20/08/2026
বিন্দুমাত্র সাপোর্ট করছিনা যে, মেয়েটা ওর নবজাতক বাচ্চাকে মে*রে ফেলছে ওর কোন দোষ নাই।
নিজের সাথে রিলেট করতে পারি। যখন মাসের পর মাস বাচ্চার জন্য একা রাত জাগা লাগতো, সিজারের পেইন নিয়ে হসপিটাল থেকে ২ দিন পর থেকেই বিন্দুমাত্র রেস্ট না নিয়ে ঘরের রান্নাবান্না থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ একার করা লাগতো! গোসল খাওয়ার ঠিক থাকত না, চুল আচড়ানোর সময় নাই বলে সুন্দর লম্বা চুলে জট বেধে থাকা দেখে কেটে ফেলা লাগতো। আয়নায় নিজের হারানো ফিগার দেখে অন্যের কটু কথা গায়ে লাগতো! এমনকি পাশে থাকার কথা এমন মানুষও বাইরে টাংকি বাজি করতো। তখন আমারও মনে হতো বাচ্চাটাকে মে* রে ফেলে নিজেও সুই**সাইড করে ফেলি!! কাছের মানুষদের কুতসিত ব্যবহার দেখতে দেখতে অধৈর্য লাগতো। আল্লাহর রহমত তিনি বাচিয়েছেন। ধৈর্য দিয়েছিলেন।
কিন্তু ঠিক কোন অবস্থায় একটা মেয়ের এই মানসিক অবস্থা হয় তা জানি, বুঝতে পারি। খু*নি এই মেয়েটা একা না। এর জন্য সমান ভাবে ফ্যামিলি মেম্বাররাও দায়ী। খোজ নিয়ে দেখেন প্রেগ্ন্যাসির পর থেকে কতটা মানসিক যন্ত্রণা হয়তো পেয়েছে মেয়েটা।
অনেকেই আদিখ্যেতা দেখিয়ে বলবে এমনকি আমাকেও বলা হতো " আগের কালে মায়েরা এতো গুলো করে বাচ্চা পালছে না? তারা পারলে তুমরা পারবানা ক্যান "?
হ্যা পালছে, আমার দাদির মোট ১১ টা সন্তান হয়েছিল যার মধ্যে ৬ টা ছোট বেলায়ই মারা গেছে আছে ৫ টা। অনেকে বলবে আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন। কিন্তু তারপরও দাদির মুখে শুনেছি যে ওদের যত্ন নেয়ার মতো সময় ও পেত না। এর কাছে ওর কাছে রেখে রেখে সংসারের কাজ করতো।
আর এখন যে যুগ বাচ্চা নিতে বলার সময় সবাই বলে কিন্তু একটু যত্নের বেলায় কেউরে পাওয়া যায়না। উল্টো বাচ্চার বাবা পর্যন্ত ওই সময় পরকিয়ায় লিপ্ত হয়ে যায়। ঠিক সময় রান্না না করলে কথা শোনা লাগে। শরীরের পরিবর্তন হলে বাজে কথা শোনা লাগে।
আচ্ছা একটা সুস্থ মানুষ ও কয়েকদিন ঠিক মতো না ঘুমালে, না খেলে, না গোসল করতে পারলে পাগল পাগল অবস্থা হয়ে যায়। আর একজন নতুন মায়ের কি অবস্থা হয় এটা ভেবে দেখার মতো মানুষ সমাজে কম ই আছে।
সবার ধৈর্য, মানসিক শক্তি এক না।
যেসব মেয়েরা এই সময়ে নিজের ( যদি থাকে) মা বাবা, শশুর শাশুড়ী বা ফ্যামিলি মেম্বারদের পাশে পায় অথবা হাসবেন্ডকে অন্তত পাশে পায় কোনদিনও এরম পরিস্থিতি হবার কথা না। একটা মানুষ জাস্ট দিন শেষে যদি জিজ্ঞেস করে-
" তুমি ভালো আছো ত? কি করলা সারা দিন?"
এইটুকু জিজ্ঞেস করার মানুষ থাক্লেও এমন অবস্থা হবার কথা না। বেশিরভাগ মেয়েরা প্রচুর ধৈর্যশীল। এজন্যই সংসার, সন্তান, কাজ সব সামলানোর ক্ষমতা রাখে। মানসিক অবস্থা একেবারে তলানিতে না গেলে এমন ঘটনা ঘটার কথা না। মেয়েটাকে দেখেও বুঝা গেছে ও মানসিক ভাবে একেবারেই ঠিক নাই।
একজন নতুন মায়ের প্রতি সহনশীল আচরণ করা কি এমন কঠিন কাজ!
নিজেকে বা নিজের বাচ্চাকে শেষ করে ফেলা কোন ভাবেই উচিত কাজ হতে পারেনা।
এমন ঘটনা থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।