09/12/2020
মেয়েটি ফেসবুকে বেশ একটিভ...মাঝেমধ্যেই স্ট্যাটাস দেন...হঠাৎ সেই স্ট্যাটাসের ধরণে পরিবর্তন!
আগের সেই স্টাইল নাই...কেমন কেমন একটা পরিবর্তন!
তিনি যদি স্ট্যাটাস ঠিক এভাবে দেন...
০১।
ফিলিং নস্টালজিক!
(এমন একটা ক্যাপশন দিয়ে... সেই ছোট্টবেলার স্কুল/কলেজ লাইফের ছবি দেন)
০২।
দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না!
(এটা বলে পুরাতন দিনের ছবি দেন...যে ছবিতে অনেকগুলাও ওয়াও..ওয়াও টাইপ লাইক কমেন্ট আছে)
০৩।
কোন কথাবার্তা নাই...শুধু ঘন ঘন পুরাতন ছবি আপলোড দেন!
০৪।
মাঝে মধ্যেই নিজ বিয়ে/বৌভাত/হানিমুনের ছবি দেন! আর মধুর স্মৃতি চারণ করেন!
০৫।
সাম্প্রতিক কোন ছবি একেবারেই দেন না...দিলেও শুধু মুখের ছবি দেন! ছবি তোলার সময় আবার উপর থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে..আই মিন একটু এ্যাংগেল করে ছবি তোলেন! যাতে স্লিম লাগে!!!
তবে,
আপনাকে প্রথমেই বুঝে নিতে হবে তিনি সম্প্রতি মুটিয়ে গেছেন...এবং Most Probably তিনি মা হতে যাচ্ছেন!
আই মিন..তিনি প্রেগন্যান্ট!
এবং
প্রেগন্যান্সিকালীন বেঢপ ছবি তিনি আপলোড দিতে সংকোচবোধ করছেন! এজন্য ফেলে আসা মধুর সময়গুলোকে সামনে এনে যাবর কাটছেন!
এবং..
অপেক্ষায় আছেন...একটা স্ট্যাটাস দেয়ার!
'আলহামদুলিল্লাহ মা হলাম'
------------------------------------
নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুযারী!
বিয়ে করা ও মা হওয়ার মধু মাস!!
এই মাস গুলোকে ডাক্তাররা বলে ডাল সিজন..এর অর্থ বেশিরভাগ চেম্বারে রোগী কমে যায়...চেম্বার একটু ফাঁকা ফাঁকা থাকে।
তবে..
গাইনী বিশেষজ্ঞদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়!
এসময় ক্লিনিকে.. হাসপাতালে সিজারের ধুম পড়ে যায়...নরমাল ডেলিভারির উৎসব চলে ঘরে ঘরে..হাসপাতালে হাসপাতালে!
সন্তানের আগমনে...ঘরে ঘরে মিস্টির নবান্য শুরু হয়!
প্রিয় জ্ঞানী,
আপনি জানেন কি?
১। অনেকে মনে করেন শীতকালে বাচ্চা ডেলিভারী হলে ভাল...কারন, শীতের টানে বাচ্চার নাভী ও মায়ের সিজারের কাটা তাড়াতাড়ি শুকাবে!
ভুল ধারণা...
কারণ শীতে রক্তনালী সংকুচিত থাকে। ঘা শুকাতে তাই দেরী হয়।
যদিও শীত গ্রীষ্ম খুব সামান্যই পার্থক্য আনে। সুস্থ সন্তান নির্ভর করে আপনি কতটুকু প্ল্যান করে বেবি নিয়েছেন তার উপর। তবে নিজে নিজে প্ল্যান করলে হবেনা...এজন্য বাসা বাড়ীর মত আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার লাগবে...প্রেগন্যান্সি সম্পর্কিত যারা প্ল্যান করে দেন...তাদের গাইনোকোলজিস্ট বলে! ওঁরা শরীরের ইঞ্জিনিয়ার.. নারীর শরীরের ইঞ্জিনিয়ার!
২।
সবাই বলে প্রেগনেন্সি ৯ মাস...আমি বলি ১২ মাস...কারণ, প্রেগনেন্ট হওয়ার আগের ৩ মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ।
কি করবেন এই ৩ মাসেঃ
শুরুতে গাইনি চিকিৎসকের কাছে যাবেন। বলবেন, আমি মা হতে চাই। একটু চেক আপ করে দেন আমি শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি কিনা...মা হওয়ার জন্য।
আপনার কি...
-আত্মীয়-আত্মীয় বিয়ে?
-আপনার এবং আমার স্বামীর ব্লাড গ্রুপ এক এবং পজেটিভ-নেগেটিভ?
-আপনার কি ডায়াবেটিস আছে?
-আপনার কি প্রেসার আছে?
-আগের বেবির সময় কি আপনার ডায়াবেটিস হয়েছিল?
-আপনার আগের বেবি কি সিজারে হয়েছিল?
-আপনি কি বেশি মোটা?
-আপনি কি বেশি খাটো?
-আপনার বয়স কি ৩৫ এর বেশি?
-আপনার কি এর আগে এ্যাবরশন হয়েছিল?
উপরের যেকোন একটি উত্তর হ্যাঁ হলে...আপনাকে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ, আপনি কিছুটা ঝুকিপূর্ণ মা!
৩।
Tab Folison ঔষধটা শুরু করতে হবে ৩ মাসেই আগেই। এতে বেবির জন্মগত ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
কারণ, যেদিন জানলেন আপনি মা হতে যাচ্ছেন, ততদিনে আপনার বেবির বয়স প্রায় দেড় মাস!...এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তৈরীর কাজ আগেই শুরু হয়ে গেছে। তাই সে সময়ের ফলিসন খুব বেশি কাজে লাগে না।
তাই বলে এই স্ট্যাটাস পড়েই ঔষধ খাওয়া শুরু করবেন না..আমি এই মুহুর্তে ভাসকুলার সার্জন এবং হাতুড়ে গাইনোকোলজিস্ট! তাই আসল গাইনোকোলজিস্ট এর পরামর্শ ছাড়া কিচ্ছু করবেন না!
৪।
গর্ভধারণের প্রথম ৩ মাসে ওজন কমে বা সমান থাকে। এসময় যেকোন ঔষধ খেতে সতর্কতা অবলম্বন জরুরী। অন্যথায় বাচ্চার ক্ষতি হবে।
৫।
গর্ভধারণ করলে শুধু তেঁতুলের প্রতি নয়...অনেক অপ্রচলিত খাবারের প্রতিও আকর্ষন বাড়ে। অনেক মেয়ে মাটিও খেতে ভালোবাসে...খাবারের এ পরিবর্তিত অভ্যাসকে পিকা বলে!
----------------------
এবার জেনে নেই..
ব্যাকুব স্বামী কাকে বলে??
বউ প্রেগন্যান্ট... কিন্তু এখনো ডাক্তার দেখায় নাই...যখন জিজ্ঞেস করলেন,
-আপনি, এখনো ডাক্তার দেখান নি কেন?
যদি তিনি উত্তর দেন..
-আমার বউয়ের কোন সমস্যা নাই তো! তাই দেখাই নাই!
তবে..
বুঝবেন..উনি ব্যাকুব কিসিমের স্বামী। কারণ, প্রেগন্যান্সি নিজেই একটা সমস্যা! একেবারে নারীর দেহে ১০ নং বিপদ সংকেত!
মনে রাখবেন..
সকল নারী নিজ শাশুড়ীর চেয়ে স্বামীর শাশুড়ীকে অধিক
ভালোবাসে...প্রেগন্যান্সির সময় তাই নিজ বউকে তার স্বামীর শাশুড়ীর সান্নিধ্যে অধিক সময় রাখবেন...তার মন ভাল থাকবে..মন ভাল থাকলে সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি অনেক সুন্দর হয়!
হে গর্ভবতী মায়েরা..
আমি জানি...তোমরা প্রেগন্যান্ট অবস্থায় আইসক্রিম খাও..চটপটি খাও...ফাস্টফুড খাও...খাও তেতুলও...
মনে রাখবা.. এসব খাবারের ভাগ তোমার সন্তানও পায়!
কিন্তু...
জন্মের পর..প্রথম ৬ মাস...তোমার সন্তান শুধুমাত্র বুকের দুধ খাবে...! অন্য খাবারে কোন ভাগ নয়!
কেউ মেয়ে চায়..কেউ ছেলে চায়..
কেউ কেউ ফর্সা ছেলে...ফর্সা মেয়ে চায়!
কিন্তু...
বুদ্ধিমান বাবা মায়েরা..সুস্থ সন্তান চায়!
নজর না লাগে...
দুনিয়ার সকল সন্তানের বাবা মায়েরা ভাল থাকুক..
Dr. Saklayen Russel