03/07/2025
★ *মুহাররম মাসের ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয়* ★
❖ মুহাররম মাস কী?
মুহাররম হলো আরবি বছরের প্রথম মাস এবং চারটি সম্মানিত মাসের (আশহুরে হুরুম) একটি।
❝ إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ ... مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ❞
(সূরা তাওবা: ৩৬)
অর্থাৎ: আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বারো মাসের মধ্যে চারটি মাস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মুহাররম সেগুলোর একটি।
মুহাররম শব্দের অর্থই ‘নিষিদ্ধ’ বা ‘পবিত্র’। এ মাসে যুদ্ধ, রক্তপাত ও দ্বন্দ্ব বিবাদ থেকে বিরত থাকা ইসলামী আদর্শ।
❖ মুহাররম মাসে করণীয় আমলসমূহ:
১. ❖ রোযা রাখা (সিয়াম):
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
❝ রমযানের পর সর্বোত্তম রোযা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমে রোযা রাখা। ❞
– (সহিহ মুসলিম: ১৯৮২)
২. ❖ আশুরার রোযা (১০ই মুহাররম):
এ দিনটি ইসলামী ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নবী মূসা (আ.) ও তার কওমকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দান করা হয়েছিল এই দিনে। এজন্য ইহুদিরা রোযা পালন করত।
রাসূল ﷺ বলেন:
❝ আমরা মূসার অনুসরণে ইহুদিদের চেয়ে অধিক হকদার। ❞
– (সহিহ বুখারী: ১৮৬৫)
রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে এ রোযা রাখেন এবং সাহাবাদেরও রাখতে উৎসাহিত করেন।
৩. ❖ আশুরার রোযার ফজিলত:
রাসূল ﷺ বলেন:
❝ আশাকরি আল্লাহ তা’আলা এই আশুরার রোযার কারণে পূর্ববর্তী এক বছরের (ছোটখাটো) গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। ❞
– (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
৪. ❖ ৯ ও ১০ মুহাররম রোযা:
রাসূল ﷺ বলেন:
❝ আমি আগামী বছর জীবিত থাকলে ৯ ও ১০ মুহাররম দুই দিনই রোযা রাখবো। ❞
– (সহিহ মুসলিম: ১৯১৬)
কারণ, ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য পরিহার করে মুসলমানদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখাই ইসলামের নির্দেশনা।
❖ মুহাররম মাসে বর্জনীয় বিষয়সমূহ:
✘ ১. কৃত্রিম শোক উদযাপন:
কারবালার ঘটনা স্মরণে কেঁদে-কেটে শোক পালন করা, বুক চাপড়ানো, ছুরি দিয়ে শরীরে আঘাত করা, তাজিয়া মিছিল বের করা প্রভৃতি ইসলামবিরোধী এবং বিদআতি কাজ।
রাসূল ﷺ বলেন:
❝ যে ব্যক্তি আমাদের এ ধর্মে এমন কিছু নতুন সংযোজন করে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত। ❞
– (সহিহ বুখারী ও মুসলিম)
✘ ২. আশুরাকে ঈদ বানিয়ে উৎসব পালন:
অনেকে আশুরার দিন খুশির প্রতীক হিসেবে মিষ্টান্ন রান্না, নতুন পোশাক পরিধান, বাড়তি গোসল ইত্যাদি করে। এটি ইহুদি-খ্রিষ্টান প্রভাবিত একটি সংস্কার এবং ইসলামি শরিয়তের পরিপন্থী।
❖ কারবালার ঘটনা ও আমাদের করণীয়:
হযরত হুসাইন (রাঃ) ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন—এটি সত্য। তবে ইসলাম তাঁর শহীদির ঘটনাকে শোক পালনের ধর্মে পরিণত করেনি।
ইসলামের শিক্ষা হলো: শহীদদের জন্য দুঃখ নয়, তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করাই প্রকৃত সম্মান।
❖ সংক্ষেপে মুহাররমের করণীয়:
✅ ১. ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখে রোযা রাখা
✅ ২. তওবা, ইস্তিগফার, নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা
✅ ৩. আল্লাহর রাসূলের অনুসরণ করা
✅ ৪. বিদআত ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা
🔚 উপসংহার:
মুহাররম মাস ইসলামে এক পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ সময়। এই মাসে হেদায়াত, রোযা, আত্মশুদ্ধি এবং বিদআত থেকে বাঁচার শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। ইবাদতের মাধ্যমে মুহাররমকে মূল্যায়ন করা এবং নবী ﷺ এর আদর্শ অনুসরণ করাই হোক আমাদের লক্ষ্য।
📚তথ্য সূত্র:
সহিহ বুখারী
সহিহ মুসলিম
তাফসিরে ইবনে কাসির
ফিকহুস সীরাহ