03/04/2025
কর্মজীবী নারী না হয়ে ঘরে থাকার কারণে যদি আপনি মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত হন যে, কি হল এত পড়ালেখা করে, নিজেকে অপদার্থ মনে হয়, কেউ দাম দিচ্ছে না এমন লাগে তাহলে এই পোস্ট আপনার জন্য। আপনার অনুভূতি আমি বুঝি।
আপনি একা নন যদিও আপনার নিজেকে খুব নিঃসঙ্গ লাগে। আপনার গৃহবন্দি জীবন চলে বাচ্চাদের ডায়াপার চেঞ্জ করতে করতে, রান্না করতে করতে, ঘর-দোর পরিপাটি রাখতে, বাচ্চাকে বড় করতে করতে।
আপনার হয়ত আরও মনে হচ্ছে চারপাশের দুনিয়া কত এগিয়ে যাচ্ছে! আপনি ঘরে ভিতরে সাধারণ জামাকাপড় পড়ে খালি পায়ে বাচ্চাকে দোল দিচ্ছেন, আর অন্যরা "আসল দুনিয়াতে" বড় বড় চাকুরি করছে, কাড়ি কাড়ি টাকা কামাচ্ছে, "সমাজে অবদান" রাখছে। আপনার নিজেকে খুব তুচ্ছ, ক্ষুদ্র লাগে।
এসব দেখতে দেখতে অনেক মা ডিপ্রেসনে ভোগেন, তারা নিজেদের অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবেন। নিজের ভিতরে চলে টানা-পোড়ন। আর বাইরের মানুষের টিপ্পনি তো আছেই, তোমার এসব কাজকর্মের কেউ দাম দিবে না, এই গুলো করে কি পাবে, কিচ্ছু হবে না, এসব অর্থহীন।
আমরা এমন একটা দুনিয়াতে বাস করি যেখানে শুধু বস্তুগত জিনিসের দাম আছে, আছে শুধু কড়কড়ে ঠান্ডা মুদ্রার দাম। অর্থ দিয়েই মূল্য মাপা হয়। যেসব কাজে কোনও বেতন নেই, নেই কোনও চেক - সেগুলোর কোনও দাম নেই।
কাজেই আপনি যদি এমন কোনও কাজ না করেন যেখানে বেতন দেয়া হয়, তাহলে আপনার আসলে কী আছে? আপনি কে? আপনি কিসের যোগ্য?
You are nothing.
কিন্তু বাস্তবে আপনি হলেন সে-ই ব্যক্তি, যিনি ঘরে থেকে বাচ্চাদের বড় করে তুলছেন ইসলামের উপর এবং তাদের চরিত্র গড়ে তুলছেন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর আদলে যেন তাদের ব্যক্তিত্ব হয় শারিকিক, মানসিক, চরিত্রগত ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে দৃঢ় ও শক্তিশালি, একজন সত্যিকার মানুষের মত; অর্থাৎ আপনি অন্য সব কিছুর তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ, অর্থপূর্ণ, অতীব জরুরী কাজ করে চলেছে।
You are everything.
আপনার সন্তানদের কাছে আপনি-ই সব। আপনার স্বামী ও পরিবারের কাছে আপনি-ই সব। সমাজের জন্য আপনি-ই সব।
বড় বড় কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যারা লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন দিয়ে নিয়োগ দেয়, তাদের কাছে আপনি কেবল একজন বদলযোগ্য কর্মচারী যাকে যতক্ষন খুশি রাখা যায় আবার যখন খুশি বের করে দেয়া যায়।
সন্তানদের ইসলামী জীবনে অভ্যস্থ করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই।
চিন্তা করে দেখুন, ঐ লোক কত বেশি পুরষ্কার পাবে যে আরেক জনকে সালাত শিখায় অথবা কুরআন তেলাওয়াত শিখায়! অথবা কাউকে অযু করতে শিখায়! প্রতিবার আপনার সন্তান যখন অযু করবে, সালাত আদায় করবেন, কুরআন পড়বে -তার সওয়াবের একটা অংশ আপনি পাবেন। তারা বড় হয়ে যখন তাদের সন্তানদের একইভাবে শিখাবে তখন সেখান থেকেও আপনি সওয়াব পাবেন। এভাবে চলতে থাকবে।
আপনাকে এমন এক পুরষ্কার পাচ্ছেন ইসলামী শিক্ষা দিয়ে যা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে চলতে থাকবে। আপনি তো কেবল নিজের সন্তানদেরই আলোকিত করছেন না বরং পুরো প্রজন্মকেই আলোকিত করছেন। কাজেই নীচু মানসিকতার কুয়োর ব্যাঙদের "তুমি সারাদিন করোটা কী?" টাইপের কটাক্ষপূর্ণ, খোঁচা মারা মন্তব্য নিয়ে একদম ভাববেন না।
সন্তান লালন-পালনের জন্য চাকরি ছেড়ে আসা মায়েদের বর্তমান আধুনিক সমাজ কোনো সম্মান, মর্যাদা, স্বীকৃতি না দিলেও ইসলামে তাদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান, মর্যাদা ও স্বীকৃতি।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে”। (সুরা লোকমান, আয়াত ১৪)
সবচে’ বেশি কে আমাদের সদ্ব্যবহার ও আন্তরিকতা প্রাপ্য এমন প্রশ্নের জবাবে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন বার “তোমার মা” বলেছেন “তোমার বাবা” বলার আগে।
মুসলমান হিসেবে আমাদের মাপকাঠি হল কুরআন ও সুন্নাহ। এই দু’টো আমাদের মানদন্ড। সেকুলার মর্ডানিস্টরা কি মানদন্ড বানিয়েছে তাকে আমরা থোড়াই কেয়ার করি। এদের সব মানদন্ড হল টাকার উপর নির্ভরশীল যা চরম বস্তুবাদি আর বাইরের চাকচিক্য বিশ্বাসী। সেকুলারদের ইন্দ্রিয় তৃপ্তি নির্ভর মাপকাঠি দিয়ে আমরা আমাদের যোগ্যতা, আত্মমর্যাদা মাপি না। আমাদের সবকিছুর মাপকাঠি হল ইসলাম।
আর, আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামি মানদন্ড অনুযায়ী, আপনারা, ঘরে থাকা মা হিসেবে খুবই চমৎকার কাজ করছেন।
সমাজে আপনাদের এই অবদানের জন্য আল্লাহ আপনাকে পুরস্কার দিন এবং আপনার ভাল কাজগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান থাকুক। আমীন।
[Umm Khalid এর একটা মাস্টারপিসের দুর্বল অনুবাদ]
© সংগৃহীত