11/05/2025
“বিষবৃক্ষের ফল” —
আজকের বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ — এক সময় ছিল একটাই বাংলা।
একই ভাষা, একই নদী, একই শিকড়।
তবু আমরা ভাগ হয়ে গেলাম কেন?
কারা আমাদের ভাঙল? কেন ভাঙল?
ব্রিটিশরা এসেছিল ব্যবসা করতে, কিন্তু রয়ে গেল শাসক হয়ে।
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে বাংলা পরাজিত হবার পর শুরু হলো এক দীর্ঘ শোষণ ও কৌশলগত বিভাজন।
তারা শিখিয়েছিল — “Divide and Rule”, অর্থাৎ ভাগ করে রাজত্ব করো।
আর তারই অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে প্রথম বঙ্গভঙ্গ, পরে তা বাতিল, আবার ১৯৪৭ সালে স্থায়ী দেশভাগ — সবই সেই বিষবৃক্ষের ডালপালা।
কিন্তু বাংলা নিজের ছেলেকেই চিনতে পারেনি।
আমরা নিজেরা নিজেদের ভুলে, নিজেদের বিভাজনে, হারিয়ে ফেলেছি এক বিশাল সম্ভাবনার ইতিহাস।
---
যদি অভিভক্ত বাংলা থাকতো?
ঢাকা, কলকাতা, চট্টগ্রাম, পাটনা, ভুবনেশ্বর — একসাথে গড়ে উঠতো এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী অঞ্চল।
বাংলা, উড়িষ্যা, বিহার, আসাম, ত্রিপুরা — মিলিত হতো এক সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে।
বাংলা ভাষা হতো উপমহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা।
হিন্দু-মুসলমান-উড়িয়া-বিহারি সবাই একসাথে মিলেমিশে গড়তো নতুন এক সভ্যতা — এক অখণ্ড বাঙালিয়ানা।
---
কিন্তু আমরা কী করলাম?
ব্রিটিশদের ফেলে যাওয়া সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিষ আমরা নিজেদের মধ্যে ঢুকিয়ে নিলাম।
আমাদের অনেক নেতাই সাহস দেখাতে পারেননি, কেউ কেউ চাইলেনই না।
আর তারই ফলে আমাদের প্রাণের বাংলা ভেঙে দু’টুকরো হলো।
নদীতে রক্ত বইলো, ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ হলো।
---
আজ, এই ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে আমরা শুধু একটাই কথা ভাবি —
“যদি অভিভক্ত বাংলা থাকতো, তবে ইতিহাসটাই হতো অন্যরকম।”
সময় এসেছে পুরনো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে একতার কথা বলার।
আমরা বাঙালি — ভাঙা নয়, আমরা গড়তে এসেছি।
#অভিভক্তবাংলা
#ইতিহাস
#বিষবৃক্ষ
#বঙ্গভাগ
#বাঙালিরচিন্তা