01/05/2021
ভেজিটেবল ডাই নাকি বাটিক?
ভেজিটেবল ডাই আর বাটিকের মধ্যে পদ্ধতীগত কিছু মিল আছে। দুইক্ষেত্রেই সাদা কাপড়কে রং করা হয়। বাটিকের জন্য ব্যবহার করা হয় সাধারন কাপড়ের রং বা কেমিক্যাল ডাই। যেগুলো আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ল্যাবে দেখতে পাই। দেখতে পাই ডাইং কারখানাগুলোতেও। বাটিক বিভিন্ন রকমের হয় যেমন টাইডাই বাটিক,মোম বাটিক, তুলি বাটিক, বরফি বাটিক ইত্যাদি। মোম বাটিক দেখতে খুবই সুন্দর, করতে অনেক সময় ও শ্রম ব্যায় হয়। তাই দামটাও তুলনামূলকভাবে হয় বেশি।
অপরদিকে ভেজিটেবল ডাই বা ন্যাচারাল ডাই হল একশোভাগ বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক রং। এই রং য়ের উৎস আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা ফল, সব্জি, মসলা, পানীয় ইত্যাদি। আমাদের খাওয়া শেষে যে ডালিম, কমলা বা পেয়াজের খোসাটার জায়গা হয় ময়লার বালতিতে, সেই খোসাগুলো থেকেই তৈরী হয় ন্যাচারাল ডাই। রান্নার হলুদ, কফি, হরিতকি, ডালিমের দানা, মেহেদী, তুলসী, কাঁচা হলুদ, গাঁদা ফুলের পাপড়ি, অর্জুনের ছাল, সুপারি, এলাচ পাতা, লটকন ফলের বীজ, গাবফল, খয়ের এই সবই ভেজিটেবল ডাইয়ের উৎকৃষ্ট উৎস। একেকটি কাপড় তৈরী হতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে।যেহেতু এগুলোতে কোনো কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয় না সেহেতু রংয়ের শেডের সংখ্যা সীমিত। এই কারণে দেখা যায় ভেজিটেবল ডাই পোশাক উৎপাদনকারী ফ্যাশন হাউজগুলো একই রং ঘুরেফিরে বারবার ব্যবহার করছে। যেমন নীল, ধুসর, পেয়াজি রং, ইট লাল, কফি কালার, বাদামী, মেরুন এরকম আরও কয়েকটি রং। কুচকুচে কালো কিংবা টুকটুকে লালের মতো শেড ভেজিটেবল ডাইতে দেখা যায় না। রংগুলো কখনই কটকটে হবে না। কোনো কৃত্রিমতাবর্জিত এইসব রং টিকে থাকে অনেকদিন। ঠিক আমাদের নিউমার্কেট-গাউসিয়ার বিক্রেতারা যেমন বলেন-“কাপড় নষ্ট হলেও রং নষ্ট হবে না”। ভেজিটেবল ডাইয়ের রং সব কাপড়ে বসেও না। তাই এই রংয়ের জন্য বেছে নেওয়া হয় খসখসে টেক্সচারের কাপড়। যেমন কোরা কটন, এন্ডি সিল্ক, এন্ডি কটন, রাজশাহি সিল্ক ইত্যাদি।
সংগ্রহীত