হতে লাগল। আনাস (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর গায়ে বৃষ্টি পড়ার জন্য নিজের গায়ের কাপড় খুলে ফেললেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ‘‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি এরূপ করলেন কেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ সদ্য বর্ষিত পানি তাঁর রবের নিকট হতে আসলো তাই।
হাদিসটি দেখুনঃ
গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), অধ্যায়ঃ পর্ব ৪ঃ জসলাত (كتاب الصلاة), হাদিস নম্বরঃ ১৫০১ (৫); ৫২. প্রথম অনুচ্ছেদ - বৃষ্টির জন্য সলাত। মুসলিম, হাদিস নম্বর ১৯৬৮ (১৩/৮৯৮); আবূ দাঊদ, হাদিস নম্বর ৫১০০; আহমাদ, হাদিস নম্বর ১২৩৬৫; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী, হাদিস নম্বর ৬৪৫৬; ইরওয়া, হাদিস নম্বর ৬৭৮; হাদিসের মানঃ সহিহ।
ইমাম কুরতুবী বলেছেন, ‘আল্লাহর রাসূল বৃষ্টির বরকত পেতে এমন করতেন। এর দ্বারা আরোগ্য লাভ করতেন। কারণ, আল্লাহতায়ালা বৃষ্টিকে রহমত, মনোরম এবং সংশোধক বলে বর্ণনা করেন। এটি জীবন আনয়নকারী। আযাব দূরকারী।
মুসলিম আলেমগণ এই হাদিস থেকে দলীলগ্রহণ করেছেন যে, বৃষ্টি পড়লে সেই বৃষ্টিতে নিজের শরীরের কোন অংশ (যা আওরাহ্ নয়) উন্মুক্ত করে তাতে সিক্ত হওয়া একটি গুরুত্বপুর্ণ সুন্নাহ্।
বৃষ্টিতে ভিজলে যদি অপকারই হত তাহলে এটা নিশ্চিত যে আমাদের রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামা খুলে বৃষ্টিতে ভিজতে বের হয়ে যেতেন না। বরং আমাদের শরীর, মন ও মস্তিকের জন্য বৃষ্টিতে ভেজা অত্যান্ত উপকারী হওয়ায় রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য এই সুন্নাহ রেখে গেছেন।
৩. জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণ।
উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, যারা বলেন বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর হয় এটা লোক মুখে প্রচলিত একটা কুসংস্কার। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উম্মু সায়িব কিংবা উম্মুল মুসাইয়্যাব (রাদ্বিঃ) এর কাছে গিয়ে বললেন, তোমার কি হয়েছে হে উম্মু সায়িব অথবা উম্মুল মুসাইয়্যাব! কাঁদছ কেন? তিনি বললেন, ভীষণ জ্বর, একে আল্লাহ বর্ধিত না করুন। তখন তিনি বললেন, তুমি জ্বরকে গালমন্দ করো না। কেননা জ্বর আদাম সন্তানের পাপরাশি মোচন করে দেয়, যেভাবে হাপর লোহার মরিচীকা দূরীভূত করে।
হাদিসটি দেখুনঃ
গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ ৪৬। সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার (كتاب البر والصلة والآداب); হাদিস নম্বরঃ ৬৪৬৪ (৫৩/২৫৭৫), পরিচ্ছেদঃ ১৪. মুমিন ব্যক্তি কোন রোগ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদিতে পতিত হলে এমনকি তার গায়ে কাটাবিন্ধ হওয়াও তার সাওয়াব; ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর ৬৩৩৬; ইসলামিক সেন্টার, হাদিস নম্বর ৬৩৮৫; হাদিসের মানঃ সহিহ
৪. জ্বরের চিকিৎসা।
ইবনু ‘উমার (রাঃ) এর সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়। কাজেই তাকে পানি দিয়ে নিভাও।
নাফি‘ (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ তখন বলতেনঃ আমাদের উপর থেকে শাস্তিকে হালকা কর।
হাদিসটি দেখুনঃ
গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ ৭৬/ চিকিৎসা (كتاب الطب), হাদিস নম্বরঃ ৫৭২৩, ৭৬/২৮. জ্বর হল জাহান্নামের উত্তাপ। আরো দেখুন, হাদিস নম্বর ৩২৬৪; আধুনিক প্রকাশনী, হাদিস নম্বর ৫৩০৩; ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর ৫১৯৯; হাদিসের মানঃ সহিহ।
জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে পানি ডেলে জ্বরের চিকিৎসার কথা বলেছেন রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সেখানে বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর হয় এটা হল লোখ মুখে প্রচলিত কথার কথা। অনেকে হয়ত বলবেন উপরের হাদিসের আলোকে বাচ্চারাতো নিষ্পাপ তাদের কেন জ্বর হয়? মহান আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
আয়াতটি দেখুনঃ
কুরআন মাজীদ, সূরা আল বাক্বরাহ, সূরা নম্বর ২, আয়াত নম্বর ১৫৫, বাংলা অনুবাদঃ মুহিউদ্দিন খান।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে থাকেন। অনেক সময় আমাদের ছোট্ট সোনামণিদের মৃত্যু দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে জান্নাতে দিয়ে দিবেন অন্যদিকে পিতামাতা যদি ধৈর্য ধরতে পারেন এই শোক থেকে তাদেরকেও জান্নাতে প্রবেশ করাবেনই।
শিশু অবস্থায় কোন ছেলে-মেয়ে মারা গেলে তারা ক্বিয়ামতের দিন তাদের মুসলিম পিতা-মাতাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, মুসলিম শিশু সন্তানেরা জান্নাতের ‘শিশু খাদেম’ হবে। তাদের কেউ পিতা-মাতা কাউকে পেলে তার কাপড় ধরে টেনে জান্নাতে না নেওয়া পর্যন্ত ছাড়বে না’। (মুসলিম, মিশকাত, হাদিস নম্বর ১৭৫২)। অবশ্য যদি আল্লাহ তাদেরকে সুফারিশের অনুমতি দেন, তাহ’লেই কেবল সেটা সম্ভব হবে’। (বাক্বারাহ, সূরা নম্বর ২, আয়াত নম্বর ২৫৫)
৫. অন্যদিকে কুসংস্কার বিশ্বাস করা শিরক। আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোনো বস্তুকে কুলক্ষণ মনে করা শিরক, কোনো বন্তুকে কুলক্ষণ ভাবা শিরক। একথা তিনি তিনবার বললেন। আমাদের কারো মনে কিছু জাগা স্বাভাবিক, কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা করলে তিনি তা দূর করে দিবেন।
হাদিসটি দেখুনঃ
গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ, অধ্যায়ঃ ২৩/ চিকিৎসা (كتاب الطب), হাদিস নম্বরঃ ৩৯১০, পরিচ্ছেদঃ ২৪. অশুভ লক্ষণ। তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, আহমাদ। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ এই হাদীসট হাসান সহীহ। আহমাদ শাকির বলেনঃ এর সনদ সহীহ। হাদিসের মানঃ সহিহ।
৬. এখন দেখা যাক; আধুনিক যুগের গবেষণায় বৃষ্টিতে ভেজার কি কি উপকারিতা পাওয়া গেছে!
১. বৃষ্টির পানিতে কোনও ভেজাল থাকে না। তাই তো সেই পানি শরীরে লাগলে কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই থাকে না। প্রসঙ্গত, বৃষ্টির পানি মাটিতে, নদী-নালায় মেশার পর নোংরা হয়ে যায়, তার আগে নয়! সেই কারণেই তো বিশ্বের অনেক দেশে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখা হয়। পরে প্রয়োজন মতো তা পান করা হয়ে থাকে।
২. একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে বৃষ্টির সময় হাওয়া-বাতাস খুব বিশুদ্ধ হয়ে যায়। তাই তো ওই সময় শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা প্রতিটি বায়ু আমাদের দেহের উপকারে লাগে। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির সময় পরিবেশে উপস্থিত টক্সিক উপাদানের ক্ষতি করার ক্ষমতাও খুব কমে যায়। ফলে এই সময় বাড়ির বাইরে থাকলে সব দিক থেকে শরীরের ভালই হয়। তবে যেমনটা অগেও অলোচনা করা হয়েছে যে ১০-১২ মিনিটের বেশি বৃষ্টিতে ভেজা চলবে না। এর বেশি হলে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া আর কোনও ক্ষতি যদিও হয় না।
৩. সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে বৃষ্টির পানি পরিষ্কার পাত্রে সংগ্রহ করে খেলে শরীরের উপকার হয়। সেই সঙ্গে একাধিক রোগের প্রকোপও হ্রাস পায়। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, যে পাত্রে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করছেন সেই পাত্র যেন জীবাণুমুক্ত হয়, না হলে কিন্তু শরীরের ভাল হওয়ার পরিবর্তে খারাপই হবে বেশি।
৪. বারিবর্ষণের সময় পরিবেশে উপস্থিত জলীয় বাষ্প ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল হয়। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির পর জলীয় বাষ্প বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিবেশে উপস্থিত একাধিক ক্ষতিকর জীবাণুর কর্মক্ষমতা কমে যায়। ফলে এই সময় শরীরের কোনও ক্ষতি হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না।
৫. বৃষ্টির পর কেমন মাটি থেকে সোঁদা গন্ধ বেরোয় দেখেছেন। এই গন্ধটাকে মন-প্রাণ দিয়ে শরীরে অন্দের নিয়ে যাবেন, দেখবেন নিমেষে মন ভাল হয়ে যাবে। গবেষকরা এই গন্ধকে পেট্রিকোর নামে ডেকে থাকেন। প্রসঙ্গত, বৃষ্টি পড়া মাত্র মটিতে উপস্থিত এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিশেষ এক ধরনের কেমিক্যাল রিলিজ করে। যে কারণে এমন সোঁদা গন্ধ বেরোতে শুরু করে।
৬. বেশ কিছু গবেষক মনে করেন বৃষ্টির পানি চরিত্রে অ্যালকেলাইন। অর্থাৎ এই পানি পান করলে শরীরের অন্দরে জমে থাকা টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যায়। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। এখানেই শেষ নয় অ্যালকালাইন রক্তের পি এইচ লেভেলকে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে। ফলে শরীরে অ্যাসিডির মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে একাধিক রোগের প্রকোপ হ্রাস পায়।
৭. আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বৃষ্টির পানি অ্যালাকালাইন হওয়ায় ক্যান্সারের কষ্ট কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। যদিও এই যুক্তির স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
৮. প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৩ চামচ বৃষ্টির পানি খেলে অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস-অম্বল হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে।
৯. অনেককে বলতে শুনেছি বৃষ্টিতে ভেজার পর শ্যাম্পু না করলে নাকি চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এই ধারণা কিন্তু মোটেও ঠিক নয়। কারণ বাস্তবে একেবারে উল্টো ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ হয়। ফলে এই পানি দিয়ে চুল ধুলে মাথার ত্বকে থাকা একাধিক ব্যাকটেরিয়া এবং ময়লা ধুয়ে যায়। ফলে চুলের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি খুশকি সহ নানাবিধ রোগের প্রকোপও কমে।
১০. কখনও লক্ষ্য করেছেন কিনা জানা নেই। তবে বৃষ্টিতে ভেজার পর আমাদের ত্বক আরও উজ্জ্বল এবং সুন্দর হয়ে যায়। কারণ সেই একই! বৃষ্টির পানি ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই স্কিন তার হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরে পায়।
১১. বেশ কিছু কেস স্টাডি করে দেখা গেছে তুমুল বৃষ্টিতে ৫ মিনিট ভিজলে স্ট্রেস লেভেল একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে শরীরের ক্লান্তিও দূর হয়।
সাবধানতা: গর্ভবতী মহিলারা ভুলেও বৃষ্টিতে ভিজবেন না যেন! এমনটা করা এই সময় শরীরের পক্ষে একেবারেই ভাল হবে না।
খেয়াল রাখবেন: বৃষ্টির পানি খাওয়ার আগে দেখে নেবেন যেখানে সেটি স্টোর করেছেন সেটি পরিষ্কার কিনা। না হলে কিন্তু কোনও উপকারই পাবেন না। উল্টো শরীরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
বৃষ্টি আল্লাহর নেয়ামত। যদি কখনো তা মানুষের কোনো ক্ষতি কারণ হয়ে দাঁড়ায়; তাহলে বুঝতে হবে- এটা মানুষের গোনাহের ফল। কারণ আল্লাহ এ দুনিয়াতে মানুষের জন্য দয়াময়। যারা তাঁকে স্বীকার করেন তাদেরকে যেমন তিনি রিজিক দেন, দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ দান করেন। ঠিক তেমনি যারা তাঁকে অস্বীকার করে, তাঁর অবাধ্য হয় তাদেরকেও তিনি এ সব নেয়ামত দান করেন।
আমীন।