20/10/2026
হায়রে দুনিয়া !
আমার চাচা ছারছীনা মাদ্রাসা থেকে বড় আলেম হয়ে এখন সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার।
আমার দাদী অসুস্থ হয়ে বিছানা থেকে ঠিক মতো উঠতে পারতো না। কি খায় কি করে কিছুই মনে থাকে না। স্মৃতিশক্তি, খাওয়া-দাওয়া ও দিকজ্ঞান হারিয়ে গেছে।
ডাক্তার বলেছিল বেশিদিন বাঁচবে না।
দাদী অবশেষে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এই মাসের ১৪ তারিখে চলে গেছে।
👉 আজকে মাত্র আমি জানলাম, আমার চাচা ৬ মাস আগে বসতি বড়ির মাত্র ৬ কাঠা জমি দাদীর কাছ থেকে নিজের নামে লিখে নিছে। দাদী অসুস্থ থাকা অবস্থায়। কাউকে না জানিয়ে।
কিছুদিন আগে চাচার কি যেন রোগের কারনে ছুটিতে আছে হসপিটাল। এখন নাকি অপারেশন হবে।
এখন সেই রোগে চাচায় যদি ওপারে চলে যায় ?
যে জমি ৭ ফুফু, বাপ চাচা ৪ জনকে না জানিয়ে সবাইকে ধোকা দিয়ে নিলো ? ওপারে যাবার পরে সে কিভাবে খাবে ?
এই চিন্তায় আমার মাথার বাম পাসটা প্রচুর বব্যাথা করতেছে।
চাচাকে অনেক ভালো জানতাম বিশ্বাস ও করতাম।
সে এমন কাজ করবে , যা আমি জিবনেও ভাবি নাই।
ঐদিকে আবার আমার মামারা একই কাজ করছে। মামায় ও কিন্তু একজন আলেম। মাদ্রাসায় শিক্ষক ছিলেন।
নানা অসুস্থ অবস্থায় , ভালো পজিশনের জমি নিজেদের নামে লিখে নিছে। কাউকে না জানিয়ে।
নানা আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার পরে। মামারা জমি ভাগ করে দিছে আমার মা খালাদের।
জমি দিছে সব অনেক দুরের জমি, যেখানে লোকজন থাকে না, আবার হিসাবেও কম দিছে। নানায় অনেক জমি কিনেছিলো যা মা খালারা সব জমির খবর ও জানে না।
আমি এতো দিন খালি শুনে গেছি। কাউকে কিছুই বলি নাই। কারন ! এই দুই দিনের দুনিয়াতে পরের জমির প্রতি কোন লোভ নাই। আর জিবনেও হবে না।
আজকে কথা গুলো লিখে একটু নিজেকে হালকা করলাম।
আর সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই।
তুমি এই দুনিয়াতে কারো হক নস্ট করলে। এর প্রতিদান ! দুনিয়া ও আখেরাতে ঠিকই পাইবা। যা আল্লাহর তরফ থেকে অটোমেটিক চলে আসে।
দেশের অধিকাংশ পরিবারের পিতা মারা যাবার পরে, ভাইরা তার বোনদের ঠগায়। জমি দিয়ে ঠগায় এবং না দিয়েও ঠগায়।
👉 এতিম ও দুর্বলদের হক নষ্ট করার পরিণাম:
নিশ্চয় যারা ইয়াতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, তারা মূলত নিজেদের পেটে আগুনই খাচ্ছে এবং অচিরেই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।” (সূরা আন-নিসা: ১০)
আল্লাহ তাআলা নিজেই পবিত্র কুরআনে (সূরা আন-নিসার ১১, ১২ ও ১৭৬ নম্বর আয়াতে) মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা ফারায়েজ নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করে বলেছেন যে এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমানা।
যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত জমিও দখল করবে, কিয়ামতের দিন সাত তবক জমিন তার গলায় বেড়ি হিসেবে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি: ২৪৫৩; সহিহ মুসলিম: ১৬১০)
যে ব্যক্তি নিজের ভাইয়ের হক তার কসমের মাধ্যমে কেড়ে নেয়, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে দেন এবং জান্নাত হারাম করে দেন।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সামান্য বস্তু হলেও কি? তিনি বললেন, “যদিও তা অ্যারাক গাছের একটি ডালও হয়।” (সহিহ মুসলিম: ১৩৭)
বোনদের ও দুর্বলদের অংশ না দেওয়া সম্পর্কে সতর্কবাণী:
রাসূলুল্লাহ (সা.) দুর্বলদের অধিকার রক্ষা করার বিষয়ে কঠোর তাগিদ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, দুই দুর্বল—এতিম ও নারীর অধিকার নষ্ট করা থেকে যেন সবাই বিরত থাকে।
পিতামাতার সম্পত্তি থেকে বোনদের বঞ্চিত করা, ছলচাতুরী বা জোর করে ভাইদের নামে লিখে নেওয়া কিংবা সুকৌশলে ঠকানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ, হারাম এবং কবিরা গুনাহ। দুনিয়াতে এর শাস্তি যেমন রয়েছে, তেমনি আখেরাতে কঠিন আজাবের মুখোমুখি হতে হবে। ভুক্তভোগী বোনদের অধিকার তাদের বুঝিয়ে দেওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ দায়িত্ব।
Copy pest