14/05/2024
ঘৃণা
আমার নাম করতোয়া। কত লোক উঠে বসে তার ইয়াত্তা নেই। স্টেশনে পৌঁছবার আগেই অপেক্ষায় হা করা পোকা। আর কত কিসিমের লোক... একই ইঞ্জিনের জন্য অপেক্ষায় সহস্র ছারপোকা। মানুষও সেখানে থাকে, থাকে কাফনে ওড়ানো কর্পূর থাকে ঝুলন্ত পেয়ালার ঠোটে চুমুকে চুমুক; সাথে গরম কাটলেট, চিপস, জিপসির মৃত কঙ্কাল।
এক কার্তিকে ফুলপুর জংশন থেকে ভুল নিয়ে ইঞ্জিনে বগিতে উঠে পড়েছিল একটি ডাহুক। সারাপথ ওর ফিচফিনচ কুয়াশায় কাতর করিডোর। এমনিতেই ওর ওপর অবিকল আরো কত কিছু ফেলে.. .! কেউ কেউ থুথু ফেলে, কেউ শ্লেষা, আর কেউ কেউ বমি কিংবা ঘৃণার তক্তপোষ বিছিয়ে যায়। ওসব এখন আর তেমন গায়ে লাগে না। নিরন্তর কোমল গান্ধারে দেশের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তরে, চলছে ...ক্লান্তিহীন।
কোনো কোনো ফালগুনে করতোয়ার কাঁধের উপরে উঠে পড়ে বালকের দুষ্টুমি দৌড়। ওদের দস্যিপনার সকল ঠিকানা তখন আমি। আর আমার ঠিকানা হয়েছে ...ঝিক ঝিক..কু..ঠিকানাবিহীন।
ঠিক কোথায় কবে যাত্রা শুরু হয়েছিল মনে নেই।
হবে হয়তো! কমলাপুর অথবা দৌলতদিয়া ঘাট।
এক এক সময় মনে হয় লাইন মাস্টারকে বলি--
তোমার বাঁশি বাজানো থামাও।
আমারও কষ্ট হয় মাঝে মাঝে,
পরিবহণ বলে
ভেবো না আমার কোনো কষ্ট নেই
মনেহয় নির্বাসিত ঘোর বৈভবের আঙিনায়
মাঝে মধ্যে বাজুক আনন্দ কীর্তন, সুরশৃঙ্গারে।
ছিল। একদিন। আমাদেরও আকুণ্ঠ শৈশব।
আউশের ভাতের থালায় তপসের অমৃত সুরুয়া।
মাটির মালসায় ঘষে ঘষে জননীর যাপিত জীবন ...নখের কোণায় লুকানো আদর, আঁশটে মায়ায় নলা ভাত। আকস্মিক আষাঢ় তার তুমুল প্লাবনে পোড়া জংশন জুড়ে জ্বর, চালের সেলাই ফুড়ে উড়ে আসা সুখ পাখি, ফোঁটা ফোঁটায় দীর্ঘয়িত জলপটি দিন। ওষ্ঠাগত সবুজ আমলকির লালায় ভিজে ওঠা অপূর্ব কৈশোর .. আমাদেরও ছিল। ছিল ছিন্ন কোঁচড়ের নুনে অনিন্দ্য কুঁচফল । ঘরে ফেরার স্বপ্ন ছিল বালিকার...
লাইন মাস্টার বাজাও তোমার বাঁশি, জংশন পেরিয়ে জংশন, মৃত্যুর গলিতে গলিত সুস্বাদু অবগাহন আর অধরা স্বপ্নের বোঝা টেনে চলেছে করতোয়া, কু.. .ঝিক ঝিক কু.. .।